অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু
নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে চালু হয়েছে ‘ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (এনইআইআর) কার্যক্রম। এই ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অবৈধ হ্যান্ডসেট বন্ধের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। এর প্রতিবাদে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে মোবাইল ফোনের দাম কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদিত ফোনের যন্ত্রাংশ ও আমদানি করা মোবাইল ফোনে শুল্ক ছাড় দিয়েছে সরকার।
সূত্র জানিয়েছে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল থেকে এনইআইআর চালু হয়েছে। এখন নেটওয়ার্কে নতুন ফোন যুক্ত হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিটিআরসির সার্ভারে ঢুকে যাবে। ফোনটি অবৈধ হলে গ্রাহকের কাছে সিগন্যাল যাবে। তিন মাসের মধ্যে এটিকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। নতুবা তা
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা যেসব ফোনের আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) তালিকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সচল থাকবে। শুধু ১ জানুয়ারি থেকে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ফোনগুলোই এনইআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে আসার সময় নিজেদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন। এই ফোনগুলো নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এই সময়জুড়ে ফোনগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। পাসপোর্ট বা
ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে এনইআইআর পোর্টালে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ এবং মোবাইল ফোন বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি) এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কলরেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। গত ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল। কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কারণে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি করা হয়। এ ছাড়া ইতোমধ্যে আমদানি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম কমতে
পারে গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের সভায় মোবাইল ফোনের শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমানো হয়েছে। আগে ছিল ২৫ শতাংশ; এখন দিতে হবে ১০ শতাংশ। এর ফলে সরাসরি মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ হবে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। মোবাইল ফোন সংযোজনকারীদের সুবিধা দিয়ে যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, যারা এখানে মোবাইল ফোন তৈরি করেন, তাদের জন্য শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে এখন ১২ দশমিক ২০
শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হবে, আগে যা ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ। শফিকুল আলম বলেন, শুল্ক ছাড়ের কারণে প্রাথমিক ধাক্কা হিসেবে সরকারের ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কমবে। হামলা-ভাঙচুর এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিপুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, তারা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে, ইটপাটকেল ছুড়েছে। তিন মাস ধরে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা নানাভাবে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসির সামনে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা ভবনে ইটপাটকেল
ও পাথর ছোড়েন। এতে ভবনটির সামনের অংশের জানালার কাচ ভেঙে যায়। তারা ভবনের নিচতলায়ও ভাঙচুর চালান। বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর বিষয়ে জোরালো তাগিদ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সরকার ব্যবসায়ীদের সব বৈধ ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। এর পরও যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিটিআরসি। কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে নেটওয়ার্কে সচল থাকা অনুমোদিত বা অননুমোদিত কোনো হ্যান্ডসেটই বন্ধ করা হবে না। এমনকি ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা যেসব ফোনের আইএমইআই (শনাক্তকরণ নম্বর) তালিকা ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বিটিআরসিতে জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও সচল থাকবে। শুধু ১ জানুয়ারি থেকে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নতুন ফোনগুলোই এনইআইআর প্রক্রিয়ার আওতায় আসবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে আসার সময় নিজেদের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি দুটি নতুন হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন। এই ফোনগুলো নিবন্ধনের জন্য তারা তিন মাস সময় পাবেন। এই সময়জুড়ে ফোনগুলো নেটওয়ার্কে সচল থাকবে। পাসপোর্ট বা
ভ্রমণসংক্রান্ত নথিপত্র ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে এনইআইআর পোর্টালে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যাবে। বিটিআরসি বলছে, অবৈধ হ্যান্ডসেট রোধ এবং মোবাইল ফোন বাজারের বিশৃঙ্খলা দূর করতেই এনইআইআর চালু করা হয়েছে। কারিগরিভাবে এনইআইআর মূলত আইএমইআই, সিম নম্বর ও আইএমএসআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি) এই তিনটি বিষয় যাচাই করে নেটওয়ার্ক সচল রাখে। এটি কোনো কলরেকর্ড করে না, মেসেজ পড়ে না কিংবা ইন্টারনেট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে না। গত ১৬ ডিসেম্বর এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল। কিন্তু মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের কারণে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি করা হয়। এ ছাড়া ইতোমধ্যে আমদানি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিক্রির সুযোগ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম কমতে
পারে গতকাল উপদেষ্টা পরিষদের সভায় মোবাইল ফোনের শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়। পরে এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি কমানো হয়েছে। আগে ছিল ২৫ শতাংশ; এখন দিতে হবে ১০ শতাংশ। এর ফলে সরাসরি মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ হবে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে, যা আগে ছিল ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। মোবাইল ফোন সংযোজনকারীদের সুবিধা দিয়ে যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্কেও ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রেস সচিব বলেন, যারা এখানে মোবাইল ফোন তৈরি করেন, তাদের জন্য শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে এখন ১২ দশমিক ২০
শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হবে, আগে যা ছিল ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ। শফিকুল আলম বলেন, শুল্ক ছাড়ের কারণে প্রাথমিক ধাক্কা হিসেবে সরকারের ৩০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কমবে। হামলা-ভাঙচুর এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসারসহ বিপুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, তারা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে, ইটপাটকেল ছুড়েছে। তিন মাস ধরে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা নানাভাবে এনইআইআর পদ্ধতি চালুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেল ৩টা থেকে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসির সামনে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা ভবনে ইটপাটকেল
ও পাথর ছোড়েন। এতে ভবনটির সামনের অংশের জানালার কাচ ভেঙে যায়। তারা ভবনের নিচতলায়ও ভাঙচুর চালান। বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, হামলায় ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তের ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া গেছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর বিষয়ে জোরালো তাগিদ রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, সরকার ব্যবসায়ীদের সব বৈধ ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। এর পরও যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।



