আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আরও খবর

বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার?

কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার!

অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত

“রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল

‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি

স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ

আরেকটি কারামৃত্যু: বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে ‘খুন’ হলেন আ.লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ |
আদালতের নথিতে তিনি ‘জামিনপ্রাপ্ত’, কিন্তু বাস্তবতায় তিনি এখন ‘লাশ’। গত এক সপ্তাহে মেহেরপুরের রাজনীতির মাঠে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে নাটকীয়তা আর নিষ্ঠুরতার প্রদর্শনী চলেছে, তার চূড়ান্ত যবনিকা পতন হলো একটি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা (৬০) আর নেই। গত শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১১টায় খুলনা কয়েদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। কিন্তু এই মৃত্যুকে কেবল ‘হৃদরোগ’ বা ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ বলে মেনে নিতে নারাজ তার পরিবার ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এটি স্পষ্টত ‘পরিকল্পিত অবহেলা ও কাঠামোগত হত্যা’। জামিন যখন মৃত্যুফাঁদ: জেলগেটের ‘কালো আইন’ অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম মোস্তফা গত সপ্তাহেই

আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ায় তার বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু মুক্তির ঠিক আগমুহূর্তে জেলগেট থেকে তাকে আবারও নাশকতার ‘মিথ্যা’ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনজীবীদের মতে, একজন অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিকে জামিন পাওয়ার পর জেলগেট থেকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো বর্তমানে বিরোধী মত দমনের একটি ‘মোক্ষম হাতিয়ার’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, ৬০ বছর বয়সী একজন অসুস্থ মানুষ, যিনি জেল থেকে বের হওয়ার শক্তিটুকুও পাচ্ছিলেন না, তাকে ‘অগ্নিসন্ত্রাসী’ সাজিয়ে পুনরায় আটক করা কি শুধুই পুলিশি তৎপরতা, নাকি তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার ওপর মহলের নির্দেশ? চিকিৎসা নাকি কালক্ষেপণ? রহস্যজনক ২১ ঘণ্টা গোলাম মোস্তফার অসুস্থতা ও মৃত্যুর সময়রেখা বিশ্লেষণ করলে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার

চিত্র ফুটে ওঠে: ২৩ জানুয়ারি: মেহেরপুর জেলা কারাগারে তিনি তীব্র অসুস্থতা বোধ করেন। প্রথমে তাকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবনতি ও স্থানান্তর: চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে খুলনায় রেফার করেন। মেহেরপুর থেকে খুলনার দীর্ঘ পথ একজন মুমূর্ষু হৃদরোগীর জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২৪ জানুয়ারি, রাত ১১টা: খুলনা কয়েদী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। ২৫ জানুয়ারি, ভোররাত: পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। প্রশ্ন উঠছে, ২৪ তারিখ রাতে মারা যাওয়ার পর পরিবারকে জানাতে কেন ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করা হলো? এই দীর্ঘ সময় কি মৃত্যুর কারণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল? নাকি লাশের সুরতহাল নিয়ে কোনো জটিলতা ছিল? কারা কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা

সন্দেহের দানা বাঁধছে। ২০০ লাশের মিছিল ও ভয়ের সংস্কৃতি গোলাম মোস্তফার মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে সারাদেশে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী কারাগারে মারা গেছেন। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দেওয়া, মানসিক নির্যাতন এবং জামিন অযোগ্য মামলা দিয়ে আটক রাখা—এগুলো ‘কাস্টোডিয়াল টর্চার’ বা হেফাজতে নির্যাতনের শামিল। গোলাম মোস্তফা সেই দীর্ঘ তালিকার সর্বশেষ শিকার। রাষ্ট্র কি তবে কারাগারগুলোকে ‘সংশোধনাগার’ থেকে ‘মৃত্যুপুরীতে’ রূপান্তর করেছে? পারিবারিক আর্তনাদ ও মহাজনপুরবাসীর ক্ষোভ শনিবার বিকেলে মহাজনপুরে যখন গোলাম মোস্তফার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, তখন পুরো এলাকায় শোকের চেয়ে ক্ষোভের আগুন ছিল বেশি। নিহতের পিতা ছয়তুল্লাহ মন্ডলসহ স্বজনদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। পরিবারের

পক্ষ থেকে বারবার একটি প্রশ্নই ফিরে আসছে: “এখন কি মোস্তফা ভাই জামিন পাবেন? নাকি এখনো সন্দেহ আছে মৃত মানুষ জীবিত হয়ে কোন অগ্নিসন্ত্রাস করবে?” রাষ্ট্রের কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। আছে কেবল ক্ষমতার দম্ভ আর বিরোধী দমনের নিষ্ঠুর কৌশল। উপসংহার গোলাম মোস্তফার মৃত্যু আবারও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, নাগরিক অধিকার আজ কতটা বিপন্ন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একজন নাগরিককে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না। এই মৃত্যুর দায় কি শুধুই কারা কর্তৃপক্ষের, নাকি সেই রাজনৈতিক প্রভুদের—যারা পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভিন্নমতকে কবরে পাঠাতে বদ্ধপরিকর? মহাজনপুরবাসীর দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যদিও তারা জানেন, বিচারহীনতার

এই সংস্কৃতিতে লাশের সংখ্যা বাড়লেও বিচারের বাণী নিভৃতেই কাঁদবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাংলাদেশের জ্বালানী নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার? How Long Will People Remain Imprisoned Without Trial? কোহিনূর মিয়ার প্রত্যাবর্তন এবং ‘নারীবান্ধব’ বিএনপি সরকারের নারীবান্ধব পুরস্কার! বিএনপির চাঁদাবাজ সন্ত্রাসে আবারও রক্তাক্ত সংখ্যালঘু পরিবার—যশোরে চাঁদা না দেওয়ায় গৃহবধূকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম! The International Crimes Tribunal Has Turned into a Machine for Illicit Money অপারেশন ক্লিনহার্ট ২.০: মব সন্ত্রাস থামবে, নাকি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে? স্বাধীনতার মাসে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব, সংসদ কলুষিত করল বিএনপি-জামায়াত বিএনপি ও জামায়াত ভেতরে ভেতরে এক, মাঠে তারা কৃত্রিম দ্বন্দ্ব দেখাচ্ছে।” শামীম হায়দার পাটোয়ারী, মহাসচিব, জাতীয় পার্টি। “রাজনীতি ভদ্রলোকদের খেলা, স্কাউন্ড্রেলদের নয়” – মাহবুব কামাল ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’: ফাঁস হওয়া ফোনালাপে টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে বিএনপি নেতার চরম হুমকি স্বাধীনতার বজ্রঘোষণায় পাকিস্তানিদের গণহত্যা ভেদ করেই জেগে ওঠে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি জাতি: মুক্তিকামী জনতার একচ্ছত্র কমান্ড ও স্বাধীনতার পদধ্বনি রাজারবাগ ও পিলখানা—প্রথম প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ও রক্তক্ষয়ী রাত শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে তৈরি সেই পাইপলাইনই এখন বিএনপির ভরসা বাংলাদেশ, তুমি কোথায় যাচ্ছ?: ‘৭১ এর ঘাতক, ২০২৬ এর শহীদ! চুকনগর গণহত্যা ১৯৭১ঃ ৪ ঘন্টায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ইরান যুদ্ধে অংশ নিতে রওনা দিয়েছে ২,৫০০ মার্কিন স্থলসেনা ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোজতবা খামেনিকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা আরও কমলো স্বর্ণের দাম