উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত

“রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল

‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি

স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ

উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
গত দেড় দশকে দেশের ঋণের বোঝা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীরা প্রায়ই বিগত সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র অভিযোগ তুলতেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৭ মাসেই তার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে ঋণ নিয়েছে। মাত্র ১৭ মাসে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। অথচ এই বিপুল ঋণের বিপরীতে দেশে দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো যুক্ত হয়নি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ঋণের বিপরীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দৃশ্যমান

অবকাঠামো ছিল, যা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঋণের নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটলেও উন্নয়ন ব্যয় স্থবির, যা অর্থনীতির জন্য বড় অশনিসংকেত। হাসিনার ১৫ বছর: ঋণের টাকায় দৃশ্যমান অবকাঠামো ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১৫ বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত সরকার ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মাস হিসেবে এই অংক দাঁড়ায় গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি

টাকা। এই ঋণের টাকায় নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প। শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও ফোর-লেন মহাসড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা ঋণের ‘ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট’ বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন। ১৭ মাসেই ৪ বছরের সমান ঋণ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের (২০২৪) আগস্ট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে ঋণ নেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে সরকার ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ঋণ নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, শেখ হাসিনা

সরকার যেখানে বছরে গড়ে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিত, সেখানে বর্তমান সরকার মাত্র ১৭ মাসেই ৪ বছরের বেশি সময়ের সমপরিমাণ ঋণ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের মাসিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা বিগত সরকারের মাসিক গড়ের (৮,৮০০ কোটি) তিন গুণেরও কাছাকাছি। প্রশ্ন এখন ব্যয়ের খাত নিয়ে বিপুল এই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিগত সরকারের সময় ঋণের টাকায় ইট-পাথরের দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি চলমান প্রকল্পগুলোর গতিও অত্যন্ত মন্থর। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায় ও সুদ

পরিশোধে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধু দায় পরিশোধের কথা বলে ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মেলানো কঠিন। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধীরগতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেই দেদারসে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক এক কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘হাসিনা সরকারের ঋণ ছিল সম্পদ সৃষ্টির জন্য। আর এখনকার ঋণ মনে হচ্ছে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য। কোনো প্রকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ছাড়া ঋণের এই বোঝা আগামী দিনে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।’ একনজরে তুলনামূলক চিত্র শেখ হাসিনা সরকার (১৫ বছর): মোট ঋণ বৃদ্ধি: ১৬ লাখ

কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ৮,৮০০ কোটি টাকা ফলাফল: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ মেগা অবকাঠামো। বর্তমান সরকার (১৭ মাস): মোট ঋণ গ্রহণ: ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ২৬,৪৭০ কোটি টাকা ফলাফল: দৃশ্যমান কোনো নতুন প্রকল্প নেই; উন্নয়ন ব্যয় স্থবির।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত বিএনপি ও জামায়াত ভেতরে ভেতরে এক, মাঠে তারা কৃত্রিম দ্বন্দ্ব দেখাচ্ছে।” শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মহাসচিব, জাতীয় পার্টি। “রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: মুক্তিকামী জনতার একচ্ছত্র কমান্ড ও স্বাধীনতার পদধ্বনি রাজারবাগ ও পিলখানা—প্রথম প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ও রক্তক্ষয়ী রাত শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে তৈরি সেই পাইপলাইনই এখন বিএনপির ভরসা বাংলাদেশ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?: ‘৭১ এর ঘাতক, ২০২৬ এর শহীদ! চুকনগর গণহত্যা ১৯৭১ঃ ৪ ঘন্টায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা আরও কমলো স্বর্ণের দাম