ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
কুরাসাওকে ৭ গোলে বিধ্বস্ত করে ব্রাজিলের রেকর্ড ভাঙল জার্মানি
গাফ্ফারের চোখে স্পেন আর্জেন্টিনা ফ্রান্স ইংল্যান্ডের শিরোপার লড়াই ও পর্তুগালের সম্ভাবনা
বিশ্বকাপের মঞ্চে চার দিনের মধ্যে ৩ বার ভাঙল যে রেকর্ড
ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর একাদশে ছিলেন না মরক্কোতে জন্ম নেওয়া কেউ
বৃথা গেল শরিফুলের ৬ উইকেট, কনোলির প্রথম সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়ার রোমাঞ্চকর জয়
ফুটবল জ্বরে বিশ্ব, রাত জাগলেও চাই শরীরের যত্ন
ব্রাজিলভক্ত পড়শীর ফেসবুক পোস্ট, নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
ডাচদের রুখে দিল জাপান, গ্যালারিতে মানবিক সৌন্দর্য দেখালেন সমর্থকরা
মাঠের লড়াইয়ে তখন সবেমাত্র শেষ বাঁশি বেজেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ২-২ ব্যবধানে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে জাপান, তা এক কথায় রূপকথা। টেক্সাসের গ্যালারিতে তখনো ডাচ আর জাপানি সমর্থকদের উন্মাদনা। কিন্তু ম্যাচ শেষের সেই চিরচেনা উন্মাদনা স্তিমিত হতেই দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য, যা ফুটবল বিশ্বকাপকে আরও একবার মানবিক সৌন্দর্যে ভাসিয়ে দিল।
মাঠে ফুটবলাররা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন ঠিকই, তবে ম্যাচ শেষে গ্যালারি জিতে নিলেন জাপানি সমর্থকরা। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নিজেদের বসার জায়গাটি একদম ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন করে তবেই মাঠ ছাড়লেন তারা। নিজেদের ব্যবহারের জায়গা এভাবে পরিষ্কার করাকে ‘জাপানি সংস্কৃতি’র অংশ বলে উল্লেখ করেছেন এই দর্শকরা।
ম্যাচ শেষেও স্টেডিয়ামে
থাকার গল্প ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে যখন সাধারণ দর্শকরা মাঠ ছাড়তে ব্যস্ত, তখন গ্যালারিতে থেকে গেলেন জাপানি সমর্থকরা। পুরো স্টেডিয়াম যেন তারা আসার সময়ের মতোই পরিচ্ছন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব আবর্জনা কুড়াতে শুরু করেন। প্রতিটি পানির বোতল, কাগজের টুকরো পরম যত্নে তুলে নিয়ে নীল রঙের প্লাস্টিক ব্যাগে ভরতে দেখা যায় তাদের। এই অভ্যাসটি তারা কোনো বাহবা পাওয়ার জন্য করেননি, বরং এটি তাদের একদম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শেখা আজীবনের অভ্যাস। ২০ বছর বয়সী জাপানি সমর্থক এইতা তানাকা এএফপি-কে বলেন, ‘আমাদের সবার কথা চিন্তা করতে হয়।’ গায়ে জাপানের সেই ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সি জড়ানো তানাকা হাতের কাপগুলো ব্যাগে
ভরতে ভরতে আরও বলেন, ‘জাপানিদের ধারণা হলো, আমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করব, তখন সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময় জায়গাটিকে আসার সময়ের চেয়েও বেশি পরিচ্ছন্ন করে রেখে যেতে হবে। আমাদের এমনটাই শেখানো হয়েছে। যেমন, বিদ্যালয়ে আমাদের ক্লাসরুমগুলো শিক্ষকের কোনো নির্দেশ ছাড়াই আমরা নিজেরা পরিষ্কার করি।’ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য এক ‘কলিং কার্ড’ জাপান এবার টানা অষ্টম বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। আর প্রতিবারই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের সমর্থকদের এই পরিচ্ছন্নতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের একটি অনন্য পরিচিতি বা ‘কলিং কার্ড’ হয়ে উঠেছে। রবিবারের ম্যাচের পর জাপানিদের এই কর্মযজ্ঞ দেখে মুগ্ধ হয়ে হাত মেলালেন প্রতিপক্ষ ডাচ সমর্থকরাও। এমনকি এনএফএল কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টনকেও নিজের নাম
