যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৩:৩৯ পূর্বাহ্ণ

যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৩:৩৯ 24 ভিউ
রেজওয়ানা বলেছেন, এই সরকারের আমলে সাংবাদিকরা নিপীড়নের শিকার হননি। বেশ। তাহলে খন্দকার শাহ আলমকে কে পিটিয়ে মেরেছে? আসাদুজ্জামান তুহিনকে কে কুপিয়ে খুন করেছে? প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার অফিসে আগুন দিয়ে কারা পুড়িয়েছে? ফারজানা রুপা নয়টা মামলায় কেন জেলে পচছেন? মোজাম্মেল বাবু ক্যান্সার নিয়ে কারাগারে কেন মরছেন? এসব প্রশ্নের জবাব দেবেন রেজওয়ানা? নাকি এগুলো সব কল্পনা? আসলে ইউনুস সরকারের সমস্যা হলো, তারা ভেবেছিল ক্ষমতায় বসলেই সবকিছু মুছে ফেলা যাবে। মানুষ সব ভুলে যাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সবকিছু নথিভুক্ত করে রেখেছে। Committee to Protect Journalists থেকে Reporters Without Borders, International Federation of Journalists থেকে Human Rights Watch, সবাই বাংলাদেশে সাংবাদিক নিপীড়নের

যে চিত্র তুলে ধরেছে, তাতে রেজওয়ানার মিথ্যা একেবারে উলঙ্গ হয়ে গেছে। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে জুলাই ২০২৪-এ, দাঙ্গা বাঁধিয়ে, নির্বাচিত সরকারকে ক্যু করে। সেই থেকে এ পর্যন্ত, ঠিক আঠারো মাসে, বাংলাদেশের মিডিয়ার যা হাল হয়েছে তা স্বাধীনতার পর এতো বছরেও হয়নি। ইউনুস সরকার সরাসরি গলা টিপে মারছে গণমাধ্যমের। সংখ্যাগুলো দেখা যাক। Transparency International Bangladesh-এর হিসাব বলছে, পাঁচ আগস্ট ২০২৪ থেকে নভেম্বর ২০২৫, মাত্র পনের মাসে চারশো ছিয়াত্তরটা ঘটনায় এক হাজার তিয়াত্তরজন সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। International Federation of Journalists-এর সাউথ এশিয়া প্রেস ফ্রিডম রিপোর্ট ২০২৪-২৫ বলছে, এই সময়ে ছয়জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের পরে দক্ষিণ এশিয়ায় সাংবাদিক হত্যায় দ্বিতীয়। আর ফৌজদারি মামলা?

২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা বেড়েছে পাঁচশো আটান্ন শতাংশ। যারা গণিত বোঝেন না তাদের জন্য বলি, এটা পাঁচ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি। এই হলো রেজওয়ানার “কোনো নিপীড়ন হয়নি” দাবির বাস্তবতা। ডিসেম্বরের আঠারো তারিখের রাতের কথা বলি। বাংলাদেশের মিডিয়ার ইতিহাসে এই রাতটা কালো অক্ষরে লেখা থাকবে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়ানোর পর হাজারো লোক কারওয়ান বাজারে জড়ো হয়। তারা প্রথম আলো ভবনে ঢুকে ভাঙচুর করে, লুটপাট করে, তারপর আগুন দেয়। তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে পুড়ছিল ভবনটা। কয়েকশো গজ দূরে ডেইলি স্টার ভবনেও একই ঘটনা। আটাশজন সাংবাদিক আর কর্মী ছাদে আটকা পড়েছিলেন, ফায়ার সার্ভিস এসে বাঁচায়। প্রথম

আলো সাতাশ বছরে প্রথমবার পত্রিকা ছাপতে পারেনি। ডেইলি স্টার তেত্রিশ বছরে প্রথমবার বন্ধ হয়ে গেল। এবার আসল প্রশ্নটা করি। হামলার সময় ভবনের বাইরে সেনাবাহিনী আর বিজিবি দাঁড়িয়ে ছিল। তারা কী করলো? কিছুই না। দেখলো। হামলাকারীরা তিন ঘণ্টা ধরে পত্রিকা অফিস জ্বালালো, আর নিরাপত্তা বাহিনী দেখলো। পরে, হামলা শেষ হওয়ার পর, তারা এসে বিক্ষোভকারীদের সরাতে চেষ্টা করলো। এটাকে কী বলবেন? নিষ্ক্রিয়তা? নাকি নীরব সম্মতি? Committee to Protect Journalists সহ ছয়টা আন্তর্জাতিক সংস্থা যৌথ বিবৃতিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছে। জাতিসংঘের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক আইরিন খান একে “অত্যন্ত বিপজ্জনক” বলেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার পোড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছেন, “এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য

