গাজায় থামছেই না মৃত্যুর মিছিল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ অক্টোবর, ২০২৪

গাজায় থামছেই না মৃত্যুর মিছিল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ অক্টোবর, ২০২৪ |
অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের এক বছর পূর্ণ হলো রোববার। দীর্ঘ এ সময়ে উপত্যাকাটিতে ক্রমাগত বেড়েছে নিহতের সংখ্যা। এক বছর পেরিয়ে গেলেও থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। ইসরাইলের মুহুর্মুহু হামলায় ধসে পড়েছে বহু ভবন। একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা। খাবার নেই। পানি নেই। নিরাপদ কোনো আশ্রয়ও নেই। সব মিলিয়ে তীব্র মানবিক সংকটে দিশেহারায় দিন গুনছে গাজার বাসিন্দারা। ইসরাইলের গুলি আর ক্ষুধার ভয় ছাড়াও মহামারি আতঙ্কেও দিন কাটাচ্ছে তারা। বিপদে জর্জরিত গাজার চারদিকে শুধুই হাহাকার। তবুও যুদ্ধ থামার কোনো নাম নেই। আলজাজিরা, রয়টার্স। নিহত ও আহতের সংখ্যা গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে অন্তত

৪১ হাজার ৮৭০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় ধসে পড়া ভবন ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তারা সবাই নিহত হয়েছেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৯৭ হাজার হাজার ১৬৬ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলি হামলায় প্রতিদিনই শত শত মানুষ হতাহত হচ্ছে। বাস্তচ্যুতের সংখ্যা উত্তর গাজা থেকে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। এজন্য যুদ্ধের শুরু থেকে ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে সরে যেতে নির্দেশ দিয়ে আসছে তারা। এরপর থেকে উত্তর গাজায় কেউ তাদের বাড়িতে ফিরতে পারেনি। কেননা গাজা উপত্যকাকে দুই ভাগে ভাগ করে মাঝখানে একটি সামরিক করিডোর স্থাপন

করেছে ইসরাইল। তবে দক্ষিণে সরে গেলেও সেখানেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ঘরবাড়ি ছেড়েছে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ। এই সংখ্যাটা গাজার মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ। ঘরবাড়ি ছাড়া এসব মানুষের বেশির ভাগ স্কুল ও হাসপাতালের মতো জাতিসংঘের স্থাপনায় আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। এসব জায়গায় আশ্রয় নিয়েও ইসরাইলি হামলা থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না তারা। আশ্রয়কেন্দ্রেও চলছে ইসরাইলের বর্বরতা। অবকাঠামো ধ্বংস শুরু থেকেই ইসরাইলি হামলার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে ছোট এই উপত্যকার বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে গাজার বিভিন্ন জরুরি স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে থাকে ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইলি এই ধ্বংসযজ্ঞ এতই ভয়াবহ হয়ে উঠে যে যুদ্ধের মাত্র চার মাসে

প্রায় সাড়ে ১৮ বিলিয়ন বা এক হাজার ৮৫০ কোটি ডলারের অবকাঠামো হারিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজার ৬৬ শতাংশ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি হামলায় আগস্ট পর্যন্ত ২০০ সরকারি ভবন, ১২২টি বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর তীব্র বোমাবর্ষণে গাজার এক হাজার ২৪৫টি মসজিদের মধ্যে ৮১৪টি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আরও ১৪৮টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মসজিদের পাশাপাশি তিনটি গির্জাও ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ৬০টি কবরস্থানের মধ্যে ১৯টি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে,

এসব ধর্মীয় সম্পত্তির ক্ষতির আনুমানিক আর্থিক ব্যয় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার। দুর্ভিক্ষ ও মহামারি পরিস্থিতি ইসরাইলি বাহিনী গাজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে সেখানকার প্রায় ২৩ লক্ষাধিক মানুষ অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অনেকই ঘাস ও পশুখাদ্য খেয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। জাতিসংঘ বলেছে, খাবার না পেয়ে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় মারা যাচ্ছে অনেক শিশু। ইতোমধ্যে উপত্যকাটিতে সংক্রমক রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ডায়রিয়ার মতো পানিবাহিত রোগের পাশাপাশি পোলিও, ব্রঙ্কাইটিস, হেপাটাইটিস এবং বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বাসিন্দারা। আক্রান্তদের বেশির ভাগই শিশু। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত লাখ লাখ শিশু ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলার পর থেকে গাজার সব স্কুল বন্ধ রয়েছে। ৯০ শতাংশ স্কুল পুরোপুরি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত

হয়েছে। বর্তমানে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি ত্রাণ সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) অক্ষত কিছু স্কুল ভবনকে বাস্তুচ্যুতদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই ছয় লাখ ২৫ হাজার শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী? পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা শরীয়তপুরে ছেলে ছাত্রলীগ করায় পিতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ মিরপুরে শাহ আলী মাজারে জঙ্গি হামলা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জামায়াতের তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, একাধিক শিক্ষার্থী আহত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু নব্বইয়ে পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ এবং সংকটে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল : নঈম নিজাম বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে? পাকিস্তানে দুই গোত্রে বিয়ে নিয়ে সহিংসতা থেকে গোলাগুলি, পুড়ল শতাধিক বাড়িঘর কন্যা একবার ফিরেছিলেন। বাংলাদেশের আবার তাঁকে দরকার কারিনা কায়সার থেকে হাজারো শিশুমৃত্যু: নির্বাচিত নীরবতা আর জুলাইপন্থীদের পক্ষাপাতিত্ব সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল এবার ‘আমার টাকায়’ উচ্চমূলে বিদ্যুৎ কিনতে হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে যখন বাড়ির দেয়াল নিজেই একটা ভূগোলের বই হয়ে ওঠে! হরমুজের গভীরে নতুন শক্তিতে নজর ইরানের, নিয়ন্ত্রণে থাকবে পুরো দুনিয়া অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার ১২টা বাজিয়ে গেছে: আবদুস সালাম ইসরাইলি হামলায় লেবাননের দৈনিক ক্ষতি ৩০ মিলিয়ন ডলার ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে যেতে যে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন