ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২টি পদ্মাসেতুর খরচের সমমূল্যের বিমান ক্রয়ঃ ‘অসাধারন চুক্তি’র সমালোচনার মুখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানালেন আরও ৭০-৮০ টি বোয়িং প্রয়োজন
২টি পদ্মাসেতুর খরচের সমমূল্যের বিমান ক্রয়ঃ ‘অসাধারন চুক্তি’র সমালোচনার মুখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানালেন আরও ৭০-৮০ টি বোয়িং প্রয়োজন
আগস্টে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার ৭১টি, মব সহিংসতায় নিহত বেড়ে ৩৫
দেশে ফিরল লিবিয়ায় বন্দী ১৭৪ বাংলাদেশি
খুলল সুন্দরবন, দস্যু আতঙ্ক নিয়েই বনে যাচ্ছেন জেলেরা
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য খুলল যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসার পথ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী: বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশে বিভিন্ন সংকট সৃষ্টি করছে আওয়ামী দোসররা
বাজারে দেশি প্যাকেটজাত চিনির আকাল, ছেয়ে গেছে আমদানি করা বস্তার চিনি — অস্তিত্ব সংকটে দেশের চিনি পরিশোধন শিল্প
দেশের বাজারে দেশীয় ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চিনি ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠছে, তার জায়গা দখল করে নিচ্ছে খোলা বস্তার আমদানি করা চিনি। এই প্রবণতা নতুন নয়, বরং সরকারি নীতি ও বাজার-বাস্তবতার যোগফলে গত এক-দুই বছরে তা আরও প্রকট হয়েছে — এবং এর পেছনে রয়েছে স্পষ্ট পরিসংখ্যানভিত্তিক কারণ।
শুল্ক ছাড়ের পর আমদানি দ্বিগুণ
বাংলাদেশ ব্যাংক ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিশোধিত (রিফাইন্ড) চিনির আমদানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩৮০ টনে, যেখানে আগের অর্থবছরে তা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮০ টন। এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ পরিশোধিত চিনির আমদানি শুল্ক টনপ্রতি ৬ হাজার
টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা করা, অথচ কাঁচা চিনির শুল্ক অপরিবর্তিত রয়েছে ৩ হাজার টাকায়। ফলে টাকার অঙ্কেও এই আমদানির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,২০৩ কোটি টাকায়। এর বিপরীতে দেশীয় বড় পরিশোধনাগারগুলোর কাঁচা চিনি আমদানি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। সিটি গ্রুপের এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাদের কাঁচা চিনির আমদানি এক বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খাতে ব্যবহারের জন্য সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি করছে তারা শুল্ক ছাড় পাচ্ছে, যা স্থানীয় পরিশোধনাগারগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এমনকি ওষুধ, পানীয় ও দুগ্ধশিল্পের মতো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন স্থানীয় বাজার থেকে না কিনে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি
করছে, কারণ দামে তেমন পার্থক্য থাকছে না। চাহিদার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে বছরে গড়ে ২০-২২ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। অথচ দেশীয় চিনিকলগুলোর মোট উৎপাদন মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টন — যা মোট চাহিদার সামান্য একটি অংশ মাত্র। বাকি প্রায় পুরো চাহিদাই মেটে কাঁচা চিনি আমদানি করে পরিশোধনের মাধ্যমে, যা করে থাকে সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও দেশবন্ধু গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান, মূলত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ভারত থেকে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামবৃদ্ধির কারণে গত কয়েক বছর ধরেই কাঁচা চিনি আমদানি কমছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর
এস আলম গ্রুপের কাঁচা চিনি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, আর দেশবন্ধু সুগার মিলও সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে — যা ফার্মা ও বেভারেজ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আবদুল মোনেম লিমিটেডের এক কর্মকর্তার ভাষ্যে, আগে যেখানে তারা বছরে প্রায় ৩ লাখ টন কাঁচা চিনি আমদানি করত, ক্রেতা কমা ও এলসি জটিলতার কারণে তা এখন ২ লাখ টনে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচা ও পরিশোধিত মিলিয়ে মোট চিনি আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ১৭ হাজার টনের বেশি, যার মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং শুল্ক রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা — আগের
বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সরবরাহ-উৎসেও পরিবর্তন: পাকিস্তানমুখী ঝোঁক আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে চিনি আমদানিতেও। এতদিন বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকেই চিনি আমদানি করত, কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য পাকিস্তান থেকে ২৫ হাজার টন চিনি ও ৫০ হাজার টন চাল আমদানির অর্ডার দেন — পাকিস্তান বাণিজ্য প্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, দশকের পর দশক পর এত বড় পরিমাণে পাকিস্তানি চিনি সরাসরি বাংলাদেশে যাচ্ছে। পাকিস্তান ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফপিসিসিআই) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্যে, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের
জানিয়েছিলেন ঢাকা আমদানিতে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিতে আগ্রহী, আর হাসিনার আমলে যে দরজা বন্ধ ছিল তা এখন খুলে গেছে। করাচি বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে কনটেইনারবাহী জাহাজ আসাও এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের বাণিজ্য-সম্পর্কের বিস্তৃতিরই একটি ইঙ্গিত। অর্থাৎ শুল্কনীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তনও দেশের চিনি আমদানির চিত্র পাল্টে দিচ্ছে — একদিকে পরিশোধিত চিনির সরাসরি আমদানি বাড়ছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যগত উৎস ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান নতুন উৎস হিসেবে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের বাজারে বস্তাবন্দি আমদানি চিনির উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের বেহাল দশা দেশীয় উৎপাদনের সংকট আরও স্পষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর চিত্রে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, আর
সচল মিলগুলোরও উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছয়টি বন্ধ চিনিকল পাহারা দিতেই গত ছয় বছরে শত কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে — অথচ এসব কারখানায় কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। শিল্প মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্তে অটল। গত মে মাসে পঞ্চগড় সুগার মিলস প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তবে আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগস্টে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান জানান, বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে সেগুলো লাভজনক করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে — নইলে অতীতের মতোই লোকসানের চক্রে আটকে থাকবে এই শিল্প। সংকট নাকি কাঠামোগত রূপান্তর শুল্কনীতির পরিবর্তনে পরিশোধিত চিনির সরাসরি আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় রিফাইনারিগুলো (যারা কাঁচা চিনি এনে দেশে পরিশোধন করে) প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে — এটি একটি বাস্তব চাপ, যা শিল্প-সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত আখ-ভিত্তিক চিনিকলগুলোর সংকট মূলত পুরনো — দক্ষতার অভাব, লোকসান ও পরিচালনাগত দুর্বলতার ফল, যা আমদানি বৃদ্ধির আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। সরকার এখন এই মিলগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলেও তা কতটা কার্যকর হবে, নির্ভর করছে বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও স্বচ্ছতার ওপর।
টাকা থেকে কমিয়ে ৪ হাজার টাকা করা, অথচ কাঁচা চিনির শুল্ক অপরিবর্তিত রয়েছে ৩ হাজার টাকায়। ফলে টাকার অঙ্কেও এই আমদানির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৯৮ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,২০৩ কোটি টাকায়। এর বিপরীতে দেশীয় বড় পরিশোধনাগারগুলোর কাঁচা চিনি আমদানি কমেছে ২০ শতাংশের বেশি। সিটি গ্রুপের এক পরিচালক জানিয়েছেন, তাদের কাঁচা চিনির আমদানি এক বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে, কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খাতে ব্যবহারের জন্য সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি করছে তারা শুল্ক ছাড় পাচ্ছে, যা স্থানীয় পরিশোধনাগারগুলোর জন্য অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এমনকি ওষুধ, পানীয় ও দুগ্ধশিল্পের মতো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন স্থানীয় বাজার থেকে না কিনে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানি
করছে, কারণ দামে তেমন পার্থক্য থাকছে না। চাহিদার সিংহভাগই আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে বছরে গড়ে ২০-২২ লাখ টন চিনির চাহিদা রয়েছে। অথচ দেশীয় চিনিকলগুলোর মোট উৎপাদন মাত্র ৩০-৩৫ হাজার টন — যা মোট চাহিদার সামান্য একটি অংশ মাত্র। বাকি প্রায় পুরো চাহিদাই মেটে কাঁচা চিনি আমদানি করে পরিশোধনের মাধ্যমে, যা করে থাকে সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ ও দেশবন্ধু গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান, মূলত ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও ভারত থেকে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারে দামবৃদ্ধির কারণে গত কয়েক বছর ধরেই কাঁচা চিনি আমদানি কমছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর
এস আলম গ্রুপের কাঁচা চিনি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, আর দেশবন্ধু সুগার মিলও সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গেছে — যা ফার্মা ও বেভারেজ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পরিশোধিত চিনি আমদানির দিকে ঠেলে দিয়েছে। আবদুল মোনেম লিমিটেডের এক কর্মকর্তার ভাষ্যে, আগে যেখানে তারা বছরে প্রায় ৩ লাখ টন কাঁচা চিনি আমদানি করত, ক্রেতা কমা ও এলসি জটিলতার কারণে তা এখন ২ লাখ টনে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে কাঁচা ও পরিশোধিত মিলিয়ে মোট চিনি আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ১৭ হাজার টনের বেশি, যার মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং শুল্ক রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৩,৩০০ কোটি টাকা — আগের
বছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। সরবরাহ-উৎসেও পরিবর্তন: পাকিস্তানমুখী ঝোঁক আমদানি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরবরাহের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কে যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে চিনি আমদানিতেও। এতদিন বাংলাদেশ মূলত ভারত থেকেই চিনি আমদানি করত, কিন্তু সরকার পরিবর্তনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য পাকিস্তান থেকে ২৫ হাজার টন চিনি ও ৫০ হাজার টন চাল আমদানির অর্ডার দেন — পাকিস্তান বাণিজ্য প্রতিনিধিদের ভাষ্যমতে, দশকের পর দশক পর এত বড় পরিমাণে পাকিস্তানি চিনি সরাসরি বাংলাদেশে যাচ্ছে। পাকিস্তান ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফপিসিসিআই) এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষ্যে, বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের
জানিয়েছিলেন ঢাকা আমদানিতে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিতে আগ্রহী, আর হাসিনার আমলে যে দরজা বন্ধ ছিল তা এখন খুলে গেছে। করাচি বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রামে কনটেইনারবাহী জাহাজ আসাও এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের বাণিজ্য-সম্পর্কের বিস্তৃতিরই একটি ইঙ্গিত। অর্থাৎ শুল্কনীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক পটপরিবর্তনও দেশের চিনি আমদানির চিত্র পাল্টে দিচ্ছে — একদিকে পরিশোধিত চিনির সরাসরি আমদানি বাড়ছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যগত উৎস ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান নতুন উৎস হিসেবে যুক্ত হচ্ছে, যা দেশের বাজারে বস্তাবন্দি আমদানি চিনির উপস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের বেহাল দশা দেশীয় উৎপাদনের সংকট আরও স্পষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর চিত্রে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, আর
সচল মিলগুলোরও উৎপাদনক্ষমতা কমে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছয়টি বন্ধ চিনিকল পাহারা দিতেই গত ছয় বছরে শত কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে — অথচ এসব কারখানায় কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। শিল্প মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর ব্যাপারে তারা সিদ্ধান্তে অটল। গত মে মাসে পঞ্চগড় সুগার মিলস প্রাঙ্গণে আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শিল্প, বাণিজ্য ও বস্ত্র-পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, তবে আখচাষি, শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক পরিচালনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগস্টে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান জানান, বন্ধ থাকা সব চিনিকল আবার চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে সেগুলো লাভজনক করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী অর্থবছরের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, দুর্নীতি রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে — নইলে অতীতের মতোই লোকসানের চক্রে আটকে থাকবে এই শিল্প। সংকট নাকি কাঠামোগত রূপান্তর শুল্কনীতির পরিবর্তনে পরিশোধিত চিনির সরাসরি আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় রিফাইনারিগুলো (যারা কাঁচা চিনি এনে দেশে পরিশোধন করে) প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে — এটি একটি বাস্তব চাপ, যা শিল্প-সংশ্লিষ্টরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত আখ-ভিত্তিক চিনিকলগুলোর সংকট মূলত পুরনো — দক্ষতার অভাব, লোকসান ও পরিচালনাগত দুর্বলতার ফল, যা আমদানি বৃদ্ধির আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। সরকার এখন এই মিলগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিলেও তা কতটা কার্যকর হবে, নির্ভর করছে বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও স্বচ্ছতার ওপর।



