পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ মার্চ, ২০২৬

পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ মার্চ, ২০২৬ |
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আংশিক লক্ষ্য অর্জন করেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি সম্ভাব্য বিকল্প আছে। প্রথমত, খামেনির মৃত্যুকে জয় ধরে নিয়ে থেমে যাওয়া কিংবা শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি বদলের জন্য দ্বিগুণ শক্তিতে আক্রমণ চালানো। ট্রাম্প আসলে কোন পথে যাবেন তা সম্ভবত ঠিক করতে পারছেন না। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, যুদ্ধ আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- কথাটি ট্রাম্প কি দায়িত্ব নিয়ে বা গুরুত্ব সহকারে বলেছেন? যুক্তরাষ্ট্র কি এত লম্বা সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে? যুদ্ধ শুরুর আগে পেন্টাগনের কমান্ডাররা কিছু গোপন তথ্যের মাধ্যমে সতর্ক করেছিলেন, এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্য) বর্তমানে যে

পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হয়েছে, তা বড়জোড় এক বা দুই সপ্তাহের যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট। অপরদিকে আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের জন্যও সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার চাপ দিচ্ছেন। এর বড় কারণ হলো, তাদের কাছে থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উদ্বেগজনক হারে কমে গেছে। এই যুদ্ধকে বলা হচ্ছে ‘অসম যুদ্ধ’। কেউ কেউ এটিকে ই-বাইকের বিরুদ্ধে ফেরারি গাড়ি ব্যবহারের মতো ভারসাম্যহীন বলে তুলনা করছেন। যেমন- মাত্র কয়েক হাজার ডলার মূল্যের একটি ড্রোন ভূপাতিত করতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অনির্দিষ্টকাল ধরে এভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া

প্রায় অসম্ভব। একই সঙ্গে ইরান একাধিক অভিমুখে আক্রমণ করার যে কৌশল নিয়েছে, তা অনেককেই অবাক করেছে। ট্রাম্পের ধারাবাহিক হুমকির মুখে তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করছিল- যদি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কোনো চেষ্টা করা হয়, তবে আর কোনো রাখঢাক করা হবে না। অর্থ্যাৎ, উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে। কিন্তু এই পাল্টা আঘাত ইরানের জন্য চরম মূল্য দেওয়ার পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। কারণ, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সৌদি আরব তাদের নিজস্ব সামরিক বাহিনী নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরাসরি যোগ দেওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে আপাতত ঘাঁটিতে আক্রমণের ইরানি কৌশল কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। একদিকে তারা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ শেষ করার

চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে হামলাকারীদের বাধ্য করছে তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল সমরাস্ত্রের মজুত খালি করতে। কিছু বিষয় এখনো অজানা রয়ে গেছে। যেমন- যুদ্ধ সক্ষমতা জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র আরও কত সময় নেবে? সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো- বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে আসলে কী ঘটছে? আকাশপথে ইরানের বিভিন্ন অংশকে দুর্বল করে দিয়ে ইসরায়েল কি ফিল্ড এজেন্টদের সহায়তায় সশস্ত্র আঞ্চলিক বিদ্রোহ শুরু করতে চাচ্ছে? যদি তেমনটা ঘটে, তবে যুদ্ধ সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে। ইরান খণ্ডবিখণ্ড হলে তা গৃহযুদ্ধের দিকে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এমন পরিকল্পনার কোনো বড় লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ‘শত্রুপক্ষ’ বিদ্রোহ ঘটানোর কৌশল যদি না নেয়, তবে আকাশপথের আক্রমণ যতই বিধ্বংসী হোক না কেন,

ইরানের শাসনব্যবস্থা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। এই যুদ্ধ লক্ষ্য বা পরিণতির দিক থেকেও অসম। জেতার জন্য ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে। কারণ, এটাই তাদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইরানের এই শাসনব্যবস্থার জন্য বিজয় ঘোষণার জন্য শুধু টিকে থাকাই যথেষ্ট- তা যত দিনই লাগুক না কেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কারো পক্ষেই অনির্দিষ্টকাল ধরে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে আরও বেশি মার্কিন পাইলট গুলিবিদ্ধ হয়ে ভূপাতিত হবেন অথবা স্থলভাগে সৈন্যরা মারা যাবেন। বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এই সংঘাতের প্রভাবও হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের পক্ষে এই চাপ সামাল দেওয়াটাও বেশ কঠিন হবে। পাশাপাশি,

বিদেশে হস্তক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্পও মার্কিন জনগণের সমর্থন হারাতে থাকবেন। সবকিছুর মতো যুদ্ধেরও একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেই সীমায় পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের শাসনব্যবস্থা যদি টিকে যায়- তাহলে বাকিদের পরিণতি কেমন হবে?

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ফরিদগঞ্জে দেয়ালে দেয়ালে ছাত্রলীগের পোস্টারিং: নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা কারাগারে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার মৃত্যু,নির্যাতনের অভিযোগ স্বজনদের নিঃসঙ্গ এক সন্তের বিদায় দশ জনের দল নিয়ে রোমাঞ্চ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে সংসদ ভবন চত্ত্বরে বিদেশী কোন দেশের স্বাধীনতা দিবস পালন হলে কি হতো? মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞা থেকে জামায়াত-মুসলিম লীগ-নেজামে ইসলামের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ‘ককাস অব আমেরিকা ইন ন্যাশনাল পার্লামেন্ট অব বাংলাদেশ’ হালান্ডকে আটকানো নিয়ে যা বললেন ব্রাজিল কোচ জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নিয়ে হঠাৎই জ্বলে উঠলেন আনু মুহাম্মদ জুলাই নিয়ে মন্তব্য করায় আনিস আলমগীর, পিয়া সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা ৩০০ দরিদ্রের উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ ৮ কোটি, দেশি-বিদেশি ৪৭৩ পরামর্শকের ব্যয় ৫৩ কোটি! চাচার বাড়ি থেকে ফেরার পথে শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১ কেন ওয়াদুদকে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিলেন জানালেন মৌসুমী অবসরের ঘোষণা দিলেন নেইমার উল্টোরথে ব্রাজিলের ‘মিশন হেক্সা কমপ্লিট’ উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু দেশের ১২ জেলায় ঝড়সহ বজ্রবৃষ্টির আভাস উলিপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রাণবন্ত আয়োজন