শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের গোপন ভূমিকা: নর্থ ইস্ট নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬

শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতে সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের গোপন ভূমিকা: নর্থ ইস্ট নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬ |
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে সেনাবাহিনী ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর কিছু কর্মকর্তার গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। ভারতের নর্থ ইস্ট নিউজে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই ষড়যন্ত্রে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন এবং কিছু জুনিয়র অফিসার ঢাকার বিভিন্ন স্থানে স্নাইপার হিসেবে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে মিরপুর ও মহাখালী ডিওএইচএস-এ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের তিনটি দল জড়ো হয়। এরা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একদল ইসিবি স্কয়ারের দিকে, একদল জাহাঙ্গীর গেটের দিকে এবং অপর দল মহাখালী রেলগেট পার

হয়ে বনানী ডিওএইচএসের দিকে অগ্রসর হয়। এসব মিছিলে ৪০-৫০ জন করে অংশ নেন এবং “এখনই সেনা সরকার চাই” স্লোগান দেন। জাহাঙ্গীর গেটের দিকে যাওয়া দলে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, যিনি সম্প্রতি পর্যন্ত মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী তাঁকে ফোন করে বলেন, “স্যার, আপনি স্নাইপার জোনের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন, আর অগ্রসর হবেন না।” প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ৪ আগস্ট রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরদিন সকালে তাঁদের সাক্ষাৎ হয় এবং সেনাপ্রধান তাঁকে বিএনপি

ও অন্যান্য বিরোধী নেতাদের ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে আসার দায়িত্ব দেন। একই সময়ে জেনারেল জামান ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র ত্রিদেবীর সঙ্গেও কথা বলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয় ১ জুলাই ২০২৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, এতে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের সদস্যরা “সাধারণ ছাত্র” পরিচয়ে অংশ নেন। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ নামে একজন নিহত হন, যাকে জামায়াতের আত্মঘাতী স্কোয়াডের সদস্য বলে দাবি করা হয়। অটোপসিতে মাথার পেছনে আঘাত দেখা গেলেও দোষ চাপানো হয় পুলিশের ওপর। অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন স্টুডেন্ট মুভমেন্টের নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়াসহ ছাত্র নেতারা ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ

উঠেছে। তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক ও কিছু উচ্চাভিলাষী সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে আন্দোলনের গতিপথ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অজ্ঞাত স্নাইপারদের গুলিতে একশোর বেশি ব্যক্তি নিহত হন। অধিকাংশের মাথায় পেছন দিক থেকে গুলি লাগে। পুলিশের কাছে স্নাইপার অস্ত্র না থাকলেও এসব হত্যার দায় চাপানো হয় সরকার ও পুলিশের ওপর। উত্তরা প্রবেশপথে ব্রিগেডিয়ার রফিকের নেতৃত্বে সেনারা লাউডস্পিকারে ঘোষণা করেন, “কোনো কারফিউ নেই, আপনারা ঢাকায় প্রবেশ করতে পারেন” — যা কারফিউ সত্ত্বেও বিরোধীদের প্রবেশের সুযোগ করে দেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, ৪৬তম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড

ও ৯ম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনকে ঢাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া হয়নি এবং আর্টিলারি ডিভিশন ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। এটিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়েছে, সেনা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এসব ঘটনার তদন্ত করেনি। নর্থ ইস্ট নিউজের এই প্রতিবেদনটি (লেখক: এনায়েত কবির) এখনো চলমান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (তথ্যসূত্র: নর্থ ইস্ট নিউজ, ১১ এপ্রিল ২০২৬। এটি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
২ দিন বন্ধ থাকবে স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান ১১ দেশকে নিয়ে বিশাল সামরিক মহড়ার ঘোষণা ভারতের ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘এরিয়া ৫১’এ ভয়ঙ্কর কাঁপন প্রাইজবন্ডের ড্র আজ, প্রথম পুরস্কার ৬ লাখ টাকা পরমাণু চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ-অবরোধ চলবে: ট্রাম্প একাত্তরের রণাঙ্গনে মুজিব বাহিনী: বিকৃত ইতিহাসের বিপরীতে দালিলিক সত্য শেখ হাসিনার অবিস্মরণীয় অবদান, পরমাণু যুগে বাংলাদেশ: মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী ৫০১ প্রকৌশলীর অভিনন্দন ধাপে ধাপে মাশুল-ভাড়া বৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানিতে ব্যয়বৃদ্ধি: ভোক্তার নাভিশ্বাস চরমে নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর জলাশয়ে মিলল রোহিঙ্গা গৃহবধূর নিথর দেহ ‘কুমির কীভাবে বাংলাদেশি, ভারতীয়কে আলাদা করবে?’ ধানপচা গন্ধে ভারী হাওরের বাতাস অস্থিরতার শঙ্কার মধ্যে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কী করছে হজ করতে সৌদি পৌঁছেছেন ৪০ হাজার ৫৯০ বাংলাদেশি লভ্যাংশ দিতে পারেনি অর্ধেকের বেশি ব্যাংক নতুন জোটে যোগ দিতে বিদেশি সরকারদের চাপ দেবে মার্কিন দূতাবাস ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়, আইনি জটিলতার মুখে ট্রাম্প ‘৫০০ টাকা আয় করে ১২০০ টাকা খরচে বিচার চাইতে হয়’ ইরানে ফের সামরিক হামলার সম্ভাবনা প্রবল: মার্কিন সিনেটর পুরোনো ভোজ্যতেল নতুন দামে বিক্রি