ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
শেখ হাসিনা সরকারের গড়া মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখলেন তারেক রহমান
আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই একযোগে ৫৬৫ পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, কোথায় যাবে অসহায় পরিবারগুলো?
যাত্রীদের অভিযোগ— রাত কাটাচ্ছেন মেঝেতে, খাবার ও চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা
যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা-লুটপাটে গিয়ে জনতার প্রতিরোধে হাত খোয়ানো বিএনপি নেতা কীভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’?
গ্রিস উপকূলে দুই দিনে উদ্ধার ২০২ অভিবাসী, বেশিরভাগই বাংলাদেশি
বঙ্গবন্ধুর প্রেরণার উৎসস্থল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৬ তম জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ভারতের নরেন্দ্র কোম্পানি থেকে ২.৩ টন টিয়ার গ্যাস আমদানি সেনাবাহিনীর
পদ্মা রেলসেতু: কোটি কোটি টাকার সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৭০% অচল
পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে আগামী ১০ই আগস্ট থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে নতুন এক জোড়া ট্রেন। কিন্তু এই যাত্রা শুরুর ঠিক আগে রেলপথটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সংশয়। কারণ, প্রযুক্তিনির্ভর এই রেলপথের সিগন্যাল ব্যবস্থার কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে চুরি হয়ে আসছে, যার ফলে আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই এখন অকার্যকর।
স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে ফোন ও লিখিত নির্দেশনা নির্ভর শত বছরের পুরনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেই চালাতে হচ্ছে ট্রেন, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
গতকাল সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পদ্মা সেতু রেলসংযোগের মাওয়া, শ্রীনগর ও নিমতলা স্টেশন এলাকার আধুনিক
সিগন্যাল ব্যবস্থায় নানা জটিলতা বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কেবল, দ্রুতগামী ট্রেন নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা উপকরণ চুরি হয়েছে দফায় দফায়। এর ফলে কোনো লাইনেই আধুনিক ইন্টারলকিং সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার পূর্ণ সুবিধা মিলছে না। আধুনিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই এখন অচল। এ বিষয়ে মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চারটি লাইনের মধ্যে বর্তমানে দুটি লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চুরির কারণে আধুনিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল কাজ না করায় ট্রেনের অবস্থান নিশ্চিত করতে
ফোনে যোগাযোগ ও চালকদের লিখিত নির্দেশনা দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।’ রেলসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সিগন্যাল ব্যবস্থা শুধু ট্রেন চলাচলের দিকনির্দেশনা দেয় না, বরং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা স্তম্ভও এটি। এমনকি একটি ছোট যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে গেলেও গোটা রেল পরিচালনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা তারেক রহমানের ভাষায়, ‘দেশের অন্যতম আধুনিক এ রেল প্রকল্পে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দুর্বলতা যাত্রীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’ উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে আগামী ১০ই আগস্ট থেকে যাত্রা শুরু করবে নতুন কমিউটার ট্রেন ‘অভিযাত্রী’। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, ট্রেনটির নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫/১৩৬, থাকবে আটটি কোচ ও মোট ৬০৯টি আসন। প্রাথমিক সময়সূচি
অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে গোপালগঞ্জ পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে, আর ফেরার পথে গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ট্রেনটি যাত্রাপথে থামবে কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা ও মহেশপুর স্টেশনে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নতুন ট্রেন চালুর আগে রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কতটা প্রস্তুত? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেলপথের প্রায় সব জায়গাতেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিগন্যাল সরঞ্জামের সুরক্ষায় খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে। এতে চুরির ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে কয়েক দফায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ
চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ চলছে। তবে চুরি একটি চলমান প্রক্রিয়া হয়ে ওঠায় এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। সিগন্যাল ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। যাত্রী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে রেল পরিচালনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরি ও জনবল সংকটের কারণে নিমতলা ও শ্রীনগর স্টেশনে অস্থায়ী লোকবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবলও বাড়ানো হবে।’ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সংকটের পাশাপাশি পদ্মা রেলসংযোগ এলাকায় জননিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। গত দুই বছরে মুন্সিগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অন্তত আটজন পথচারীর মৃত্যু
হয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। মোট নয়টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রেললাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রমের অভাবেই ঝুঁকি বাড়ছে দিনে দিনে। বিশেষত মাওয়া, শ্রীনগর ও নিমতলা এলাকায় রেললাইনে মানুষের অবাধ চলাচল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে নিমতলা ও শ্রীনগর স্টেশন দুটি পুরো সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তি এসব যন্ত্রাংশ চুরি করছে। এগুলো দেশের সম্পদ; রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। প্রতিটি সিগন্যাল বাতির সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ বা আনসার মোতায়েন করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় জনগণকে সচেতন হয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে
সহযোগিতা করতে হবে।’
সিগন্যাল ব্যবস্থায় নানা জটিলতা বিরাজ করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কেবল, দ্রুতগামী ট্রেন নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা উপকরণ চুরি হয়েছে দফায় দফায়। এর ফলে কোনো লাইনেই আধুনিক ইন্টারলকিং সিস্টেম বা স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থার পূর্ণ সুবিধা মিলছে না। আধুনিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই এখন অচল। এ বিষয়ে মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘চারটি লাইনের মধ্যে বর্তমানে দুটি লাইন ব্যবহার করে ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। চুরির কারণে আধুনিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রায় ৭০ শতাংশই অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সিগন্যাল ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল কাজ না করায় ট্রেনের অবস্থান নিশ্চিত করতে
ফোনে যোগাযোগ ও চালকদের লিখিত নির্দেশনা দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে।’ রেলসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সিগন্যাল ব্যবস্থা শুধু ট্রেন চলাচলের দিকনির্দেশনা দেয় না, বরং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা স্তম্ভও এটি। এমনকি একটি ছোট যন্ত্রাংশ অকেজো হয়ে গেলেও গোটা রেল পরিচালনায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা তারেক রহমানের ভাষায়, ‘দেশের অন্যতম আধুনিক এ রেল প্রকল্পে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দুর্বলতা যাত্রীদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’ উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে আগামী ১০ই আগস্ট থেকে যাত্রা শুরু করবে নতুন কমিউটার ট্রেন ‘অভিযাত্রী’। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, ট্রেনটির নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫/১৩৬, থাকবে আটটি কোচ ও মোট ৬০৯টি আসন। প্রাথমিক সময়সূচি
অনুযায়ী প্রতিদিন বেলা ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে গোপালগঞ্জ পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে, আর ফেরার পথে গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। ট্রেনটি যাত্রাপথে থামবে কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা ও মহেশপুর স্টেশনে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—নতুন ট্রেন চালুর আগে রেলপথের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আদৌ কতটা প্রস্তুত? এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেলপথের প্রায় সব জায়গাতেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিগন্যাল সরঞ্জামের সুরক্ষায় খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে। এতে চুরির ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে কয়েক দফায় কোটি কোটি টাকার যন্ত্রাংশ
চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়া সরঞ্জাম প্রতিস্থাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ চলছে। তবে চুরি একটি চলমান প্রক্রিয়া হয়ে ওঠায় এটি পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। সিগন্যাল ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। যাত্রী নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিয়ে রেল পরিচালনা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরি ও জনবল সংকটের কারণে নিমতলা ও শ্রীনগর স্টেশনে অস্থায়ী লোকবল দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী জনবলও বাড়ানো হবে।’ জেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সংকটের পাশাপাশি পদ্মা রেলসংযোগ এলাকায় জননিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। গত দুই বছরে মুন্সিগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে অন্তত আটজন পথচারীর মৃত্যু
হয়েছে, গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। মোট নয়টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, রেললাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রমের অভাবেই ঝুঁকি বাড়ছে দিনে দিনে। বিশেষত মাওয়া, শ্রীনগর ও নিমতলা এলাকায় রেললাইনে মানুষের অবাধ চলাচল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে নিমতলা ও শ্রীনগর স্টেশন দুটি পুরো সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, ‘কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তি এসব যন্ত্রাংশ চুরি করছে। এগুলো দেশের সম্পদ; রক্ষা করার দায়িত্ব সবার। প্রতিটি সিগন্যাল বাতির সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ বা আনসার মোতায়েন করা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয় জনগণকে সচেতন হয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে
সহযোগিতা করতে হবে।’



