ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গ্লাসগোতে জমকালো আয়োজনে ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসের উদ্বোধন করলেন রাজা চার্লস
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী
টানা পঞ্চম দিনও অচল লোকসভা, বক্তব্যের সুযোগ পেলেন না রাহুল
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ করল সরকার, চরম ভোগান্তিতে মানুষ
জনভোগান্তি না কমলে মেট্রোরেল নিয়ে কড়া সিদ্ধান্ত ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া
ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী?
জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতা: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন মার্কিন শুল্ক কার্যকর
জোরপূর্বক শ্রমে (ফোর্সড লেবার) উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানায়, যা শুক্রবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।
ইউএসটিআরের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ ১৭টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে। এই তালিকায় আরও রয়েছে আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, শ্রীলঙ্কা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং যুক্তরাজ্য। এসব দেশ হয় জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে, অথবা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির (এগ্রিমেন্ট
অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি বলে ইউএসটিআরের মূল্যায়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক-মুক্ত (এমএফএন) হারের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে, আর তদন্তের আওতায় থাকা বাকি সব দেশের ওপর বসেছে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, কয়েক দশক ধরে নৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে জোরপূর্বক শ্রম দূর করা যায়নি বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে
তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ রেখেছে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে আসছে, এখন অন্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই পথে হাঁটার সময় এসেছে। গ্রিয়ার আরও বলেন, যেসব দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন গ্রহণে এগিয়ে এসেছে, তা তাকে উৎসাহিত করেছে এবং তিনি সেসবের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রাখেন। এই পদক্ষেপের পটভূমি বেশ কয়েক মাসের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দিষ্ট নির্দেশনায় গত ১২ মার্চ ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্ত শুরু করে ইউএসটিআর। এপ্রিলে দুই দফা শুনানি ও ৪৫টির বেশি দেশের সঙ্গে আলোচনার পর গত ২ জুন ইউএসটিআর প্রাথমিক সিদ্ধান্তে জানায়, এসব দেশের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর বিবেচিত হচ্ছে। এরপর
জনমত যাচাইয়ের জন্য ষোলোশর বেশি লিখিত মতামত ও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আরেক দফা শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। তবে কাঁচামাল বা এমন কিছু পণ্য, যেগুলোর দেশীয় সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বা যা আমদানি বন্ধ হলে অর্থনীতিতে ব্যাপক বিপর্যয় নামতে পারে, সেগুলোকে এই শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যেও একই রকম ছাড় রাখা হয়েছে বলে ইউএসটিআরের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগের বাণিজ্য চুক্তির ওপর নতুন এই শুল্কের প্রভাব এই নতুন শুল্ক এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। গত ৯
ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। সেই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছিল। তবে সমালোচকরা তখন থেকেই বলে আসছেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করা, নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে আমদানি কমানো এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার মতো সংবেদনশীল খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সীমিত করার মতো শর্তও মেনে নিতে
হয়েছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আগের ১৯ শতাংশ হারের ওপর যোগ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সার্বিক শুল্কের বোঝা আরও বাড়ল। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে, আর তার সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এমনিতেই উচ্চ শুল্ক, ব্যাংকঋণ পাওয়ার জটিলতা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে পোশাক খাতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা কর্মচ্যুতির শিকার হয়েছেন বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও চাপে পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) মাধ্যমে এমন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে পারেনি বলে ইউএসটিআরের মূল্যায়ন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের কিছু নির্দিষ্ট পণ্যে সর্বোচ্চ শুল্ক-মুক্ত (এমএফএন) হারের ওপর অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে, আর তদন্তের আওতায় থাকা বাকি সব দেশের ওপর বসেছে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে শুল্ক। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, কয়েক দশক ধরে নৈতিক চাপ প্রয়োগ করেও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে জোরপূর্বক শ্রম দূর করা যায়নি বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক শতাব্দী ধরে জোরপূর্বক শ্রমে
তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ রেখেছে এবং তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করে আসছে, এখন অন্য বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই পথে হাঁটার সময় এসেছে। গ্রিয়ার আরও বলেন, যেসব দেশ দ্রুত জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী আইন গ্রহণে এগিয়ে এসেছে, তা তাকে উৎসাহিত করেছে এবং তিনি সেসবের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রাখেন। এই পদক্ষেপের পটভূমি বেশ কয়েক মাসের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দিষ্ট নির্দেশনায় গত ১২ মার্চ ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্ত শুরু করে ইউএসটিআর। এপ্রিলে দুই দফা শুনানি ও ৪৫টির বেশি দেশের সঙ্গে আলোচনার পর গত ২ জুন ইউএসটিআর প্রাথমিক সিদ্ধান্তে জানায়, এসব দেশের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর বিবেচিত হচ্ছে। এরপর
জনমত যাচাইয়ের জন্য ষোলোশর বেশি লিখিত মতামত ও জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আরেক দফা শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। তবে কাঁচামাল বা এমন কিছু পণ্য, যেগুলোর দেশীয় সরবরাহ পর্যাপ্ত নয় বা যা আমদানি বন্ধ হলে অর্থনীতিতে ব্যাপক বিপর্যয় নামতে পারে, সেগুলোকে এই শুল্কের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যেও একই রকম ছাড় রাখা হয়েছে বলে ইউএসটিআরের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। আগের বাণিজ্য চুক্তির ওপর নতুন এই শুল্কের প্রভাব এই নতুন শুল্ক এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। গত ৯
ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি’ (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। সেই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্কহার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশে আনা হয়েছিল। তবে সমালোচকরা তখন থেকেই বলে আসছেন, এই চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বেশি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চেষ্টা করা, নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে আমদানি কমানো এবং জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার মতো সংবেদনশীল খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সীমিত করার মতো শর্তও মেনে নিতে
হয়েছে, যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত এই নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আগের ১৯ শতাংশ হারের ওপর যোগ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সার্বিক শুল্কের বোঝা আরও বাড়ল। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ আসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে, আর তার সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এমনিতেই উচ্চ শুল্ক, ব্যাংকঋণ পাওয়ার জটিলতা ও ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে পোশাক খাতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই বা কর্মচ্যুতির শিকার হয়েছেন বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নতুন এই শুল্ক কার্যকর হওয়ায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও চাপে পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।



