ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
‘হৃদরোগে’ ২ বছরে কারাবন্দির মৃত্যু ৩৪২, পুলিশ হেফাজতে ৩০: গোপন করা হলো রাজনৈতিক পরিচয়
‘জুলাইয়ের পর প্রথম গুম’, মিরাজ শেখকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তারেক সরকারের প্রতি এইচআরডব্লিউ
বাধ্যতামূলক অবসরে অতিরিক্ত ডিআইজি
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়
আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে: খরচ পদ্মা সেতু ছুঁইছুঁই, একলাফে বাড়ানো হচ্ছে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা
জুলাই২৪ এর ভুয়া মামলায় ফেসে যাচ্ছেন মামলার বাদীরা, প্রশ্নের মুখে জুলাই শহিদ সংখ্যা
সরকারি কর্মচারীদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো থামালো কোন শক্তি?
ইতিহাসকে হারাতে পারবেন কি ট্রাম্প? ইরান যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি এখন অনিশ্চয়তায়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছিলেন, তা পুরো অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছিল। কিন্তু এরপর থেকে আলোচনা থমকে গেছে, যুদ্ধ ফের শুরু হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং মার্কিন রণতরী আবারও ইরান অবরোধ করেছে। ফরেন পলিসি-তে প্রকাশিত ওয়েক ফরেস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের সিনিয়র ফেলো উইল ওয়ালডর্ফের এক বিশ্লেষণে এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এক মাস আগের আশাবাদ, এখন হতাশা
জুনের মাঝামাঝি প্রকাশিত চুক্তির শর্তে বিতর্ক শুরু হয় সেই সময়েই। সমালোচকদের একাংশ এটিকে দুর্বল চুক্তি বলে অভিহিত করে দাবি করেন, ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।
ওবামা আমলের ইরান পরমাণু চুক্তির সঙ্গে তুলনা করায় ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তুলনা প্রতিহত করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়ে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে দেন, যার জেরে ইরানি প্রতিনিধিদল বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধ শুরু করা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে গিয়ে হতাশাজনকভাবে ব্যর্থতা আড়াল করার এক ক্লাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের ইরান নীতি। চুক্তি কেন ভেঙে পড়ল প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমওইউ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাস পাওয়া, যার কারণে তিনি এমন
কোনো চুক্তি মেনে নিতে রাজি ছিলেন না যা তাকে দুর্বল দেখাবে। ট্রাম্প তার সহযোগীদের বারবার বলেছিলেন যে তার এমন কিছু দরকার যা “বিজয়” হিসেবে উপস্থাপন করা যায়— যেমন আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ বা ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। চুক্তি সইয়ের দুই সপ্তাহ আগে আলোচকদের চূড়ান্ত করা একটি খসড়া তিনি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ সেটি তার কাছে ওবামার পরমাণু চুক্তির অনুরূপ মনে হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। জুনের এমওইউ মূলত একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণী চুক্তি হলেও, বর্তমানে দুই পক্ষ নির্দিষ্ট ও কংক্রিট শর্তাবলি নিয়ে দরকষাকষি করছে— যা সরাসরি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুনামের সঙ্গে জড়িত। ফলে তিনি আগের তুলনায় ছাড় দিতে অনেক কম আগ্রহী,
কারণ একটি চূড়ান্ত চুক্তির শর্তকে তিনি আর এমওইউ-এর মতো সহজে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। এতে তিনি যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই সর্বোচ্চ দাবির অবস্থানে ফিরে যাচ্ছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এমওইউ কার্যকর হওয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছিল, যদিও লড়াই নতুন করে শুরু হলে তা আবার উল্টে যেতে পারে। এ কারণে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ওপর আগের মতো জরুরি চাপ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিহাস কী বলছে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট নিজে শুরু করা অচলাবস্থাপূর্ণ যুদ্ধ প্রায় কখনোই নিজে শেষ করতে পারেননি। ট্রাম্প যদি তার বাস্তববাদী দিকটি কাজে লাগান বা
