মিরাজ নেই, আছে তাঁর রক্তমাখা শার্ট – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

মিরাজ নেই, আছে তাঁর রক্তমাখা শার্ট

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ |
ছেলের হাজারো স্মৃতির ভিড়ে একটিই এখন প্রশান্তির অবলম্বন। সেটি জড়িয়েই দিন কাটে মা মমতাজ বেগম ও বাবা আব্দুর রবের। তারা আশাবাদী, বর্তমান সরকার ছেলে হত্যার বিচার করবে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৫ আগস্ট বিকেলে ছাত্র-জনতার বিজয় মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে মারা যান এ দম্পতির বড় ছেলে মিরাজ হোসেন পাপ্পু। অনার্স শেষে ফ্রিল্যান্সিং করে তিনি সংসারের হাল ধরেছিলেন। পাপ্পু ডেমরা মধুবাগের ফার্ম মোড়ের ২১/২ নম্বর বাসার নিচতলায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন বাসায় তাঁর পড়ার টেবিলে ল্যাপটপ ও হাতঘড়ি পাওয়া যায়। গত ৩৭ দিনে এর ওপর জমেছে ধুলোবালি। মা-বাবা ইচ্ছে করেই এসব পরিষ্কার করেন না। যেমন পাপ্পুর পরিধান ও ব্যবহারের সবকিছুই

রেখে দিয়েছেন যত্নে। মনে পড়লেই মমতাজ বেগম রক্তজড়ানো সাদা চেক শার্ট বুকে জড়িয়ে চোখের পানি ফেলেন। পাপ্পুর বাসার গলিতে চোখ আটকে যায় ‘শহীদ মিরাজ হোসেন পাপ্পুর মৃত্যুর জন্য একমাত্র পুলিশই দায়ী’ দেয়াল লিখনে। বাসায় আলাপকালে মিরাজের ছোট ভাই পাভেল জানান, ভাইয়ার কক্ষে আগের মতো মা-বাবা যান না। গুলিতে নিহতের সময়ে যে শার্ট গায়ে ছিল, সেটি যত্নে রেখে দিয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই শার্টটি বুকে জড়িয়ে ধরেন। নাকের কাছে নিয়ে ঘ্রাণ নেন। বাবাও একই কাজ করেন। তিনি আরও জানান, সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে অনার্স করার পর টাকার অভাবে ভাইয়া মাস্টার্স করেননি। বন্ধুরা মিলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতেন। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পুরো পরিবার তাঁর আয়ে চলত।

তাঁকে হারিয়ে আমাদের এখন পথে বসার অবস্থা। পুলিশের নির্বিচার গুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ১০-১২ জনের লাশ পড়ে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বিকেলে বিজয় মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি চালায় পুলিশ। সেখানে নিহতদের একজন হতভাগ্য পাপ্পু। গত ২৪ আগস্ট পাপ্পুর বাবা ছয়জনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় অন্তত ২০০ জনকে আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ছেলের প্রসঙ্গ উঠতেই সেই শার্ট এনে দেখালেন পাপ্পুর বাবা। কান্নাজড়ি কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে যাচ্ছে কখনও পরিবারকে বুঝতে দিত না। মৃত্যুর পর

পাপ্পুর বন্ধুদের কাছে শুনেছি– প্রায় প্রতিদিনই মে আন্দোলনে যেত। বাসায় এ নিয়ে আলোচনা হলে সে চুপ থাকত। ৫ আগস্টও সকালে কিছু না বলে সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। বিকেলে শুনি, আমার ছেলে আর নেই।’ ছেলের নানা স্মৃতি হাতড়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে ওঠে নাশতা সেরে বেরিয়ে যায়। কোথায় যাও, জানতে চাইলে বলে– মা আন্দোলনের কী অবস্থা দেখে আসি। আমি নিষেধ করার সাহস পাইনি। বুক চাপড়ে মমতাজ বলতে থাকেন, আমি কেন তাকে যেতে দিলাম? নিষেধ করলে আমার বুক খালি হতো না। দেশ স্বাধীন হলো, সবাই ঘরে ফিরল, আমার পাপ্পু এলো কফিনে। সরকারের কাছে

আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই। আন্দোলনে অংশ নেওয়া পাপ্পুর বন্ধু শাওন আল মাহমুদ বলেন, পুলিশ গুলি ছুড়লে সবাই দৌড় দেন। পাপ্পু শুয়ে পড়ে আমাদের বলতে থাকে, ভয়ে দৌড় দিলে আন্দোলন কীভাবে সফল হবে? তিনি বলেন, সকাল থেকে অনেকবার চেষ্টা করেও মিছিল নিয়ে এগোতে পারিনি। এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে জানতে পেরে বিজয় মিছিল নিয়ে বেলা পৌনে ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পৌঁছলে ভবনের ওপর থেকে গুলি করে পুলিশ। পরে থানার ভেতর থেকে ২৫-৩০ পুলিশ গুলি ছুড়তে ছুড়তে বেরিয়ে আসে। পাপ্পু হানিফ ফ্লাইওভারের পিলারের আড়ালে লুকায়। পুলিশ সদস্যরা রাস্তা পার হয়ে এসে মিরাজসহ ১০-১২ জনকে

গুলিকে হত্যা করে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নেত্রকোণায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জুলাই স্তম্ভে আগুন, ভিডিও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ বুকে পাঁচটা তারকা আর কারও নেই: ব্রুনো গিমারেস মেসির গোলে প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা নোয়াখালীতে শিশুসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তার: জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি নোটিশ ‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার সংসদে ইসলামী ব্যাংক দখল সংক্রান্ত আলোচনায় মনক্ষুণ্ন ইআবা নেতা গাজী আতাউর নতুন প্রেমে পড়েছেন প্রভা? হাম উপসর্গে ৮ জনের মৃত্যু মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে যেসব কারণে খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তার স্ত্রী তামিমা বিশ্বকাপে প্রথম মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো সাইবার সুরক্ষা আইনে কন্টেন্ট অপসারণসহ যেসব বড় পরিবর্তন আসছে আ.লীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেফতার কিশোরীকে ধর্ষণ-হত্যার জেরে আসামির বাড়িতে আগুন, নিহত ৩ জনই প্রতিবেশী বয়স, লিগ ও তারকার হিসাব-নিকাশে বিশ্বকাপের চিত্র যেমন তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র আপিলের সুযোগ শেষ, ত্রুটিপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন রেখেই রায় কার্যকরের পথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল!