ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত

“রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল

‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি

স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ

ঢাকা-ওয়াশিংটন গোপন চুক্তির ফাঁস

মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় ‘অসম’ চুক্তির ফাঁদ, হুমকিতে দেশীয় শিল্প ও সার্বভৌমত্ব

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির খসড়ায় এমন সব শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি, বিকাশমান দেশীয় শিল্প এবং স্বাধীন নীতিনির্ধারণী ক্ষমতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হতে পারে। চুক্তির নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দেশের বাজারে প্রায় একচেটিয়া ও শর্তহীন সুবিধা দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য যেসব সুবিধার কথা বলা হয়েছে, তার ভেতরেও রয়েছে কঠিন শর্তের বেড়াজাল। খসড়া চুক্তির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এটি কার্যকর হলে আইন প্রণয়ন, ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতেও পরোক্ষ মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাপ্ত নথির বিভিন্ন ধারা

ও অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে একে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ বলা হলেও এটি মূলত একটি ‘অসম চুক্তি’। এই চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। আইন প্রণয়নেও লাগবে মার্কিন সায় খসড়া চুক্তির ১.১৭ অনুচ্ছেদে ‘উত্তম নিয়ন্ত্রক অনুশীলন’ (Good Regulatory Practices) এবং ১.৯ অনুচ্ছেদে ‘স্বচ্ছতা’র নামে বাংলাদেশের আইনি ও প্রশাসনিক সার্বভৌমত্ব চরমভাবে খর্ব করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ নতুন কোনো নিয়ম, মান বা বাধ্যবাধকতা প্রণয়নের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করবে এবং খসড়া প্রকাশ করে তাদের মন্তব্য নেবে। এর অর্থ হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থে জাতীয় সংসদে বা মন্ত্রণালয়ে কোনো আইন বা বিধিমালা করার ক্ষেত্রেও আগে

যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্মতি’ বা পর্যালোচনার প্রয়োজন পড়বে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন। তথ্য পাচারের বৈধতা ও ডিজিটাল পরাধীনতা বর্তমান যুগে ডেটা বা তথ্যকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বিবেচনা করা হয়। কিন্তু চুক্তির ডিজিটাল বাণিজ্য অধ্যায়ের ৪.১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ‘ডেটা লোকালাইজেশন’ বা দেশের ভেতরে সার্ভার রেখে ডেটা সংরক্ষণের কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে পারবে না। এছাড়া ৩.৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মার্কিন আইসিটি পণ্যের সোর্স কোড বা এনক্রিপশন কি (Key) প্রকাশের শর্ত দেওয়া যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে ফেসবুক, গুগলের মতো বহুজাতিক মার্কিন কোম্পানিগুলো এ দেশের মানুষের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল তথ্য অবাধে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে পারবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ সরকার

চাইলেও এসব কোম্পানির অ্যালগরিদম বা প্রযুক্তিগত কোনো নজরদারি করতে পারবে না। উপরন্তু, মার্কিন ডিজিটাল পণ্যের ওপর শুল্ক বা কর বসানো যাবে না, যা বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হবে। নিয়ন্ত্রণ হারাবে বিএসটিআই ও ঔষধ প্রশাসন দেশের বাজারে কোনো বিদেশি পণ্য এলে বিএসটিআই, ঔষধ প্রশাসন বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতো সংস্থাগুলো তা পরীক্ষা করে থাকে। কিন্তু চুক্তির ১.১ অনুচ্ছেদে শর্ত দেওয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (FDA) কর্তৃক অনুমোদন পাওয়া কোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম বা ওষুধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুনরায় কোনো পরীক্ষা বা সার্টিফিকেশন চাইতে পারবে না। খাদ্য, কৃষিপণ্য বা শিল্পপণ্যের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অজুহাত দিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে। সেবা ও নির্মাণ খাতে

অসম প্রতিযোগিতা চুক্তির ধারা ২ অনুযায়ী—পরিবহন, পাইকারি ও খুচরা বিতরণ (যেমন: ফ্র্যাঞ্চাইজি), নির্মাণ ও প্রকৌশল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে। সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতেই তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, পুঁজি ও প্রযুক্তিতে শক্তিশালী মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিনা বাধায় দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্প এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত বাজার থেকে ছিটকে যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও (SOE) সরকার কোনো ধরনের অ-বাণিজ্যিক ভর্তুকি বা সুবিধা দিতে পারবে না। ভূরাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ চুক্তির ৪.৩ অনুচ্ছেদের শর্তগুলো বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি কোনো

‘অ-মার্কেট’ (পরোক্ষভাবে চীন বা রাশিয়া) দেশের সঙ্গে এমন কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করে যা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে পুনরায় শুল্ক আরোপ করতে পারবে। সবচেয়ে বিস্ময়কর শর্তটি হলো—যুক্তরাষ্ট্রের ‘মৌলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে’ এমন কোনো দেশের কাছ থেকে বাংলাদেশ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বা জ্বালানি কিনতে পারবে না। বাণিজ্য চুক্তির মোড়কে এটি মূলত বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক মিত্র নির্বাচনের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার একটি কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তৈরি পোশাক খাতের সুবিধার নামে ‘মরীচিকা’ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের (টেক্সটাইল) জন্য চুক্তির ৫.৩ অনুচ্ছেদে শূন্য শুল্ক সুবিধার কথা বলা হয়েছে। তবে এখানে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এক কঠিন শর্ত। এই সুবিধা

পেতে হলে রপ্তানিকৃত পোশাকে ‘মার্কিন উৎপাদিত তুলা ও কৃত্রিম ফাইবার’ ব্যবহার করতে হবে। অথচ বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মূলত ভারত, চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানি করে টিকে আছে। মার্কিন তুলা আমদানির এই শর্ত মানলে উৎপাদন খরচ এতটাই বাড়বে যে, শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে। সার্বিক বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেকোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে নিজেদের শিল্প ও অর্থনীতি রক্ষার জন্য কিছু রক্ষাকবচ রাখতে হয়। কিন্তু এই খসড়া নথিতে একচেটিয়াভাবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে দেশের সংশ্লিষ্ট সব খাতের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়া জরুরি।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত বিএনপি ও জামায়াত ভেতরে ভেতরে এক, মাঠে তারা কৃত্রিম দ্বন্দ্ব দেখাচ্ছে।” শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মহাসচিব, জাতীয় পার্টি। “রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: মুক্তিকামী জনতার একচ্ছত্র কমান্ড ও স্বাধীনতার পদধ্বনি রাজারবাগ ও পিলখানা—প্রথম প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ও রক্তক্ষয়ী রাত শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে তৈরি সেই পাইপলাইনই এখন বিএনপির ভরসা বাংলাদেশ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?: ‘৭১ এর ঘাতক, ২০২৬ এর শহীদ! চুকনগর গণহত্যা ১৯৭১ঃ ৪ ঘন্টায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা আরও কমলো স্বর্ণের দাম