ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা বিরাজ করছে দেশে, দাবি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের
প্রতিমন্ত্রী যখন সরকারি ঠিকাদার: আইন, নৈতিকতা ও সাংবিধানিক সংকটে মীর শাহে আলম
চাঁদা না পেলেই সরাসরি গুলি: চট্টগ্রামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর একের পর এক জামিনে আতঙ্কিত নগরবাসী
‘বুকে ব্যথা নিয়ে’ সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির আকস্মিক মৃত্যু
১১ দিনেই ৩ মামলায় জামিন পেলেন ছিনতাইকারী থেকে মাদক-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের গডফাদার বুইস্যা
ছাত্রলীগে গুপ্তবেশে ছিলেন ছাত্রদলের দুই নেতা, ‘কৌশল’ বলে স্বীকার করলেন
চুক্তির চেয়েও ৫০% বেশি দামে কেনা হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে চট্টগ্রামের জনপদ কখনো এতটা উত্তপ্ত ছিল না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটা অংশ আটক হয়, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল স্বস্তিদায়ক। তবে গত বছরের ৫ই আগস্টের পর এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। ২৬ বছর ধরে কারগারে আটক শিবিরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ‘শিবির নাছির’-কে বের করে আনা হয় কারাগার থেকে ফুলের মালা দিয়ে। একে একে বেরিয়ে আসেন অন্য সব কুখ্যাত সন্ত্রাসীরাও। প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসেন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ফিরতে শুরু করেন অনেকে। সুব্রত বাইনের
মত শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও ছদ্মবেশ ছেড়ে দেখা দেন জনসম্মুখে। মূলত জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভ-দাঙ্গা চলাকালীন সময়েই ভয়ঙ্কর দাগী অপরাধী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বের করে আনা হতে থাকে দেশের কারগারগুলো ভেঙে। সারাদেশে ১৯টি কারাগারে হামলা হয়। লুটপাট হয় বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ। বেশিরভাগ চলে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন বুক ফুলিয়ে। কেউ কেউ রাজনীতিতে ফিরছেন। শিবির নাছির ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন ব্যাপক ধুমধামের সাথে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত, বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীরা। তবে মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ রয়েছে, তেমনি এই পুনর্মিলনীরও অন্য দিক রয়েছে। আশি-নব্বই দশকের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মাঠে নামতেই সৃষ্টি হয় পরবর্তী প্রজন্মের সন্ত্রাসীদের
সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। গত ১৫-১৭ বছরের ক্ষুধা জেগে ওঠে সবার। চট্টগ্রামের বৃহৎ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, দখলবাজি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, মহানগর এবং জেলা-উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক-অস্ত্র এবং সোনা চোরাচালানসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু হয়। এতে মহানগর এবং উপজেলা পর্যায়ে সংঘাতে প্রাণ যায় অনেকের। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইতে কেউ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে, কেউ তুলনামূলক শক্তিশালী নেতার আধিপত্য মেনে নিয়ে গ্যাংয়ে শামিল হন। আবার পক্ষ বদলের ফলে প্রাণ যায় কয়েকজনের। সংঘাত আর লাশ হয়ে ওঠে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না- মতবাদ খাটে না
চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন সুস্পষ্ট। অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, এখনো তারা আদর্শগত অবস্থান তেমন একটা বদলায়নি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবার আগেই নাম আসে শিবির নাছিরের। নামেই তার পরিচয়। চট্টগ্রামে নয় শুধু, বর্তমান সময়ে দেশের প্রবীণ এবং জীবিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম শিবির নাছির। দীর্ঘ ২৬ বছর ছিলেন কারাগারে। তার নামের পাশে রয়েছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধের ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামী তাকে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করলেও এত বছর তার মামলা পরিচালনা, পরিবারের ভরণ-পোষণ সবই যুগিয়েছে দল। বের করে আনার সময় শোভাযাত্রায় ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
ইতিমধ্যে নাছির ঘোষণা দিয়েছেন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের। বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগেও দেখা গেছে তাকে। স্থানীয় কয়েকটি
অনলাইন পোর্টালকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকারও। জানান দিয়েছেন নির্বাচন করার ‘অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা আছে’ বলে। নাছির ছাড়াও অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন: শিবিরের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ, তার ডান হাত রায়হান আলম, শিবির কর্মী হাবিব খান, বড় সাজ্জাদের সাগরেদ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ- যিনি বর্তমানে বিএনপিতে ঘেঁষেছেন, তার সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন, যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, ইসমাইল হোসেন টেম্পু, বিএনপির ফজল হক, বিএনপির মেজর ইকবাল, যুদ্ধারপরাধী বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর ডানহাত বিধান বড়ুয়া, বিএনপির আজিজ উদ্দিন ইমু, আজিজুল হক প্রমুখ। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান ও ফজল হক বিদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড। শিবির নাছির রাজনীতিতে নামার
প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাই তাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও তার ফেসভ্যালু ব্যবহার করে কাজ করছেন সহযোগীরা। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিএনপিপন্থীদের সংখ্যাই বেশি। তবে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতায় ভারী জামায়াত-শিবিরপন্থীরা। বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসীই সন্ত্রাসের জনপদ রাউজান-কেন্দ্রিক। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একটা জায়গায় ভীষণ মিল- উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতি সংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করেছেন সেই ৮০’র দশক থেকে। যা বন্ধ হয়নি কখনো। মহানগর এবং বাইরে গত বছরের আগস্টের পর
থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে অন্তত ৭০টি হত্যাকাণ্ড। প্রায় প্রতিটি ঘটনার পেছনে ছিল রাজনৈতিক মদদ। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে এসময় নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। বিশেষ করে রাউজান ছিল অন্যতম প্রধান ‘হট পয়েন্ট’। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা- গত বছরের ২৯শে আগস্ট কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কে যুবলীগ কর্মী আনিস ও মাসুদ কায়ছারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ২১শে অক্টোবর চান্দগাঁওয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা, এ বছরের ২৪শে জানুয়ারি রাউজানের নোয়াপাড়ায় বিএনপি কর্মী-ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, ২৯শে মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলার দুই সহযোগী মানিক ও রিফাতকে, ১১ই এপ্রিল রাউজানে যুবদল কর্মী ইব্রাহিমকে, ২৩শে মে পতেঙ্গায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে, ২৫শে অক্টোবর রাউজানে যুবদল কর্মী আলমগীর এবং সর্বশেষ গত ৫ই নভেম্বর বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৮ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি কর্মী সরওয়ার হোসেন বাবলাকে।
মত শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও ছদ্মবেশ ছেড়ে দেখা দেন জনসম্মুখে। মূলত জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভ-দাঙ্গা চলাকালীন সময়েই ভয়ঙ্কর দাগী অপরাধী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বের করে আনা হতে থাকে দেশের কারগারগুলো ভেঙে। সারাদেশে ১৯টি কারাগারে হামলা হয়। লুটপাট হয় বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ। বেশিরভাগ চলে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন বুক ফুলিয়ে। কেউ কেউ রাজনীতিতে ফিরছেন। শিবির নাছির ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন ব্যাপক ধুমধামের সাথে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত, বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীরা। তবে মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ রয়েছে, তেমনি এই পুনর্মিলনীরও অন্য দিক রয়েছে। আশি-নব্বই দশকের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মাঠে নামতেই সৃষ্টি হয় পরবর্তী প্রজন্মের সন্ত্রাসীদের
সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। গত ১৫-১৭ বছরের ক্ষুধা জেগে ওঠে সবার। চট্টগ্রামের বৃহৎ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, দখলবাজি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, মহানগর এবং জেলা-উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক-অস্ত্র এবং সোনা চোরাচালানসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু হয়। এতে মহানগর এবং উপজেলা পর্যায়ে সংঘাতে প্রাণ যায় অনেকের। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইতে কেউ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে, কেউ তুলনামূলক শক্তিশালী নেতার আধিপত্য মেনে নিয়ে গ্যাংয়ে শামিল হন। আবার পক্ষ বদলের ফলে প্রাণ যায় কয়েকজনের। সংঘাত আর লাশ হয়ে ওঠে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না- মতবাদ খাটে না
চট্টগ্রামে
চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন সুস্পষ্ট। অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, এখনো তারা আদর্শগত অবস্থান তেমন একটা বদলায়নি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবার আগেই নাম আসে শিবির নাছিরের। নামেই তার পরিচয়। চট্টগ্রামে নয় শুধু, বর্তমান সময়ে দেশের প্রবীণ এবং জীবিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম শিবির নাছির। দীর্ঘ ২৬ বছর ছিলেন কারাগারে। তার নামের পাশে রয়েছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধের ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামী তাকে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করলেও এত বছর তার মামলা পরিচালনা, পরিবারের ভরণ-পোষণ সবই যুগিয়েছে দল। বের করে আনার সময় শোভাযাত্রায় ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।
ইতিমধ্যে নাছির ঘোষণা দিয়েছেন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের। বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগেও দেখা গেছে তাকে। স্থানীয় কয়েকটি অনলাইন পোর্টালকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকারও। জানান দিয়েছেন নির্বাচন করার ‘অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা আছে’ বলে। নাছির ছাড়াও অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন: শিবিরের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ, তার ডান হাত রায়হান আলম, শিবির কর্মী হাবিব খান, বড় সাজ্জাদের সাগরেদ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ- যিনি বর্তমানে বিএনপিতে ঘেঁষেছেন, তার সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন, যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, ইসমাইল হোসেন টেম্পু, বিএনপির ফজল হক, বিএনপির মেজর ইকবাল, যুদ্ধারপরাধী বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর ডানহাত বিধান বড়ুয়া, বিএনপির আজিজ উদ্দিন ইমু, আজিজুল হক প্রমুখ। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান ও ফজল হক বিদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড। শিবির নাছির রাজনীতিতে নামার
প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাই তাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও তার ফেসভ্যালু ব্যবহার করে কাজ করছেন সহযোগীরা। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিএনপিপন্থীদের সংখ্যাই বেশি। তবে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতায় ভারী জামায়াত-শিবিরপন্থীরা। বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসীই সন্ত্রাসের জনপদ রাউজান-কেন্দ্রিক। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একটা জায়গায় ভীষণ মিল- উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতি সংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করেছেন সেই ৮০’র দশক থেকে। যা বন্ধ হয়নি কখনো। মহানগর এবং বাইরে গত বছরের আগস্টের পর
থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে অন্তত ৭০টি হত্যাকাণ্ড। প্রায় প্রতিটি ঘটনার পেছনে ছিল রাজনৈতিক মদদ। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে এসময় নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। বিশেষ করে রাউজান ছিল অন্যতম প্রধান ‘হট পয়েন্ট’। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা- গত বছরের ২৯শে আগস্ট কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কে যুবলীগ কর্মী আনিস ও মাসুদ কায়ছারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ২১শে অক্টোবর চান্দগাঁওয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা, এ বছরের ২৪শে জানুয়ারি রাউজানের নোয়াপাড়ায় বিএনপি কর্মী-ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, ২৯শে মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলার দুই সহযোগী মানিক ও রিফাতকে, ১১ই এপ্রিল রাউজানে যুবদল কর্মী ইব্রাহিমকে, ২৩শে মে পতেঙ্গায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে, ২৫শে অক্টোবর রাউজানে যুবদল কর্মী আলমগীর এবং সর্বশেষ গত ৫ই নভেম্বর বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৮ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি কর্মী সরওয়ার হোসেন বাবলাকে।
হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতি, পাঁচ খুনসহ ১৮ মামলার আসামি সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। ২০১১ সালে গ্রেপ্তারের পর এক যুগ চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন। তার কাছ থেকে একে-৪৭, একে-২২সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। জেলে থাকাকালে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে সখ্যতা হয় তার। বেরিয়েই তার ছত্রছায়ায় যান। জামিন নিয়ে দুবাই পালিয়ে যান, সেখানে মারামারি করে এক মাস জেল খেটে ২০২০ সালে দেশে ফিরে ঢাকায় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন। গত ৫ই আগস্টের পর বিএনপি নেতারা তাকে বের করে আনেন। এতে তার ওস্তাদ শিবিরের সন্ত্রাসী সাজ্জাদের শক্র হয়ে ওঠেন। বালুমহাল দখল, নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাতে চাঁদাবাজি করতেন। প্রভাব বিস্তারের জেরে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধ এবং এর জেরেই খুন হন তিনি।










