ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শরীয়তপুরে মিরপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির বাড়িতে হামলা, বৃদ্ধ বাবাসহ আহত একাধিক
সংস্কার নিয়ে আমি হতাশ: মাসদার হোসেন
‘বিনা অপরাধে ১৬ মাস কারাগারে বন্দি আমার স্বামী’: মুক্তির দাবিতে ব্যারিস্টার সুমনের স্ত্রীর আবেগঘন বার্তা
‘বাটোয়ারার নির্বাচন মেনে নিয়ে বিরোধিতার নাটক বন্ধ করেন’: মাহফুজ আলম
বাংলাদেশের ১৩ তম সংসদীয় নির্বাচন সম্পর্কে ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক ডায়লগের (ISD) বিবৃতি
ফ্যাসিস্ট ইউনূসের নির্বাচন নাটকঃ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ভর্তি বাক্স অরক্ষিত; উধাও প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্ট
জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি
উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায়
গত দেড় দশকে দেশের ঋণের বোঝা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীরা প্রায়ই বিগত সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র অভিযোগ তুলতেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৭ মাসেই তার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে ঋণ নিয়েছে। মাত্র ১৭ মাসে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। অথচ এই বিপুল ঋণের বিপরীতে দেশে দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো যুক্ত হয়নি।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ঋণের বিপরীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দৃশ্যমান
অবকাঠামো ছিল, যা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঋণের নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটলেও উন্নয়ন ব্যয় স্থবির, যা অর্থনীতির জন্য বড় অশনিসংকেত। হাসিনার ১৫ বছর: ঋণের টাকায় দৃশ্যমান অবকাঠামো ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১৫ বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত সরকার ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মাস হিসেবে এই অংক দাঁড়ায় গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি
টাকা। এই ঋণের টাকায় নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প। শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও ফোর-লেন মহাসড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা ঋণের ‘ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট’ বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন। ১৭ মাসেই ৪ বছরের সমান ঋণ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের (২০২৪) আগস্ট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে ঋণ নেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে সরকার ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ঋণ নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, শেখ হাসিনা
সরকার যেখানে বছরে গড়ে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিত, সেখানে বর্তমান সরকার মাত্র ১৭ মাসেই ৪ বছরের বেশি সময়ের সমপরিমাণ ঋণ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের মাসিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা বিগত সরকারের মাসিক গড়ের (৮,৮০০ কোটি) তিন গুণেরও কাছাকাছি। প্রশ্ন এখন ব্যয়ের খাত নিয়ে বিপুল এই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিগত সরকারের সময় ঋণের টাকায় ইট-পাথরের দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি চলমান প্রকল্পগুলোর গতিও অত্যন্ত মন্থর। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায় ও সুদ
পরিশোধে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধু দায় পরিশোধের কথা বলে ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মেলানো কঠিন। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধীরগতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেই দেদারসে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক এক কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘হাসিনা সরকারের ঋণ ছিল সম্পদ সৃষ্টির জন্য। আর এখনকার ঋণ মনে হচ্ছে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য। কোনো প্রকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ছাড়া ঋণের এই বোঝা আগামী দিনে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।’ একনজরে তুলনামূলক চিত্র শেখ হাসিনা সরকার (১৫ বছর): মোট ঋণ বৃদ্ধি: ১৬ লাখ
কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ৮,৮০০ কোটি টাকা ফলাফল: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ মেগা অবকাঠামো। বর্তমান সরকার (১৭ মাস): মোট ঋণ গ্রহণ: ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ২৬,৪৭০ কোটি টাকা ফলাফল: দৃশ্যমান কোনো নতুন প্রকল্প নেই; উন্নয়ন ব্যয় স্থবির।
অবকাঠামো ছিল, যা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঋণের নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটলেও উন্নয়ন ব্যয় স্থবির, যা অর্থনীতির জন্য বড় অশনিসংকেত। হাসিনার ১৫ বছর: ঋণের টাকায় দৃশ্যমান অবকাঠামো ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১৫ বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত সরকার ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মাস হিসেবে এই অংক দাঁড়ায় গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি
টাকা। এই ঋণের টাকায় নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প। শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও ফোর-লেন মহাসড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা ঋণের ‘ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট’ বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন। ১৭ মাসেই ৪ বছরের সমান ঋণ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের (২০২৪) আগস্ট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে ঋণ নেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে সরকার ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ঋণ নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, শেখ হাসিনা
সরকার যেখানে বছরে গড়ে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিত, সেখানে বর্তমান সরকার মাত্র ১৭ মাসেই ৪ বছরের বেশি সময়ের সমপরিমাণ ঋণ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের মাসিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা বিগত সরকারের মাসিক গড়ের (৮,৮০০ কোটি) তিন গুণেরও কাছাকাছি। প্রশ্ন এখন ব্যয়ের খাত নিয়ে বিপুল এই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিগত সরকারের সময় ঋণের টাকায় ইট-পাথরের দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি চলমান প্রকল্পগুলোর গতিও অত্যন্ত মন্থর। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায় ও সুদ
পরিশোধে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধু দায় পরিশোধের কথা বলে ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মেলানো কঠিন। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধীরগতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেই দেদারসে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক এক কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘হাসিনা সরকারের ঋণ ছিল সম্পদ সৃষ্টির জন্য। আর এখনকার ঋণ মনে হচ্ছে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য। কোনো প্রকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ছাড়া ঋণের এই বোঝা আগামী দিনে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।’ একনজরে তুলনামূলক চিত্র শেখ হাসিনা সরকার (১৫ বছর): মোট ঋণ বৃদ্ধি: ১৬ লাখ
কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ৮,৮০০ কোটি টাকা ফলাফল: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ মেগা অবকাঠামো। বর্তমান সরকার (১৭ মাস): মোট ঋণ গ্রহণ: ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ২৬,৪৭০ কোটি টাকা ফলাফল: দৃশ্যমান কোনো নতুন প্রকল্প নেই; উন্নয়ন ব্যয় স্থবির।



