পুরস্কার গ্রহণ করলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ জুলাই, ২০২৬

আরও খবর

গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সে নতুন নেতৃত্ব, আগস্টেই গণতান্ত্রিক উপবিধি প্রণয়নের ঘোষণা: প্রবাসীদের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগঠন গঠনের প্রত্যয়; চেয়ারম্যান নির্বাচিত আজম চৌধুরী

শোককে শক্তিতে রূপান্তরের অঙ্গীকারে নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু স্মরণে প্রবাসীদের আলোর মিছিল: আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন, কালো ব্যাজ ও শোক র‍্যালি; বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয়

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য

নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশের জয়জয়কার: সেরা অভিনেতা শাকিব খান, সেরা অভিনেত্রী বুবলী, সেরা পরিচালক হৃদি হক; আজীবন সম্মাননা পেলেন কিংবদন্তি আহমেদ শরীফ

নিউ ইয়র্কে ছাত্রলীগের দুদলের মারামারি, গ্রেপ্তার ২

বনের নৈসর্গিক পরিবেশে বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির অনন্য মিলনমেলা: নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো চতুর্থ রকল্যান্ড রিট্রিট ও বইমেলা ২০২৬

পূর্ণিমার আলোয় রকওয়ে বিচে ফিরছে বহুল প্রতীক্ষিত জোছনা উৎসব: কয়েক বছর পর ৩১ জুলাই প্রবাসী বাঙালিদের মিলনমেলায় নাচ, গান, কবিতা, ঘুড়ি উৎসব ও তারকাদের অংশগ্রহণ

পুরস্কার গ্রহণ করলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ জুলাই, ২০২৬ |
জুলাই ২০২৪, থেকে জুলাই ২০২৬। দীর্ঘ দুই বছর। তিনি নির্বাসিত। দেশ ছেড়ে আসা এক সংগ্রামী লেখক। মননে সেই একাত্তর। ধ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তরাঙা দিন। ভাষায় প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল আগামী। মুখে বিজয়ের গৌরবের বয়ান। তিনি বিশিষ্ট লেখক,চিন্তক,বুদ্ধিজীবী ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। উড়ে এসেছেন মার্কিন মুলুকে। সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ। তাঁকে ঘিরেই এই আয়োজন। ২০২৬ সালের 'বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ও নবী-জিনাত সাহিত্য পুরস্কারে' ভূষিত হয়েছেন তিনি। গেল মে মাসে তাঁকে বইমেলায় এই পুরস্কার দেয়া হয়। তা, তাঁর হাতে তুলে দিতেই বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী'র নিউজার্সির বাড়ির বিশাল আঙিনায় আয়োজিত হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এদিন ছিল বিশিষ্ট কথাসাহিত‌্যিক হুমায়ুন আহমেদের তিরোধান দিবস। ২০১২ সালে তিনি

দেহত্যাগ করেন এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁকে স্মরণ করেই শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নিউজার্সিতে সমবেত হয়েছেন সুধীজন। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমিন হক কে ঘিরে জমজমাট আড্ডা। বেলা দেড়টায় শুরু হয় পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান পর্ব। 'একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশনের ' সদস্য সচিব ভূমিকা বক্তব্য দিয়ে মঞ্চে আহ্বান করলেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও বইমেলার আহ্বায়ক ড. নুরুন নবীকে। প্রবর্তিত এই পুরস্কারেরও তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। ড. নবী একে একে মঞ্চে আহ্বান করেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. ইয়াসমিন হক, ড. জিনাত নবী ও বিশিষ্ট চিন্তক বেলাল বেগ কে। ড. নুরুন নবী এই পুরস্কার প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করলেন। বললেন, এক চরম ক্রান্তি

লগ্নে আমরা এই বইমেলার আয়োজন শুরু করেছিলাম। যখন বাংলাদেশ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেয়ার অপচেষ্টা করেছিল দখলদারেরা। যাঁরা বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তর নিয়ে লেখালেখি করেন- এরাই এই পুরস্কার পাবেন এবং পাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমরা একাত্তরের চেতনা সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাবোই। এরপরে,মূল অনুষ্ঠান সঞ্চালনার জন্যে পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান কবি ফকির ইলিয়াসের হাতে মাইক তুলে দেয়া হয়। ফকির ইলিয়াস সবাইকে পুনরায় স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরা আনন্দিত, গর্বিত যে আজ আমরা এই সম্মাননা ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের হাতে তুলে দিতে পারছি। তিনি বলেন,এই পুরস্কার নির্বাচন কমিটি অত্যন্ত গভীর বিবেচনা ও প্রজ্ঞার সাথেই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম বাছাই করেছেন। এই কমিটিতে ছিলেন,

বিশিষ্ট লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ,কানাডা, বিশিষ্ট লেখক ড আতাউল করিম, আরকানসাস, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কানাডা, বিশিষ্ট লেখক সেজান মাহমুদ, কানেকটিকাট বিশিষ্ট সংগঠক স্বীকৃতি বড়ুয়া, নিউইয়র্ক, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড নুরুন নবী, নিউজার্সি ও কবি ফকির ইলিয়াস, নিউইয়র্ক। এরপর তিনি ড মুহম্মদ জাফর ইকবালের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি সহ আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। সম্মাননা পদক তাঁর হাতে তুলে দেন ড. নুরুন নবীর নেতৃত্বে উপস্থিত সুধীবৃন্দ। আর্থিক সম্মাননা দুই হাজার ডলার তাঁর হাতে তুলে দেন ড. জিনাত নবী। বক্তব্য রাখেন ড. ইয়াসমিন হক।Geographic Reference তিনি বলেন, বাংলাদেশের চরম ক্ষতি যে লোকটি করেছেন, তার নাম ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তার মনে যে এই বিষ

জমা ছিল- তা কেউই বুঝতে পারেনি। আমরা আজ দুই বছর থেকেই দেশহীন আছি। বাংলাদেশই আমাদের সবকিছু। দেশে ফিরতে চাই। এবং দেশে ফিরবোই। আমরা ফিরবো একাত্তরের বাংলাদেশে। তিনি বলেন, এরা সংঘবদ্ধভাবে আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ও আমাদের মুক্তিসংগ্রামকে মুছে দিতে চায়। কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। কারণ এই দেশ বঙ্গবন্ধুর চেতনার উত্তরাধিকার। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ওরা রিসেট বাটন টিপতে চেয়েছে। আমি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে এর পরিণতি,ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া জানি। এটা কি এতোই সহজ ! তিনি বলেন, আমার পিতাকে গুলি করে তাঁর মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল পাক হানাদার বাহিনী। আমরা উদ্বাস্তুর মতো এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছি। ওই সময় ড. নুরুন নবীর মতো বীর মুক্তিযোদ্ধারা

যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছেন। আমার পিতা, শুধু এই দোয়া করতেন- তাঁর সন্তানেরা যেন ভালো থাকে।সুখে থাকে। আমরা সেই বাঙালী জাতিসন্তান। আমাদের পিতারা আমাদের জন্য লাইফ সেক্রিফাইজ করেছিলেন। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশের মাটির কণায় কণায় শহীদের রক্ত মিশে আছে। এই দেশটা আমাদের। এটা একাত্তরের পরাজিতদের নয়। তাই তারা যতোই আস্ফালন করুক- জিততে পারবে না। পারার কথা নয়। আমরাই বিজয়ী হবো বার বার। বহুবার। তিনি বলেন, আমি এই প্রজন্মকে একাত্তরের শাণিত চেতনায় গড়ে তুলতে চেয়েছি। সফলও হয়েছি । এই আমেরিকায় আমার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ মিলিওনিয়ার। আমি তাদের বলেছি ও বলছি- তোমাদের মিলিওনিয়ার হলেই চলবে না। বিলিওনিয়ার হতে হবে। আমার অনেক টাকার দরকার।

আমাদের অনেক টাকার দরকার। টাকা দিয়ে আমরা বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্মের জন্য শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে যেতে চাই। তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গেছে তাদের বিচার বাংলাদেশে হবেই। তা দেখার জন্যেই বেঁচে থাকতে চাই। বলেন, আমি আশাবাদী মানুষ। বাংলাদেশে ঘাতক দালালদের বিচার হয়েছে। যারা একাত্তরের চেতনা মুছে দিতে চেয়েছে- এরাও এখন চিহ্নিত। এদের শাস্তি পেতেই হবে। আমরা সেই বাংলাদেশেই ফিরতে চাই- যে বাংলাদেশ তিরিশ লাখ শহীদ ও দুই লক্ষাধিক নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত। একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আপনাদের কাজ আমাদের প্রেরণা দিচ্ছে। আপনারা আমাকে সম্মান,ভালোবাসা দিয়ে ঋণী করেছেন।Geographic Reference আমরা যে যেখানে আছি,জাতির পিতার বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাবোই। সমাপণী বক্তব্যে ড. নুরুন নবী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুপুরের আহারে আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বইমেলা সার্থক ও সফল করতে গ্র্যান্ডস্পনসর ,স্পনসর, বিজ্ঞাপনদাতা, লেখক,সাংবাদিক,প্রকাশক, অংশগ্রহণকারী সবাইকে আমি অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আপনাদের ভালোবাসা একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশনকে সমৃদ্ধ ও ধন্য করেছে। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী। তিনি আগামী ৪,৫,৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ফোবানা সম্মেলনে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে প্রধান অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কথা বলেন, ২০২৫ এ পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক ডা: সেজান মাহমুদ । সকাল সাড়ে এগারোটা থেকেই অনুষ্ঠানস্থল ছিল আড্ডামুখর। স্ন্যাকস,এপিটাইজার সহ বিকেলের চাপর্বে ছিল না না মুখরোচক খাবার। শতাধিক সুধীর উপস্থিতিতে বিকেল তিনটায় শেষ হয় মূল অনুষ্ঠানের বিভিন্নপর্ব। এদিন ছিল এই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা। বড় পর্দায় তা উপভোগ করেন উপস্থিত সবাই।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
যেমন থাকবে আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়া হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ‘ইউক্রেন যুদ্ধে আরও ৫ লাখ সেনা নামাচ্ছেন পুতিন’ সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান সামরিক চুক্তি ভারতের জন্য কতটা চিন্তার কারণ প্রতিদিন ঠিক কতটুকু রোদ পোহানো উচিত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড নিজেদের মনোনীত রাষ্ট্রপতিকে ভোট না দিলে, ‘সদস্যপদ’ বাতিলের হুঁশিয়ারি বিএনপি’র চিফ হুইপের বাংলাদেশ দলেরই আমাকে প্রয়োজন আছে: সাকিব শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে পূর্ণ নিরাপত্তা পাবেন: তথ্য উপদেষ্টা মাত্র তিনমাসে নতুন করে ১ কোটি মানুষ দরিদ্র্য হয়েছে আদালতে সামনে উঠে আসছে কাল্পনিক মামলা ও চার্জশিট গঠনের চিত্র আইসিসির বিশ্বকাপ ফরম্যাট পরিবর্তনের কড়া সমালোচনা স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার পাশে রঙ করলেও অপর পাশ মলিন, ক্ষুব্ধ চট্টগ্রামবাসী আওয়ামী লীগের সময়ে বরাদ্দকৃত সোহেল তাজের রাজউকের প্লট বাতিল করছে বিএনপি সরকার বিএনপির সাথে জামায়াতের বিষ্ঠাযুদ্ধের ঘটনায় তিন জামায়াত নেতা কারগারে দিনেশ ত্রিবেদী: ভালো সম্পর্ক হলে উভয় দেশের জন্য হবে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ ‘প্রতিটি ব্যাটারের জন্য আলাদা পরিকল্পনা’: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রক্রিয়ায় আস্থা তাসকিনের গুম কমিশনের নাবিলা ইদ্রিসের গুপ্তচর জীবনের আখ্যান: আর্টিকেল-১৯ এর প্রতিবেদন ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে লোডশেডিংয়ের নতুন জাতীয় রেকর্ড ‘ওখানে মধু আছে, চুষলেই জিহ্বায় মজা লাগে’, বললেন জামায়াত আমির