ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ছেঁড়া নোট বদলে না দিলে শাস্তি
ফার্নেস তেলের দাম বাড়ল
বৈশাখের আগে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, বাজারে সংকট
তারল্যচাপে অর্থনীতিতে বাড়ছে উদ্বেগ, ৪২ দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ
এলপিজি সিন্ডিকেটের নৈরাজ্য: প্রতিটি ১২ কেজির সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা আদায়
নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ
ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে
এলপিজি সিন্ডিকেট: সরকার নির্ধারিত দাম কেবলই কাগজে-কলমে, বাজারের চিত্র উল্টো
রাতের আঁধারে রান্নার গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় হন্যে হয়ে দোকান খুঁজছিলেন চট্টগ্রামের শুলকবহর এলাকার বাসিন্দা কবির আহমেদ। কয়েক দোকান ঘোরার পর ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার মিলল ঠিকই, কিন্তু দাম শুনে চোখ কপালে ওঠার দশা! সরকারিভাবে নির্ধারিত দাম ১,৭২৮ টাকা হলেও বিক্রেতা চাইলেন ২,০০০ টাকা। নিরুপায় কবির বাড়তি ২৭২ টাকা গুনেই সিলিন্ডার নিয়ে বাড়ি ফিরলেন।
এটি কেবল কবির আহমেদের একার গল্প নয়; পুরো চট্টগ্রামজুড়ে এলপিজি গ্যাসের বাজারে এখন চরম অস্থিরতা।
গত ২রা এপ্রিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন দাম ঘোষণা করলেও সাধারণ মানুষের কপালে সেই স্বস্তি জোটেনি।
বাজার ঘুরে যা দেখা গেল, তার সারসংক্ষেপ
সরকার নির্ধারিত দর ১,৭২৮ টাকা হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার বিক্রি
হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যে ওমেরা: বিক্রি হচ্ছে- ২,১০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ৩৭২ টাকা বেক্সিমকো: বিক্রি হচ্ছে- ২,০৫০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ৩২২ টাকা ইউনিগ্যাস: বিক্রি হচ্ছে- ২,০০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায় ২৭২ টাকা বিএম: বিক্রি হচ্ছে- ১,৯০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ১৭২ টাকা একে অপরের ওপর দায় চাপানোর খেলা বাজারে অতিরিক্ত দামের কারণ খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল এক অদ্ভুত চক্র। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আমদানিকারক—সবাই দায় চাপাচ্ছেন একে অপরের ওপর। ষোলশহরের খুচরা বিক্রেতা আলিফ হোসেনের দাবি, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।” পরিবেশক মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সুমন জানান, জাহাজভাড়া ও আমদানি খরচ বাড়ার অজুহাতে কোম্পানিগুলো থেকেই ১,৮০০ থেকে
১,৯০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এদিকে আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ করছে এবং পরিবেশকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে। ১৮ই এপ্রিল থেকে ধর্মঘটের ডাক চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস-ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আমাদের হিসাব মিলছে না। কোম্পানি থেকে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পেলে ১৮ই এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস স্বল্প বা নির্ধারিত আয়ের মানুষের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানে মাসিক ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করা তানজিল আহমেদের মাসের বাজেটে বাড়তি এই কয়েকশ টাকা বিশাল বড় চাপ। অন্যদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন
অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, সবাই একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল কতটুকু মিলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কতদিন সাধারণ মানুষকে এই ‘গ্যাস-যন্ত্রণায়’ ভুগতে হবে, তার উত্তর কারো জানা নেই।
হচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যে ওমেরা: বিক্রি হচ্ছে- ২,১০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ৩৭২ টাকা বেক্সিমকো: বিক্রি হচ্ছে- ২,০৫০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ৩২২ টাকা ইউনিগ্যাস: বিক্রি হচ্ছে- ২,০০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায় ২৭২ টাকা বিএম: বিক্রি হচ্ছে- ১,৯০০ টাকায় | অতিরিক্ত আদায়, ১৭২ টাকা একে অপরের ওপর দায় চাপানোর খেলা বাজারে অতিরিক্ত দামের কারণ খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেল এক অদ্ভুত চক্র। খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে আমদানিকারক—সবাই দায় চাপাচ্ছেন একে অপরের ওপর। ষোলশহরের খুচরা বিক্রেতা আলিফ হোসেনের দাবি, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াচ্ছি না। পরিবেশকের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।” পরিবেশক মেসার্স সুমন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সুমন জানান, জাহাজভাড়া ও আমদানি খরচ বাড়ার অজুহাতে কোম্পানিগুলো থেকেই ১,৮০০ থেকে
১,৯০০ টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এদিকে আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ করছে এবং পরিবেশকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে। ১৮ই এপ্রিল থেকে ধর্মঘটের ডাক চট্টগ্রাম মহানগর এলপি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরস-ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: “আমাদের হিসাব মিলছে না। কোম্পানি থেকে নির্ধারিত দামে গ্যাস না পেলে ১৮ই এপ্রিল থেকে চট্টগ্রামে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস স্বল্প বা নির্ধারিত আয়ের মানুষের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানে মাসিক ২৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করা তানজিল আহমেদের মাসের বাজেটে বাড়তি এই কয়েকশ টাকা বিশাল বড় চাপ। অন্যদিকে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন
অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, সবাই একে অপরের দিকে দায় ঠেলে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তার সুফল কতটুকু মিলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কতদিন সাধারণ মানুষকে এই ‘গ্যাস-যন্ত্রণায়’ ভুগতে হবে, তার উত্তর কারো জানা নেই।



