ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ডাচদের রুখে দিল জাপান, গ্যালারিতে মানবিক সৌন্দর্য দেখালেন সমর্থকরা
গাফ্ফারের চোখে স্পেন আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ইংল্যান্ডের শিরোপার লড়াই ও পর্তুগালের সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের মঞ্চে চার দিনের মধ্যে ৩ বার ভাঙল যে রেকর্ড
ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর একাদশে ছিলেন না মরক্কোতে জন্ম নেওয়া কেউ
বৃথা গেল শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলির প্রথম সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয়
ফুটবল জ্বরে বিশ্ব, রাত জাগলেও চাই শরীরের যত্ন
ব্রাজিলভক্ত পড়শীর ফেসবুক পোস্ট, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
কুরাসাওকে ৭ গোলে বিধ্বস্ত করে ব্রাজিলের রেকর্ড ভাঙল জার্মানি
ম্যাচ শুরুর আগে ধারাভাষ্যকারেরা বলছিলেন, সত্যিকারের ডেভিড-গো গোলিয়াথ লড়াই বোধহয় একেই বলে। একদিকে মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার দেশ কুরাসাও, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসার আনন্দে যারা বিভোর। আরেকদিকে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। মাঠের খেলায় সেই ব্যবধান ভালোভাবেই বুঝিয়েছে জার্মানরা। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল। আর এই বিশাল জয়ের পথেই বিশ্বমঞ্চে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে সিংহাসনচ্যুত করল জার্মানি।
এবারের বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে ২৩৭ গোল নিয়ে চূড়ায় বসে ছিল ব্রাজিল। ৫ গোল পিছিয়ে থেকে জার্মানির সংগ্রহ ছিল ২৩২। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের টপকে যেতে জার্মানদের দরকার ছিল একটা উড়ন্ত সূচনা। কুরাসাওয়ের জাল গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে
নিজেদের মোট গোলসংখ্যাকে তারা নিয়ে গেছে ২৩৯-এ। ২৩৮ গোল নিয়ে ব্রাজিল এখন দ্বিতীয় স্থানে। আর ১৫২ গোল নিয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে তিনে আছে আর্জেন্টিনা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির এই ৭-১ ব্যবধানের জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে এক যুগ আগের এক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ঠিক ১২ বছর আগে, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই একই ব্যবধানে স্বাগতিক ব্রাজিলকে তাদেরই মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানরা; পরবর্তীতে উঁচিয়ে ধরেছিল সোনালী ট্রফিটাও। শুধু ফলাফল দেখে মনে হতে পারে একপেশে ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু শুরুর গল্পটা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচার বাঁকানো শটে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল শুরু থেকেই শক্তিমত্তার মহড়া দেবে তারা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত
এটিই দ্রুততম গোল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২১ মিনিটে গোল শোধ করে বসে কুরাসাও। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া জোরালো শট জার্মান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকলেও ইতিহাসে নাম উঠে গেছে লিভানো কোমেনেন্সিয়ার। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার আজীবনের কৃতিত্ব পেয়ে গেলেন তিনি। এই গোলের পর মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শক। অপ্রত্যাশিতভাবে গোল খেয়ে জার্মানি নড়েচড়ে বসলেও কুরাসাও বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছে এরপর। বিশেষ করে ডিফেন্স লাইন এবং ইন্টার মায়ামিতে খেলা গোলকিপার এলয় রুম বেশ কয়েকবার জার্মান আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। কিন্তু ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে নিকো শ্লটারব্যাকের হেডে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেরে ওঠেনি ৮১তম
দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে আসা কুরাসাও। তবে কুরাসাওয়ের মনোবল ভাঙার কাজ জার্মানি করেছে বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দুই মিনিটে দুই গোল করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে অযথা ফাউল করে জার্মানিকে পেনাল্টি উপহার দেয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটি। সফল স্পটকিকে কাই হাভার্টজ দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। বিরতি থেকে ফিরেই আবার গোল, ৪৭ মিনিটে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। হুট করে দুই গোল খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি কুরাসাও। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা জার্মানি একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ৬৮ মিনিটে সুন্দর ফিনিশিংয়ে ন্যাথানিয়েল ব্রাউন আর বদলি হিসেবে নেমে ৭৮ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উন্দাভ। গোলবন্যার শেষটাও হয়েছে
হাভার্টজকে দিয়ে, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচে হারলেও কুরাসাওয়ের জন্য দিনটি ছিল রূপকথার মতো। আয়তন ও জনসংখ্যা—দুই দিক থেকেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়েছে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। পাশাপাশি দলটির ৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোক্যাট বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন কীর্তি গড়েছেন। ঐতিহাসিক এই অর্জনে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত গ্যালারিতে উল্লাস করেছেন কুরাসাওয়ের সমর্থকরা। এখন পর্যন্ত ২১টি বিশ্বকাপে ১১৩টি ম্যাচ খেলে ২৩৯ গোল করল জার্মানি। অন্যদিকে ২৩টি আসরে ১১৫ ম্যাচ খেলা ব্রাজিলও খুব পিছিয়ে নেই। গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে নামবে সেলেসাওরা।
