ইউনূসের দুঃশাসন: দেড় বছরে ‘মব’ হামলায় নিহত ২৫৯ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৫:১৬ অপরাহ্ণ

ইউনূসের দুঃশাসন: দেড় বছরে ‘মব’ হামলায় নিহত ২৫৯

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৫:১৬ 13 ভিউ
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গত ১৭ মাসে বাংলাদেশে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনি এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সময়ে দেশে মব ভায়োলেন্সের অন্তত ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা বর্তমানে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব সহিংসতার প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটি ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এইচআরএসএস-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে শিউরে ওঠার মতো সব তথ্য। সংস্থাটি জানায়, সামান্য সন্দেহ

বা তুচ্ছ অজুহাতে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাজধানীতে চোর সন্দেহে একজনকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশে লবণ ঢেলে উল্লাস করার মতো ঘটনা সমাজমানসের চরম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ৪১১টি ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত এবং ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে বিএনপির অভ্যন্তরে। বিএনপির নিজস্ব অন্তর্কোন্দলেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২১ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত তিন

মাসেই (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ১৫৫টি সহিংস ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মব জাস্টিসের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতন ও বন্দুকযুদ্ধের অভিযোগও বাড়ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে বা হেফাজতে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২২ জন নির্যাতনে এবং ১২ জন হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১২৭ জন কয়েদি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এই সময়ে ৬ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন এবং হামলার শিকার হয়েছেন ৮৩৪ জন। সাইবার নিরাপত্তা আইন ও সুরক্ষা অধ্যাদেশের অধীনে ভিন্নমত দমনে ৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও সংকটের মুখে পড়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১৭টি

মন্দির ও ৬৫টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্রও ভয়ংকর; গত ১৭ মাসে ২৬১৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ১০১৬ জন ধর্ষণের শিকার। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আর অসহিষ্ণুতার চরম বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে মব ভায়োলেন্স এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সংলাপ এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—ভিডিওতে নাগরিকের আক্ষেপ বিশেষজ্ঞ বাদ দিয়ে, জনমত উপেক্ষা করে গণমাধ্যমে শিকল পরানোর ষড়যন্ত্র স্মরণকালের ভয়াবহতম রক্তাক্ত নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ ইউনূসের দুঃশাসন: দেড় বছরে ‘মব’ হামলায় নিহত ২৫৯ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনের পর এবার জাতীয় ভোটেও জালিয়াতির নীল নকশায় জামায়াত ভোটের আগে পাকিস্তান থেকে ঢুকছে অস্ত্র, উদ্দেশ্য সহিংসতা বাংলাদেশ যদি মৌলবাদীদের হাতে পড়ে, দিল্লি কি নিরাপদ থাকবে? বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্রে পরিণত করার ভূরাজনৈতিক নকশা ড. ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশ ‘বাটপারিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ গণভোট, রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত ও অবৈধ ইউনূস সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এক ভয়াবহ সতর্ক সংকেত জামায়াতকে যারা ইসলামী দল বলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে : চরমোনাই পীর রঙিন বিপ্লব’-এর পর বাংলাদেশ কি ইসলামি একনায়কতন্ত্রের পথে? নতুন বইয়ে সতর্কবার্তা ইবনে সিনায় শত কোটি টাকার ‘হরিলুট’: কাঠগড়ায় জামায়াত নেতা ডা. তাহের হাসিনা সরকারের মতো সরকার আর আসবে না’—নাগরিকের আক্ষেপ শেষ সময়ের গোলে চেলসিকে আবার হারিয়ে ফাইনালে আর্সেনাল শাবিপ্রবিতে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, শিক্ষকসহ আহত ২০ হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ২০ জন নিহত অনলাইনে গেম খেলতে নিষেধ করায় ভারতে ৩ বোনের আত্মহত্যা