ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ July, ২০২৬

ভারতে ছড়িয়ে পড়া স্টুডেন্ট আন্দোলনের নেপথ্য কী?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ July, ২০২৬ |
শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলমান ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে হাজারো সমর্থক নয়াদিল্লিতে অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রধান দাবি, ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তৃতীয় মেয়াদে এটিকে তার সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় জনচ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি? ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এ বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ ছিল ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভারতের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। পরে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর হতাশা থেকে অন্তত এক ডজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা

নেওয়া হয়। কেন নিট এত গুরুত্বপূর্ণ? ভারতে স্নাতক পর্যায়ে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার একমাত্র জাতীয় পরীক্ষা হলো নিট। প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী এতে অংশ নিলেও আসন রয়েছে দেড় লাখেরও কম। ফলে এটি ভারতের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষাগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমিত আসনের কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিতে হয়। এতে মানসিক চাপ, হতাশা এবং অনেক ক্ষেত্রে ঋণের বোঝাও বেড়ে যায়। এর আগে কি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে? ভারতে বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নতুন ঘটনা নয়। ২০২৪ সালেও কিছু এলাকায় নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল, যদিও তখন পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া পুলিশ কনস্টেবল, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও অতীতে ফাঁস

হয়েছে। এবার কেন বিষয়টিতে এত আলোচনা? এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গধর্মী যুব আন্দোলন। মে মাসের মাঝামাঝি গঠিত এই আন্দোলন কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে লাখো অনুসারী অর্জন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনায় জমে থাকা ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি। সরকারের প্রতিক্রিয়া শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের অন্যান্য

দাবির মধ্যে রয়েছে—অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে প্রতি পরিবার ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ প্রদান। আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলের সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলেও হাজারো বিক্ষোভকারী এখনও দিল্লির অবস্থানস্থলে অবস্থান করছেন। আন্দোলনের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এদিকে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন এই ইস্যু মোদি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের