বাংলাদেশ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?: ‘৭১ এর ঘাতক, ২০২৬ এর শহীদ! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?: ‘৭১ এর ঘাতক, ২০২৬ এর শহীদ!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬ |
লজ্জার একটা সীমা থাকে। আজ মনে হচ্ছে সেই সীমাটাও পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবে যাদের নাম উঠল, তারা কেউ সাধারণ মানুষ না। তারা একাত্তরে এই মাটিতে গণহত্যায় অংশ নিয়েছিল, ধর্ষণ করেছিল, নির্যাতন করেছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল। তাদের ফাঁসি হয়েছিল। আর এখন সেই মানুষগুলোর জন্য সংসদে শোক প্রকাশ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংসদে। নিজামী, মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, মীর কাসেম, সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী। এই নামগুলো ইতিহাসের পাতায় ঘৃণার চিহ্ন হিসেবে লেখা আছে। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়া একটা দেশের সংসদ তাদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করছে। এটা শুধু রাজনৈতিক পদক্ষেপ

না, এটা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সরাসরি মুখের উপর থুতু দেওয়া। এই সংসদ কীভাবে তৈরি হলো, সেটাও তো কম গুরুত্বপূর্ণ না। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। জনগণের একটা বড় অংশ এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। যে সংসদ জনমতের প্রতিফলন না, সেই সংসদ আজ যুদ্ধাপরাধীদের স্মরণ করছে। একটার সাথে আরেকটার মিল যেন অদ্ভুতভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিএনপির কথা বলতে গেলে, এই দলটার জন্মই হয়েছিল ক্যান্টনমেন্টে, সংবিধান পাশ কাটিয়ে ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে। সেই দলের আজকের মুখ তারেক রহমান দীর্ঘ বছর লন্ডনে ছিলেন, দুর্নীতির মামলা মাথায় নিয়ে। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরলেন এবং কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে গেলেন। তার দলের পক্ষ থেকে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর

নাম শোকপ্রস্তাবে তোলা হলো। এই মানুষটাও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তারও ফাঁসি হয়েছিল। তাকে নিয়ে শোক প্রকাশ করাটা বিএনপির পুরনো চরিত্রেরই ধারাবাহিকতা। আর জামায়াতে ইসলামী? এই দলটা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে মিলে বাঙালি নিধনে অংশ নিয়েছিল। রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী তাদেরই তৈরি। দশকের পর দশক ধরে এই দলটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছিল, কখনো বিএনপির ছায়ায়, কখনো নিজের পরিচয়ে। এখন তারা সংসদে বসে তাদের ফাঁসি যাওয়া নেতাদের জন্য শোক দাবি করছে এবং সেটা মঞ্জুরও হচ্ছে। এই দৃশ্যটা কল্পনা করতেও কষ্ট হওয়ার কথা ছিল। যারা বীরাঙ্গনাদের যন্ত্রণার কথা মনে রাখেন, যারা গণহত্যায় হারানো পরিবারের কথা ভুলতে পারেননি, আজকের এই খবরটা তাদের জন্য কতটা কষ্টের, সেটা

ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। রাষ্ট্রীয়ভাবে যখন ঘাতকের জন্য শোক জানানো হয়, তখন ভুক্তভোগীকে আরেকবার মেরে ফেলা হয়। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। কিন্তু ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা যখন সংসদের মেঝেতে বসে হয়, তখন বুঝতে হবে একটা দেশ কোন দিকে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশের জন্য সত্যিই বড় লজ্জার দিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঢাবি শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে গিয়ে তৃতীয় লিঙ্গদের হেনস্তার শিকার এ বি জুবায়ের ক্ষমতার পাঁচ মাসেই ‘হাইব্রিড’ আতঙ্ক আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভাড়াটে খুনিদের দাপট পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল টানা তিন দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমল ১৭ শতাংশ উৎপাদন কর্মসংস্থান ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং যশোরে জামায়াত এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়ি ঘেরাও, মহাসড়ক অবরোধ টেকনাফে চাঞ্চল্যকর একরামুল হক হত্যাকাণ্ড: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ সেনা হেফাজতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু আলোচনা কী নিয়ে? এনসিপির গাড়িবহরে ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, সারজিসসহ আহত অনেকে সভা চলাকালে ‘সিন্ডিকেট ঘেরাও’ কর্মসূচি ডাকসু নেতাদের হোয়াইট হাউসে বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ বাংলাদেশে ইয়াবা আসক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভয়ঙ্কর তথ্য স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ বাড়ছে ডলারের দাম ধানুশের পর এবার নতুন ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ম্রুনালের দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু আম্মারসহ শিবির নেতাদের হামলায় আহত ২ শিক্ষার্থী কারাগারে