ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
     ৬:২০ পূর্বাহ্ণ

আরও খবর

সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা

ভোটের আগেই সিট ভাগ হয়ে গেছে। আর এখন দেশের টাকায় চলছে লোক দেখানো নাটক।

বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা

মবসন্ত্রাস মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও কারা হেফাজতে সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি

উন্নয়ন দেখলেই গাত্রদাহ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ‘অজ্ঞ’ তারেক: ফ্লাইওভার নিয়ে হাস্যকর দাবি

‘ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ নয়াদিল্লি ভারত ।

বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ নয়াদিল্লিতে ড. মোমেন

ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ | ৬:২০ 10 ভিউ
বাংলাদেশের রাজনীতি কি আবারও এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে জনগণের রায় নয়—বরং বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত স্বার্থই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? ওয়াশিংটন পোস্টের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিকেই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন—বাংলাদেশের একসময় নিষিদ্ধ ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামিকে তারা “বন্ধু” হিসেবে দেখতে চান। প্রশ্ন হলো: কেন? এবং এর মূল্য কে দেবে? এই বক্তব্য কোনো বিচ্ছিন্ন কূটনৈতিক মন্তব্য নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পরিচিত এক নীতির প্রতিধ্বনি—‘ম্যানেজেবল ইসলাম’। অর্থাৎ, এমন ইসলামপন্থী শক্তি, যারা ভোটে জিততে পারে, রাস্তায় প্রভাব রাখে, কিন্তু প্রয়োজনে যাদের অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। শেখ হাসিনার পতনের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা

তৈরি হয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টতই নতুন ‘পাওয়ার ব্রোকার’ খুঁজছে। গণতন্ত্র নয়, মানবাধিকার নয়—প্রথম বিবেচনায় আছে স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনৈতিক হিসাব। আর সেই হিসাবেই জামায়াতে ইসলামি এখন ওয়াশিংটনের আলোচনার টেবিলে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই কূটনৈতিক আলাপে বাংলাদেশের জনগণ নেই, সংসদ নেই, এমনকি নির্বাচিত সরকারও নেই। আছে শুধু “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক”—এই উপনিবেশিক সুরের বক্তব্য। বন্ধুত্ব কিসের বিনিময়ে? নীতির? সার্বভৌমত্বের? না কি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর অদৃশ্য ভেটোর? মার্কিন কূটনীতিক দাবি করেছেন, জামায়াত শরিয়াহ চাপিয়ে দিতে পারবে না—কারণ প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ১০০ শতাংশ শুল্ক বসাবে, পোশাক শিল্প বন্ধ করে দেবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ৪০ লাখ শ্রমিকের রুটি-রুজি হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ‘লিভারেজ’। এটি কি বন্ধুত্ব, না

কি অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল? আরেকটি ভয়ংকর ইঙ্গিত এসেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘিরে। ভারত বহু বছর ধরেই জামায়াতকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক যখন নিজেই টালমাটাল, তখন ওয়াশিংটন স্পষ্টতই দিল্লির উদ্বেগ উপেক্ষা করতেও প্রস্তুত। ফলে বাংলাদেশ পরিণত হচ্ছে মার্কিন-ভারত কৌশলগত দূরত্বের একটি পরীক্ষামঞ্চে। এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান প্রশ্নাতীত নয়। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, কিন্তু একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো পর্দার আড়ালে কার সঙ্গে কথা বলছে, কাকে গ্রহণযোগ্য ভাবছে—সেই তালিকা কি জনগণের সামনে পরিষ্কার? নাকি আবারও আমরা দেখব, নির্বাচন হবে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে বিদেশি দূতাবাসের বৈঠকখানায়? জামায়াত নিজেকে দুর্নীতিবিরোধী, সুশাসনের দল হিসেবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু ইতিহাস কি

এত সহজে মুছে যায়? ১৯৭১, যুদ্ধাপরাধ, নারী অধিকার, সংখ্যালঘু প্রশ্ন—এসব কি শুধুই “ইমেজ সফটেনিং”-এর আড়ালে চাপা দেওয়া যাবে? নাকি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বদলে এসব প্রশ্নকে অস্বস্তিকর বলে এড়িয়ে যাওয়া হবে? বিএনপির ভূমিকাও এখানে ধোঁয়াশাপূর্ণ। একদিকে তারা জামায়াতকে জোটে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে বাস্তব রাজনীতির অঙ্ক বলছে—জামায়াতের শক্ত অবস্থান উপেক্ষা করা সহজ হবে না। ফলে একটি নীতিহীন সমঝোতার রাজনীতি ফের মাথাচাড়া দিতে পারে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট—বাংলাদেশের নির্বাচন এখন শুধু ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; এটি হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, এমনকি চীনের কৌশলগত দৃষ্টি-কেন্দ্র। এই খেলায় সবচেয়ে কম গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ ভোটার, শ্রমিক, সংখ্যালঘু এবং নারীসমাজ। প্রশ্ন একটাই: বাংলাদেশ কি আবারও এমন এক ব্যবস্থায় ঢুকছে, যেখানে জনগণ

শুধু ভোট দেবে, কিন্তু ক্ষমতার রিমোট থাকবে বিদেশে? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আজ না খোঁজা হয়, তাহলে কাল হয়তো উত্তর দেওয়ার সুযোগও থাকবে না।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
২৫ লাখ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ মজুত রয়েছে সৌদি আরবে সুন্দরবনে অস্ত্রের মুখে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা প্রতিদিন ১২০০ জনকে ফেরত পাঠাচ্ছে সৌদি স্কুলে শিশুকে নির্যাতনের মামলায় ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার ভোটের আগেই সিট ভাগ হয়ে গেছে। আর এখন দেশের টাকায় চলছে লোক দেখানো নাটক। বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ৫ দফা দিলেন শেখ হাসিনা মবসন্ত্রাস মাধ্যমে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপনকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও কারা হেফাজতে সিরিয়াল কিলিংয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিবৃতি উন্নয়ন দেখলেই গাত্রদাহ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় ‘অজ্ঞ’ তারেক: ফ্লাইওভার নিয়ে হাস্যকর দাবি ওয়াশিংটনের ‘ম্যানেজেবল ইসলাম’ প্রকল্প: বাংলাদেশের ভোট কি এখন ভূ-রাজনীতির পরীক্ষাগার? ‘ইউনূস এক খুনি ফ্যাসিস্ট’: নির্বাসনে প্রথম জনসমাবেশে শেখ হাসিনার তীব্র ভাষণ নয়াদিল্লি ভারত । বাংলাদেশ এখন ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটে, ইউনূস সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ নয়াদিল্লিতে ড. মোমেন ঢাকার অশান্ত রাজপথ : যে অরাজকতার মূল কারণ বসে আছে যমুনায় লাশের পাহাড় আর কতো উঁচু হলে ইউনুসের চোখে পড়বে? গণতন্ত্র নয়, নির্বাচনের নাটক: বাংলাদেশকে কোন পথে ঠেলে দিচ্ছে এই ভোট? দখলদার ইউনুসের মেটিক্যুলাস ডিজাইনের নির্বাচনের আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে দেশকে জঙ্গিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশকে পুরোপুরি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা। ম্যাজিশিয়ান ইউনুস! যা ধরে, তাই ভ্যানিস হয়ে যায়! এবার ভোটের পালা! নির্বাচন বর্জনই নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাবধান! ভয়াবহ বিনিয়োগ সংকট : অবৈধ ইউনুস সরকারের অধীনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়নামা ইউনুসের গণভোট প্রহসন : সংবিধান ও গণতন্ত্রের সাথে নগ্ন প্রতারণা