আনোয়ার সাদাত জিহান
আরও খবর
ইউনূসের পথেই তারেক রহমানঃ নাম-না-জানা দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
হাওয়া ভবন বাজেট ১০১: বাজেটের “আকার” বেড়েছে কিন্তু “উকার” কমেছে
ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ?
গনতন্ত্র ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
পলাশীর পতনের ঠিক ১৯২ বছর পরে বাংলার জেগে ওঠার উপখ্যান
অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার!
‘রাজনীতির রিখটার স্কেলে ৮-৯ মাত্রার ভূমিকম্প হবে’— সাদ্দাম হোসেন
কন্যা একবার ফিরেছিলেন। বাংলাদেশের আবার তাঁকে দরকার
সদ্য স্বাধীন একটি দেশ তার জাতির পিতাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েছিল — নিজেরই কিছু বিক্ষুব্ধ সন্তানের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য। একইভাবে পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকে হারিয়ে, এতিম হয়ে পড়েছিলেন জাতির পিতার কন্যাও। এরপর কেটে গেল ছয় বছরের অসহনীয় যন্ত্রণা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ছিল একটি বিষণ্ণ দিন। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, যেন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছিল প্রকৃতি। কুর্মিটোলা বিমানবন্দরের রানওয়েতে যখন তেত্রিশ বছর বয়সী শেখ হাসিনাকে বহনকারী ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানটি অবতরণ করল, ঠিক তখনই মেঘ ভেঙে নামল বৃষ্টি। ঢাকার সেই বৃষ্টিভেজা আকাশ যেন ধারণ করেছিল তাঁর সীমাহীন বেদনা — যাঁর
গোটা পরিবারকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল সেই মানুষগুলোই, যাদের কাজ ছিল নিজের দেশকে রক্ষা করা। দেশটি তখন একের পর এক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান, আদর্শিক বিচ্ছিন্নতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগ তখন চরম সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মুখে। কোন প্রকারের কোন নিরাপত্তা ছাড়া, কোন পরিকল্পনা ছাড়া, কেবল জনগনের প্রতি অগাঢ বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা জনতার গর্জনকে সম্বল করে, জাতীয় ট্র্যাজেডির ছাই থেকে ফিনিক্স হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন সেই তেত্রিশ বছরের শেখ হাসিনা — যিনি এরপর বাকী জীবন ইতিহাসকে নতুনভাবে লিখবেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করবেন এবং কেবল দলকে নয়, দেশকেও “কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি” থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান
বাঘে পরিণত করবেন। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা, বিপদ এবং ব্যর্থতার আশঙ্কায় পরিপূর্ণ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন — একজন মানুষের পক্ষে কি একটি দেশের ভাগ্য বদলানো আদৌ সম্ভব? কিন্তু শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অনিবার্য ব্যর্থতার মুখে দাঁড়ানো দেশটি হঠাৎ একজন অভিভাবক পেল। এমন একজন অভিভাবক, যিনি তাঁর বোন ছাড়া পরিবারের সবাইকে হারিয়েও বাংলাদেশের বঞ্চিত, নিরাশ ও হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী তাঁর ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার। বাংলাদেশের এই জাদুকরী নারী হয়ে উঠলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি। বাংলাদেশ যত এগিয়েছে, আওয়ামী লীগও তত
শক্তিশালী হয়েছে। নেতার বিয়োগান্তক প্রস্থানে এতিম হয়ে যাওয়া দলটি নতুন আশার আলো খুঁজে পেল, গহীন অন্ধকার শেষে আলোর দেখা পেল এবং বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার গতিশীল নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠল। ১৯৮১ সালে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দল বারবার ঝড়ের মুখে পড়েছে, লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে — কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বই প্রতিবার নৌকাকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। “ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে” — এই প্রবাদটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য। স্বাধীনতা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু তা রক্ষা করা আরও কঠিন। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ আবার একই রকম সংকটের
মুখে। সেই একই বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রুরা, দেশের হাল কেড়ে নিয়েছে এবং ৫৪ বছরে অর্জিত সাফল্যগুলোকে সম্পূর্ণ বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চরম মেরুকরণ, অস্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাস, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং জাতীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার এই সময়ে তাঁর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি নতুন তাৎপর্য নিয়ে সামনে আসছে। কেউ শেখ হাসিনার সমর্থক হোন বা না হোন — এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গতিপথ নতুনভাবে নির্ধারণ করেছিল এবং এটি আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে স্বীকৃত। পরিচয়-সংকটে ভোগা একটি দেশ আবার সঠিক পথে ফিরে এসেছিল — স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের দিকে। আজ, যখন বাংলাদেশের
পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি নিরীহ সন্তান সেই একই রাষ্ট্রবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল্যবোধ পরিপন্থী শক্তির অদক্ষতা ও চরম অবহেলার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছে ॥তখন আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আবার তীব্রভাবে সামনে আসছে। তদুপরি, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদচ্যুতির পর ২১ মাসে ক্ষমতাসীন শক্তি বাংলাদেশকে যে বিপর্যয়কর পথে নিয়ে গেছে; যে ভয়াবহ ধ্বংস, প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতির মুখোমুখি বাংলাদেশ হয়েছে, তা সেই ষড়যন্ত্রের আবরণ এখন উন্মোচিত করে দিয়েছে। ফলে ২০২৪ সালে যারা বিভ্রান্ত হয়েছিল, সেই দেশের মানুষ এখন আস্তে আস্তে প্রতিফলন, অনুশোচনা এবং উপলব্ধির দিকে আসছে — যে লৌহমানবীর আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনই হয়তো দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ। শেখ হাসিনার সেই ঐতিহাসিক
প্রত্যাবর্তন আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি প্রমাণ করে যে চরম বিভ্রান্তির সময়ে নেতৃত্ব কীভাবে প্রতীকী শক্তিতে পরিণত হয়। তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশবাসীকে, দলের নেতাকর্মীদের আশার আলো দিয়েছিল। এরপর তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অনন্য নেতৃত্ব এবং মানুষের প্রতি অবিচল ভালোবাসা প্রমাণ করেছে যে সঠিক নেতৃত্ব হতাশা ও আশার মাঝে নির্ণায়ক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুকন্যার অনুপস্থিতিতে দেশটি অনুকরণীয় প্রবৃদ্ধি থেকে সম্পূর্ণ হতাশায় তলিয়ে গেছে। যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়ে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত হয়েও শেখ হাসিনা দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। যখন ঢাকার মেট্রোরেল নিরবচ্ছিন্নভাবে ছুটে চলে রাজধানীবাসীর জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দিয়ে, নগরবাসী নীরবে ও অবচেতনভাবে বঙ্গবন্ধুর সাহসী কন্যার কথা ভাবে। যখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূস্থির কক্ষপথে পরিক্রমা করে, প্রেরিত তথ্য সাক্ষ্য দেয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাহসিকতার। মানুষের মন অবচেতনে তুলনা করতে করতে উপলব্ধি করে — শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ হাসিনাই। আগামী দিনগুলোতে দেশ যতই তার গৌরব, প্রবৃদ্ধি এবং অর্জন হারানোর পথে এগিয়ে যাবে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ততই তীব্র হতে থাকবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির রক্ত এই লৌহমানবীর শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে — এটিই দেশে ও বিদেশে কোটি কোটি কষ্টভোগী মানুষের আশার আলো — ইতিহাসকে আরও একবার বদলে দেওয়ার আশা। যখন ছাত্র সংগঠনের সেই তরুণ — যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে, আত্মগোপনে আছে অথবা কারাবন্দী — গোপালগঞ্জের এই কন্যার অকম্পিত কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, তখন সে আরও কিছুটা সময় টিকে থাকার সাহস খুঁজে পায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের বঙ্গবন্ধুর এই শক্তিমান কন্যার উপর যে গভীর আস্থা রেখেছে, সেটিই যথেষ্ট — তাঁর আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের জন্য, দেশকে গর্ত থেকে টেনে তুলে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য। লেখক পরিচিতি: লেখক একজন মহাকাশ প্রকৌশলী
গোটা পরিবারকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল সেই মানুষগুলোই, যাদের কাজ ছিল নিজের দেশকে রক্ষা করা। দেশটি তখন একের পর এক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান, আদর্শিক বিচ্ছিন্নতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আওয়ামী লীগ তখন চরম সাংগঠনিক বিপর্যয়ের মুখে। কোন প্রকারের কোন নিরাপত্তা ছাড়া, কোন পরিকল্পনা ছাড়া, কেবল জনগনের প্রতি অগাঢ বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা জনতার গর্জনকে সম্বল করে, জাতীয় ট্র্যাজেডির ছাই থেকে ফিনিক্স হয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন সেই তেত্রিশ বছরের শেখ হাসিনা — যিনি এরপর বাকী জীবন ইতিহাসকে নতুনভাবে লিখবেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠিত করবেন এবং কেবল দলকে নয়, দেশকেও “কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি” থেকে দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান
বাঘে পরিণত করবেন। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ছিল একদিকে আশার আলো, অন্যদিকে অনিশ্চয়তা, বিপদ এবং ব্যর্থতার আশঙ্কায় পরিপূর্ণ। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন — একজন মানুষের পক্ষে কি একটি দেশের ভাগ্য বদলানো আদৌ সম্ভব? কিন্তু শেখ হাসিনা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর অনিবার্য ব্যর্থতার মুখে দাঁড়ানো দেশটি হঠাৎ একজন অভিভাবক পেল। এমন একজন অভিভাবক, যিনি তাঁর বোন ছাড়া পরিবারের সবাইকে হারিয়েও বাংলাদেশের বঞ্চিত, নিরাশ ও হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। ইতিহাস সাক্ষী তাঁর ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার। বাংলাদেশের এই জাদুকরী নারী হয়ে উঠলেন আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি। বাংলাদেশ যত এগিয়েছে, আওয়ামী লীগও তত
শক্তিশালী হয়েছে। নেতার বিয়োগান্তক প্রস্থানে এতিম হয়ে যাওয়া দলটি নতুন আশার আলো খুঁজে পেল, গহীন অন্ধকার শেষে আলোর দেখা পেল এবং বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার গতিশীল নেতৃত্বে পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠল। ১৯৮১ সালে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সফলভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। দল বারবার ঝড়ের মুখে পড়েছে, লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে — কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বই প্রতিবার নৌকাকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। “ইতিহাস নিজেকে পুনরাবৃত্তি করে” — এই প্রবাদটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যেন অক্ষরে অক্ষরে সত্য। স্বাধীনতা অর্জন করা কঠিন, কিন্তু তা রক্ষা করা আরও কঠিন। বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা আজ আবার একই রকম সংকটের
মুখে। সেই একই বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশ-বিরোধী শক্তি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রুরা, দেশের হাল কেড়ে নিয়েছে এবং ৫৪ বছরে অর্জিত সাফল্যগুলোকে সম্পূর্ণ বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চরম মেরুকরণ, অস্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক অবিশ্বাস, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং জাতীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার এই সময়ে তাঁর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি নতুন তাৎপর্য নিয়ে সামনে আসছে। কেউ শেখ হাসিনার সমর্থক হোন বা না হোন — এই সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই যে তাঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গতিপথ নতুনভাবে নির্ধারণ করেছিল এবং এটি আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে স্বীকৃত। পরিচয়-সংকটে ভোগা একটি দেশ আবার সঠিক পথে ফিরে এসেছিল — স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি এবং গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের দিকে। আজ, যখন বাংলাদেশের
পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি নিরীহ সন্তান সেই একই রাষ্ট্রবিরোধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল্যবোধ পরিপন্থী শক্তির অদক্ষতা ও চরম অবহেলার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট পাচ্ছে ॥তখন আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা আবার তীব্রভাবে সামনে আসছে। তদুপরি, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার পদচ্যুতির পর ২১ মাসে ক্ষমতাসীন শক্তি বাংলাদেশকে যে বিপর্যয়কর পথে নিয়ে গেছে; যে ভয়াবহ ধ্বংস, প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষতির মুখোমুখি বাংলাদেশ হয়েছে, তা সেই ষড়যন্ত্রের আবরণ এখন উন্মোচিত করে দিয়েছে। ফলে ২০২৪ সালে যারা বিভ্রান্ত হয়েছিল, সেই দেশের মানুষ এখন আস্তে আস্তে প্রতিফলন, অনুশোচনা এবং উপলব্ধির দিকে আসছে — যে লৌহমানবীর আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনই হয়তো দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর একমাত্র পথ। শেখ হাসিনার সেই ঐতিহাসিক
প্রত্যাবর্তন আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি প্রমাণ করে যে চরম বিভ্রান্তির সময়ে নেতৃত্ব কীভাবে প্রতীকী শক্তিতে পরিণত হয়। তাঁর প্রত্যাবর্তন দেশবাসীকে, দলের নেতাকর্মীদের আশার আলো দিয়েছিল। এরপর তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, অনন্য নেতৃত্ব এবং মানুষের প্রতি অবিচল ভালোবাসা প্রমাণ করেছে যে সঠিক নেতৃত্ব হতাশা ও আশার মাঝে নির্ণায়ক পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুকন্যার অনুপস্থিতিতে দেশটি অনুকরণীয় প্রবৃদ্ধি থেকে সম্পূর্ণ হতাশায় তলিয়ে গেছে। যখন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়ে, শারীরিকভাবে অনুপস্থিত হয়েও শেখ হাসিনা দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন। যখন ঢাকার মেট্রোরেল নিরবচ্ছিন্নভাবে ছুটে চলে রাজধানীবাসীর জীবন উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দিয়ে, নগরবাসী নীরবে ও অবচেতনভাবে বঙ্গবন্ধুর সাহসী কন্যার কথা ভাবে। যখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূস্থির কক্ষপথে পরিক্রমা করে, প্রেরিত তথ্য সাক্ষ্য দেয় প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সাহসিকতার। মানুষের মন অবচেতনে তুলনা করতে করতে উপলব্ধি করে — শেখ হাসিনার বিকল্প কেবল শেখ হাসিনাই। আগামী দিনগুলোতে দেশ যতই তার গৌরব, প্রবৃদ্ধি এবং অর্জন হারানোর পথে এগিয়ে যাবে, প্রধানমন্ত্রী হাসিনার প্রত্যাবর্তনের প্রয়োজনীয়তা ততই তীব্র হতে থাকবে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির রক্ত এই লৌহমানবীর শিরায় প্রবাহিত হচ্ছে — এটিই দেশে ও বিদেশে কোটি কোটি কষ্টভোগী মানুষের আশার আলো — ইতিহাসকে আরও একবার বদলে দেওয়ার আশা। যখন ছাত্র সংগঠনের সেই তরুণ — যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছে, আত্মগোপনে আছে অথবা কারাবন্দী — গোপালগঞ্জের এই কন্যার অকম্পিত কণ্ঠস্বর শুনতে পায়, তখন সে আরও কিছুটা সময় টিকে থাকার সাহস খুঁজে পায়। লক্ষ লক্ষ মানুষের বঙ্গবন্ধুর এই শক্তিমান কন্যার উপর যে গভীর আস্থা রেখেছে, সেটিই যথেষ্ট — তাঁর আরেকটি ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের জন্য, দেশকে গর্ত থেকে টেনে তুলে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য। লেখক পরিচিতি: লেখক একজন মহাকাশ প্রকৌশলী



