ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সংসদে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে: রুমিন ফারহানা
মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্ত চিন্ময়
ফারাক্কার ১০৯ গেটই খোলা, বন্যার আভাস
‘তদন্ত চাইলেও মেলেনি সাড়া’— ডব্লিউএইচও’র প্রতি ক্ষোভ ও অনাস্থা জানিয়ে পুতুলের চিঠি
ডব্লিউএইচও’র উপর অনাস্থা’র অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল
বান্দরবানে চায়ের দোকান থেকে প্রধান শিক্ষক অপহরণ করে অস্ত্রের মুখে নদীপথে নিয়ে গেল দুর্বৃত্তরা
সার সংকট নিয়ে উদ্বেগ সংসদে
“এক দেশের উপর হামলা মানেই তিন দেশের উপর হামলা”: সৌদিতে হুতিদের হামলায় শুধুই সমবেদনা ‘মক্কা জোট’ মিত্রদের
২০২৬ সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় তুরষ্ক ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল সৌদি আরব। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল কথা ছিল—তিন দেশের যেকোনো একটির উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের উপরেই হামলা হিসেবে গণ্য হবে, অনেকটা ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভের ধাঁচে। বিশ্লেষকরা তখন একে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা-কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিনের মাথায়, ৯ আগস্ট, সেই অঙ্গীকারের বাস্তব পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিজানে আরামকোর একটি তেল
শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়, যাতে আগুন ধরে যায়। হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি একে সৌদি বিমান হামলার প্রতিশোধ বলে দাবি করেন। এরপর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডে একাধিকবার হুতি হামলার ঘটনা ঘটেছে—নাজরান প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার মধ্যে, যেখানে সৌদি, ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকরাও ছিলেন। অথচ মক্কা চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর তুরষ্ক ও পাকিস্তান কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া তো দূরের কথা, তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতিও দেয়নি। পরবর্তীতে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ হুতিদের হামলাকে “কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যায়িত করেন তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা নিরীহ
মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু এই নিন্দা-বিবৃতির বাইরে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ বা সহযোগিতার ঘোষণা আসেনি। তুরষ্কের পক্ষ থেকেও এ পর্যন্ত মূলত কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যেই প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ থেকেছে। তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অবশ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সদস্যরা প্রথমে পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করবে, তারপর সহায়তার ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করবে—এটি ন্যাটোর ব্যবস্থার সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তিনি জানান। রিয়াদে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয়ও ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান থেকে। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে জোটের বাস্তব কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি আরব নিজেই তার নতুন মিত্রদের কাছ থেকে সাহায্য চায়নি—সম্ভবত এই কারণে যে তারা হুতি হুমকিকে ততটা গুরুতর মনে করেনি। অন্যদিকে ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের একটি প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের ভিন্ন ভিন্ন হুমকি-দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরানের সঙ্গে তুরষ্ক ও পাকিস্তানের জটিল সম্পর্কের কারণে এই জোট কতটা ঘনিষ্ঠ সামরিক মৈত্রীতে রূপ নেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলকথা হলো, মক্কা চুক্তির পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে শুরু হওয়া হুতি হামলাগুলো জোটের জন্য এক ধরনের বাস্তব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে চুক্তির ভাষায় “এক দেশের উপর হামলা মানেই তিন দেশের উপর হামলা” বলে ঘোষণা দেওয়া
হয়েছিল, সেখানে এখন পর্যন্ত বাস্তবে দেখা গেছে মূলত নিন্দা ও সমবেদনামূলক বিবৃতি—কোনো যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়। জোটের প্রকৃত পরীক্ষা এখনো ভবিষ্যতের গর্ভে, এমন মন্তব্যই করছেন অনেক আঞ্চলিক বিশ্লেষক।
শোধনাগার লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়, যাতে আগুন ধরে যায়। হুতি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি একে সৌদি বিমান হামলার প্রতিশোধ বলে দাবি করেন। এরপর থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি ভূখণ্ডে একাধিকবার হুতি হামলার ঘটনা ঘটেছে—নাজরান প্রদেশে বেসামরিক নাগরিকদের আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে তার মধ্যে, যেখানে সৌদি, ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিকরাও ছিলেন। অথচ মক্কা চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা কার্যকর হতে দেখা যায়নি। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর তুরষ্ক ও পাকিস্তান কোনো সামরিক প্রতিক্রিয়া তো দূরের কথা, তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতিও দেয়নি। পরবর্তীতে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ হুতিদের হামলাকে “কাপুরুষোচিত” বলে আখ্যায়িত করেন তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা নিরীহ
মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক শান্তি-নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু এই নিন্দা-বিবৃতির বাইরে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ বা সহযোগিতার ঘোষণা আসেনি। তুরষ্কের পক্ষ থেকেও এ পর্যন্ত মূলত কূটনৈতিক বিবৃতির মধ্যেই প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ থেকেছে। তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান অবশ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে বাকি সদস্যরা প্রথমে পরস্পরের সঙ্গে পরামর্শ করবে, তারপর সহায়তার ধরন ও মাত্রা নির্ধারণ করবে—এটি ন্যাটোর ব্যবস্থার সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ বলে তিনি জানান। রিয়াদে জোটের একটি স্থায়ী সচিবালয়ও ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তান থেকে। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, হুতি হামলার প্রেক্ষাপটে জোটের বাস্তব কার্যকারিতা এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।
কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি আরব নিজেই তার নতুন মিত্রদের কাছ থেকে সাহায্য চায়নি—সম্ভবত এই কারণে যে তারা হুতি হুমকিকে ততটা গুরুতর মনে করেনি। অন্যদিকে ইসরায়েল ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের একটি প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে, তিন দেশের ভিন্ন ভিন্ন হুমকি-দৃষ্টিভঙ্গি, নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ইরানের সঙ্গে তুরষ্ক ও পাকিস্তানের জটিল সম্পর্কের কারণে এই জোট কতটা ঘনিষ্ঠ সামরিক মৈত্রীতে রূপ নেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। মূলকথা হলো, মক্কা চুক্তির পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে শুরু হওয়া হুতি হামলাগুলো জোটের জন্য এক ধরনের বাস্তব পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে চুক্তির ভাষায় “এক দেশের উপর হামলা মানেই তিন দেশের উপর হামলা” বলে ঘোষণা দেওয়া
হয়েছিল, সেখানে এখন পর্যন্ত বাস্তবে দেখা গেছে মূলত নিন্দা ও সমবেদনামূলক বিবৃতি—কোনো যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়। জোটের প্রকৃত পরীক্ষা এখনো ভবিষ্যতের গর্ভে, এমন মন্তব্যই করছেন অনেক আঞ্চলিক বিশ্লেষক।



