ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মার্কিন মদতে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থায় জামায়াত: ইরানে হামলার পর ভোল বদলে যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী সমাবেশ-মিছিল
ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে শিক্ষাঙ্গন ‘ক্ষত-বিক্ষত’: প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অভিযোগ, ১৪ দফা দাবি উত্থাপন
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কের মুখে সরলেন বনমন্ত্রী মিন্টু, নয়া দায়িত্বে মেলিতা
অতিরিক্ত মদ্যপানে মৃত্যু: পরিবারের কারসাজিতে ‘জুলাই শহীদ’, জুটল ৩০ লাখ আর মামলায় নিরীহদের হয়রানি
মার্কিন মদতে রাজনীতিতে শক্ত অবস্থায় জামায়াত: ইরানে হামলার পর ভোল বদলে যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী সমাবেশ-মিছিল
ঢাকায় আসছেন পল কাপুর: নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে ১৮ মাস পর গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন কর্মকর্তার সফর
গত ১৮ মাসের ভারত-বিদ্বেষ ও তিক্ততা পেছনে ফেলে নতুন করে সম্পর্ক নবায়নের পথে বাংলাদেশ
সুনামগঞ্জে ডিসির মদতে ফসলরক্ষা বাঁধের কোটি টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নিল শিবির ক্যাডাররা
সুনামগঞ্জে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ও আওয়ামী লীগ আমলে নেতাদের বিশেষ আশিবার্দপুষ্ট কথিত সাংবাদিক মাছুম হেলাল ওরফে হেলাল উদ্দিন মাসুম ৫ই আগস্টের পর নিরীহ মানুষদের মামলার আসামি করার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেবার পর এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের নামে ভুয়া প্রকল্প নিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
শিবিরের অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে একসময়কার দুর্ধর্ষ এই কর্মী সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার সহায়তায় তার সহযোগী সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের শিবির নেতা শহিদনূর আহমদকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জেলা কমিটিতে স্থান দিয়ে মাছুম হেলাল ও শহিদনূর গ্যাং হাতিয়ে নিয়েছে কোটি টাকা মূল্যের একাধিক প্রকল্প।
এর মধ্যে মাছুম হেলালের দুর্নীতির একটি প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের ভিডিও বক্তব্য
বিডি ডাইজেস্ট-এর হাতে এসেছে। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও সুনামগঞ্জ (দক্ষিণ) এর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন মাসুম ওরফে মাছুম হেলাল পৌর মার্কেটে খিচুড়ি বিক্রি করতেন। এক দশক আগে হঠাৎ সাংবাদিক বনে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক করে নানা ফায়দা লুটতে থাকেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, তার ভাই যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র (প্রয়াত) আয়ুব বখত জগলুল, তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পলিন বখত, ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, তার ভাই শামীম চৌধুরী, দিরাই পৌর মেয়র
মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘনিষ্ঠ সূত্র স্বীকার করেছে, আয়ূব বখত জগলুলের পত্রিকা সুনামগঞ্জ রিপোর্ট সম্পাদনারও দায়িত্ব নিয়ে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করেন। পরে আয়ূব বখত জগলুলের কাছ থেকে পৌর শহরের হোসেন বখত চত্ত্বরে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি দোকান বরাদ্দ নিয়ে নেন। নোমান বখত পলিনের প্রেসরিলিজ তৈরি করে দিতেন এই মাসুম হেলাল। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ ও তার মা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট শামসুন্নাহার রব্বানীর শাহানার সান্নিধ্যে
এসে প্রেসক্লাবের রাজনীতিরও নিয়ন্ত্রণ নেন মাছুম হেলাল। স্মরণ এই মছুম হেলালকে দিয়ে তার বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ৫ই আগস্টের পর মুখোশ ফেলে দিয়ে শিবির ক্যাডার মাছুম হেলাল স্বরূপে ফিরে আসেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক লেখা লিখে মবের চেষ্টা করেন। মবের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন অনেক নেতার কাছ থেকে বিপুল অর্থ। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও শহরে বিভিন্ন ভাস্কর্য এবং মাজার ভাঙচুরে উস্কানি দেওয়ার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বর মাসে তার নিজ উপজেলা দোয়ারাবাজার থেকে জুলাই দাঙ্গার আহত জহুর আলীর ভাই হাফিজুর রহমানকে দিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার নিরীহ
