ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
৪ হাজার সদস্য নিয়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ঘিরে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছে
নির্বাচনের দুদিন আগে ‘বিশেষ উদ্দেশ্যে’ সীমান্ত পার করানো হয় ফয়সালকে, অবশেষে ভারতে সঙ্গীসহ আটক
আড়ং ও বাংলাদেশের গৌরবময় অর্জন: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারুশিল্পের ষ্টোর’
৭ই মার্চ পোস্টের জেরে ঢাবি শিক্ষার্থীকে সেহেরির সময় নির্মমভাবে পেটালো ছাত্র শিবির-ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা
৭ মার্চের ভাষণ বাজানোয় গ্রেফতার ইমিসহ তিনজনের জামিন নামঞ্জুর
জ্বালানি সরবরাহে নজরদারি জোরদার, বিপিসির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল গঠন
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কয় মাসের ব্যয় মেটাতে সক্ষম?
চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব
জয়পুরহাটের কালাইয়ে একজন সাধারণ আড়ত ব্যবসায়ী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে পাওনা টাকা তুলেছেন। রাত সাড়ে আটটায় বাড়ি ফিরছিলেন মোটরসাইকেলে। পথের মাঝে থামানো হলো, বেধড়ক মারধর করা হলো, আর ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হলো। যারা এই কাজটি করলো, তারা কোনো অজ্ঞাত সন্ত্রাসী না। তারা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী। গ্রেফতার হওয়া হারুন মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
এখন প্রশ্ন করা দরকার, এই ঘটনাটা কি আলাদা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা? নাকি এটা একটা পরিচিত প্যাটার্নের অংশ?
বিএনপি গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে মাঠে নেমেছে, সেটা দেখলে যেকোনো সচেতন মানুষের পরিচিত লাগবে। চাঁদাবাজি, দখল, মারধর, ছিনতাই। দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের যে
সংস্কৃতি বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে বহন করে আসছে, সেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর সামাজিক মাধ্যমে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলে আরও বেশি গা শিউরে ওঠে। কেউ লিখছেন, “১৭ বছর লুটপাট বন্ধ ছিল, এখন বাপ ক্ষমতায়।” কেউ বলছেন, “২ দিন পর তো বের হয়ে যাবে, গ্রেফতার করে কি লাভ!” কেউ আবার সান্ত্বনা দিচ্ছেন এই বলে যে “রিজিকের মালিক আল্লাহ, চাঁদাবাজি তো উসিলা মাত্র।” আর সবচেয়ে ভয়াবহ যুক্তিটি হলো, “দীর্ঘদিন থেকে না খেয়ে আছে, এটা তেমন কিছু না।” এই মন্তব্যগুলো হাস্যরসের জায়গা থেকে করা হয়েছে, সেটা বোঝা যায়। কিন্তু এর ভেতরে একটা ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে। মানুষ এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে নিতে শুরু করেছে। “বিএনপি
ক্ষমতায় আসলে এমনটাই হয়” এই ধারণাটা মানুষের মাথায় এতটাই গেঁথে গেছে যে তারা ক্ষোভ দেখালেও বিস্মিত হচ্ছে না। এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। এখন একটু পেছনে তাকানো দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যে নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ হলো, সেটাতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রাখা হয়েছিল। জনগণ সেই ভোট বয়কট করেছিল। ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি। তারপরও একটি ফলাফল এলো, একটি সরকার গঠিত হলো, মন্ত্রীরা শপথ নিলেন। যে সরকার জনগণের ভোটের বৈধতা ছাড়াই ক্ষমতায় বসে আছে, সেই সরকারের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলার কী জবাবদিহি আশা করা যায়? বিএনপি একটি দল হিসেবে এই দেশের রাজনীতিতে যতটুকু ক্ষতি করেছে, সেটার হিসাব দেওয়া শেষ হওয়ার নয়। জিয়াউর রহমান সেনাশাসনের
মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে একটি রাজনৈতিক দল বানিয়েছিলেন। সেই দলের ভিত্তিটাই গণতান্ত্রিক ছিল না। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া একটি দল যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন সেটা শুনতে অনেকটা রঙ্গমঞ্চের সংলাপের মতো লাগে। তারপর বছরের পর বছর ধরে এই দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলীয় ছত্রছায়ায় অপরাধ, এগুলো রুটিনমাফিক ঘটেছে। কালাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু না। কিন্তু নতুন যেটা, সেটা হলো এই ঘটনার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে, বাকিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই তথাকথিত মন্ত্রিসভা থেকে কোনো বক্তব্য নেই, কোনো উদ্বেগ নেই। নুর আলম বলেছেন, “টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তার বিচার
