বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পাকিস্তান জয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৪ September, ২০২৪

বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পাকিস্তান জয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৪ September, ২০২৪ |
ইতিহাস যখন ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে, তখন রুদ্ধ হয় যাত্রাপথের আনন্দগান। নদী তার উচ্ছল পার্বত্যপ্রবাহ পেরিয়ে খুঁজে পায় না বাঁক। তাই অনুবর্তন নয়, পরিবর্তনেই থাকে ইতিহাস হয়ে ওঠার সম্ভাবনা। তেমনি এক ইতিহাস রচিত হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে। চব্বিশ বছরের অপেক্ষার পর যা কখনোই হয়নি, সেই পাকিস্তানের বিপক্ষেই টেস্ট সিরিজ জয়ের মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন মুশফিকুর রহিমরা; বাবর আজমদের তাদেরই মাটিতে ২-০-তে হোয়াইটওয়াশের বিস্ময় উপহার দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা। রাগে, অভিমানে, লোক দেখানো চমকদারিতায় কখনও কখনও এই ক্রিকেটারদের দূরে ঠেলে দিলেও সমর্থকদের কিন্তু বারবার ফিরে আসতে হয়েছে সলজ্জ হেসেই। রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্টেই যে এতটা দাপট দেখিয়ে পাকিস্তানকে হারানো যাবে, তা কি সিরিজ শুরুর আগেও কেউ

ভেবেছিলেন? এমনকি গতকাল টেস্টের শেষ দিন যেখানে বৃষ্টির আশঙ্কা ছিল, জয়ের জন্য ১৪৩ রানের প্রয়োজন ছিল– তখনও কি কেউ ভেবেছিল, পিন্ডির আকাশে মেঘের মেলায় বিশেষ অতিথি হয়ে ধরা দেবে রোদ্দুর? হয়তো প্রকৃতিও চেয়েছিল নাজমুল হাসান শান্তদের এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সাক্ষী থাকতে। আর সে জন্যই বোধ হয় ৪ উইকেটে ১৮৫ রান তুলতে কোনো অস্বস্তিই কাজ করেনি। ৬ উইকেটের এই জয়কে ‘বাংলাওয়াশ’ বলে ধারাভাষ্যকার যেন মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন, কেন এই সিরিজ জয়ের মাহাত্ম্য আর সবকিছুর চেয়েও আলাদা। এ নিয়ে বিদেশর মাটিতে তিনবার টেস্ট সিরিজে জয়ের স্বাদ পেয়েছে লাল-সবুজের দল। জিম্বাবুয়ে আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর অতীত গৌরব থাকলেও এবারই প্রথম পাকিস্তান-বধ।

২০০৯ সালে দুর্বল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে গিয়ে হোয়াইটওয়াশ করানোটা যদি সাকিব-মুশফিক প্রজন্মের শুরুর সাফল্য হয়, তাহলে গতকাল পাকিস্তানের মাটিতে এই ধবলধোলাইটা ছিল সেই পরীক্ষিত প্রজন্মের পরিণত এক কীর্তি। গতকাল সেই জুটিই কিনা ক্রিজ থেকে জয় নিশ্চিত করল। শান মাসুদ, বাবর আজম, রিজওয়ান, শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ, খুররাম মঞ্জুর, আবরার– পাকিস্তানের পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই এই সিরিজ খেলতে নেমেছিল তাদেরই মাঠে। সেখানে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেটে হারার পর সাড়ে তিন দিনের দ্বিতীয় টেস্টও হার। ইতিহাস বলছে, ঘরের মাঠে পাকিস্তান কেবল দুবারই হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, যার একটি ইংল্যান্ডের সঙ্গে বছর দুই আগে আর দ্বিতীয়তটি গতকাল বাংলাদেশের কাছে। স্থান, কাল আর প্রতিপক্ষের

