রাজারবাগ ও পিলখানা—প্রথম প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ও রক্তক্ষয়ী রাত – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬

রাজারবাগ ও পিলখানা—প্রথম প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ও রক্তক্ষয়ী রাত

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬ |
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী যখন ‘অপারেশন সার্চলাইট’ শুরু করে, তখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বাঙালি সশস্ত্র বাহিনীকে নিরস্ত্র করা। ঢাকা শহর যখন কামানের গোলার শব্দে প্রকম্পিত, তখন রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং পিলখানায় (তৎকালীন ইপিআর সদর দপ্তর) গড়ে ওঠে ইতিহাসের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। যদিও আধুনিক অস্ত্রের মুখে সেই প্রতিরোধ ছিল অসম, কিন্তু বাঙালির সেই বীরত্ব ছিল স্বাধীনতার পথে প্রথম বলিদান। রাত ১০টা বাজার আগেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে খবর পৌঁছে যায় যে সেনানিবাস থেকে ট্যাংক বের হয়েছে। তৎক্ষণাৎ বাঙালি পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রাগারের তালা ভেঙে থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল হাতে তুলে নেন। রাত ১১টা ৩০ মিনিটে পাকিস্তানি বাহিনী যখন রাজারবাগ আক্রমণ

করে, তখন পুলিশ সদস্যরা পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে সবাইকে সতর্ক করেন এবং পাল্টা গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এটিই ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিরোধ। পাকিস্তানিরা ট্যাংক ও মর্টার ব্যবহার করে পুলিশ ব্যারাকগুলোতে অগ্নিসংযোগ করে। কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এই অসম যুদ্ধে কয়েকশ পুলিশ সদস্য শাহাদাতবরণ করেন এবং বন্দীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয়। একই সময়ে পিলখানায় ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর)-এর সদর দপ্তরে আক্রমণ চালায় পাকিস্তানি ১৮ ও ২২ নম্বর বালুচ রেজিমেন্ট। পাকিস্তানি সেনারা ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পিলখানায় অবস্থানরত বাঙালি জওয়ানদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে অনেক জোয়ানকে হত্যা করা হয়। পিলখানার ভেতরে থাকা বাঙালি অফিসার ও জোয়ানদের

নিরস্ত্র করার নামে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। পিলখানার ভেতর থেকে ইপিআর-এর ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা পাকিস্তানি বাহিনীকে আরও ক্ষিপ্ত করে তোলে। রাজারবাগ ও পিলখানা দখলের পর পাকিস্তানি বাহিনীর একটি অংশ পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজার এবং সদরঘাট এলাকায় তান্ডব চালায়। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকাগুলোতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের শিখা থেকে বাঁচতে মানুষ যখন ঘর থেকে বের হয়ে আসছিল, তখন তাদের ওপর মেশিনগানের গুলি চালানো হয়। বুড়িগঙ্গার তীরে লাশের পাহাড় জমে যায়, আর নদীর পানি লাল হয়ে ওঠে নিরপরাধ মানুষের রক্তে। ২৫শে মার্চের সেই প্রতিরোধ ছিল প্রতীকী। রাজারবাগের সেই থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি

প্রমাণ করেছিল, বাঙালি আর দমে থাকবে না। আধুনিক ট্যাংক ও কামানের মুখে সাধারণ রাইফেলের সেই লড়াই ছিল আসন্ন ৯ মাসের মুক্তি সংগ্রামের প্রথম স্ফুলিঙ্গ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
৪৯ বছর বয়সেও দারুণ ফিট শাকিরা, রহস্যটা জানালেন তাঁর দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষক শিক্ষায় বরাদ্দ ২ শতাংশে উন্নীত, স্বাগত জানালেন শিক্ষাবিদরা ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর ক্ষমতা ব্যাংকের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় খার্গ দ্বীপ কেড়ে নেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব ২০২৮ থেকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হতে যাওয়া চার নতুন বিষয়ে যা থাকবে প্রেমের নাটক ‘সমান সমান’ করদাতাদের জন্য সুখবর বস্তিতে জন্ম নেওয়া সেই ছেলেটি এখন দুবাইয়ে ২০ হাজার কোটির মালিক ভিসিআর দিবসে পুরোনো ভিডিও টেপে মুক্তি পেয়েছে নতুন সিনেমা টবের মাটি অতিরিক্ত শক্ত হয়ে গেছে? কীভাবে নরম করবেন ওমান উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, ৩ ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ দেশি তারকাদের প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড় ছাপানো টাকার সংকট, বঙ্গবন্ধুর ছবিযুক্ত নোটও ছাড়তে হচ্ছে তিন দেশেই হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, থাকছে যেসব চমক ট্রাম্পের দেশে ‘ফুটবল ফার্স্ট’ এসএসসি পরীক্ষার্থী বান্ধবীর সব পরীক্ষায় প্রটোকল, কেন্দ্রে খবরদারি: এনসিপি নেতাকে ধোলাই দিয়ে কক্ষে অবরুদ্ধ নোয়াখালীতে মাদকের বিরোধে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, যুবদল ক্যাডার আটক বেলফাস্টে অভিবাসীবিরোধী দাঙ্গায় ঘরবন্দি প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি, ঘরবাড়ি ভাঙচুর