মানুষকে মামলায় আসামি করেন। অনেককে ফোন করে মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। মামলা দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাটি অবগত হয়ে আন্দোলনে আহত জহুর আলী সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এসে লাইভে মাছুম হেলালের মামলা বাণিজ্যের গুমর ফাঁস করে দেন। তার লাইভের সূত্র ধরে দেশের সকল শীর্ষ গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে মাছুম হেলালের মামলা বাণিজ্যের বিষয়টি সবিস্তারে উঠে আসে। কিন্তু আগস্টের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শিবির ক্যাডার ও শিশির মনিরের রুমমেট মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিলে জুলাই চেতনায় উজ্জীবিত মাসুম হেলালের শক্তি বেড়ে যায়। তিনি ডিসির ক্ষমতা দেখিয়ে সমগ্র জেলায় নানাস্থানে
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন। একপর্যায়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের জেলা সভাপতি হিসেবে ডিসির কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নেন মাসুম হেলাল। নিজ উপজেলা দোয়রাবাজার, ছোট বোনের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলা ও শশুর বাড়ি মধ্যনগরে একাধিক প্রকল্প হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে নিজ গ্রাম গোরেশপুরে প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি ভুয়া প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছেন। এটি আদৌ হাওরের ফসলরক্ষাবাঁধ না হলেও শিবির ক্যাডার ডিসি মাছুম হেলালকে ৩০ লাখ টাকার ভুয়া প্রকল্পটি উপহার দেন ডিসি। মাছুম হেলাল তার নিত্য সহচর ও সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের সাবেক শিবির ক্যাডার শহিদ নূরকে জেলা কমিটিতে ডিসিকে বলে ঢুকিয়ে দেন। শহিদ নূরও নিজ উপজেলা শান্তিগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় একাধিক প্রকল্প
হাতিয়ে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। হেলাল-শহিদনূর জুটি ৫ই আগস্টের পর জেলায় নিরীহ মানুষদের মামলায় হয়রানি করে টাকা কামানোর ধান্দায় মেতে উঠেছিলেন। তাদের ভয়ে অনেকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের সঙ্গে রফা করেন। এই সময় নদীতে বালু লুট ও সীমান্তে কালোবাজারিতেও জড়িয়ে পড়ে এই জুটি। এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দের দিকেও নজর দেন তারা। এই কাজে সহযোগিতা পান যুদ্ধাপরাধীর পুত্র ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামির পরাজিত প্রার্থী শিশির মনিরের। হেলাল-শহিদনূর জুটিকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে নানা দুর্নীতির প্রকল্প অুনমোদন ও বাস্তবায়ন করছেন খোদ ডিসি, এমন অভিযোগ মিলেছে ইতিমধ্যে। এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন হেলাল ও শহিদনূর। তারা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণাও চালান এবং বিভিন্ন স্থানে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে কৌশলে বিএনপির প্রভাবশালী জামায়াতঘেঁষা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখেন সমান্তরালে। সুনামগঞ্জে জামায়াতের ভরাডুবির পর তারা ওই চক্রের সহায়তায় এখন বিএনপির এমপিদের কাছ থেকে সুবিধা লাভের পাঁয়তারা করছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাদে গোরেশপুরে অতীতে হাওরের কোনও প্রকল্প ছিলনা। এখানে কোনও হাওরও নাই তাই বাঁধেরও প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু এবার কীভাবে এখানে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হলো আমি বলতে পারব না। এ ব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।
বিডি ডাইজেস্ট-এর হাতে এসেছে। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ও সুনামগঞ্জ (দক্ষিণ) এর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন মাসুম ওরফে মাছুম হেলাল পৌর মার্কেটে খিচুড়ি বিক্রি করতেন। এক দশক আগে হঠাৎ সাংবাদিক বনে যান। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক করে নানা ফায়দা লুটতে থাকেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা মুকুট, তার ভাই যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র (প্রয়াত) আয়ুব বখত জগলুল, তার ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পলিন বখত, ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী, তার ভাই শামীম চৌধুরী, দিরাই পৌর মেয়র
মোশারফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম, জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘনিষ্ঠ সূত্র স্বীকার করেছে, আয়ূব বখত জগলুলের পত্রিকা সুনামগঞ্জ রিপোর্ট সম্পাদনারও দায়িত্ব নিয়ে কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশ করেন। পরে আয়ূব বখত জগলুলের কাছ থেকে পৌর শহরের হোসেন বখত চত্ত্বরে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি দোকান বরাদ্দ নিয়ে নেন। নোমান বখত পলিনের প্রেসরিলিজ তৈরি করে দিতেন এই মাসুম হেলাল। এছাড়া ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলে রাব্বী স্মরণ ও তার মা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট শামসুন্নাহার রব্বানীর শাহানার সান্নিধ্যে
