সেহরি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬

সেহরি থেকে তুলে নিয়ে মারধর, জঙ্গিদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ মার্চ, ২০২৬ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস কি জঙ্গিদের আখড়া ও ‘মব জাস্টিস’-এর অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে? গত কয়েকদিনের নৃশংস ঘটনাপ্রবাহ সেই প্রশ্নই বড় করে তুলছে। তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেহরি খাওয়ার সময় এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আধমরা করা এবং ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারকে কেন্দ্র করে নারী নেত্রীসহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতাকে চরম সংকটে ফেলেছে। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেল ভোররাতে সেহরি খেতে বসলে তাকে ঘিরে ধরে একদল যুবক। প্রত্যক্ষদর্শী ও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, ছাত্রশিবির, জামায়াত-সংশ্লিষ্ট বা ‘ছাত্রশক্তি’ ব্যানারধারী কিছু উগ্রপন্থী শিক্ষার্থী তাকে ‘মব ট্রায়াল’-এর মাধ্যমে নির্মমভাবে পেটাতে থাকে। পাভেলের অপরাধ ছিল—তিনি ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আপলোড করেছিলেন। গুরুতর আহত ও অর্ধমৃত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানার সামনে ফেলে রাখা হয়। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ভাইরাল হওয়া ছবি ও ভিডিওতে পাভেলের শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলো ক্যাম্পাসে আদর্শিক প্রতিহিংসার বীভৎস রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। ৭ মার্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গতকাল শাহবাগ থানার সামনে আরেক দফা সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আসিফ আহমেদ সৈকত আটক হওয়ার প্রতিবাদে ইমি ও আব্দুল্লাহ আল মামুন রিকশায় মাইক বেঁধে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি পালন করতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ও ডাকসুর সাবেক কিছু নেতার (এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক ইবনে আলী) নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ইমি ও মামুনকে টেনেহিঁচড়ে থানার

ভেতরে ও ফটকে মারধর করে। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে এবং ৮ মার্চ তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও উঠেছে। ক্যাম্পাসে চলমান এই বিশৃঙ্খলার সমান্তরালে আলোচনায় উঠে আসছে ফজলুল হক মুসলিম হলে নিহত তোফাজ্জল হোসেনের কথা। চুরির অপবাদে মানসিকভাবে অসুস্থ এই যুবককে ভাত খাইয়ে দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে চলা কিছু শিক্ষার্থী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। একের পর এক এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করছে যে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, ‘মব জাস্টিস’ এখন ঢাবির সাধারণ সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে

পাভেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ইমি-মামুনসহ তিন ছাত্র কারাগারে রয়েছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছে, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো বা আদর্শিক ভিন্নতার কারণে যেভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠছে যে নির্দিষ্ট কিছু গ্রুপ ক্যাম্পাসকে তাদের “আখড়ায়” পরিণত করে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শিশু থেকে শখের বাইক ট্র্যাক করুন স্বল্প খরচে খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েছে নওগাঁয় চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা শক্তিশালী হলে শিবির সন্ত্রাসের বীজ বপন করে: নাছির ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে: জামায়াত কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন হাম: জানতে হবে যে সব বিষয় লন্ডন উৎসবে রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল শ্রীলংকা এবার দুইটি কার্গো জাহাজ জব্দ করল ইরান হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবার এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল আইনি মারপ্যাঁচে আসন হারাতে পারেন জামায়াত জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না সেই ফারজানা সিঁথি ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি: বাঘেই ৩৬ বছর আগে প্রতিবেশীকে পুড়িয়া হত্যা: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে ইইউকে আহ্বান ৩ দেশের আরব আমিরাতের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে চান না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প