‘হৃদরোগে’ ২ বছরে কারাবন্দির মৃত্যু ৩৪২, পুলিশ হেফাজতে ৩০: গোপন করা হলো রাজনৈতিক পরিচয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২১ জুলাই, ২০২৬

‘হৃদরোগে’ ২ বছরে কারাবন্দির মৃত্যু ৩৪২, পুলিশ হেফাজতে ৩০: গোপন করা হলো রাজনৈতিক পরিচয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২১ জুলাই, ২০২৬ |
দেশে গত দুই বছরে কারাবন্দি অবস্থায় যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের অধিকাংশই ‘হৃদরোগে’ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে দাবি কারা কর্তৃপক্ষের। মৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে কারা কর্তৃপক্ষ জানাল, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪২ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে পুলিশ হেফাজতেও ঘটেছে অন্তত অর্ধশত ব্যক্তির মৃত্যু। সম্প্রতি দেশের কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে ‘২২৭ কারাবন্দির’ মৃত্যু ঘটেছে। এমন তথ্য সামনে আসার পর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কারা কর্তৃপক্ষের ‘হৃদরোগ’ তত্ত্ব সামনে এলো। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনও দাবি করেন, “অধিকাংশ মৃত্যুই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট থেকে।” তিনি বলেন, “মাদকসেবী বন্দিরা আসেন, এখানে মাদক না পাওয়ার

একটা বিষয় আছে। অনেকেই এই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় ডিপ্রেশনে বা ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েন। এসব কারণে তারা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তাছাড়া চিকিৎসক সংকটও আমাদের বড় সমস্যা।” মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন— এমএসএফ বলেছে, গেল দুই বছরে মারা যাওয়া ২২৭ জনের মধ্যে ৪০ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। আবার আইন ও শালিস কেন্দ্র— আসক রাজনৈতিক দলের পরিচয় উহ্য রেখে বলেছে, প্রায় একই সময়ে কারাবন্দি ১৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষও দলীয় পরিচয় আড়াল করে জানিয়েছে, ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৪২ বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এমএসএফের হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ বছর ৬ই জুলাই পর্যন্ত কারাবন্দি ২২৭ জন ছাড়াও

আরও ৩০ জন মারা যান পুলিশ হেফাজতে। অন্যদিকে ২০২৪ এর আগস্ট থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত আসকের হিসাবে ২২ জন গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে মারা গেছেন। এমএসএফ কারাবন্দিদের ব্যাপারে বলেছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর ওই বছর ৩ জন, ২০২৫ সালে ২২ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ১৫ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। আর এ সময়ে পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন আওয়ামী লীগের ৩ জন। আইন ও শালিস কেন্দ্রের হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৪ জন কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালে ১০৭ জন এবং এ বছর জুন পর্যন্ত ৬১ জন মারা গেছেন। তবে তাদের কোনো দলীয় পরিচয় প্রকাশ করেনি

সংগঠনটি। পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্ত হয়ে থাকে দাবি করেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন। তিনি বলেন, “এ ক্ষেত্রে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্ত করে দেখা হয়। কারো কোনো গাফিলতি থাকলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।” আসক তাদের পরিসংখ্যানে বলছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে ৭ জন এবং একই সময় কারাগারে ২৪ জন মারা গেছেন। ২০২৫ সালে গ্রেপ্তারের পর নির্যাতনে মারা যান ১১ জন এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মারা যান ৪ জন। এ সময়ে কারাবন্দি মারা গেছেন

যথাক্রমে ১০৭ এবং ৫৯ জন। এমএসএফের পরিসংখ্যান হচ্ছে, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৬ই জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন ৩০ জন। আর এই সময়ে কারা হেফাজতে ২২৭ জন। কারা কর্তৃপক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ২০২৪ সালে ১৮৯ জন, ২০২৫ সালে ১৩৬ এবং এ বছর জুলাই পর্যন্ত ১৭ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে তথ্য সংগ্রহ করা হয়ে থাকে উল্লেখ করে এমএসএফ প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান বলেন, “প্রায় প্রতিটি জেলায় আমাদের প্রতিনিধি আছে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য যাচাই করে তারপর আমরা প্রতিবেদন তৈরি করি।” তার ভাষ্য, অনেক ঘটনাই প্রকাশ

পায় না বা জানা যায় না। ফলে যে সংখ্যা প্রকাশিত হয়, হেফাজতে মৃত্যু তার চেয়ে বেশি। বগুড়া কারাগারে থাকা ৫ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু বেশ আলোচিত হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে কারা কর্তৃপক্ষ সে সময় দাবি করেছিল। গত সপ্তাহে কারাগারে বন্দি রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মনির নামে এক যুবলীগ নেতার মৃত্যুর পেছনে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তারা জানান, মনিরের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা দেওয়া হয়। এক একটি মামলায় জামিন পেলেও আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হয়। প্রায় ১৭ মাস ধরে তিনি কারাগারে ছিলেন এবং মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। এছাড়াও তার ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালানো হয়েছে বলে জানান তারা। মানবাধিকারকর্মী নূর খান

লিটন বলেন, “নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর বিষয়টির ব্যাপারে আমরা আশা করেছিলাম ৫ই আগস্টের পর কমে আসবে, আমরা পরিত্রাণ পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এটা কমছে না বরং বেড়ে চলেছে। কমানোর ব্যাপারেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।”

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
দ্বিতীয় বিয়ের আগে যে ৭ বিষয়ের দিকনির্দেশনা দেয় ইসলাম অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মার্তিনেজ? ভারতে অনুমোদন পেল ডেঙ্গু টিকা ‘মার্কিন-ইরান সংঘাতে জড়াতে অনিচ্ছুক ইসরাইল’ আরও ৪ শিশুর প্রাণ গেল, হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৮০০ ছুঁই ছুঁই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে গাইবেন রুনা লায়লা বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষের অনভিপ্রেত নাটকে কাঠগড়ায় আর্জেন্টিনা চাকরির সুপারিশ করা কিশোরীর সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় ধৃত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল, ৫০১-কান্ডের মতো “দ্বিতীয় স্ত্রী” দাবি জেলা জামায়াতের ঢাবিতে জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মেরে গেস্টরুম নিতে রুমে ডাকলেন “মোস্ট সিনিয়র” ইতিহাসকে হারাতে পারবেন কি ট্রাম্প? ইরান যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি এখন অনিশ্চয়তায় ফিট শরীরেও লুকিয়ে থাকতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল অরক্ষিত আকাশ, নীরব কর্তৃপক্ষ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ কমল জিডিপির গতি, শিল্প খাতে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি যে ১০ শ্রেণির মানুষের ওপর রাসুল (সা.)-এর লানত মাদ্রিদে পৌঁছাল বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দল সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরে মিলল শিবির কর্মীর বিবস্ত্র মরদেহ, হ্যাকস ব্লেড ও বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার ‘হৃদরোগে’ ২ বছরে কারাবন্দির মৃত্যু ৩৪২, পুলিশ হেফাজতে ৩০: গোপন করা হলো রাজনৈতিক পরিচয় ২৪ ঘণ্টায় হামে প্রাণ গেল আরও ৫ শিশুর, ৮ শত ছুঁইছুঁই ‘জুলাইয়ের পর প্রথম গুম’, মিরাজ শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারেক সরকারের প্রতি এইচআরডব্লিউ