লেখা জাপানের নীল জার্সি গায়ে দিয়ে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। জাপানি সমর্থক ফুতো হাগিওয়ারা জানান, তার দেশের মানুষের এই আচরণ যে বিশ্বব্যাপী ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, এতে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সংস্কৃতি। এর মানে হলো আমরা যেখানেই যাব, নিজেদের ব্যবহারের পর সেই জায়গা পরিষ্কার করতে হবে। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক পথ ও মনোভাব।’ সামাজিক দায়বদ্ধতা নাকি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি? সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক মাসাচি ওসাওয়ার মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং চারপাশের মানুষের পরোক্ষ চাপের (পিয়ার প্রেশার) একটি মিশ্রণ কাজ করে সমর্থকদের এই আচরণের পেছনে। তিনি বলেন, ‘জাপানিরা সাধারণত বড় পরিসরের বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে খুব একটা মাথা না ঘামালেও, ছোট পরিসরের নৈতিকতার বিষয়ে
অত্যন্ত সংবেদনশীল। যখন এমন মানুষদের কথা আসে যাদের সঙ্গে তারা একই স্থান ভাগাভাগি করছেন, তখন তারা তাদের কোনো সমস্যায় না ফেলার তীব্র তাগিদ অনুভব করেন।’ ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক স্কট নর্থ জানান, জাপানি সমাজে এই দলগত আচরণ খুব স্বাভাবিক। নেতারা যখন ব্যাগ বের করে বলেন “এই নিন শুরু করুন”, তখন কেউ না বলতে পারে না। সমাজবিজ্ঞানী ওসাওয়া এই আচরণটিকে জাপানিদের একটি বিশেষ প্রবাদ—’আবহাওয়া বোঝা’ বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা (রিডিং দ্য এয়ার) দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, জাপানে যদি একজন মানুষও ময়লা কুড়ানো শুরু করেন, তবে তার চারপাশের মানুষ অনুভব করেন যে তাদেরও এতে যোগ না দিয়ে উপায় নেই। জীবনের পাঠশালা জাপানি
শিক্ষাব্যবস্থায় একদম ছোটবেলা থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শিক্ষার একটি প্রধান অংশ। সেখানে প্রতিদিন শিশুদের বিদ্যালয়ের মেঝে এবং টেবিল মুছতে দেখা যায়। উপরন্তু, জাপানে জনসম্মুখে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন খুব একটা দেখা যায় না, ফলে মানুষ সাধারণত নিজেদের ময়লা বাড়িতে নিয়ে আসতেই অভ্যস্ত। কারণ যাই হোক না কেন, জাপান যত দিন এই টুর্নামেন্টে থাকবে, মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি গ্যালারির এই পরিচ্ছন্নতার উৎসবও যে চলবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী শনিবার মেক্সিকোতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ। সমর্থক হাগিওয়ারা নিজে উদাহরণ তৈরি করে এভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পেরে ভীষণ খুশি। বিদায়বেলায় তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘আমরা সাধারণত শিশুদের বলি না যে তাদের এটি করা উচিত। আমরা কেবল
আমাদের কাজ ও আচরণ প্রদর্শন করি, আর অন্য মানুষ আমাদের অনুসরণ করে।’
থাকার গল্প ২-২ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে যখন সাধারণ দর্শকরা মাঠ ছাড়তে ব্যস্ত, তখন গ্যালারিতে থেকে গেলেন জাপানি সমর্থকরা। পুরো স্টেডিয়াম যেন তারা আসার সময়ের মতোই পরিচ্ছন্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সব আবর্জনা কুড়াতে শুরু করেন। প্রতিটি পানির বোতল, কাগজের টুকরো পরম যত্নে তুলে নিয়ে নীল রঙের প্লাস্টিক ব্যাগে ভরতে দেখা যায় তাদের। এই অভ্যাসটি তারা কোনো বাহবা পাওয়ার জন্য করেননি, বরং এটি তাদের একদম প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শেখা আজীবনের অভ্যাস। ২০ বছর বয়সী জাপানি সমর্থক এইতা তানাকা এএফপি-কে বলেন, ‘আমাদের সবার কথা চিন্তা করতে হয়।’ গায়ে জাপানের সেই ঐতিহ্যবাহী নীল জার্সি জড়ানো তানাকা হাতের কাপগুলো ব্যাগে
ভরতে ভরতে আরও বলেন, ‘জাপানিদের ধারণা হলো, আমরা যখন কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ব্যবহার করব, তখন সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার সময় জায়গাটিকে আসার সময়ের চেয়েও বেশি পরিচ্ছন্ন করে রেখে যেতে হবে। আমাদের এমনটাই শেখানো হয়েছে। যেমন, বিদ্যালয়ে আমাদের ক্লাসরুমগুলো শিক্ষকের কোনো নির্দেশ ছাড়াই আমরা নিজেরা পরিষ্কার করি।’ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনন্য এক ‘কলিং কার্ড’ জাপান এবার টানা অষ্টম বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। আর প্রতিবারই মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের সমর্থকদের এই পরিচ্ছন্নতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের একটি অনন্য পরিচিতি বা ‘কলিং কার্ড’ হয়ে উঠেছে। রবিবারের ম্যাচের পর জাপানিদের এই কর্মযজ্ঞ দেখে মুগ্ধ হয়ে হাত মেলালেন প্রতিপক্ষ ডাচ সমর্থকরাও। এমনকি এনএফএল কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টনকেও নিজের নাম
লেখা জাপানের নীল জার্সি গায়ে দিয়ে এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে। জাপানি সমর্থক ফুতো হাগিওয়ারা জানান, তার দেশের মানুষের এই আচরণ যে বিশ্বব্যাপী ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, এতে তিনি গর্বিত। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের সংস্কৃতি। এর মানে হলো আমরা যেখানেই যাব, নিজেদের ব্যবহারের পর সেই জায়গা পরিষ্কার করতে হবে। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক পথ ও মনোভাব।’ সামাজিক দায়বদ্ধতা নাকি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি? সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক মাসাচি ওসাওয়ার মতে, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং চারপাশের মানুষের পরোক্ষ চাপের (পিয়ার প্রেশার) একটি মিশ্রণ কাজ করে সমর্থকদের এই আচরণের পেছনে। তিনি বলেন, ‘জাপানিরা সাধারণত বড় পরিসরের বৈশ্বিক সমস্যাগুলো নিয়ে খুব একটা মাথা না ঘামালেও, ছোট পরিসরের নৈতিকতার বিষয়ে
অত্যন্ত সংবেদনশীল। যখন এমন মানুষদের কথা আসে যাদের সঙ্গে তারা একই স্থান ভাগাভাগি করছেন, তখন তারা তাদের কোনো সমস্যায় না ফেলার তীব্র তাগিদ অনুভব করেন।’ ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক স্কট নর্থ জানান, জাপানি সমাজে এই দলগত আচরণ খুব স্বাভাবিক। নেতারা যখন ব্যাগ বের করে বলেন “এই নিন শুরু করুন”, তখন কেউ না বলতে পারে না। সমাজবিজ্ঞানী ওসাওয়া এই আচরণটিকে জাপানিদের একটি বিশেষ প্রবাদ—’আবহাওয়া বোঝা’ বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা (রিডিং দ্য এয়ার) দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, জাপানে যদি একজন মানুষও ময়লা কুড়ানো শুরু করেন, তবে তার চারপাশের মানুষ অনুভব করেন যে তাদেরও এতে যোগ না দিয়ে উপায় নেই। জীবনের পাঠশালা জাপানি
শিক্ষাব্যবস্থায় একদম ছোটবেলা থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শিক্ষার একটি প্রধান অংশ। সেখানে প্রতিদিন শিশুদের বিদ্যালয়ের মেঝে এবং টেবিল মুছতে দেখা যায়। উপরন্তু, জাপানে জনসম্মুখে ময়লা ফেলার ডাস্টবিন খুব একটা দেখা যায় না, ফলে মানুষ সাধারণত নিজেদের ময়লা বাড়িতে নিয়ে আসতেই অভ্যস্ত। কারণ যাই হোক না কেন, জাপান যত দিন এই টুর্নামেন্টে থাকবে, মাঠের ফুটবলের পাশাপাশি গ্যালারির এই পরিচ্ছন্নতার উৎসবও যে চলবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী শনিবার মেক্সিকোতে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ। সমর্থক হাগিওয়ারা নিজে উদাহরণ তৈরি করে এভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পেরে ভীষণ খুশি। বিদায়বেলায় তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘আমরা সাধারণত শিশুদের বলি না যে তাদের এটি করা উচিত। আমরা কেবল
আমাদের কাজ ও আচরণ প্রদর্শন করি, আর অন্য মানুষ আমাদের অনুসরণ করে।’



