ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পে স্কেল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে যা জানালেন মন্ত্রী
এমআরটি-৫-এর পর এবার লাইন-১-এর ব্যয় বৃদ্ধি ১৩০ শতাংশ: রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় ছুঁইছুঁই
এলএনজি ক্রয়ে লেজেগোবরে অবস্থা, অপরিকল্পিত লাখ লাখ ডলার খরচ কিন্তু কাটছে না গ্যাস সংকট
‘মববাজদের’ সাথে ছাত্রদল ২ বছর সহনশীল ছিল: মানসুরা আলম
আইসিস-সংশ্লিষ্ট আসিফ আদনান ঢাবি মঞ্চে: ‘বিএনপি নেতার ছেলে’ হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে
ঢাকার সড়কে নামছে ‘পিংক’ বাস, চালক-কন্ডাক্টর নারী
কাঠমান্ডুতে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি: বিকল্প ফ্লাইটে ফিরছেন ১২৭ যাত্রী
১৯৭১-এর ‘অপারেশন জ্যাকপট’ স্মরণে নৌ কমান্ডারদের সংবর্ধনা দিলো স্মৃতি ৭১ ও রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম সাহসী ও সফল গেরিলা অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এর স্মৃতিচারণ এবং এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত নৌ কমান্ডোদের সংবর্ধনা প্রদানের মধ্য দিয়ে আজ রাজধানীর রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ স্মরণানুষ্ঠান। ‘স্মৃতি একাত্তর’ ও রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার যৌথ উদ্যোগে, ‘১৯৭১ আওয়ার প্রাইড’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অপারেশন জ্যাকপটের প্রবীণ যোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধা, অতিথি ও সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক এই নৌ অভিযানকে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় সোভিয়েত নাবিক ইউরি রেদকিনকে, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণ ও ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধার কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন।
অপারেশন জ্যাকপট: মুক্তিযুদ্ধের এক ঐতিহাসিক অধ্যায়
১৯৭১ সালের
মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ খাতে পরিচালিত সবচেয়ে সফল ও সাহসী অভিযান হিসেবে পরিচিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’। মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন পিএনএস মাংরো থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে আসা আটজন বাঙালি নাবিককে কেন্দ্র করে, যারা তখন ফ্রান্সের তুলোঁ বন্দরে অবস্থানরত ছিলেন। পরবর্তীতে আরও অনেক নৌসেনা ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এই বাহিনীতে যুক্ত হন। পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ: অপারেশনটির পরিকল্পনা করা হয় ১৯৭১ সালের মে মাসে ভারতে। নির্বাচিত কমান্ডোদের প্রায় দুই মাস ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নদীয়ার পলাশীর অম্বাগানে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক কমান্ডোকে দেওয়া হয় একটি করে লিমপেট মাইন, একটি ছুরি, এক জোড়া সাঁতারের ফিন ও কিছু শুকনো খাবার; প্রতি তিনজনের জন্য
একটি স্টেনগান এবং কমান্ডারদের দেওয়া হয় একটি করে ট্রানজিস্টর রেডিও। সাংকেতিক বার্তা: অভিযান শুরুর সংকেত হিসেবে কলকাতা আকাশবাণী বেতার থেকে সান্ধ্য ও প্রাতঃকালীন সংবাদের পর দুটি নির্দিষ্ট গান সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৩ আগস্ট প্রচারিত হয় প্রথম গান “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান”, আর ১৫ আগস্ট প্রচারিত হয় দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত সংকেত-গান “আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি”—যার অর্থ ছিল, সেই রাতেই অভিযান পরিচালিত হবে। অভিযানের রাত: ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের পর, অর্থাৎ ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একযোগে এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (বীর উত্তম)-এর নেতৃত্বে ৬০ জন কমান্ডোর
একটি দল অভিযানে অংশ নেয়, যদিও বাস্তবে তিনটি দলের মধ্যে একটি দল করাচি পৌঁছাতে না পারায় মোট ৩৭ জন কমান্ডো সরাসরি হামলায় অংশ নেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এই নৌ-অভিযান পরিচালিত হয়। রাত পৌনে দুইটা নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে একের পর এক বিস্ফোরণে। এতে ডুবে যায় পাকিস্তানের এমভি হারমুজ ও এমভি আল-আব্বাসসহ বন্দরে নোঙর করা একাধিক জাহাজ ও বার্জ। এমভি হারমুজ ও এমভি আল-আব্বাসে তখন যথাক্রমে প্রায় ৯,৯১০ ও ১০,৪১৮ টন করে সমরাস্ত্র মজুত ছিল। অন্যদিকে মংলা বন্দরে সাবমেরিনার আহসানউল্লাহ (বীর প্রতীক)-এর নেতৃত্বে ৪৮ জন নৌ-কমান্ডো অভিযান চালিয়ে বন্দরে নোঙর করা ৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেন। একইরাতে চাঁদপুর
ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরেও একযোগে হামলা চালানো হয়। ফলাফল ও তাৎপর্য: একাধিক সূত্রমতে, এই একক অভিযানেই প্রায় ১৭৬ জন কমান্ডো মিলে এক ঘণ্টার মধ্যে ৪৪ হাজার ৫০০ টনের বেশি সামরিক সরঞ্জাম ডুবিয়ে দেন এবং প্রায় ১৪ হাজার টন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেন, আর পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানে মোট এক লাখ টনের বেশি সরঞ্জাম ডুবিয়ে দেওয়া এবং ৫০ হাজার টনের বেশি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করা হয়। এই সফল অভিযানের ফলে পাকিস্তান সরকারের এই মিথ্যা প্রচারণা ভেঙে পড়ে যে অধিকৃত বাংলাদেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমে এই সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর কোনো বিদেশি জাহাজ আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরে নোঙর করতে রাজি
হয়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রচার পায় এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নৌপথে সমরসম্ভার সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ে। এই অভিযানের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে অনেক নৌ-কমান্ডোকে বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত করা হয়। অপারেশনের প্রধান নেতৃত্বদানকারী আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর পদে উন্নীত হন এবং নৌ গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের বার্তা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের দায়িত্বরত পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। অনুষ্ঠান শেষে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মিস খ্লেভনই বাংলাদেশি নৌ কমান্ডোদের অসাধারণ সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের
গুরুত্বের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও তিনি স্মরণ করেন। পোস্টে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পাঠ করা হয়, যেখানে চট্টগ্রামে বিপজ্জনক মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নেওয়া সোভিয়েত নাবিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার জানায়, ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে সোভিয়েত মাইন অপসারণ ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারানো ইউরি রেদকিনের আত্মত্যাগ সোভিয়েত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। সংবর্ধিত হলেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ যোদ্ধাকে তাদের অবদান ও সেবার জন্য স্মারক ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধিতরা হলেন—এ ডব্লিউ চৌধুরী, আবিদুর রহমান, সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান এবং আব্দুল গফুর ও মোমিন উল্লাহ পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবীণ যোদ্ধারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের ১৫-১৬ আগস্ট রাতের সেই দুঃসাহসিক অভিযানের কথা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, প্রদর্শিত হয় একটি প্রামাণ্যচিত্র, ইউরি রেদকিনের স্মরণে মরণোত্তর শ্রদ্ধা জানানো হয়, পরিবেশিত হয় অপারেশন জ্যাকপটের সাংকেতিক গানগুলো এবং প্রবীণ যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধে নৌ খাতে পরিচালিত সবচেয়ে সফল ও সাহসী অভিযান হিসেবে পরিচিত ‘অপারেশন জ্যাকপট’। মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত পাকিস্তান নৌবাহিনীর সাবমেরিন পিএনএস মাংরো থেকে বিদ্রোহ করে বেরিয়ে আসা আটজন বাঙালি নাবিককে কেন্দ্র করে, যারা তখন ফ্রান্সের তুলোঁ বন্দরে অবস্থানরত ছিলেন। পরবর্তীতে আরও অনেক নৌসেনা ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এই বাহিনীতে যুক্ত হন। পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ: অপারেশনটির পরিকল্পনা করা হয় ১৯৭১ সালের মে মাসে ভারতে। নির্বাচিত কমান্ডোদের প্রায় দুই মাস ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় নদীয়ার পলাশীর অম্বাগানে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেক কমান্ডোকে দেওয়া হয় একটি করে লিমপেট মাইন, একটি ছুরি, এক জোড়া সাঁতারের ফিন ও কিছু শুকনো খাবার; প্রতি তিনজনের জন্য
একটি স্টেনগান এবং কমান্ডারদের দেওয়া হয় একটি করে ট্রানজিস্টর রেডিও। সাংকেতিক বার্তা: অভিযান শুরুর সংকেত হিসেবে কলকাতা আকাশবাণী বেতার থেকে সান্ধ্য ও প্রাতঃকালীন সংবাদের পর দুটি নির্দিষ্ট গান সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৩ আগস্ট প্রচারিত হয় প্রথম গান “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান”, আর ১৫ আগস্ট প্রচারিত হয় দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত সংকেত-গান “আমার পুতুল আজকে প্রথম যাবে শ্বশুরবাড়ি”—যার অর্থ ছিল, সেই রাতেই অভিযান পরিচালিত হবে। অভিযানের রাত: ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের পর, অর্থাৎ ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে একযোগে এই দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরে সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী (বীর উত্তম)-এর নেতৃত্বে ৬০ জন কমান্ডোর