চাই।” একজন বাবার এই কথার ভেতরে কতটা অসহায়ত্ব আছে সেটা একটু ভাবুন। তিনি টাকার কথা ছেড়েই দিয়েছেন। শুধু চাইছেন ছেলের গায়ে হাত দেওয়ার বিচার। এই বিচার কি তিনি পাবেন? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়াটা এই মুহূর্তে খুব কঠিন। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ বিএনপির আগের শাসনামল সরাসরি দেখেনি। তারা শুনেছে, পড়েছে। এখন দেখছে। কালাইয়ের ঘটনা, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা এরকম শতশত ঘটনা, এগুলো একটা জীবন্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠছে। এই পাঠটা নেওয়া দরকার। কিন্তু পাঠ নেওয়াই কি যথেষ্ট? যে সরকার বৈধতার সংকটে ভুগছে, যে দল ঐতিহাসিকভাবে সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, তাদের কাছ থেকে একজন ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা
নিয়ে এই দেশের মানুষকে ভাবতে হবে। নাজিমুদ্দিন এখন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা থানায় মামলা করেছেন। একজন আসামি জেলে গেছে। বাকিরা মুক্ত। ছিনতাই হওয়া ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকার হদিস নেই। এই হলো আমাদের বাস্তবতা। এবং এই বাস্তবতার দায় কোনো একটি দলের একার না, দায়টা সেই পুরো ব্যবস্থার, যেটা বারবার একই মানুষগুলোকে, একই কাঠামোকে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সুযোগ দিয়ে চলেছে।
সংস্কৃতি বিএনপি তার জন্মলগ্ন থেকে বহন করে আসছে, সেটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আর সামাজিক মাধ্যমে মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখলে আরও বেশি গা শিউরে ওঠে। কেউ লিখছেন, “১৭ বছর লুটপাট বন্ধ ছিল, এখন বাপ ক্ষমতায়।” কেউ বলছেন, “২ দিন পর তো বের হয়ে যাবে, গ্রেফতার করে কি লাভ!” কেউ আবার সান্ত্বনা দিচ্ছেন এই বলে যে “রিজিকের মালিক আল্লাহ, চাঁদাবাজি তো উসিলা মাত্র।” আর সবচেয়ে ভয়াবহ যুক্তিটি হলো, “দীর্ঘদিন থেকে না খেয়ে আছে, এটা তেমন কিছু না।” এই মন্তব্যগুলো হাস্যরসের জায়গা থেকে করা হয়েছে, সেটা বোঝা যায়। কিন্তু এর ভেতরে একটা ভয়ংকর সত্য লুকিয়ে আছে। মানুষ এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ধরে নিতে শুরু করেছে। “বিএনপি
ক্ষমতায় আসলে এমনটাই হয়” এই ধারণাটা মানুষের মাথায় এতটাই গেঁথে গেছে যে তারা ক্ষোভ দেখালেও বিস্মিত হচ্ছে না। এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা। এখন একটু পেছনে তাকানো দরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যে নির্বাচনের নাটক মঞ্চস্থ হলো, সেটাতে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রাখা হয়েছিল। জনগণ সেই ভোট বয়কট করেছিল। ভোটকেন্দ্রে মানুষ যায়নি। তারপরও একটি ফলাফল এলো, একটি সরকার গঠিত হলো, মন্ত্রীরা শপথ নিলেন। যে সরকার জনগণের ভোটের বৈধতা ছাড়াই ক্ষমতায় বসে আছে, সেই সরকারের কাছ থেকে আইনশৃঙ্খলার কী জবাবদিহি আশা করা যায়? বিএনপি একটি দল হিসেবে এই দেশের রাজনীতিতে যতটুকু ক্ষতি করেছে, সেটার হিসাব দেওয়া শেষ হওয়ার নয়। জিয়াউর রহমান সেনাশাসনের
মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে একটি রাজনৈতিক দল বানিয়েছিলেন। সেই দলের ভিত্তিটাই গণতান্ত্রিক ছিল না। ক্যান্টনমেন্টের ভেতর থেকে জন্ম নেওয়া একটি দল যখন গণতন্ত্রের কথা বলে, তখন সেটা শুনতে অনেকটা রঙ্গমঞ্চের সংলাপের মতো লাগে। তারপর বছরের পর বছর ধরে এই দলটি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দলীয় ছত্রছায়ায় অপরাধ, এগুলো রুটিনমাফিক ঘটেছে। কালাইয়ের ঘটনা নতুন কিছু না। কিন্তু নতুন যেটা, সেটা হলো এই ঘটনার প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অনুপস্থিতি। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে, বাকিরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এই তথাকথিত মন্ত্রিসভা থেকে কোনো বক্তব্য নেই, কোনো উদ্বেগ নেই। নুর আলম বলেছেন, “টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তার বিচার
চাই।” একজন বাবার এই কথার ভেতরে কতটা অসহায়ত্ব আছে সেটা একটু ভাবুন। তিনি টাকার কথা ছেড়েই দিয়েছেন। শুধু চাইছেন ছেলের গায়ে হাত দেওয়ার বিচার। এই বিচার কি তিনি পাবেন? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দেওয়াটা এই মুহূর্তে খুব কঠিন। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ বিএনপির আগের শাসনামল সরাসরি দেখেনি। তারা শুনেছে, পড়েছে। এখন দেখছে। কালাইয়ের ঘটনা, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা এরকম শতশত ঘটনা, এগুলো একটা জীবন্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠছে। এই পাঠটা নেওয়া দরকার। কিন্তু পাঠ নেওয়াই কি যথেষ্ট? যে সরকার বৈধতার সংকটে ভুগছে, যে দল ঐতিহাসিকভাবে সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে, তাদের কাছ থেকে একজন ব্যবসায়ীর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাটা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটা
নিয়ে এই দেশের মানুষকে ভাবতে হবে। নাজিমুদ্দিন এখন জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। তার বাবা থানায় মামলা করেছেন। একজন আসামি জেলে গেছে। বাকিরা মুক্ত। ছিনতাই হওয়া ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকার হদিস নেই। এই হলো আমাদের বাস্তবতা। এবং এই বাস্তবতার দায় কোনো একটি দলের একার না, দায়টা সেই পুরো ব্যবস্থার, যেটা বারবার একই মানুষগুলোকে, একই কাঠামোকে, ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সুযোগ দিয়ে চলেছে।



