বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস ডিল? ইইউ রাষ্ট্রদূতের চাপ; রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে আর কতো ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আরও খবর

সকালে কাজে এসে দেখলেন চাকরি নেইঃ গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানায় ‘গণছাঁটাই’ হলেন ৬১৩ শ্রমিক

ভেনিসে বাঁধন-কে হেনস্তাকারী ইতালিপ্রবাসী মনিরুলের বাড়িতে মব নিয়ে হাজির মবহোতা আয়াস, তথ্যদাতা আলজাজিরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে রহস্যময় কর্মকান্ড থামছেই না; এবার পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসে অগ্নিকাণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি ক্ষতিগ্রস্ত

গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার নামে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার

রাজশাহী-কলকাতা নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ

রোগ সারাতে এসে আরো অসুস্থ হওয়ার শংকায় রোগীরা: আনোয়ারায় লোডশেডিং ও তেলের অভাবে বেহাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

সার সংকট ঘিরে উত্তরাঞ্চলে অস্থিরতা: গুদাম লুট, সড়ক অবরোধ, মজুতদার গ্রেপ্তার

বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাস ডিল? ইইউ রাষ্ট্রদূতের চাপ; রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে আর কতো ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে একের পর এক ছাড় দেওয়ার পর এবার বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে—ইইউ বাজারে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশকে এবার ঠিক কী কী শর্ত মেনে নিতে হবে? রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারসহ ইইউভুক্ত ২৭টি সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে

ইইউর কাছে আনুষ্ঠানিক আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলো খুঁজে দেখার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইইউর ২৭টি সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন। মন্ত্রী জানান, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এই সমর্থন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর দুই পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে। শুধু শুল্ক নয়—মানবাধিকার, মেধাস্বত্ব ও সরকারি ক্রয়ও আলোচনায় সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

দিয়েছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে এফটিএ হলে তা কেবল শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—ই-কমার্স, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা, মানবাধিকারসহ সীমান্তের বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ও এতে যুক্ত হবে। ইইউ সাধারণত তার বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চাভিলাষী পরিসরের চুক্তি করে থাকে। তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখলেই উভয় পক্ষ লাভবান হবে। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ইইউর উত্থাপিত মোট ৬১টি নন-ট্যারিফ বাধার মধ্যে ৪৮টিই ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশি লজিস্টিকস কোম্পানির

নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্যের নমুনা আনার সীমা ১০ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা। তবে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের ৫০ শতাংশ পরিবহনের আইনি বাধ্যবাধকতার মতো কিছু বাধা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পটভূমি: ১৩১টি শর্তের বিনিময়ে যা মিলেছে এই এফটিএ আলোচনার প্রেক্ষাপট বোঝার জন্য ফিরে তাকাতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির দিকে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে, ৯ ফেব্রুয়ারি মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড) সই করে। এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ছিল ১৩১টি শর্ত, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাত্র ছয়টি। চুক্তিটি এখনো কার্যকর না হলেও

তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে একের পর এক বড় অঙ্কের ক্রয়ে সায় দিয়েছে বর্তমান সরকার। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি ক্রয় এবং বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এসব ক্রয় কোনো চাপের ফল নয়, বরং ‘ভালো অফার’ বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত। সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইইউ বাজার ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইইউতে প্রায় ১৯.৪১ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে এই রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইইউর সঙ্গে ব্যাপক পরিসরের এফটিএ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে শুধু শুল্ক নয়, মানবাধিকার, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও

সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার মতো বিষয়ও আলোচনার টেবিলে উঠবে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ইইউ’এ সাথে সম্পর্কন্নয়ন ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্পর্কের একটি সমান্তরাল প্রসঙ্গ হলো ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ও উড়োজাহাজ নির্মাতাদের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান ও বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা। আওয়ামী লীগ আমলে ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আওতায় ইউরোফাইটার টাইফুন ও রাফালেসহ ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে দরপত্র আহ্বান এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য, ইতালি ও ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফর মূলত রাফায়েল-ইউরোফাইটার প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১০ সেপ্টেম্বর তিনি নয়াদিল্লির জি-২০ সম্মেলন থেকে সরাসরি ঢাকায় আসেন, যা তেত্রিশ বছর পর কোনো ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধানের বাংলাদেশ সফর। ম্যাক্রোঁ সফরকে

ইন্দো-প্যাসিফিক কাঠামোয় উপস্থাপন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে বলেন, ফ্রান্স এ অঞ্চলের দেশগুলোকে আমেরিকা ও চীনের প্রভাবের বাইরে একটি ‘তৃতীয় পথ’ দিতে চায়। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বা প্যাক্ট ছিল না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সম্ভাব্য সামরিক হার্ডওয়্যার আলোচনার একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপের শুরু ছিলো মাত্র, যা ২০২৪ এর আগস্টে সরকার পতনের পরে বাধাগ্রস্থ হয়। আজকের সংবাদ সম্মেলনে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশকে সরাসরি এয়ারবাসের প্রস্তাব বিবেচনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এয়ারবাসের একটি প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে এবং এটিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। সরকারি ক্রয় সিদ্ধান্তে সব দেশের কোম্পানির জন্য সমান সুযোগের দাবিও জানান তিনি। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১৩১ শর্তের বাণিজ্য চুক্তি এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি ও বোয়িং ক্রয়ের ধারাবাহিকতার পর, এবার সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার ইইউর পক্ষ থেকেও একই ধরনের বার্তা আসতে শুরু করেছে—বাণিজ্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হলে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিও ‘সমান বিবেচনা’ দেখাতে হবে। ইইউর সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা যতই এগোবে, ততই স্পষ্ট হতে থাকবে যে রপ্তানি বাজার টিকিয়ে রাখার বিনিময়ে ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ছাড় দিতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কেরানীগঞ্জে গৃহবধূকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিরুদ্ধে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ব্যার্থ ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফঃ রাজধানীতে হমলা বন্ধে সম্মতি; চূড়ান্ত সমাধান এখনো অধরা সকালে কাজে এসে দেখলেন চাকরি নেইঃ গাজীপুরে কেয়া গ্রুপের ৪ কারখানায় ‘গণছাঁটাই’ হলেন ৬১৩ শ্রমিক অক্টোবরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ ভেনিসে বাঁধন-কে হেনস্তাকারী ইতালিপ্রবাসী মনিরুলের বাড়িতে মব নিয়ে হাজির মবহোতা আয়াস, তথ্যদাতা আলজাজিরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘিরে রহস্যময় কর্মকান্ড থামছেই না; এবার পরমাণু শক্তি কমিশন অফিসে অগ্নিকাণ্ড, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও নথি ক্ষতিগ্রস্ত গোপালগঞ্জে কনসার্টে শেখ হাসিনার নামে স্লোগান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আয়োজক গ্রেপ্তার মৃত্যুঞ্জয়ী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন-ই—প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকা হয়ে রাজশাহী-কলকাতা নতুন ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ নোয়াখালীতে পাইপগান-কার্তুজ ও চাপাতিসহ যুবদল নেতা গ্রেপ্তার রোগ সারাতে এসে আরো অসুস্থ হওয়ার শংকায় রোগীরা: আনোয়ারায় লোডশেডিং ও তেলের অভাবে বেহাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছেলে ছাত্রলীগ করায় ঘরে ঢুকে মাকে কুপিয়ে হত্যা, মহেশখালীতে আতঙ্ক ইউসিএল ২০২৬-২৭: চ্যাম্পিয়নস লিগের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও নতুন নিয়ম মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিখোঁজ যুবকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার: পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পরিবারের নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুন, লুট হলো ৬ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৬ লাখ টাকা সার সংকট ঘিরে উত্তরাঞ্চলে অস্থিরতা: গুদাম লুট, সড়ক অবরোধ, মজুতদার গ্রেপ্তার যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে একজন নিহত, আরেকজন আহত খলিলকে নিউইয়র্কে পাঠিয়ে হুমায়ুনের বিরুদ্ধে রিফ্রেশ-রুম দখলের অভিযোগ আসিয়ান কাপের আগে ফুটবলারদের চোটের ঝুঁকি নিয়ে ডুলির শঙ্কা পাকিস্তানের কোচ হতে ভয় পান মুশতাক