৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুম ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে হবে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৪
     ৮:০১ পূর্বাহ্ণ

৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুম ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে হবে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৪ | ৮:০১ 163 ভিউ
রাজধানীর ফকিরাপুলের ২৯১ নম্বর বাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৭ মার্চ সকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে মাজহারুল ইসলাম রুবেল নামের এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। রুবেলের বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম আজও সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছেন। দীর্ঘ ৯ বছর তিনি থানা-পুলিশ হাসপাতাল, আদালতে ঘুরেও ছেলের খোঁজ পাননি। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সারাদেশ থেকে গুম হওয়া ৫০ জনের বেশি মানুষের স্বজনরা প্রিয়জনের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বজনরা গুমের শিকার ব্যক্তিদের সন্ধানে বর্তমান সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় স্বজনহারা সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিখোঁজদের ফেরত দেওয়া,

সব ‘আয়না ঘর’ বন্ধসহ ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুবেলের মা রহিমা বেগম ছেলের ছবি বুকে নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ৭-৮ জন মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রুবেলকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। শান্ত স্বভাবের রুবেল কী অপরাধ করেছে সে বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চাই। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো জবাব কিংবা ওয়ারেন্ট না দেখিয়েই তড়িঘড়ি করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এরপর থেকে শুরু হয় পরিবারের সদস্যদের দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ পর্যন্ত আর সন্ধান মেলেনি রুবেলের। তবে সবাই হাল ছেড়ে দিলেও এখনও হাল ছাড়েননি মা রহিমা। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে প্রিয় সন্তানের সন্ধানে ঘুরছেন থানা, কারাগার, কোর্ট,

ডিবি অফিস, র‌্যাব-১, র‌্যাব-৩, র‌্যাব সদর দপ্তরে। তবুও আশাবাদী রহিমা। হয়তো প্রিয় ছেলেকে ফিরে পাবেন এমন আশায় রুবেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার আর কোনো ইচ্ছা নাই। আর কিছু বলার নাই। মরার আগে জানতে চাই গুমের শিকার ছেলেটা জীবিত আছে নাকি মেরে ফেলেছে। আজও আমি তার পথ চেয়ে বসে আছি। আমরা গাড়ির নম্বর রেখে দিয়েছি। আমি কি আমার সন্তানের মুখ আর দেখতে পারব না? আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই দ্রুত তাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। রুবেলের দুটি সন্তান ছিল। একটি সন্তান মারা গেছে। আরেকটি সন্তানও সারা দিন বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমরা এখন

গ্রামের বাড়ি (কুমিল্লা) চলে গেছি। আমি একজন অসুস্থ মানুষ। তারপরও ওখান থেকে ছুটে চলে আসি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। যাদের সন্তান গুম হয়েছে তাদের মুখে যেন মৃত্যুর আগে অন্তত হাসি ফোটে। সংবাদ সম্মেলনে গুমের শিকার বাবার সন্ধানে আসা মেয়ে সুরাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবার নাম মো. মোস্তফা। তিনি দোকানদার ছিলেন। মিরপুরের ভাষানটেক এলাকা থেকে ২০২০ সালের ৬ জুন তাকে তুলে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে হায়েস গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছে। পরে আমরা জিডি এবং মামলা করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। আমার মা কাঁদতে কাঁদতে দিশেহারা। আমি আমার বাবার সন্ধান চাই। বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন অভিযোগে কুড়িল থেকে ২০১৯

সালের ২৭ মার্চ গুমের শিকার হন মো. সুজন। এরপর থেকে তার স্ত্রী দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন স্বামীর সন্ধানে। নাজমা আক্তার বলেন, আমার একটা সন্তান নিয়ে আমি খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। ২০১৯ সালে সাদা পোশাকে আমার স্বামীকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তখন স্বামীর সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি ও মামলা করতে চেয়েছিলাম। সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কিছুই করতে দেওয়া হয়নি। আমার ছোট্ট ছেলেটি এখন বড় হয়েছে। সারাক্ষণ বাবার জন্য কান্নাকাটি করে। আমি কোথায় যাব, কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না। রাস্তায় চোখের সামনে স্বামীকে গুম হতে দেখে এমন আরেক ভোক্তভোগী বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে এসেছি। আমার স্বামীর নাম কামরুল ইসলাম। ২০১৬ সালের

২২ জুন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ডিবি পরিচয়ে তাকে ধরা হয়েছিল। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তার সন্ধান পাইনি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
এক ‘ভবঘুরের’ দায় স্বীকার, জবাব নেই কিছু প্রশ্নের ভোটে আটকানো যায়নি ৪৫ ঋণখেলাপিকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা অনিশ্চিত চট্টগ্রামে অভিযানে গিয়ে হামলায় র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত, আহত ৩ ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে যে কৌশল নিচ্ছে ইইউ সাভারে ৭ মাসে ৬ হত্যা, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গ্রেপ্তার মশিউর যুক্তরাষ্ট্র মনে করে আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে তার শক্তিই বড়: জাতিসংঘ মহাসচিব রুমিন, তাহেরী, মুজিবুর ও সালামকে শোকজ কৃষি ব্যাংক ও রাকাব একীভূত করার চিন্তা সব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে নেহা বললেন, আমাকে বাঁচতে দিন সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রস্তুতির বার্তা জেলা থেকে আন্তর্জাতিক পরিসরে গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট নিয়ে গভীর সংকটে বাংলাদেশ ঋণে ডুবে থাকা রাষ্ট্র: অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থ অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ বন্ধকের রাজনীতি একপাক্ষিক বিচারে লজ্জিত’: বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরে দাঁড়ালেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ উপদেষ্টা টোবি ক্যাডম্যান জুলাই ষড়যন্ত্রের’ খেসারত: ২৬টি দেশে পোশাক বাজার হারাচ্ছে বাংলাদেশ, গভীর সংকটে অর্থনীতি দুই দেশের সমীকরণ কোন পথে শাকসু নির্বাচন স্থগিত রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে স্বর্ণ-রুপার দাম নেপালকেও উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ রাজধানীতে চালু হচ্ছে ই-টিকিট