গণভোট ২০২৬: সংখ্যার রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক কারচুপির নেপথ্যে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর

বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত!

আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব!

স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

গণভোট ২০২৬: সংখ্যার রহস্য ও মনস্তাত্ত্বিক কারচুপির নেপথ্যে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে হওয়া সংবিধান সংস্কারের গণভোট নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও সংশয়। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া চূড়ান্ত পরিসংখ্যানে বিশাল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও, ব্যালট পেপারের নকশা, ভোটের হার এবং আসনভিত্তিক ভৌতিক পরিসংখ্যান এই ঐতিহাসিক গণভোটকে একটি ‘সাজানো প্রহসন’ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। গণভোটের ব্যালট পেপার হাতে নিয়ে বিস্মিত হয়েছেন খোদ সচেতন ভোটাররা। দেখা গেছে, ‘হ্যাঁ’ বাক্সের পাশে সবুজ রঙের ‘টিক’ (✓) চিহ্ন এবং ‘না’ বাক্সের পাশে লাল রঙের ‘ক্রস’ (×) চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি একটি সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক প্রতারণা। সাধারণ মানুষের কাছে টিক

চিহ্ন মানেই ‘সঠিক’ বা ‘বৈধ’, আর ক্রস মানেই ‘ভুল’ বা ‘অবৈধ’। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে কোনো চিহ্নই থাকার কথা ছিল না, অথবা থাকলেও তা একই রকম হওয়া উচিত ছিল। এই নকশা মূলত সাধারণ ভোটারদের অবচেতন মনে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছে। পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ হলেও গণভোটে তা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০.২৬ শতাংশ। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ একে ‘স্বাভাবিক’ বললেও প্রশ্ন উঠেছে—একই সময়ে একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে মানুষ একটিতে ভোট দিয়ে অন্যটি দেয়নি, এটি কতটা বাস্তবসম্মত? সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে আসনভিত্তিক পরিসংখ্যানে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর তথ্যমতে: রাজশাহী-৪: এখানে এক পর্যায়ে ভোটের হার দেখানো

হয়েছিল ২৪৪.২৯৫ শতাংশ! পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা কমিয়ে ৭২.৬৯ শতাংশ করা হয়। নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫: এই আসনগুলোতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ওই আসনের মোট নিবন্ধিত ভোটারের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-১: এখানে ভোটের হার দেখানো হয়েছে অবিশ্বাস্যভাবে কম, মাত্র ৭.৮৯৯ শতাংশ। বাতিল ভোটের বিশাল পাহাড় দাপ্তরিক ফলাফল শিট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সারাদেশে বাতিল বা অবৈধ ভোটের সংখ্যা প্রায় ৪৪ লাখ ২০ হাজার ৬৩৭টি (মতান্তরে ৭৪ লাখ ২ হাজার ২৮৫টি)। ব্যালটের জটিল নকশা এবং তড়িঘড়ি করে সিল মারার ফলেই যে এত বিশাল সংখ্যক ভোট নষ্ট হয়েছে, তা স্পষ্ট। ভৌগোলিক অনাস্থা ও পাহাড়ের বার্তা সারা দেশে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও ২৯৯টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে

‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গোপালগঞ্জের তিনটি আসন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) তিনটি আসন। এ ছাড়া ঝিনাইদহ-১, সুনামগঞ্জ-২, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ এবং রাজশাহী-৪ আসনেও ভোটাররা ‘না’-কে বেছে নিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের মানুষের ‘না’ জয়ী হওয়া রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় বার্তা। যেসব অঞ্চলের মানুষ রাষ্ট্রীয় এই সংস্কার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের মতামতকে অবজ্ঞা করে সংস্কার চাপিয়ে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ফাঁকা মাঠে গণভোটের ব্যালট অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের দিন পোলিং এজেন্টরা সংসদীয় আসনের ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত থাকায় গণভোটের ব্যালট পেপারগুলো অরক্ষিত অবস্থায় ছিল। গভীর রাতে ফাঁকা মাঠে এই ব্যালটগুলোর গণনায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলেই বারবার সঠিক

সংখ্যার হিসাব বদল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষ এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেননি। যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাবিত করার এবং পরবর্তীতে পরিসংখ্যানগত কারচুপির যে অভিযোগ উঠেছে, তা ড. ইউনূস সরকারের এই গণভোটের নৈতিক বৈধতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন: ভুল কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার ব্যবচ্ছেদ শামা ওবায়েদের নামে চলছে তদ্বির বাণিজ্য বিনামূল্যের পাঠ্যবই মুদ্রণে কারসাজি: এক বছরেই রাষ্ট্রের ৬৫৯ কোটি টাকা লুটে নিলো সিন্ডিকেট ঈদের আগেই বাড়ির পথে যাত্রা, কমলাপুরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও মনে করছেন মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি দেশের কৃষি ও প্রাণি সম্পদের জন্য ক্ষতিকর বেশি দামে এলএনজি কেনা ও মার্কিন চুক্তি: সরকারের ভুল নাকি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত! কোনো সামর্থবান মুসলিম রাষ্ট্র নয়, ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি নৌবাহিনীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জামায়াতের নির্বাচনী আইকন নিউইয়র্ক মেয়র মামদানির অফিসে এলজিবিটি দপ্তর: বিতর্ক চরমে ইরানের মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ আমলে খননকৃত শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্রের ৫ম কূপ উদ্বোধন, যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপো থেকে বিমানের ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল গায়েব! স্পিকার–ডেপুটি স্পিকারের পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানিক প্রশ্ন: সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক আচরণবিধি ভাঙায় পাকিস্তানের আঘা সালমানকে আইসিসির তিরস্কার ও ডিমেরিট বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?