একটি দল অভিযানে অংশ নেয়, যদিও বাস্তবে তিনটি দলের মধ্যে একটি দল করাচি পৌঁছাতে না পারায় মোট ৩৭ জন কমান্ডো সরাসরি হামলায় অংশ নেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এই নৌ-অভিযান পরিচালিত হয়। রাত পৌনে দুইটা নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে একের পর এক বিস্ফোরণে। এতে ডুবে যায় পাকিস্তানের এমভি হারমুজ ও এমভি আল-আব্বাসসহ বন্দরে নোঙর করা একাধিক জাহাজ ও বার্জ। এমভি হারমুজ ও এমভি আল-আব্বাসে তখন যথাক্রমে প্রায় ৯,৯১০ ও ১০,৪১৮ টন করে সমরাস্ত্র মজুত ছিল। অন্যদিকে মংলা বন্দরে সাবমেরিনার আহসানউল্লাহ (বীর প্রতীক)-এর নেতৃত্বে ৪৮ জন নৌ-কমান্ডো অভিযান চালিয়ে বন্দরে নোঙর করা ৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেন। একইরাতে চাঁদপুর
ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরেও একযোগে হামলা চালানো হয়। ফলাফল ও তাৎপর্য: একাধিক সূত্রমতে, এই একক অভিযানেই প্রায় ১৭৬ জন কমান্ডো মিলে এক ঘণ্টার মধ্যে ৪৪ হাজার ৫০০ টনের বেশি সামরিক সরঞ্জাম ডুবিয়ে দেন এবং প্রায় ১৪ হাজার টন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করেন, আর পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানে মোট এক লাখ টনের বেশি সরঞ্জাম ডুবিয়ে দেওয়া এবং ৫০ হাজার টনের বেশি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত করার দাবি করা হয়। এই সফল অভিযানের ফলে পাকিস্তান সরকারের এই মিথ্যা প্রচারণা ভেঙে পড়ে যে অধিকৃত বাংলাদেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। বিশ্ব গণমাধ্যমে এই সংবাদ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর কোনো বিদেশি জাহাজ আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরে নোঙর করতে রাজি
হয়নি। ফলে মুক্তিযুদ্ধ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রচার পায় এবং পাকিস্তানি বাহিনীর নৌপথে সমরসম্ভার সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত পঙ্গু হয়ে পড়ে। এই অভিযানের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পরবর্তীতে অনেক নৌ-কমান্ডোকে বীরত্বসূচক খেতাবে ভূষিত করা হয়। অপারেশনের প্রধান নেতৃত্বদানকারী আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী পরবর্তীতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর পদে উন্নীত হন এবং নৌ গোয়েন্দা পরিদপ্তরের পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের বার্তা অনুষ্ঠানে যুক্ত হন রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের দায়িত্বরত পরিচালক মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনই। অনুষ্ঠান শেষে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মিস খ্লেভনই বাংলাদেশি নৌ কমান্ডোদের অসাধারণ সাহসিকতার কথা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের
গুরুত্বের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জনগণের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও তিনি স্মরণ করেন। পোস্টে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দর গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বার্তা পাঠ করা হয়, যেখানে চট্টগ্রামে বিপজ্জনক মাইন অপসারণ অভিযানে অংশ নেওয়া সোভিয়েত নাবিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। রাশিয়ান কালচারাল সেন্টার জানায়, ১৯৭৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে সোভিয়েত মাইন অপসারণ ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারানো ইউরি রেদকিনের আত্মত্যাগ সোভিয়েত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। সংবর্ধিত হলেন পাঁচ মুক্তিযোদ্ধা অনুষ্ঠানে উপস্থিত পাঁচজন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ যোদ্ধাকে তাদের অবদান ও সেবার জন্য স্মারক ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধিতরা হলেন—এ ডব্লিউ চৌধুরী, আবিদুর রহমান, সৈয়দ আহমেদ মজুমদার, প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান এবং আব্দুল গফুর ও মোমিন উল্লাহ পাটোয়ারী। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবীণ যোদ্ধারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের ১৫-১৬ আগস্ট রাতের সেই দুঃসাহসিক অভিযানের কথা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়, প্রদর্শিত হয় একটি প্রামাণ্যচিত্র, ইউরি রেদকিনের স্মরণে মরণোত্তর শ্রদ্ধা জানানো হয়, পরিবেশিত হয় অপারেশন জ্যাকপটের সাংকেতিক গানগুলো এবং প্রবীণ যোদ্ধাদের সঙ্গে একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।



