জেল গেটের এপার-ওপার : নির্যাতনের অন্ধকারে নিমজ্জিত ইউনুসের বাংলাদেশ ২.০ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না

রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩

২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে?

রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা

আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি

শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম

জেল গেটের এপার-ওপার : নির্যাতনের অন্ধকারে নিমজ্জিত ইউনুসের বাংলাদেশ ২.০

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ |
যে মানুষটি সকালে উঠে জানে না আজ রাতে তার ঘুম ভাঙানো হবে কিনা, যে পরিবার জানে না তাদের মানুষটি জেল গেট থেকে বের হয়ে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে কিনা, সেই মানুষ আর পরিবার আসলে একটা অদৃশ্য নির্যাতন কক্ষে বন্দি। ইউনূসের তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার গত কয়েক মাসে কারাগারকে ঠিক এই জায়গায় নিয়ে গেছে। আর এর শিকার মূলত একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা। আওয়ামী আমলে পাঁচ দিন পরপর পরিবারের সাক্ষাৎ ছিল। এখন পনেরো দিন। এই দশ দিনের ব্যবধান শুনতে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু একজন বন্দির কাছে এই দশ দিন মানে অতিরিক্ত দশটি রাত যখন সে জানে না তার পরিবার কেমন আছে। অনেকের

ক্ষেত্রে সাক্ষাৎ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কল করার সুযোগ নেই। আদালতে যাওয়ার সময়ও পরিবারের সাথে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় না। এটা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, এটা পরিকল্পিত বিচ্ছিন্নতা তৈরির কৌশল। ভোর চারটা-পাঁচটায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া, তারপর পুরো ওয়ার্ড উল্টেপাল্টে দেওয়া, জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা। মাসে দুবার-তিনবার হলে হয়তো মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু তিন-চার দিন পরপর? এটা চেকিং নয়, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুমের চক্র ভেঙে দেওয়া, মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পিত পদক্ষেপ। যে মানুষ ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না, সে ঠিকমতো চিন্তা করতে পারে না। আর যে মানুষ ঠিকমতো চিন্তা করতে পারে না, তাকে ভাঙা সহজ। খাবার পানি আর গোসলের পানি সীমিত

করা হচ্ছে রাজনৈতিক ওয়ার্ডে। এটা শুনতে ছোট বিষয় মনে হলেও মৌলিক মানবিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত করা একটি পরিচিত নির্যাতনের কৌশল। সিআইডি'র লোকজন এসে চেকিং এর নামে হয়রানি করে। ম্যাটস আর পাহাড়াদার লেলিয়ে দেওয়া হয় যাতে বন্দিরা সবসময় চাপে থাকে। এই ক্রমাগত চাপ একজন মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দেয়। পিডব্লিউ রাইটার। এই নামটা এখন আতঙ্কের সমার্থক। মাঝরাতে যখন পিডব্লিউ রাইটার এসে নাম ধরে ডাকে, তখন বন্দি জানে নতুন মামলা এসেছে। জামিনের সব আশা তখন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এই অনিশ্চয়তা, এই ভয় প্রতিটি রাতে বন্দিকে তাড়া করে। কখন আবার নাম ডাকা হবে, কখন আবার নতুন মামলার বোঝা মাথায় চাপবে। আওয়ামী আমলে যে মামলায়

সাত দিন কাস্টডিতে রেখে জামিন দেওয়া হতো, একই ধরনের মামলায় এখন তিন-চার মাস কাস্টডিতে রেখেও জামিন দেওয়া হচ্ছে না। এটা বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক কাজকর্ম নয়। জামিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে জজ কোর্ট আর হাইকোর্টে। আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে যা দেখানো হচ্ছে, তা আসলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মানুষদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার কৌশল। যদি কোনোভাবে জামিন হয়ও, তখন শুরু হয় আরেক দফা মানসিক যন্ত্রণা। জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে বের হওয়াই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। থানায় ফোন করা হয়, সিটিএসবি, ডিএসবিতে ফোন করা হয়, জিজ্ঞেস করা হয় অমুক আসামির বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেওয়া হবে কিনা। ক্লিয়ারেন্স এলে