সেই ম্যাচে বড় জয় পেলেই আবার শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে তাদের। অবশ্য মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করায় কিছুটা চাপে আছে ব্রাজিল, যেখানে দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বড় জয়ের পাশাপাশি জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানকে আলাদা স্বস্তি দেবে ছয়জন আলাদা খেলোয়াড়ের গোল করার বিষয়টি। বিশেষ করে মেচা ও মুসিয়ালার প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে কোচের খুশি হওয়ারই কথা। আগামী শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এই জয়ে তাই নির্ভারই থাকবে জার্মানরা। প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর।
নিজেদের মোট গোলসংখ্যাকে তারা নিয়ে গেছে ২৩৯-এ। ২৩৮ গোল নিয়ে ব্রাজিল এখন দ্বিতীয় স্থানে। আর ১৫২ গোল নিয়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে তিনে আছে আর্জেন্টিনা। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির এই ৭-১ ব্যবধানের জয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে ফিরিয়ে এনেছে এক যুগ আগের এক ঐতিহাসিক স্মৃতি। ঠিক ১২ বছর আগে, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই একই ব্যবধানে স্বাগতিক ব্রাজিলকে তাদেরই মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানরা; পরবর্তীতে উঁচিয়ে ধরেছিল সোনালী ট্রফিটাও। শুধু ফলাফল দেখে মনে হতে পারে একপেশে ম্যাচ হয়েছে, কিন্তু শুরুর গল্পটা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচার বাঁকানো শটে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল শুরু থেকেই শক্তিমত্তার মহড়া দেবে তারা। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত
এটিই দ্রুততম গোল। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২১ মিনিটে গোল শোধ করে বসে কুরাসাও। ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া জোরালো শট জার্মান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে ঢুকলেও ইতিহাসে নাম উঠে গেছে লিভানো কোমেনেন্সিয়ার। কুরাসাওয়ের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করার আজীবনের কৃতিত্ব পেয়ে গেলেন তিনি। এই গোলের পর মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারির ৬৮ হাজারেরও বেশি দর্শক। অপ্রত্যাশিতভাবে গোল খেয়ে জার্মানি নড়েচড়ে বসলেও কুরাসাও বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছে এরপর। বিশেষ করে ডিফেন্স লাইন এবং ইন্টার মায়ামিতে খেলা গোলকিপার এলয় রুম বেশ কয়েকবার জার্মান আক্রমণ ঠেকিয়েছেন। কিন্তু ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে নিকো শ্লটারব্যাকের হেডে জার্মানি এগিয়ে যাওয়ার পর আর পেরে ওঠেনি ৮১তম
দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলতে আসা কুরাসাও। তবে কুরাসাওয়ের মনোবল ভাঙার কাজ জার্মানি করেছে বিরতির আগে-পরে মিলিয়ে দুই মিনিটে দুই গোল করে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে অযথা ফাউল করে জার্মানিকে পেনাল্টি উপহার দেয় ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশটি। সফল স্পটকিকে কাই হাভার্টজ দলকে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। বিরতি থেকে ফিরেই আবার গোল, ৪৭ মিনিটে কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল করেন জামাল মুসিয়ালা। হুট করে দুই গোল খেয়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি কুরাসাও। দ্বিতীয়ার্ধের পুরো সময়টা জার্মানি একক আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ৬৮ মিনিটে সুন্দর ফিনিশিংয়ে ন্যাথানিয়েল ব্রাউন আর বদলি হিসেবে নেমে ৭৮ মিনিটে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ডেনিজ উন্দাভ। গোলবন্যার শেষটাও হয়েছে
হাভার্টজকে দিয়ে, ৮৮ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচে হারলেও কুরাসাওয়ের জন্য দিনটি ছিল রূপকথার মতো। আয়তন ও জনসংখ্যা—দুই দিক থেকেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে খেলার রেকর্ড গড়েছে এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি। পাশাপাশি দলটির ৭৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ডাচ কোচ ডিক অ্যাডভোক্যাট বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক কোচ হিসেবে নতুন কীর্তি গড়েছেন। ঐতিহাসিক এই অর্জনে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত গ্যালারিতে উল্লাস করেছেন কুরাসাওয়ের সমর্থকরা। এখন পর্যন্ত ২১টি বিশ্বকাপে ১১৩টি ম্যাচ খেলে ২৩৯ গোল করল জার্মানি। অন্যদিকে ২৩টি আসরে ১১৫ ম্যাচ খেলা ব্রাজিলও খুব পিছিয়ে নেই। গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে নামবে সেলেসাওরা।
সেই ম্যাচে বড় জয় পেলেই আবার শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে তাদের। অবশ্য মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করায় কিছুটা চাপে আছে ব্রাজিল, যেখানে দলের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। বড় জয়ের পাশাপাশি জার্মানি কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানকে আলাদা স্বস্তি দেবে ছয়জন আলাদা খেলোয়াড়ের গোল করার বিষয়টি। বিশেষ করে মেচা ও মুসিয়ালার প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সে কোচের খুশি হওয়ারই কথা। আগামী শনিবার দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় এই জয়ে তাই নির্ভারই থাকবে জার্মানরা। প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর।