কংগ্রেস তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে তিনি এই প্রবণতা ভাঙতে পারেন— তবে উভয় সম্ভাবনাই ক্ষীণ। এর অর্থ, প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভবত আসবে ট্রাম্পের উত্তরসূরির হাত ধরে, যিনি এই যুদ্ধকে ব্যর্থ হিসেবে স্বীকার করে ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে অপেক্ষাকৃত মুক্ত অবস্থানে থাকবেন— যা ট্রাম্পের পক্ষে করা কঠিন। এই ছাড়ের মধ্যে থাকতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর কিছুটা কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া— যা তেহরানের সাম্প্রতিক সংঘাত পুনরায় শুরু করার মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত স্বার্থ বিবেচনায় এসব ছাড় ততটা যন্ত্রণাদায়ক নাও হতে পারে, যতটা অনেকে মনে করছেন— তবে এটি এমন এক যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, যা শুরু থেকেই না
করা উচিত ছিল ।
ওবামা আমলের ইরান পরমাণু চুক্তির সঙ্গে তুলনা করায় ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই তুলনা প্রতিহত করতে গিয়ে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়ে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ভেস্তে দেন, যার জেরে ইরানি প্রতিনিধিদল বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধ শুরু করা একজন প্রেসিডেন্টের জন্য নিজের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে গিয়ে হতাশাজনকভাবে ব্যর্থতা আড়াল করার এক ক্লাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ট্রাম্পের ইরান নীতি। চুক্তি কেন ভেঙে পড়ল প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমওইউ নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত হওয়ার একটি বড় কারণ ছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রভাব হ্রাস পাওয়া, যার কারণে তিনি এমন
কোনো চুক্তি মেনে নিতে রাজি ছিলেন না যা তাকে দুর্বল দেখাবে। ট্রাম্প তার সহযোগীদের বারবার বলেছিলেন যে তার এমন কিছু দরকার যা “বিজয়” হিসেবে উপস্থাপন করা যায়— যেমন আব্রাহাম চুক্তির সম্প্রসারণ বা ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। চুক্তি সইয়ের দুই সপ্তাহ আগে আলোচকদের চূড়ান্ত করা একটি খসড়া তিনি প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ সেটি তার কাছে ওবামার পরমাণু চুক্তির অনুরূপ মনে হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। জুনের এমওইউ মূলত একটি যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণী চুক্তি হলেও, বর্তমানে দুই পক্ষ নির্দিষ্ট ও কংক্রিট শর্তাবলি নিয়ে দরকষাকষি করছে— যা সরাসরি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুনামের সঙ্গে জড়িত। ফলে তিনি আগের তুলনায় ছাড় দিতে অনেক কম আগ্রহী,
কারণ একটি চূড়ান্ত চুক্তির শর্তকে তিনি আর এমওইউ-এর মতো সহজে নিজের পক্ষে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। এতে তিনি যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই সর্বোচ্চ দাবির অবস্থানে ফিরে যাচ্ছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। এমওইউ কার্যকর হওয়ার পর জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছিল, যদিও লড়াই নতুন করে শুরু হলে তা আবার উল্টে যেতে পারে। এ কারণে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে ট্রাম্পের ওপর আগের মতো জরুরি চাপ নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতিহাস কী বলছে ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট নিজে শুরু করা অচলাবস্থাপূর্ণ যুদ্ধ প্রায় কখনোই নিজে শেষ করতে পারেননি। ট্রাম্প যদি তার বাস্তববাদী দিকটি কাজে লাগান বা
কংগ্রেস তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে, তাহলে তিনি এই প্রবণতা ভাঙতে পারেন— তবে উভয় সম্ভাবনাই ক্ষীণ। এর অর্থ, প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভবত আসবে ট্রাম্পের উত্তরসূরির হাত ধরে, যিনি এই যুদ্ধকে ব্যর্থ হিসেবে স্বীকার করে ইরানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ছাড় দিতে অপেক্ষাকৃত মুক্ত অবস্থানে থাকবেন— যা ট্রাম্পের পক্ষে করা কঠিন। এই ছাড়ের মধ্যে থাকতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর কিছুটা কর্তৃত্ব মেনে নেওয়া— যা তেহরানের সাম্প্রতিক সংঘাত পুনরায় শুরু করার মূল কারণ। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত স্বার্থ বিবেচনায় এসব ছাড় ততটা যন্ত্রণাদায়ক নাও হতে পারে, যতটা অনেকে মনে করছেন— তবে এটি এমন এক যুদ্ধের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি, যা শুরু থেকেই না
করা উচিত ছিল ।