একটি ভয়াবহ মুহূর্ত ছিল।” কিন্তু রেজওয়ানা বলছেন, কোনো নিপীড়ন হয়নি। হত্যার কথায় আসি। খন্দকার শাহ আলম, নবীনগরের দৈনিক মাতৃজগতের সাংবাদিক। তিনি একটা রিপোর্টিং করেছিলেন ‘বাঘা বাবুল’ নামের এক সাবেক কয়েদির বিরুদ্ধে। প্রতিশোধ নিতে বাঘা বাবুল তাকে মারধর করে, মোবাইল আর জিনিসপত্র কেড়ে নেয়। তারপর দ্বিতীয় হামলায় পিটিয়ে অচেতন করে ফেলে। শাহ আলম মারা যান। Reporters Without Borders আর IFJ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তদন্ত হয়েছে? বিচার হয়েছে? আসাদুজ্জামান তুহিন, গাজীপুরের দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সাংবাদিক। সাত আগস্ট ২০২৫, চন্দনা চৌরাস্তায় চাঁদাবাজির দৃশ্য ভিডিও করছিলেন। চাঁদাবাজরা ক্যামেরা বন্ধ করতে বলে। তিনি করেননি। তারা তাকে ধাওয়া করে, চায়ের দোকানে ধরে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

CPJ তাৎক্ষণিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তদন্ত হয়েছে? বিচার হয়েছে? বাকি চারজনের নাম পর্যন্ত সরকারিভাবে নথিভুক্ত হয়নি। IFJ বলছে ছয়জন মরেছেন। কিন্তু সবার পরিচয় এখনো প্রকাশ হয়নি। এটাই এই সরকারের চরিত্র। সাংবাদিক মরে গেলে নাম পর্যন্ত রেকর্ড করে না। এবার মামলার খেলা দেখি। ফারজানা রুপা আর শাকিল আহমেদ, একাত্তর টিভির সাংবাদিক দম্পতি। পাঁচ আগস্ট হাসিনা পালানোর পর আট আগস্ট তাদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। তারপর একুশে আগস্ট বিমানবন্দর থেকে ডিবি ধরে নিয়ে গেল। অভিযোগ? হত্যা। দণ্ডবিধির তিনশো দুই ধারা। ফারজানার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত নয়টা হত্যা মামলা হয়েছে। আদালতে দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, “মামলা তো ডজনখানেক গড়াচ্ছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য একটা হত্যা মামলাই যথেষ্ট।” জাতিসংঘের তিনজন

বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্চ ২০২৫-এ বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছেন। জবাব এসেছে? মোজাম্মেল বাবু, একাত্তর টিভির এমডি আর সম্পাদক। ক্যান্সার রোগী। তাকে ময়মনসিংহ সীমান্ত থেকে ধরে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে যাওয়া হলো। হত্যা মামলায়। কারাগারে পড়ে আছেন, চিকিৎসা পাচ্ছেন না। Human Rights Watch-এর ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ২০২৫ একে “নির্বিচার গ্রেফতার” আর “যথাযথ প্রক্রিয়ার অস্বীকার” বলে উল্লেখ করেছে। শ্যামল দত্ত, ভোরের কাগজের সম্পাদক। তাকেও একই অভিযানে ধরা হয়েছে, সাত দিনের রিমান্ড। আনিস আলমগীর, বিশিষ্ট সাংবাদিক। জিম থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা। মঞ্জুরুল আলম পান্না। একটা গোলটেবিলে যোগ দেওয়ার পর গ্রেফতার। RSF তাৎক্ষণিক মুক্তির দাবি জানায়। মোট কতজন? CPJ-এর হিসাবে একশো চল্লিশেরও বেশি সাংবাদিক হত্যা মামলায় আসামি। পঁচিশজন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তে জড়িত। RSF বলছে, পাঁচজন সাংবাদিক কোনো তদন্ত ছাড়াই এই অভিযোগে কারাবন্দি। কৌশলটা পরিষ্কার। হত্যা মামলায় জামিন পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই একজন সাংবাদিককে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা যায়। আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ছিল। এখন হত্যা মামলা। পার্থক্য হলো, আগে ছয় মাস থেকে দু’বছরের মধ্যে কোনো না কোনো সমাধান হতো। এখন পাঁচ বছর, দশ বছরও লাগতে পারে। এবং এই পুরো সময়টা জেলে। অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের খেলা চলছে। RSF-এর হিসাবে ২০২৫ সালে একশো সাতটা অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। তার মধ্যে ঊনষাট জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে “সাবেক সরকারের সমর্থক” হিসেবে। মানে এরা এখন আর সাংবাদিক না। রাজনৈতিক শত্রু। Human Rights Watch বলছে, প্রায় দুশো অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল হয়েছে। The New Humanitarian-এর তথ্যমতে তিনশোরও বেশি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মিডিয়া হাউজ দখলের ব্যাপারটা তো আরো সরাসরি। TIB-এর হিসাবে ঊনত্রিশটা গণমাধ্যমের শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একাত্তর টিভি, ডিবিসি, সময় টেলিভিশন, কালের কণ্ঠ, নিউজ টোয়েন্টি ফোর, ডেইলি সান, বাংলাদেশ প্রতিদিন, সবখানে নতুন লোক বসানো হয়েছে। পুরনো সম্পাদক, বার্তাপ্রধান, সবাইকে বের করে দেওয়া হয়েছে। HRW বলছে, শত শত সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন বা আত্মগোপনে আছেন। হাসানাত কামাল, EyeNews.news-এর সম্পাদক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মিথ্যা অভিযোগে ভয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে পালিয়েছেন। মব হামলার ব্যাপারটা আলাদা মাত্রা পেয়েছে। CPJ আর RSF নথিভুক্ত করেছে ২০২৫ সালে বিএনপি আর ছাত্রদলের সদস্য-সমর্থকদের দ্বারা অন্তত দশটা বড় হামলার ঘটনা। Ain o Salish Kendra বলছে, ২০২৫ সালে একশোরও বেশি শারীরিক হামলা আর তিনশো একাশিটা হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। পনেরো আগস্ট ২০২৪, ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে Reuters-এর ভিডিও সাংবাদিক Sam Jahan, Daily Star আর New York Times-এর সাংবাদিকদের হয়রানি করা হয়, হুমকি দেওয়া হয়। তাদের ফোন আর ক্যামেরার ফুটেজ জোর করে মুছিয়ে দেওয়া হয়। ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ATN News-এর জাভেদ আখতার, NTV-এর হাসান জাবেদ আর Deepto TV-এর আজিজুল ইসলাম পান্নুকে রড আর হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখেছে। হস্তক্ষেপ করেনি। CPJ, RSF সহ আটটা সংস্থা একুশে মার্চ যৌথ বিবৃতিতে “alarm” প্রকাশ করে। TIB-এর জরিপ বলছে, ঊননব্বই শতাংশ সাংবাদিক ভয়ে নির্বাচনী সংবাদ করতে চান না। পঞ্চাশ শতাংশ নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির ভয়ে সংবাদ সংগ্রহ এড়িয়ে চলছেন। এই হলো মাঠের চিত্র। এবার আসি আইনি দমনে। জানুয়ারি ২০২৫-এ Cyber Protection Ordinance (CPO) ২০২৫ জারি করা হয়েছে। Global Network Initiative বলছে, এই আইন সরকারকে অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে “অপ্রতিসম ক্ষমতা” দিয়েছে। পুরনো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সব সমস্যা এতে আছে, নতুন নামে। অক্টোবর ২০২৫-এ CPJ সহ পাঁচটা সংস্থা যৌথ চিঠিতে Anti-Terrorism Act, Special Powers Act, Official Secrets Act আর দণ্ডবিধির ফৌজদারি মানহানির ধারা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়া? RSF বাংলাদেশকে বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম সূচকে একশো ঊনপঞ্চাশ নম্বরে রেখেছে, একশো আশিটা দেশের মধ্যে। IFJ বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ বলেছে। CPJ প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসকে চিঠি দিয়ে “baseless criminal cases” নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। এসব মিথ্যা? রেজওয়ানা কি বলবেন CPJ, RSF, IFJ, HRW, জাতিসংঘ, ইইউ, সবাই মিলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে? এই সরকারের আসল সমস্যা হলো, এরা ক্ষমতায় এসেছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় না। ক্যু করে। জুলাই ২০২৪-এ দাঙ্গা বাঁধিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছে। তাই এদের কোনো জনসমর্থন নেই, কোনো বৈধতা নেই। যা আছে তা হলো বন্দুক। আর বন্দুকের জোরে টিকে থাকতে হলে মুখ বন্ধ করতে হয়। সাংবাদিকদের মুখ। কারণ সাংবাদিকরা যদি সত্য লেখে, তাহলে জনগণ জানবে আসলে কী হচ্ছে। জানলে প্রতিবাদ করবে। প্রতিবাদ হলে এই সরকার টিকবে না। তাই চলছে এই পরিকল্পিত, সংগঠিত নিপীড়ন। বিখ্যাত ফটোসাংবাদিক শহিদুল আলম, যিনি হাসিনার আমলে নিজেও জেল খেটেছেন, তিনি The New Humanitarian-কে বলেছেন, “আগে ভয় ছিল সরকারকে, এখন ভয় রাজপথকে, মব-কে, রাজনৈতিক দলগুলোকে।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মবকে কে লেলিয়ে দিচ্ছে? প্রথম আলো-ডেইলি স্টার হামলার সময় সেনাবাহিনী আর বিজিবি কেন চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল? উত্তর সহজ। এই মব রাষ্ট্রের প্রক্সি হিসেবে কাজ করছে। হাসিনার আমলে পুলিশ ধরে নিয়ে যেত, এখন মব মারধর করে। তফাত শুধু এটুকুই। উদ্দেশ্য একই। সাংবাদিকদের চুপ করানো। CPJ-এর এশিয়া প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর Beh Lih Yi বলেছেন, “Democracy cannot flourish without robust journalism. Bangladesh’s interim government must deliver on its promise to protect journalists and their right to report freely.” কিন্তু এই সরকার কি আদৌ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে? যে সরকার ক্যু করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কি কখনো মুক্ত সাংবাদিকতার পক্ষে থাকতে পারে? রেজওয়ানার মিথ্যা বিবৃতি আসলে এই সরকারের চরিত্রেরই প্রতিফলন। তারা জানে তারা কী করছে। জানে বলেই মিথ্যা বলতে হচ্ছে। কিন্তু মিথ্যা দিয়ে সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না। ছয়জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন, এটা সত্য। প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে আগুন দেওয়া হয়েছে, এটা সত্য। এক হাজার তিয়াত্তরজন সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এটা সত্য। মামলা ৫৫৮% বেড়েছে, এটা সত্য। এসব সত্য নথিভুক্ত। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো রেকর্ড করে রেখেছে। ইতিহাস মনে রাখবে। আর যখন এই সরকারের পতন হবে, তখন জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিটি নিহত সাংবাদিকের জন্য। প্রতিটি বন্দি সাংবাদিকের জন্য। প্রতিটি পোড়া অফিসের জন্য। রেজওয়ানা বলেছেন কোনো নিপীড়ন হয়নি। বেশ। তাহলে ফারজানা রুপাকে মুক্তি দিন। শাকিল আহমেদকে মুক্তি দিন। মোজাম্মেল বাবুকে চিকিৎসা দিন। প্রথম আলো-ডেইলি স্টার হামলার তদন্ত করুন। খন্দকার শাহ আলম আর আসাদুজ্জামান তুহিনের হত্যাকারীদের বিচার করুন। পারবেন? পারবেন না। কারণ এসব করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। আর সত্য বেরিয়ে আসলে এই সরকার টিকবে না। তাই মিথ্যা বলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই রেজওয়ানার। কিন্তু মিথ্যা বলে কতদিন পার পাবেন? সত্য একদিন জয়ী হবেই। হয়তো আজ না, হয়তো কাল না। কিন্তু একদিন হবেই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কুড়িগ্রাম-১ এ ভোটার নেই, তবু ভোট ১০০% পূর্ণ শপথ নিয়ে নতুন মেটিকুলাস ডিজাইন, সাংবিধানিক সঙ্কটের আশঙ্কা সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ যুধিষ্ঠির কে? : উপদেষ্টা রেজওয়ানা বনাম আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ ভোট নিয়ে ইউনূসের জালিয়াতি ফাঁস করে দিল টিআইবি ২.২৬ লক্ষ কোটি ঋণ নিয়ে শূন্য উন্নয়ন : বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া ইউনূসের কীর্তি Bangladesh 2026 — Election and a Crisis of Trust রংপুরে ড. ওয়াজেদ মিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকীতে যুবলীগের শ্রদ্ধা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম অপরাধীদের বিচার ও বাকিদের সুযোগ—আওয়ামী লীগ নিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’-এর প্রস্তাব বিএনপি নেতার গুলিস্তানে ৫ আইনজীবীর ওপর ‘মব সন্ত্রাসীদের’ হামলা, লুটে নিয়ে পুলিশে সোপর্দ গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ ছেলের মুক্তির আগেই বাবার বিদায়: জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আকুতি Bangladesh Election 2026 — Mandate or Mystery? The Story of Invisible Ballots Behind an “Unprecedented” Election শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় ‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা ‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম