ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
     ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ

আরও খবর

সরকারের অবসান ঘটলেও কমেনি প্রভাব; ‘বিদেশি স্বার্থ রক্ষায়’ বহাল থাকছে বিতর্কিত সব চুক্তি: সাবেক এনএসআই কর্মকর্তার দাবি

“আমি শেখ মুজিবের মেয়ে, দেশের স্বার্থ কখনো বেচি নাই। ক্ষমতার লোভ আমি করি না।” — শেখ হাসিনা

সড়কে চাঁদাবাজির ‘বৈধতা’ দিলেন হত্যা মামলার আসামি মন্ত্রী রবিউল

নতুন সরকার গঠন ‘প্রহসন ও সমঝোতার’ ফল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি সাদ্দামের

সাবেক সরকারের দুই প্রেস সচিবের নতুন চাকরি: এমজিএইচ গ্রুপের কর্ণধারের দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: দরপত্র ছাড়াই ১১১ কোটির কাজ, ফারুকীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ

ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস

মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ‘অসম’ চুক্তির ফাঁদ, হুমকিতে দেশীয় শিল্প ও সার্বভৌমত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ৪:৪১ 9 ভিউ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির খসড়ায় এমন সব শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, বিকাশমান দেশীয় শিল্প এবং স্বাধীন নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হতে পারে। চুক্তির নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দেশের বাজারে প্রায় একচেটিয়া ও শর্তহীন সুবিধা দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তার ভেতরেও রয়েছে কঠিন শর্তের বেড়াজাল। খসড়া চুক্তির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এটি কার্যকর হলে আইন প্রণয়ন, ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেও পরোক্ষ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাপ্ত নথির বিভিন্ন ধারা

ও অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে একে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ বলা হলেও এটি মূলত একটি ‘অসম চুক্তি’। এই চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। আইন প্রণয়নেও লাগবে মার্কিন সায় খসড়া চুক্তির ১.১৭ অনুচ্ছেদে ‘উত্তম নিয়ন্ত্রক অনুশীলন’ (Good Regulatory Practices) এবং ১.৯ অনুচ্ছেদে ‘স্বচ্ছতা’র নামে বাংলাদেশের আইনি ও প্রশাসনিক সার্বভৌমত্ব চরমভাবে খর্ব করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ নতুন কোনো নিয়ম, মান বা বাধ্যবাধকতা প্রণয়নের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করবে এবং খসড়া প্রকাশ করে তাদের মন্তব্য নেবে। এর অর্থ হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থে জাতীয় সংসদে বা মন্ত্রণালয়ে কোনো আইন বা বিধিমালা করার ক্ষেত্রেও আগে

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্মতি’ বা পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়বে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন। তথ্য পাচারের বৈধতা ও ডিজিটাল পরাধীনতা বর্তমান যুগে ডেটা বা তথ্যকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু চুক্তির ডিজিটাল বাণিজ্য অধ্যায়ের ৪.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘ডেটা লোকালাইজেশন’ বা দেশের ভেতরে সার্ভার রেখে ডেটা সংরক্ষণের কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারবে না। এছাড়া ৩.৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মার্কিন আইসিটি পণ্যের সোর্স কোড বা এনক্রিপশন কি (Key) প্রকাশের শর্ত দেওয়া যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ফেসবুক, গুগলের মতো বহুজাতিক মার্কিন কোম্পানিগুলো এ দেশের মানুষের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্য অবাধে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে পারবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার

চাইলেও এসব কোম্পানির অ্যালগরিদম বা প্রযুক্তিগত কোনো নজরদারি করতে পারবে না। উপরন্তু, মার্কিন ডিজিটাল পণ্যের ওপর শুল্ক বা কর বসানো যাবে না, যা বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হবে। নিয়ন্ত্রণ হারাবে বিএসটিআই ও ঔষধ প্রশাসন দেশের বাজারে কোনো বিদেশি পণ্য এলে বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতো সংস্থাগুলো তা পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চুক্তির ১.১ অনুচ্ছেদে শর্ত দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (FDA) কর্তৃক অনুমোদন পাওয়া কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুনরায় কোনো পরীক্ষা বা সার্টিফিকেশন চাইতে পারবে না। খাদ্য, কৃষিপণ্য বা শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অজুহাত দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। সেবা ও নির্মাণ খাতে

অসম প্রতিযোগিতা চুক্তির ধারা ২ অনুযায়ী—পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিতরণ (যেমন: ফ্র্যাঞ্চাইজি), নির্মাণ ও প্রকৌশল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতেই তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, পুঁজি ও প্রযুক্তিতে শক্তিশালী মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিনা বাধায় দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত বাজার থেকে ছিটকে যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও (SOE) সরকার কোনো ধরনের অ-বাণিজ্যিক ভর্তুকি বা সুবিধা দিতে পারবে না। ভূরাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ চুক্তির ৪.৩ অনুচ্ছেদের শর্তগুলো বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি কোনো

‘অ-মার্কেট’ (পরোক্ষভাবে চীন বা রাশিয়া) দেশের সঙ্গে এমন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করে যা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় শুল্ক আরোপ করতে পারবে। সবচেয়ে বিস্ময়কর শর্তটি হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ‘মৌলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে’ এমন কোনো দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি কিনতে পারবে না। বাণিজ্য চুক্তির মোড়কে এটি মূলত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক মিত্র নির্বাচনের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তৈরি পোশাক খাতের সুবিধার নামে ‘মরীচিকা’ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের (টেক্সটাইল) জন্য চুক্তির ৫.৩ অনুচ্ছেদে শূন্য শুল্ক সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক কঠিন শর্ত। এই সুবিধা

পেতে হলে রপ্তানিকৃত পোশাকে ‘মার্কিন উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম ফাইবার’ ব্যবহার করতে হবে। অথচ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মূলত ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানি করে টিকে আছে। মার্কিন তুলা আমদানির এই শর্ত মানলে উৎপাদন খরচ এতটাই বাড়বে যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে। সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে নিজেদের শিল্প ও অর্থনীতি রক্ষার জন্য কিছু রক্ষাকবচ রাখতে হয়। কিন্তু এই খসড়া নথিতে একচেটিয়াভাবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে দেশের সংশ্লিষ্ট সব খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়া জরুরি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বালিয়াডাংগী উপজেলা যুব লীগের সাবেক সভাপতির মৃত্যু বরন গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচী সরকারের অবসান ঘটলেও কমেনি প্রভাব; ‘বিদেশি স্বার্থ রক্ষায়’ বহাল থাকছে বিতর্কিত সব চুক্তি: সাবেক এনএসআই কর্মকর্তার দাবি “আমি শেখ মুজিবের মেয়ে, দেশের স্বার্থ কখনো বেচি নাই। ক্ষমতার লোভ আমি করি না।” — শেখ হাসিনা সড়কে চাঁদাবাজির ‘বৈধতা’ দিলেন হত্যা মামলার আসামি মন্ত্রী রবিউল নতুন সরকার গঠন ‘প্রহসন ও সমঝোতার’ ফল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি সাদ্দামের সাবেক সরকারের দুই প্রেস সচিবের নতুন চাকরি: এমজিএইচ গ্রুপের কর্ণধারের দুর্নীতি মামলা প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্ন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: দরপত্র ছাড়াই ১১১ কোটির কাজ, ফারুকীর বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস ২ দশমিক ২৬ লক্ষ কোটি ঋণ নিয়ে শূন্য উন্নয়ন: বাংলাদেশকে পঙ্গু করে দিয়ে যাওয়া ইউনূসের কীর্তি রাস্তা থেকে যুদ্ধবিমান আর টকশো থেকে যুদ্ধাপরাধী: দুই প্রতিবেশী, দুই বাস্তবতা দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছেন ইউনূস জুলাই সনদ, এনসিপি আর শেষ বিকেলের আনুগত্য: হিসাব মিলে গেলে যখন নীতিও মেলে ভোটার তাড়ানো, জাল ভোট, আগাম সিল: সংসদ নির্বাচন নিয়ে টিআইবির ভয়াবহ প্রতিবেদন সমঝোতা না হওয়ায় ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তথ্য ফাঁস করলেন নাহিদ যার পদত্যাগ একদিন দাবি করেছিল বিএনপি, আজ তাকেই মন্ত্রিসভায় বসানো হয়েছে। ছেলে ছাত্রলীগ করায় যারা বৃদ্ধ মানুষের রক্ত ঝরায়, তারা ক্ষমতার নয়, ঘৃণার উত্তরাধিকার বাংলাদেশে আবার ২০০১-২০০৬ এর দিনগুলো ফেরত আসছে গণতন্ত্রের সংকট কি বাড়ছে?