এসে প্রেসক্লাবের রাজনীতিরও নিয়ন্ত্রণ নেন মাছুম হেলাল। স্মরণ এই মছুম হেলালকে দিয়ে তার বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখালেখি করাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ৫ই আগস্টের পর মুখোশ ফেলে দিয়ে শিবির ক্যাডার মাছুম হেলাল স্বরূপে ফিরে আসেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক লেখা লিখে মবের চেষ্টা করেন। মবের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেন অনেক নেতার কাছ থেকে বিপুল অর্থ। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর ও শহরে বিভিন্ন ভাস্কর্য এবং মাজার ভাঙচুরে উস্কানি দেওয়ার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বর মাসে তার নিজ উপজেলা দোয়ারাবাজার থেকে জুলাই দাঙ্গার আহত জহুর আলীর ভাই হাফিজুর রহমানকে দিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার নিরীহ
মানুষকে মামলায় আসামি করেন। অনেককে ফোন করে মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। মামলা দিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনাটি অবগত হয়ে আন্দোলনে আহত জহুর আলী সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এসে লাইভে মাছুম হেলালের মামলা বাণিজ্যের গুমর ফাঁস করে দেন। তার লাইভের সূত্র ধরে দেশের সকল শীর্ষ গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এসব প্রতিবেদনে মাছুম হেলালের মামলা বাণিজ্যের বিষয়টি সবিস্তারে উঠে আসে। কিন্তু আগস্টের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শিবির ক্যাডার ও শিশির মনিরের রুমমেট মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিলে জুলাই চেতনায় উজ্জীবিত মাসুম হেলালের শক্তি বেড়ে যায়। তিনি ডিসির ক্ষমতা দেখিয়ে সমগ্র জেলায় নানাস্থানে
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে মেতে ওঠেন। একপর্যায়ে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের জেলা সভাপতি হিসেবে ডিসির কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকার প্রকল্প হাতিয়ে নেন মাসুম হেলাল। নিজ উপজেলা দোয়রাবাজার, ছোট বোনের বাড়ি জামালগঞ্জ উপজেলা ও শশুর বাড়ি মধ্যনগরে একাধিক প্রকল্প হাতিয়ে নেন। এর মধ্যে নিজ গ্রাম গোরেশপুরে প্রায় ৩০ লাখ টাকার একটি ভুয়া প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছেন। এটি আদৌ হাওরের ফসলরক্ষাবাঁধ না হলেও শিবির ক্যাডার ডিসি মাছুম হেলালকে ৩০ লাখ টাকার ভুয়া প্রকল্পটি উপহার দেন ডিসি। মাছুম হেলাল তার নিত্য সহচর ও সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের সাবেক শিবির ক্যাডার শহিদ নূরকে জেলা কমিটিতে ডিসিকে বলে ঢুকিয়ে দেন। শহিদ নূরও নিজ উপজেলা শান্তিগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় একাধিক প্রকল্প
হাতিয়ে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। হেলাল-শহিদনূর জুটি ৫ই আগস্টের পর জেলায় নিরীহ মানুষদের মামলায় হয়রানি করে টাকা কামানোর ধান্দায় মেতে উঠেছিলেন। তাদের ভয়ে অনেকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের সঙ্গে রফা করেন। এই সময় নদীতে বালু লুট ও সীমান্তে কালোবাজারিতেও জড়িয়ে পড়ে এই জুটি। এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের বরাদ্দের দিকেও নজর দেন তারা। এই কাজে সহযোগিতা পান যুদ্ধাপরাধীর পুত্র ও সুনামগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামির পরাজিত প্রার্থী শিশির মনিরের। হেলাল-শহিদনূর জুটিকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে নানা দুর্নীতির প্রকল্প অুনমোদন ও বাস্তবায়ন করছেন খোদ ডিসি, এমন অভিযোগ মিলেছে ইতিমধ্যে। এদিকে গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রকাশ্যে মাঠে নামেন হেলাল ও শহিদনূর। তারা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণাও চালান এবং বিভিন্ন স্থানে ভোট প্রার্থনা করেন। তবে কৌশলে বিএনপির প্রভাবশালী জামায়াতঘেঁষা একটি গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখেন সমান্তরালে। সুনামগঞ্জে জামায়াতের ভরাডুবির পর তারা ওই চক্রের সহায়তায় এখন বিএনপির এমপিদের কাছ থেকে সুবিধা লাভের পাঁয়তারা করছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাদে গোরেশপুরে অতীতে হাওরের কোনও প্রকল্প ছিলনা। এখানে কোনও হাওরও নাই তাই বাঁধেরও প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু এবার কীভাবে এখানে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হলো আমি বলতে পারব না। এ ব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।



