ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না

রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়

‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩

২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে?

রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা

আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি

শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম

ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বাংলাদেশের রাজনীতি কি আবারও এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জনগণের রায় নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত স্বার্থই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? ওয়াশিংটন পোস্টের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন—বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামিকে তারা “বন্ধু” হিসেবে দেখতে চান। প্রশ্ন হলো: কেন? এবং এর মূল্য কে দেবে? এই বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক মন্তব্য নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক নীতির প্রতিধ্বনি—‘ম্যানেজেবল ইসলাম’। অর্থাৎ, এমন ইসলামপন্থী শক্তি, যারা ভোটে জিততে পারে, রাস্তায় প্রভাব রাখে, কিন্তু প্রয়োজনে যাদের অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা

তৈরি হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই নতুন ‘পাওয়ার ব্রোকার’ খুঁজছে। গণতন্ত্র নয়, মানবাধিকার নয়—প্রথম বিবেচনায় আছে স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব। আর সেই হিসাবেই জামায়াতে ইসলামি এখন ওয়াশিংটনের আলোচনার টেবিলে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই কূটনৈতিক আলাপে বাংলাদেশের জনগণ নেই, সংসদ নেই, এমনকি নির্বাচিত সরকারও নেই। আছে শুধু “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক”—এই উপনিবেশিক সুরের বক্তব্য। বন্ধুত্ব কিসের বিনিময়ে? নীতির? সার্বভৌমত্বের? না কি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর অদৃশ্য ভেটোর? মার্কিন কূটনীতিক দাবি করেছেন, জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে না—কারণ প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাবে, পোশাক শিল্প বন্ধ করে দেবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ৪০ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ‘লিভারেজ’। এটি কি বন্ধুত্ব, না

কি অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল? আরেকটি ভয়ংকর ইঙ্গিত এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে। ভারত বহু বছর ধরেই জামায়াতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক যখন নিজেই টালমাটাল, তখন ওয়াশিংটন স্পষ্টতই দিল্লির উদ্বেগ উপেক্ষা করতেও প্রস্তুত। ফলে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে মার্কিন-ভারত কৌশলগত দূরত্বের একটি পরীক্ষামঞ্চে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান প্রশ্নাতীত নয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো পর্দার আড়ালে কার সঙ্গে কথা বলছে, কাকে গ্রহণযোগ্য ভাবছে—সেই তালিকা কি জনগণের সামনে পরিষ্কার? নাকি আবারও আমরা দেখব, নির্বাচন হবে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে বিদেশি দূতাবাসের বৈঠকখানায়? জামায়াত নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী, সুশাসনের দল হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু ইতিহাস কি

এত সহজে মুছে যায়? ১৯৭১, যুদ্ধাপরাধ, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু প্রশ্ন—এসব কি শুধুই “ইমেজ সফটেনিং”-এর আড়ালে চাপা দেওয়া যাবে? নাকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বদলে এসব প্রশ্নকে অস্বস্তিকর বলে এড়িয়ে যাওয়া হবে? বিএনপির ভূমিকাও এখানে ধোঁয়াশাপূর্ণ। একদিকে তারা জামায়াতকে জোটে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্ক বলছে—জামায়াতের শক্ত অবস্থান উপেক্ষা করা সহজ হবে না। ফলে একটি নীতিহীন সমঝোতার রাজনীতি ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট—বাংলাদেশের নির্বাচন এখন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, এমনকি চীনের কৌশলগত দৃষ্টি-কেন্দ্র। এই খেলায় সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ ভোটার, শ্রমিক, সংখ্যালঘু এবং নারীসমাজ। প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি আবারও এমন এক ব্যবস্থায় ঢুকছে, যেখানে জনগণ

শুধু ভোট দেবে, কিন্তু ক্ষমতার রিমোট থাকবে বিদেশে? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আজ না খোঁজা হয়, তাহলে কাল হয়তো উত্তর দেওয়ার সুযোগও থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ছাত্রলীগ নেতা দেশে ফিরেছেন ভেবে চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পেটালো পুলিশ দিনাজপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করলেন জামায়াতের গুপ্ত কর্মী তারেক নানা অজুহাতে সাধারণ কৃষকদের ধান ফেরত, প্রভাবশালীদের নিম্নমানের ধান কিনছে সরকার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা: ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তবে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করতে পারি না বগুড়ায় একরাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, জড়িতদের পরিচয় অজানা রাজপথে সন্তানের সাথে মিছিলে মা, ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘যুদ্ধবিরতি’র পরেও থামছে না হত্যা — গাজায় ইসরায়েলি হামলায় মৃতের সংখ্যা ৯৮৩ ২৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১,০৮১ কোটির বরাদ্দ: ইমাম-মুয়াজ্জিনের জীবন বদলাবে, নাকি ভোটের মাঠ গরম হবে? ফায়ার স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত নারী এনে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর স্টেশন অফিসারের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা, দলীয় কোন্দলকে দুষছেন কর্মীরা আকারে নয়, বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য: সিপিডি শক্তিশালী মহলের প্রভাবে ধামাচাপা পড়ে গেল স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতনে নিহত ডা. নাফিসা দিপ্রার নাম শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন ইরানে ১৩৯ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করলেন মোজতবা খামেনি শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরলেন ডিজে সঞ্জয় যেভাবে বিশ্ব ফ্যাশনের গতিপথ বদলে দিচ্ছে ফুটবল ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার এডিসিকে ২৪ দিনে ৩ বার বদলি, নেপথ্যে কে?