উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

উন্নয়ন নেই, ঋণের রেকর্ড: ১৭ মাসেই সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার দায়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
গত দেড় দশকে দেশের ঋণের বোঝা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। বিরোধীরা প্রায়ই বিগত সরকারের বিরুদ্ধে ‘ঋণ করে ঘি খাওয়া’র অভিযোগ তুলতেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা। শেখ হাসিনা সরকারের টানা ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর যে পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৭ মাসেই তার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিতে ঋণ নিয়েছে। মাত্র ১৭ মাসে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকা। অথচ এই বিপুল ঋণের বিপরীতে দেশে দৃশ্যমান কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প বা অবকাঠামো যুক্ত হয়নি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ঋণের বিপরীতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও দৃশ্যমান

অবকাঠামো ছিল, যা অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে ঋণের নজিরবিহীন উল্লম্ফন ঘটলেও উন্নয়ন ব্যয় স্থবির, যা অর্থনীতির জন্য বড় অশনিসংকেত। হাসিনার ১৫ বছর: ঋণের টাকায় দৃশ্যমান অবকাঠামো ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশের মোট ঋণের স্থিতি ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, ১৫ বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৬ লাখ কোটি টাকা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিগত সরকার ১৫ বছরে গড়ে প্রতিবছর ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মাস হিসেবে এই অংক দাঁড়ায় গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কোটি

টাকা। এই ঋণের টাকায় নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল (এমআরটি-৬), কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো মেগা প্রকল্প। শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও ফোর-লেন মহাসড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে অর্থনীতিবিদরা ঋণের ‘ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট’ বা উৎপাদনশীল বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছেন। ১৭ মাসেই ৪ বছরের সমান ঋণ অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঋণের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। গত বছরের (২০২৪) আগস্ট থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত—এই ১৭ মাসে ঋণ নেওয়ার হার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে সরকার ব্যাংক ও বিদেশি উৎস থেকে মোট ঋণ নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, শেখ হাসিনা

সরকার যেখানে বছরে গড়ে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিত, সেখানে বর্তমান সরকার মাত্র ১৭ মাসেই ৪ বছরের বেশি সময়ের সমপরিমাণ ঋণ নিয়েছে। বর্তমান সরকারের মাসিক গড় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা, যা বিগত সরকারের মাসিক গড়ের (৮,৮০০ কোটি) তিন গুণেরও কাছাকাছি। প্রশ্ন এখন ব্যয়ের খাত নিয়ে বিপুল এই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। বিগত সরকারের সময় ঋণের টাকায় ইট-পাথরের দৃশ্যমান উন্নয়ন হলেও গত দেড় বছরে নতুন কোনো বড় প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। এমনকি চলমান প্রকল্পগুলোর গতিও অত্যন্ত মন্থর। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দায় ও সুদ

পরিশোধে এই অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, শুধু দায় পরিশোধের কথা বলে ঋণের এই বিশাল অঙ্ক মেলানো কঠিন। তাদের মতে, রাজস্ব আদায়ে নজিরবিহীন ধীরগতি, প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং সরকারের দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতেই দেদারসে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক এক কর্মকর্তা আজকের কন্ঠকে বলেন, ‘হাসিনা সরকারের ঋণ ছিল সম্পদ সৃষ্টির জন্য। আর এখনকার ঋণ মনে হচ্ছে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য। কোনো প্রকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ছাড়া ঋণের এই বোঝা আগামী দিনে অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।’ একনজরে তুলনামূলক চিত্র শেখ হাসিনা সরকার (১৫ বছর): মোট ঋণ বৃদ্ধি: ১৬ লাখ

কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ৮,৮০০ কোটি টাকা ফলাফল: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, টানেলসহ মেগা অবকাঠামো। বর্তমান সরকার (১৭ মাস): মোট ঋণ গ্রহণ: ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা মাসিক গড় ঋণ: ২৬,৪৭০ কোটি টাকা ফলাফল: দৃশ্যমান কোনো নতুন প্রকল্প নেই; উন্নয়ন ব্যয় স্থবির।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বৈশাখী সাজে সাত ছবিতে চমক ইরানের দাবি- জব্দ অর্থ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকার ওয়াশিংটনের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ১০ দফা, কী চাইছে তেহরান শাহবাজ শরিফ ও জেডি ভ্যান্স বৈঠকে বসেছেন ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিলে চুক্তির জন্য প্রস্তুত তেহরান কোন কোন বিষয়ে আলোচনা, ফলাফল কী হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক আলোচনা ইসলামাবাদে শুরুর অপেক্ষা ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না: ট্রাম্প চাঁদে অভিযান শেষ করে পৃথিবীতে ফিরলেন আর্টেমিস-২-এর নভোচারীরা সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেমে দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদক ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু পিএসএল শেষ পারভেজ ইমনের, দেশে ফিরছেন আজই ঠাকুরগাঁও বার নির্বাচনে আ’লীগ পন্থী প্রার্থীদের বড় চমক ঐতিহাসিক ১০ এপ্রিল: একাত্তরের এ দিনে গঠিত হয়েছিল মুজিবনগর সরকার চাঁদপুর ও মাদারীপুরে মিড ডে মিলের নিম্নমানের খাবারে প্রাথমিক শিশুরা অসুস্থ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মাখামাখির ফল: বাংলাদেশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার জাহাজকে হরমুজ পেরোনোর অনুমতি দেয়নি ইরান নিত্যপণ্যের বাজার লাগামহীন: বিপাকে সাধারণ মানুষ, প্রকাশ্যেই ঝাড়ছেন ক্ষোভ ড. মামুনুর রশীদ: জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামবে ২.৮%-তে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নতুন নিয়ন্ত্রণ নীতি ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ অ্যাটলেটিকোর কাছে হারের পর উয়েফার কাছে বার্সেলোনার নালিশ