ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
৫০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ৪২% খেলাপি, বাড়ছে বড় ঋণের ঝুঁকি
টানা দুই অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ৩% এর নীচে থাকলেও কোটিপতি বেড়েছে মোট ১৯,৩৫৬ জন
এমআরপির চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয় সিগারেট: বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্বের বাইরে, যাচ্ছে কার পকেটে?
শেয়ারবাজারে বড় ধস, এক সপ্তাহে উধাও ৯ হাজার ৬৩২ কোটি টাকার বাজারমূলধন
ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে মার খাচ্ছে বাংলাদেশ, বিকল্প খুঁজছেন ক্রেতারা
অধিকাংশ সবজি ১০০ টাকার ওপরে: কাঁচা মরিচের ট্রিপল সেঞ্চুরি, বেড়েছে মাছ-ডিম-মুরগির দামও
৩ মাসে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ২০৯ জন
রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিক পতনের মধ্যেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য সরকারের
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতার প্রভাবে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যখন চাপের মুখে, তখনই চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি আয় থেকে বেড়ে চলতি অর্থবছরে তা ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। অর্থাৎ এক বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই হারে সেবা রপ্তানিও বাড়ানোর লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ফলে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট রপ্তানি আয় ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য সরকারের।
রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের
সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মন্ত্রী বলেন, “পণ্যের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে পণ্য রপ্তানি হবে প্রায় ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি হবে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মোট রপ্তানি দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সেবা খাত থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। রপ্তানি খাত গত অর্থবছরজুড়ে প্রত্যাশিত গতি পায়নি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ১৩ শতাংশ কম ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানির
লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। তবে শেষ পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের পতন এড়ানো গেছে। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। এর আগে টানা আট মাস রপ্তানি কমার পর এপ্রিল মাসে কিছুটা প্রবৃদ্ধি এলেও মে মাসে আবার নিম্নমুখী হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতি সত্ত্বেও নতুন অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রপ্তানির ক্ষেত্রে যে মন্দা পরিস্থিতি রয়েছে, আশা করি এই অর্থবছরে আমরা সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে
পারব।” এ বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, সময় কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের সুফল দ্রুত পাওয়া যাবে বলে সরকারের বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার মতো বাস্তবতায় রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ১৫ শতাংশ বাড়ানো কতটা বাস্তবসম্মত, নাকি এটি কেবল উচ্চাভিলাষী ঘোষণা। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। তিনি বলেন, “এখন পলিসি প্রেডিক্টিবিলিটি বেড়েছে। সরকার প্রথম দিন থেকেই
ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছে।” মন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটে শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাড়াতে বিসিকের শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, অব্যবহৃত শিল্প প্লট ব্যবহারে উদ্যোগ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পক্ষে আরও কয়েকটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের কারিগরি পর্যায়ের দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অন্তত আগামী তিন বছর বাজার সুবিধা নিয়ে আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকবে না। এ ছাড়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য,
চলতি বছরেই অন্তত পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ সই হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ যে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার, সেই বার্তা আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচকভাবে পৌঁছাচ্ছে। এর প্রতিফলন আগামী দিনে রপ্তানিতে দেখা যাবে বলে আমরা আশা করছি।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। এরপরও সরকারের বিশ্বাস, এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই চলতি অর্থবছরে ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।
সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চলতি অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মন্ত্রী বলেন, “পণ্যের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জিত হলে পণ্য রপ্তানি হবে প্রায় ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানি হবে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মোট রপ্তানি দাঁড়াবে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে সেবা খাত থেকে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। রপ্তানি খাত গত অর্থবছরজুড়ে প্রত্যাশিত গতি পায়নি। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় পণ্য রপ্তানি আয় প্রায় ১৩ শতাংশ কম ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য পণ্য রপ্তানির
লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। তবে শেষ পর্যন্ত আয় হয়েছে প্রায় ৪৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। অবশ্য অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের পতন এড়ানো গেছে। ওই মাসে রপ্তানি আয় হয় ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি। এর আগে টানা আট মাস রপ্তানি কমার পর এপ্রিল মাসে কিছুটা প্রবৃদ্ধি এলেও মে মাসে আবার নিম্নমুখী হয়। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় পরিস্থিতি সত্ত্বেও নতুন অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রপ্তানির ক্ষেত্রে যে মন্দা পরিস্থিতি রয়েছে, আশা করি এই অর্থবছরে আমরা সেই বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে আসতে
পারব।” এ বিষয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, সময় কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগের সুফল দ্রুত পাওয়া যাবে বলে সরকারের বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার মতো বাস্তবতায় রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ১৫ শতাংশ বাড়ানো কতটা বাস্তবসম্মত, নাকি এটি কেবল উচ্চাভিলাষী ঘোষণা। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কারণে নীতিগত স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। তিনি বলেন, “এখন পলিসি প্রেডিক্টিবিলিটি বেড়েছে। সরকার প্রথম দিন থেকেই
ব্যবসার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছে।” মন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটে শিল্পায়ন ও রপ্তানি বাড়াতে বিসিকের শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ, অব্যবহৃত শিল্প প্লট ব্যবহারে উদ্যোগ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পক্ষে আরও কয়েকটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের কারিগরি পর্যায়ের দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে অন্তত আগামী তিন বছর বাজার সুবিধা নিয়ে আমদানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা থাকবে না। এ ছাড়া কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য,
চলতি বছরেই অন্তত পাঁচটি দেশের সঙ্গে এফটিএ সই হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ যে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার, সেই বার্তা আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচকভাবে পৌঁছাচ্ছে। এর প্রতিফলন আগামী দিনে রপ্তানিতে দেখা যাবে বলে আমরা আশা করছি।” তবে তিনি স্বীকার করেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ, অর্থনৈতিক ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। এরপরও সরকারের বিশ্বাস, এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই চলতি অর্থবছরে ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।