মুক্তি, না এলে আবার জেলে ঢোকানো। এখানে একটা মারাত্মক আইনি অসংগতি আছে। কোনো মামলা ছাড়াই একজন মানুষকে আবার কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। তারপর কয়েকদিন পর নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। মানে যে কয়েকদিন সে জেলে ছিল, সেই সময়ের কোনো আইনি ডকুমেন্ট নেই। সে আইনত ফ্রি ছিল, কিন্তু শারীরিকভাবে বন্দি ছিল। এটা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন, মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কিন্তু কে থামাবে? যে বিচার ব্যবস্থা এই কাজে সহযোগিতা করছে, সেখান থেকে ন্যায়বিচারের আশা কীভাবে করা যায়? এমনকি যদি কেউ জেলগেট পার হয়েও যায়, তারপরও শেষ নয়। রাস্তা থেকে ডিবি তুলে নিয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার কোনো সুযোগ নেই। পালিয়ে থাকতে হয়। এটা কোনো

স্বাধীন দেশের চিত্র হতে পারে না। বন্দির চেয়ে বেশি কষ্ট পায় বাইরের পরিবার। তারা জানে না ভেতরে কী হচ্ছে। প্রতিটি ফোন কল, প্রতিটি খবর তাদের আতঙ্কিত করে। জামিন হলো কিনা, নতুন মামলা এলো কিনা, জেল থেকে বের হতে পারবে কিনা, বাড়ি ফিরতে পারবে কিনা। এই অনিশ্চয়তা, এই চিন্তা একটা পরিবারকে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়। সম্প্রতি সময়ে সাদ্দামের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা এই পুরো পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করেছে। একটা পরিবারের ওপর কতটা চাপ পড়লে, কতটা মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করলে এমন সিদ্ধান্ত আসে, তা কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু যারা এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, তারা বুঝতে পারছে। ইউনূস আর তার অবৈধ সরকার মূলত একটি কাজ

করছে: আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা। বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কারাগার প্রশাসন সবকিছু ব্যবহার করা হচ্ছে এই একটি লক্ষ্যে। এটা কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটা রাজনৈতিক প্রতিশোধ। যে সরকার বিদেশি টাকায়, ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তায় আর সামরিক বাহিনীর সমর্থনে দাঙ্গা বাঁধিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে, সেই সরকারের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করা বোকামি। কারাগারে যা ঘটছে, তা শুধু শারীরিক বন্দিত্ব নয়। এটা মানসিক নির্যাতনের একটা সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা। যে মানুষটি ভেতরে আছে, সে জানে না কখন আবার তার নাম ডাকা হবে, কখন আবার নতুন মামলা আসবে, কবে সে মুক্তি পাবে। আর বাইরে যারা আছে, তারা প্রতিদিন জানে না তাদের মানুষটি ভালো আছে কিনা, বেঁচে আছে কিনা। এই অনিশ্চয়তা, এই ভয়, এই মানসিক চাপ একটা মানুষকে ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এটাই ইউনূসের আসল লক্ষ্য। আইনের মাধ্যমে অন্যায় করা, বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অবিচার করা, কারাগারকে মানসিক নির্যাতনের কেন্দ্র বানানো। আর এভাবেই একটা রাজনৈতিক দলকে শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবেও ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। এই নিষ্ঠুরতা, এই পরিকল্পিত নির্যাতন কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। এটা একটা প্রতিশোধপরায়ণ, অবৈধ শাসকগোষ্ঠীর কাজ, যারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যেকোনো অমানবিক পথ বেছে নিতে দ্বিধা করছে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ছাত্রলীগ নেতা দেশে ফিরেছেন ভেবে চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পেটালো পুলিশ দিনাজপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করলেন জামায়াতের গুপ্ত কর্মী তারেক নানা অজুহাতে সাধারণ কৃষকদের ধান ফেরত, প্রভাবশালীদের নিম্নমানের ধান কিনছে সরকার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না বগুড়ায় একরাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, জড়িতদের পরিচয় অজানা রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩ ২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে? ফায়ার স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত নারী এনে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর স্টেশন অফিসারের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন ইরানে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয় যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার এডিসিকে ২৪ দিনে ৩ বার বদলি, নেপথ্যে কে?