ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ মার্কিন স্থাপনা: নিউইয়র্ক টাইমস – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬
     ৪:৫২ পূর্বাহ্ণ

ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ মার্কিন স্থাপনা: নিউইয়র্ক টাইমস

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৫২ 9 ভিউ
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসনের জবাবে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে দূতাবাসে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং সামরিক ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমস অন্তত ১৭টি ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন স্থাপনা ও অন্যান্য অবকাঠামো শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে কয়েকটিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার হামলা হয়েছে। বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যাচাই করা ভিডিও এবং মার্কিন কর্মকর্তা ও ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বক্তব্যের ভিত্তিতে এ সবকিছু বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, এই পাল্টা হামলার তীব্রতা দেখিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধের জন্য ইরান ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি প্রস্তুত ছিল। এই প্রতিবেদনের জন্য নিউইয়র্ক টাইমস স্যাটেলাইট

ছবি উপস্থাপন করছে, যাতে মার্কিন স্থাপনা ও অবকাঠামো ইরানের হামলায় ক্ষতির মাত্রা দেখা যায়। ছবির অনেকগুলোই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে ছড়িয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে তা হয়নি, সেখানে সংবাদমাধ্যমটি স্যাটেলাইট চিত্র সরবরাহকারী কোম্পানি থেকে পাওয়া ছবি ব্যবহার করেছে এবং প্রতিটি স্থানের কেবল দূর থেকে তোলা দৃশ্য দেখিয়েছে। সামরিক স্থাপনা ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোর সামরিক স্থাপনাগুলোয় শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এসবের বেশির ভাগই প্রতিহত করেছে। তবু অন্তত ১১টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা এই অঞ্চলে থাকা এমন স্থাপনাগুলোর প্রায় অর্ধেক। সংঘাতের প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান কয়েকটি মার্কিন সামরিক

স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি, কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প বুয়েরিং ঘাঁটি এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি। স্যাটেলাইট ছবিতে কয়েকটি স্থানে ভবন ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। ইরানের পাল্টা হামলায় মোট কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে দেওয়া পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একক হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার। কংগ্রেসের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। ১ মার্চ কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে সামরিক সদস্যদের থাকার একটি স্থাপনায় ইরানের একটি ড্রোন আঘাত

হানে। এতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। একই দিনে সৌদি আরবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পৃথক ইরানি হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হন। এতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা সাতজনে দাঁড়ায় বলে গত রোববার পেন্টাগন জানিয়েছে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক দিনের তুলনায় ইরানের হামলার গতি কিছুটা কমেছে, তবে হামলা চলছে। আল উদেইদ বিমানঘাঁটি, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি, আল ধাফরা বিমানঘাঁটি, ক্যাম্প বুয়েরিং ও নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে একাধিকবার হামলা হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছেছে। ৪ মার্চ ন্যাটো তুরস্কের ইনজিরলিক বিমানঘাঁটির দিকে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে বলে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বড় একটি

দল অবস্থান করছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী ওই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কথা অস্বীকার করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, আরেকটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমায় ঢোকার পর ন্যাটো সেটিও ভূপাতিত করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ও যোগাযোগ অবকাঠামো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হচ্ছে এটি। ইরান পদ্ধতিগতভাবে রাডার ও যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ। এ ব্যবস্থায় রাডার ব্যবহার করে আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করা হয়। ইরান এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা মনে করে। যেমন আকাশ

প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও সম্পদ রক্ষার জন্য স্থাপন করা হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কাতারের দোহার আকাশে ধোঁয়া। ১ মার্চ ২০২৬, দোহাইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কাতারের দোহার আকাশে ধোঁয়া। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই এগিয়ে আছে। আগ্রাসন শুরুর পর গত ১১ দিনে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার ব্যবস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। জ্যেষ্ঠ এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ইরান–সমর্থিত মিলিশিয়ারা এমন হোটেলগুলোয়ও হামলা করেছে, যেখানে মার্কিন সেনারা প্রায়ই থাকেন। ইরাকের একটি মিলিশিয়া গ্রুপ এরবিলের একটি অভিজাত হোটেলে ড্রোন

হামলা চালিয়েছে। এতে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের কোন হোটেলগুলোয় পেন্টাগন সেনাদের রাখছে, সে বিষয়টি ইরান জানে। এই কর্মকর্তাসহ আরও দুই কর্মকর্তা বলেন, ইরান সম্ভবত বুঝে নিয়েছে, সরাসরি সামরিক শক্তির দিক থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে না। তবে কর্মকর্তাদের মতে, তীব্র হামলার মধ্যেও টিকে থাকতে পারলে তেহরানের সরকার এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দাবি করতে পারবে। কর্মকর্তারা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে, যেগুলোকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা মনে করে। যেমন ইন্টারসেপ্টর ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাত মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ১৪০ জন আহত হয়েছেন বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। আহত সেনাদের মধ্যে ১০৮ জন আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত হয়েছেন, যাঁদের প্রায় সবাই বেসামরিক নাগরিক। আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। গত বছর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—দুই দেশই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা মজুত নিয়ে বড় চাপের মুখে পড়ে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ থেকে ২৫০টি থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যা পেন্টাগনের মোট মজুতের প্রায় ২০ থেকে ৫০ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ৮০টি এসএম–৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা তাদের মোট মজুতের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্যালি আর নাসর বলেন, ১২ দিনের সংঘাত থেকে তারা এত দ্রুত শিক্ষা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে, এটা বিস্ময়কর। তারা বুঝেছে, তাদের যে জায়গায় ঘাটতি আছে, তা হলো প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা, যেমন ইন্টারসেপ্টর, থাড ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট। নাসর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত কমিয়ে দেওয়ার পরও ইরানের কাছে এমন কিছু উৎক্ষেপণ সক্ষমতা থাকতে পারে, যার মাধ্যমে তারা মার্কিন সেনা, সম্পদ ও মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন স্বীকার করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। কেইন বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি হওয়ার পর কোনো পরিকল্পনাই অপরিবর্তিত থাকে না। তারা যেমন নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে, আমরাও তেমনি বদলাচ্ছি।’ দুবাইয়ে জাবেল আলী বন্দর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছ। ১ মার্চ ২০২৬, দুবাইদুবাইয়ে জাবেল আলী বন্দর থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যাচ্ছ। জেনারেল কেইন বলেন, ‘অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণে তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে চান না, ইরান কীভাবে তাদের কৌশল বদলাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই না, কারণ এতে তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে, কী কাজ করছে।’ অতীতে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলার আগে সাধারণত আগাম সতর্কবার্তা দিত এবং মূলত মুখরক্ষা করার জন্যই এমন হামলা চালাত বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন। গত বছর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন মার্কিন বি–২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন, তখন ইরান প্রতিশোধ হিসেবে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন। হামলার আগে ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা কোথায় আঘাত করবে। এবার তেমন কিছু ঘটছে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরান আল উদেইদ ঘাঁটির আগাম সতর্কতার একটি রাডার ব্যবস্থায় আঘাত করেছে, যাতে একটি অত্যাধুনিক রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তথ্য আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল। মার্কিন সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো অত্যন্ত গোপনীয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক কোন কোন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর ধরন থেকে বোঝা যায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর যোগাযোগ ও সমন্বয় সক্ষমতা ব্যাহত করতে চাইছে। সামরিক কর্মকর্তারা বলেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকেও আঘাত করতে চাইছে। ইরান কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে থাকা তিনটি রাডার ডোমেও আঘাত করেছে। সেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করেন। এর প্রায় ৫০ মাইল উত্তর–পূর্বে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির স্যাটেলাইট যোগাযোগ অবকাঠামোর কাছে থাকা অন্তত ছয়টি ভবন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে—হামলার পর তোলা ছবিতে তা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে কংগ্রেসকে দেওয়া পেন্টাগনের এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে একটি হামলার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি ডলার। অতীতে ইরান তাদের সব ড্রোন হামলা ইসরায়েলের দিকে চালাত। এবার তা হয়নি। ইরান কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সম্পদের দিকে হাজার হাজার সস্তা একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন ছুড়েছে। গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের এত তীব্র প্রতিক্রিয়া পেন্টাগন প্রত্যাশা করেনি। তবে তিনি বলেন, এতে উল্টো ইরানেরই ক্ষতি হচ্ছে। বাহরাইনের মানামায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। মানামাবাহরাইনের মানামায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। পেন্টাগনের সংবাদ সম্মেলনে জেনারেল কেইনের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে হেগসেথ বলেন, ‘এভাবে তাদের এতটা প্রতিক্রিয়া হবে, এমনটা আমরা ভাবিনি। তবে এটি সম্ভব, তা আমরা জানতাম। আমার মনে হয়, এটি শাসনব্যবস্থার হতাশার একটি প্রকাশ।’ হেগসেথ আরও বলেন, ‘শুরুতেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানি শাসনের একটি বড় ভুল। এতে তারা আসলে নিজেদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে ফেলেছে। নির্বিচার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছে।’ জেনারেল কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র বিমান হামলার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কেইন বলেন, ‘আমাদের হামলার ফলে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সংখ্যা কমাতে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। শুরুতে যে সংখ্যায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল, তা এখন ৯০ শতাংশ কমেছে। আর একমুখী হামলাকারী ড্রোন ৮৩ শতাংশ কমেছে, যা আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষাকারীদের দক্ষতার প্রমাণ।’ তবে ইরানের হামলা পুরোপুরি থেমে যায়নি। দুই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, পেন্টাগনের কাছে ইরানের সব উৎক্ষেপণ স্থানের পূর্ণ তথ্য না–ও থাকতে পারে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু, যেমন মার্কিন রাডারে আঘাত করার জন্য ইরান অনেক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রেখেছে। গত সপ্তাহে ক্যাপিটল হিলে গোপন ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, ইরানের কাছে এখনো তাঁদের ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার প্রায় ৫০ শতাংশ রয়ে গেছে। তবে চলমান বিমান হামলায় তা প্রতিদিনই কমছে। ভ্যালি নাসর বলেন, ‘আপনি যদি ভাবেন, শত্রুপক্ষ কী ভাবছে, তাহলে হতে পারে ইরানের প্রথম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ছিল মূলত দরজা খোলার মতো একটি ধাপ। এরপর আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা হতে পারে।’ মার্কিন কর্মকর্তা ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘যুদ্ধের শুরুতেই দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরও ইরান প্রতিদিন দেখাচ্ছে, তাদের লড়াই করার সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। ইরান এমন আচরণ করছে না, যেন তাদের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ মার্কিন স্থাপনা: নিউইয়র্ক টাইমস ইরাকে মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ রাজধানীর নদ্দায় আগুন লেবাননের জনগণের সঙ্গে সংহতি জানাতে বৈরুতে জাতিসংঘের মহাসচিব মার্কিন সেই সামরিক উড়োজাহাজ ভূপাতিত করার দাবি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়াতে পারে দেশে দেশে: বিজ্ঞানীদের সতর্কতা মাত্র ৫ বছর বয়সে সন্তান জন্ম দেয় যে শিশু গ্রহাণু বিপর্যয়ই ডাইনোসরদের নিশ্চিহ্নের কারণ, দাবি নতুন গবেষণায় সুন্দরবনে পর্যটক বৃদ্ধি-জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ২০ বছরের মাস্টারপ্ল্যান রাজনৈতিক অস্থিরতা: বিনিয়োগে ধস, অনিশ্চয়তায় থমকে গেছে বিদেশি পুঁজি শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ দিয়ে খুলছে বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স ঈদের আগে চড়া মাছ-মাংসের বাজার, কমেছে সবজির দাম স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার ছাড়াল দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ‘মহিমান্বিত’ করে শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সংসদ: ছাত্র ইউনিয়ন-ফ্রন্টের প্রতিবাদ টেন্ডার ভাগাভাগি নিয়ে দলীয় কোন্দল: ফেনী জেলা বিএনপির নেতাকে হত্যাচেষ্টা রাজশাহী আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: আওয়ামীপন্থীদের ভোটে দাঁড়াতে না দিয়ে পুরো প্যানেলসহ জয় বিএনপির বিএনপি সমর্থক পিতার ছেলে ‘ছাত্রলীগ নেতা’: রাজনৈতিক আদর্শ না ছাড়ায় করলেন তাজ্যপুত্র ফেনীতে পরিবেশমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭ সংসদে রাজাকারদের জন্য শোক প্রস্তাব: ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রতিবাদ ইউনূসের পদাঙ্ক অনুসরণে তারেক: দিবসের তালিকায় ফেরেনি ৭ই মার্চ, ১৫ই আগস্ট ও সংবিধান দিবস