শক্তির বিচারে এই সিরিজ জয়ই বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা। ১৪৪ টেস্ট খেলে মুশফিকরা যে ২১টি জয় পেয়েছেন, তার মধ্যে ১২টিই এসেছে হয় র‍্যাঙ্কিংয়ের নিচু সারির দলের সঙ্গে, নয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো খর্বশক্তির দলের বিপক্ষে। বাকি ৯টি জয় এসেছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা আর পাকিস্তানের সঙ্গে। এই জয়গুলোর মূল্যমান মাপলেও পিন্ডির দুই টেস্টকে সামনের দিকেই রাখতে হবে। এত বড় অর্জনের পর পুরস্কার মঞ্চে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, ‘এটি অনেক বড় কিছু। ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’ উচ্ছ্বসিত শান্ত এরপরই বদলে যাওয়া দলটির কিছু বিশেষত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরেন, ‘আমরা এখানে জয়ের উদ্দেশ্যে এসেছিলাম। খুব

ভালো লাগছে, প্রত্যেকেই নিজের কাজগুলো ঠিকমতো করতে পেরেছেন। আমাদের পেসাররা তাদের কাজের নীতিতে দুর্দান্ত ছিলেন। সে জন্যই আমরা এমন ফলাফল করতে পেরেছি। সবাই নিজের জায়গায় সৎ ছিলেন এবং জিততে চাচ্ছিলেন। আমি আশা করব, এই ইচ্ছাটা সামনেও অব্যাহত থাকবে।’ প্রথম টেস্টে মুশফিকের সেই ১৯১ রানের ইনিংস, মিরাজের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১৯৬ রানের রেকর্ড জুটি ধৈর্য আর আত্মবিশ্বাসের সাক্ষী ছিল। দ্বিতীয় টেস্টেও যখন ২৬ রানে ৬ উইকেট পড়ে যায়, তখন লিটন আর মিরাজের ১৬৫ রানের জুটি দলকে আস্থা দিয়েছিল। ১৩৮ রানের ইনিংসটি লিটনকে এই টেস্টের সেরার পুরস্কার দিয়েছে আর সিরিজসেরার পুরস্কার নিশ্চিতভাবেই গিয়েছে মিরাজের হাতে। তবে পুরস্কারের চেক না পেয়েও যারা এই

টেস্টে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তাদের দু’জন অবশ্যই পেসার নাহিদ রানা আর হাসান মাহমুদ। রেকর্ড বলছে, টেস্টে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা ১০ উইকেট শিকার করেছেন। রাওয়ালপিন্ডিতে নাহিদ রানার ঘণ্টায় ১৪৯.৪ কিলোমিটার গতিতে বোলিং, যা দেখে আমির সোহেলের মতো পাকিস্তানের সাবেকরা অবাক হয়ে গেছেন। ম্যাচের ৭৩ শতাংশ বোলিং ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন নাহিদ। অন্যদিকে সুইংয়ের কৌশলে ম্যাচের পাঁচ উইকেট দখল করেছেন হাসান মাহমুদ। পিন্ডিতে বাংলাদেশি পেসারদের এই আগুনে বোলিংয়ে রীতিমতো অপ্রত্যাশিত ছিল পাকিস্তানিদের কাছে। প্রচণ্ড হতাশ ছিল তারা, যা কিনা ম্যাচের পর অস্বীকার করেননি পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ, ‘আমরা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি। দুটি টেস্টে আমরা দুটি

সুযোগ পেয়েছিলাম বাংলাদেশকে অলআউট করতে; কিন্তু আমরা তা পারিনি।’ ভেঙে পড়া এক নাবিকের মতো দেখাচ্ছিল শান মাসুদকে। অন্যদিকে বাংলাদেশিদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস পরিমিত। কেননা পাকিস্তান জয়ের পর সামনে এবার ভারত। দুই টেস্ট আর তিন টি২০ খেলতে ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত যাবেন শান্তরা। ১৯ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ে সেখানে প্রথম টেস্ট শুরু। সেখানে লক্ষ্য এবার ভারত-বধ মিশন ‘বাংলাওয়াশ’।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের