পদার্থবিজ্ঞানের পর রসায়ন পরীক্ষাতেও বিপর্যয়: ৮ সৃজনশীলের ৪টিতেই ভুল! শিক্ষার্থীদের সাথে এ কেমন তামাশা? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৬ July, ২০২৬

পদার্থবিজ্ঞানের পর রসায়ন পরীক্ষাতেও বিপর্যয়: ৮ সৃজনশীলের ৪টিতেই ভুল! শিক্ষার্থীদের সাথে এ কেমন তামাশা?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৬ July, ২০২৬ |
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের মান নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে ভুল ধরা পড়ার পর এবার রসায়ন দ্বিতীয়পত্রেও একাধিক প্রশ্নে তথ্যগত ও গঠনগত ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়-সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও পরীক্ষার্থীদের দাবি, সৃজনশীল এবং বহুনির্বাচনী—উভয় অংশেই এমন ভুল রয়েছে, যা পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং অনেকের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বোর্ড পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়নে এ ধরনের ভুল শুধু প্রশ্নপ্রণয়ন প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপও বাড়িয়ে তুলছে। প্রশ্নপত্রে মিলেছে যেসব তথ্যগত অসঙ্গতি শিক্ষকদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্নের (II) অংশে বিক্রিয়া থেকে চারটি উৎপাদ পাওয়া গেলেও কোন উৎপাদের ভর ২.৫ গ্রাম, তা

উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন অনুযায়ী জারকের ভর নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৫ নম্বর প্রশ্নে উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ উল্লেখ থাকলেও পরবর্তী ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নে সেটিকে ‘A-পাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একই তথ্যের ভিন্ন উপস্থাপনায় পরীক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। ৬ নম্বর প্রশ্নেও রয়েছে একাধিক অসঙ্গতি। ‘গ’ অংশে ২৫০ মিলিলিটার গ্যাস উৎপন্ন করতে প্রয়োজনীয় মাতৃ যৌগের পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য গ্যাসটির তাপমাত্রা ও চাপ উল্লেখ করা হয়নি। আবার একই প্রশ্নের ‘ঘ’ অংশে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী CO₂ গ্যাসের জন্য Z-এর মান ৪.০ পাওয়া যায়, যা বাস্তব গ্যাসের ধর্ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অন্যদিকে, ৮ নম্বর প্রশ্নের ‘ঘ’ অংশে ‘ভ্যান

ডার ওয়ালস সমীকরণ’-কে ‘আদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি সংজ্ঞাগতভাবে সঠিক নয়। যদিও দেশের কিছু পাঠ্যবইয়েও একই ধরনের ব্যাখ্যা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। শুধু সৃজনশীল অংশ নয়, বহুনির্বাচনী প্রশ্নেও ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনো সঠিক উত্তর নেই বলে দাবি করেছেন বিষয়-সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। তাদের ভাষ্য, পাঠ্যবই অনুযায়ী শুধু ‘iii’ সঠিক হলেও প্রশ্নে সেই উত্তরটি এককভাবে বিকল্প হিসেবে দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষার্থীরা সঠিক উত্তর জানলেও তা নির্বাচন করার সুযোগ পাননি। ‘প্রশ্ন বুঝতেই সময় চলে গেছে’—পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী তানভীর পিয়াল জানান, কয়েকটি প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে তিনি বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

অনেক সময় ব্যয় করেও নিশ্চিত হতে পারেননি কোন তথ্য অনুসরণ করবেন। শেষ পর্যন্ত কিছু প্রশ্ন অনুমানের ভিত্তিতে উত্তর দিতে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিশু খান ফেসবুকে লিখেছেন, আগের পরীক্ষার মতো এবারও হয়তো ভুল প্রশ্নের জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া হবে। তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাবিদদের সতর্কবার্তা, উঠেছে জবাবদিহির প্রশ্ন বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়নের শিক্ষক আরিফ হক বলেন, বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুলের ঘটনা নতুন নয়। তবে এসব ভুল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায়, পরীক্ষার সময় নষ্ট করে এবং মূল্যায়নের ন্যায়সংগত পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন, প্রশ্নপ্রণেতাদের পাশাপাশি কোথাও কোথাও পাঠ্যবই ও সিলেবাসের

অসঙ্গতিও এ ধরনের সমস্যার জন্য দায়ী। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হন মেধাবী শিক্ষার্থীরা। কারণ তারা প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে ভুল বা অস্পষ্ট তথ্য তাদের বেশি সময় নষ্ট করে এবং পরীক্ষার ফলাফলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর আগে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রের প্রশ্নে দুটি বড় ধরনের ভুল স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। রসায়ন দ্বিতীয়পত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, যাচাই ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু ভুলের জন্য অতিরিক্ত নম্বর দেওয়াই যথেষ্ট নয়; ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে আরও

কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর যাচাই-বাছাই এবং জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ব্যাংক হিসাব জব্দের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার বিতর্কে পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট ম্যাককেনা অতিরিক্ত যৌন আবেদনময় দৃশ্যে অভিনয় করতে চান না গ্রিন ডেল্টাসহ দুই কোম্পানির মেরিন কার্গো বিমা বিক্রিতে ৩ মাসের নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার, মামলায় ৪২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩৪২ জন আসামি মিরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেপ্তার, ২০টি ককটেল উদ্ধার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কারখানা বন্ধের ইঙ্গিত মালিকদের ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের পোশাক শ্রমিক নির্যাতন আড়াল করতে পারেনি সরকার, পুলিশি নির্যাতন ও রাজনীতিকরণে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ হামলা বন্ধে সৌদি’র ১ বিলিয়ন ডলার প্রস্তাব; জবাবে হুথিদের ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ ও ইয়েমেনের শাসনভার দাবি জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন জাঙ্গুর সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিন সাফে ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছেই পাত্তা পেল না পাকিস্তান শ্রমিক অসন্তোষে স্থবির দেশের প্রধান রপ্তানি খাত: বড় সংকটের মুখে তৈরি পোশাকশিল্প বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজা ও দাফনে জামায়াত-শিবিরের বাধার ঘটনার প্রতিবাদে শৈলকুপায় মানববন্ধন ইউনূস আমলে হামের টিকার অনিয়ম তদন্তে কমিশন গঠন মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের জের ধরে সাভার ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ ৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই এই অঞ্চলের একাধিক পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন। একপর্যায়ে পুলিশের রক্তচক্ষু ও বাধা উপেক্ষা করে হাজারো শ্রমিক রাজপথে নেমে এলে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়। সকালে সাভার ও আশুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা যথারীতি উপস্থিত হলেও তারা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে কর্মবিরতির ডাক দেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্বিক নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দিলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের জামগড়া, নিশ্চিন্তপুর ও নরসিংহপুর এলাকার একাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। কাঠগড়া এলাকার একটি বিশিষ্ট শিল্পগ্রুপের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় এই অঞ্চলের অধিকাংশ কারখানাতেই ইতিমধ্যে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা ভেতরে থাকলেও তারা উৎপাদন কাজ বন্ধ রেখেছেন। সকাল ১০টার পর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি মোড় নেয় নতুন দিকে। সেখানকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা এক জোট হয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে বাধা দিলে তৈরি হয় মুখোমুখি অবস্থান, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি করে। পরে শ্রমিকেরা পুলিশের সে বাধা তোয়াক্কা না করেই একযোগে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং জামগড়ার দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, পদ্মার মোড় এবং আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের বিভিন্ন কৌশলগত ও সংবেদনশীল পয়েন্টে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভরত শ্রমিকদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সতর্ক টহল দিচ্ছেন। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য পুরো শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ট্রাম্প ত্রিপুরায় বিএসএফের ওপর স্থানীয় বাসিন্দাদের হামলা, ৩ আহত, ৯ গ্রেপ্তার তাহসিফ হত্যায় দীপকে তৃতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন পুলিশের