কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৬

কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৬ |
ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় আমরা কাশি দিয়ে থাকি। হঠাৎ ও সজোরে ফুসফুসের ভেতরের বাতাস সশব্দে বাইরে বের হয়ে আসে কাশির মাধ্যমে। শ্বাসনালি ও ফুসফুসে জমে থাকা শ্লেষ্মা, ধুলাবালি, জীবাণু ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান বের করে দিয়ে কাশি আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। তাই কাশি একটি স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক রিফ্লেক্স। এই রিফ্লেক্সের রিসেপ্টর থাকে শ্বাসনালিতে। তবে কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা অস্বাভাবিক হলে তা বিভিন্ন রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাশির প্রকারভেদ স্বল্পমেয়াদি কাশি সাধারণত ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, জীবাণু সংক্রমণ-পরবর্তী অবস্থা বা নিউমোনিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এই ধরনের কাশি সাধারণত তিন থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক কাশি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে

আট সপ্তাহের বেশি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে তাকে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বলা হয়। দীর্ঘদিন কাশি থাকলে তা শুধু বিরক্তিকরই নয়, বরং ঘুমের ব্যাঘাত, ক্লান্তি, বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, হার্নিয়া–এমনকি পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ অ্যাজমা দীর্ঘস্থায়ী কাশির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এটি সাধারণত বংশগত এবং ধুলাবালি, দূষিত বাতাস, অ্যালার্জেন বা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বেড়ে যায়। এতে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ ও শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হয়। অনেক ক্ষেত্রে কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমায় শুধু কাশি থাকে,

অন্য উপসর্গ থাকে না, বিশেষ করে রাতে কাশি বেশি হয়। গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে। এ অবস্থায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসে, ফলে গলা জ্বালা, মুখে টক স্বাদ এবং দীর্ঘদিন কাশি দেখা দেয়। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি ধূমপায়ীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এতে দীর্ঘদিন কফযুক্ত কাশি থাকে, শ্বাসকষ্ট হয় এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যায়। কিছু ওষুধ যেমন এসিই ইনহিবিটার বা কিছু বিটা ব্লকার ব্যবহারের কারণে শুকনো কাশি হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন কাশি থাকলে রোগীর ওষুধের ইতিহাস জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হার্ট ফেইলিউরের ক্ষেত্রেও দীর্ঘস্থায়ী কাশি হতে পারে। এতে শরীরে পানি জমা, দুর্বলতা এবং শোয়ার সময় কাশি ও শ্বাসকষ্ট

বাড়ে। ফুসফুসের সংক্রমণ, বিশেষ করে যক্ষ্মা, আমাদের দেশে দীর্ঘস্থায়ী কাশির একটি বড় কারণ। দুই সপ্তাহের বেশি কাশি হলে যক্ষ্মা পরীক্ষা করা জরুরি। এ ছাড়া বিকেলের দিকে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামন্দা ও কফের সঙ্গে রক্ত আসা এর লক্ষণ হতে পারে। ফুসফুসের ফাইব্রোসিস ও ফুসফুসের ক্যান্সারও দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধূমপায়ীদের নতুন করে কাশি শুরু হওয়া বা কাশির ধরন পরিবর্তন হওয়া, গলার স্বর বদলে যাওয়া, ক্লান্তি ও ওজন কমে যাওয়া হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন l কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে l কফের সঙ্গে রক্ত এলে l যে কাশি ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে l কাশির সঙ্গে বুক ব্যথা, জ্বর,

ক্ষুধামন্দা বা ওজন কমে গেলে l দীর্ঘদিন কাশি থেকে গেলে বা কষ্ট বাড়তে থাকলে l বুকের এক্স-রেতে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা করেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে। যেমন রক্তের সিবিসি পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, যক্ষ্মা শনাক্তকরণ, বুকের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, স্পাইরোমেট্রি এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্রঙ্কোস্কপি। চিকিৎসা ও করণীয় সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিতে হবে, ধূমপান সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে, ধুলাবালি ও ঠান্ডা পরিবেশ এড়িয়ে চলতে হবে, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত, ঠান্ডা মৌসুমে হালকা গরম পানি ব্যবহার করা, ভালো পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ ও পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিনের কাশি কখনও

অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ এটি শরীরের ভেতরে কোনো গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণই হতে পারে সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। [অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজ, ঢাকা ও কনসালট্যান্ট, আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড]

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল! ২১ বছর পর ওয়ানডে-তে অস্ট্রেলিয়া বধ কক্সবাজারে মা ও স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে ১০ জন মিলে গণধর্ষণ, আইসিইউতে কিশোরী হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন? বাংলাদেশে ছাত্র নিপীড়নঃ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন-কে হত্যা নোয়াখালীতে মিছিলকারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে গুলি- বিএনপি-জামাইয়াতের আওয়ামীলীগ নিধনের নীলনকশা ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতিচারণ করলেন কিংবদন্তি ব্রাজিলিয়ান রিভেলিনো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার সামনে টাইগাররা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের লোভে ৭ ব্যাংকে জিম্মি শিক্ষকদের সারাজীবনের সঞ্চয় “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট টেলিটক ও নগদ ‘কিনতে’ চায় বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিওন! অভিযুক্তের বাড়িতে উত্তেজিত জনতার আগুন, নিহত ৩ হাসপাতালে অসুস্থ শিশুর মাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ, অতঃপর… বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে বাজেট: যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