এক গুলিতে শেষ মিরাজের সব স্বপ্ন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৬ অক্টোবর, ২০২৪

আরও খবর

পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা

সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল

বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা

আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে?

নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী?

গণভবন লুট ও ৩২ নম্বর ভাঙচুরকারীদের ওপর প্রকৃতির অভিশাপ শুরু হয়েছে : গোলাম মাওলা রনি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের জন্য বন্দর খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ

এক গুলিতে শেষ মিরাজের সব স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৬ অক্টোবর, ২০২৪ |
ইচ্ছা ছিল রোজগার করে বাবাকে ভালো ডাক্তার দেখানো। ছোট ভাইদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। তাই সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট থেকে রাজধানীতে ছুটে এসেছিলেন মিরাজ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে রাস্তায় নামেন মিরাজও। এরপর এক গুলিতে শেষ হয়ে যায় তার সব স্বপ্ন! একুশের তরুণ মিরাজের বাড়ি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামে। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার সামনের মাছের আড়ত এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেন তিনি। মিছিলে তার সঙ্গে ছিলেন খালাতো ভাই কারখানা শ্রমিক মাজেদুল ইসলামও (২৮)। পুলিশ অতর্কিতভাবে মিছিলে গুলি চালায়। আর সেই গুলিতেই মিরাজ ও তার খালাতো ভাই মাজেদুল গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

সেখানে সুচিকিৎসা ও টাকা-পয়সার অভাব দেখা দিলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে মিরাজের খালাতো ভাই মাজেদুল ইসলাম চিকিৎসা নিয়ে অনেকটাই সুস্থ হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে অস্ত্রোপচার করে মিরাজের শরীর থেকে গুলি বের করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো যায়নি। ৮ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্বপ্নবাজ এ তরুণ। আব্দুস সালাম ও মহসেনা বেগমের বড় ছেলে মিরাজ। মেজবাউল ইসলাম (১৭) ও সিরাজুল ইসলাম (১৪) নামে তার দুজন আরও ছোট ভাই রয়েছে। মেজবাউল নবম শ্রেণিতে ও সিরাজুল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মিরাজের বাবা অসুস্থ। মিরাজ মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২১ সালে এসএসসি পাস করে

পরিবার নিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্য ঢাকায় আসেন। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত মিরাজের পরিবার। পরে মিরাজ ঢাকার দনিয়া মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হন। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার মাতুয়াইল রশিদবাগে স্থানীয় একটি মোবাইল রিচার্জ ও বিকাশের দোকানে তিনি কাজ নেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা আর ছোট দুই ভাইয়ের লেখাপড়াসহ পুরো সংসার চলত মিরাজের আয়ে। বাবার চিকিৎসার জন্য ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণও করেছে মিরাজ ও তার বাবা। সংসারের হাল ধরতে লেখাপড়ার পাশাপাশি দোকানে কাজ করতেন মিরাজ। মিরাজের বাবা আব্দুস সালাম বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর পর আমাদের একেকটা দিন যেন একেকটা বছর।’ তিনি আরও বলেন, আমি সিএনজি

চালাতাম। পরে ঘন ঘন অসুস্থ হওয়ার কারণে ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ডাক্তার প্রাথমিকভাবে ক্যান্সার হয়েছে বলে ধারণা করছেন। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। এজন্য অনেক টাকা লাগবে। অথচ আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেটি আর নেই। তার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে আমার পুরো পরিবারের উপার্জনের চাকা। আর্থিকভাবে সাহায্য পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে মিরাজের বাবা বলেন, হ্যাঁ, আর্থিকভাবে সাহায্য পেয়েছি। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আমার পরিবারকে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা ও (নেভি) হেডকোয়ার্টার ঢাকা থেকে আরও ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা এই খুনের সঙ্গে জড়িত আমি তাদের প্রত্যেককে বিচারের আওতায় দেখতে চাই। বর্তমান সরকারের প্রতি এ ব্যাপারে

আমার অনুরোধ থাকল। মিরাজের মা মোহসেনা বেগম বলেন, আমার কলিজার টুকরা আর ফিরে আসবে না, এটা ভেবেই দুচোখের পাতা এক হয় না। মহিষখোচা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম জানান, মিরাজ প্রতিভাবান ছিল। আমরা এ হত্যার বিচার চাই। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যেসব পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতার সব রকম ব্যবস্থা করব। খবর বাসসের।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা এবার ‘আমার টাকায়’ উচ্চমূলে বিদ্যুৎ কিনতে হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস: প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা সুর থামছে একে একে: কনসার্ট বাতিলের মিছিলে কি মৌলবাদের পদধ্বনি? সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে? ট্রাম্প-শি বেইজিং সম্মেলনের খুঁটিনাটি: ইরান, তাইওয়ান সংকট থেকে শুরু করে বাণিজ্য-কূটনীতির ঐতিহাসিক অধ্যায় ‘ফিট নন’ লুকাকু, তবুও বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দলে নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী? গণভবন লুট ও ৩২ নম্বর ভাঙচুরকারীদের ওপর প্রকৃতির অভিশাপ শুরু হয়েছে : গোলাম মাওলা রনি গায়ে হাত দেওয়া লোকও কমিটিতে ক্ষোভে রাজনীতি ছাড়লেন এনসিপি নেত্রী ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা, আত্মরক্ষার সাথে সাথে করছে মব হামলা প্রতিরোধ আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে? মাছ-মাংস, ডিম-সবজির দাম নাগালের বাইরে, সাধারণের দুর্ভোগ চরমে ট্রাম্প-শি বেইজিং সম্মেলনের খুঁটিনাটি: ইরান, তাইওয়ান সংকট থেকে শুরু করে বাণিজ্য-কূটনীতির ঐতিহাসিক অধ্যায় বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতিতে মঞ্চ মাতাবেন শাকিরা, ম্যাডোনা, বিটিএস ২০২৬ বিশ্বকাপ: এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্সের শক্তিশালী দল ঘোষণা বাংলাদেশের শিশুদের কি ৬ মাস বয়সে হামের প্রথম টিকা দেয়া উচিৎ? সম্ভাব্য ৩ ডোজের হামের টিকা সংক্রান্ত প্রস্তাবনা যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের জন্য বন্দর খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