ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পলাশীর পতনের ঠিক ১৯২ বছর পরে বাংলার জেগে ওঠার উপখ্যান
অর্থ পাচারেও চ্যাম্পিয়ন ইউনূস সরকার!
‘রাজনীতির রিখটার স্কেলে ৮-৯ মাত্রার ভূমিকম্প হবে’— সাদ্দাম হোসেন
র্যাব সংস্কার: ন্যায়বিচার নাকি রাজনৈতিক প্রতিশোধ?
বাংলাদেশে হাম মহামারি: কেনো এত সংক্রমণ, এত মৃত্যু?
বঙ্গোপসাগর তীরে পরমাণু শক্তির উত্থান
একজন তোফায়েল আহমেদ, অনেকজন আমরা
গনতন্ত্র ও অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রতিটি অর্জন আওয়ামী লীগের। আজকের বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার একমাত্র দাবিদার আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান। বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, ৭০ নির্বাচনে জয়লাভ এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দলটির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী
লীগ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করতে শুরু করে। তখনই পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করে, স্বায়ত্তশাসন এবং জনগণের ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। দলটি গঠিত হয়েই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে এবং প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ প্রাদেশিক নির্বাচন ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতির অধিকার, ভাষা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের গণরায়। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে নেতৃত্ব দেয়
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই বিজয় প্রমাণ করে যে পূর্ব বাংলার জনগণ গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসক ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে যা ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২টি আসন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৩৮টি আসন। এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। পাকিস্তানের জনগণ প্রথমবারের মতো সরাসরি তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার সুযোগ পায়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ
করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অর্থাৎ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট গঠনের সাংবিধানিক অধিকার আওয়ামী লীগের হাতেই ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। যদি সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তবে আওয়ামী লীগই পাকিস্তানের সরকার গঠন করত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হতেন পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী জনগণের রায় মেনে নেয়নি। ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত দেশ। সড়ক, সেতু, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার পুরোপুরি ধ্বংস
হয়ে গিয়েছিল। কৃষি উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়। লাখো মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোও ছিল বিপর্যস্ত। জাতির পিতা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচলকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দেশের উন্নয়নের জন্য তিনি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির ফলে বাংলাদেশ দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং বিদেশি সহযোগিতা অর্জনে সফল হন। আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক
গড়ে তোলে যার ফলে যুদ্ধ বিধস্ত দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয় এবং একই সঙ্গে শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি যুদ্ধ বিধস্ত দেশ সামগ্রিক ভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ
হতে চলছিল ঠিক তখনই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। সেদিন সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহেনা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য ছিল এক গভীর শোকের ঘটনা। স্বৈরশাসক শাসক জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই সময় আওয়ামী লীগ সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেমন— ◑ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ◑পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ◑খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ◑শিক্ষা ও নারীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ◑আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি ◑আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়। আওয়মী লীগ সরকারের সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্যের হার কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, ৯০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ ৫ গুন বৃদ্ধি হয়ে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল “ডিজিটাল বাংলাদেশ”। তরুণ প্রজন্মের অহংকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর নেতৃত্বে প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞান সম্পূর্ণ একটি স্মার্ট প্রজন্ম গড়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, তথ্যপ্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হয়। ইন্টারনেট বিস্তার, অনলাইন শিক্ষা, ই-গভর্নেন্স এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিপুল অগ্রগতি ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং শক্তি হিসেবে পরিচিত। তরুণদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর মাধ্যমে দেশ নতুন যুগে প্রবেশ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো— ◑ পদ্মা সেতু ◑ ঢাকা মেট্রোরেল ◑ বঙ্গবন্ধু টানেল ◑ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ◑ এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার নির্মাণ ◑ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ◑ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ◑ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ◑ শাহজালাল বিমানবন্দরের তয় টার্মিনাল ◑অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা পদ্মা সেতু বিশেষভাবে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত, এটা একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সড়ক, রেল এবং নদীপথের যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা হয়। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়- ◑মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি ◑নারীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থান ◑সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ◑স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয় বাংলাদেশ আজ নারী নেতৃত্ব ও নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে উদাহরন। বাংলাদেশ একসময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সহজ ঋণ সুবিধা চালু করা হয় ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠন এবং উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব চেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির কারণে উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু লেখক পরিচিতিঃ আসলাম মিয়া এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
লীগ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত করতে শুরু করে। তখনই পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়ামী লীগ আত্মপ্রকাশ করে, স্বায়ত্তশাসন এবং জনগণের ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলে। দলটি গঠিত হয়েই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন শুরু করে এবং প্রাদেশিক পরিষদের প্রথম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এই নির্বাচন শুধু একটি সাধারণ প্রাদেশিক নির্বাচন ছিল না; এটি ছিল বাঙালি জাতির অধিকার, ভাষা ও আত্মমর্যাদা রক্ষার আন্দোলনের গণরায়। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনে নেতৃত্ব দেয়
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই বিজয় প্রমাণ করে যে পূর্ব বাংলার জনগণ গণতন্ত্র ও নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ। দীর্ঘদিন স্বৈরশাসক ক্ষমতায় থাকার পর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে যা ছিল পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন। জাতীয় পরিষদের ৩০০টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৬২টি আসন এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৩৮টি আসন। এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ভোটের মাধ্যমে একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করা এবং নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা। পাকিস্তানের জনগণ প্রথমবারের মতো সরাসরি তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করার সুযোগ পায়। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন লাভ
করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে অর্থাৎ পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট গঠনের সাংবিধানিক অধিকার আওয়ামী লীগের হাতেই ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তানের জনগণ আওয়ামী লীগের ছয় দফা কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানায়। যদি সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করত, তবে আওয়ামী লীগই পাকিস্তানের সরকার গঠন করত এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হতেন পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী জনগণের রায় মেনে নেয়নি। ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটে এবং দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত দেশ। সড়ক, সেতু, রেলপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার পুরোপুরি ধ্বংস
হয়ে গিয়েছিল। কৃষি উৎপাদন কমে যায় এবং খাদ্য সংকট দেখা দেয়। লাখো মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোও ছিল বিপর্যস্ত। জাতির পিতা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সচলকরণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। দেশের উন্নয়নের জন্য তিনি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির ফলে বাংলাদেশ দ্রুত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি লাভ করে। তিনি “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়” নীতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং বিদেশি সহযোগিতা অর্জনে সফল হন। আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক
গড়ে তোলে যার ফলে যুদ্ধ বিধস্ত দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয়। স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের জন্য বীজ, সার ও কৃষিঋণের ব্যবস্থা করা হয় এবং একই সঙ্গে শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগ সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি যুদ্ধ বিধস্ত দেশ সামগ্রিক ভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ
হতে চলছিল ঠিক তখনই দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট ভয়াবহ ট্র্যাজেডি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। সেদিন সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহেনা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য ছিল এক গভীর শোকের ঘটনা। স্বৈরশাসক শাসক জিয়াউর রহমান এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে এবং ১৯৯০ সালে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং প্রধানমন্ত্রী হন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এই সময় আওয়ামী লীগ সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেমন— ◑ভারতের সাথে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ◑পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ◑খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ◑শিক্ষা ও নারীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি ◑আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্বীকৃতি ◑আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ পরবর্তীতে ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় এসে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়। আওয়মী লীগ সরকারের সময়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, দারিদ্র্যের হার কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়, ৯০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ ৫ গুন বৃদ্ধি হয়ে ৪৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল “ডিজিটাল বাংলাদেশ”। তরুণ প্রজন্মের অহংকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এর নেতৃত্বে প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং আধুনিক জ্ঞান সম্পূর্ণ একটি স্মার্ট প্রজন্ম গড়ার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়, তথ্যপ্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা হয়। ইন্টারনেট বিস্তার, অনলাইন শিক্ষা, ই-গভর্নেন্স এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতে বিপুল অগ্রগতি ঘটে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ফ্রিল্যান্সিং শক্তি হিসেবে পরিচিত। তরুণদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এর মাধ্যমে দেশ নতুন যুগে প্রবেশ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো— ◑ পদ্মা সেতু ◑ ঢাকা মেট্রোরেল ◑ বঙ্গবন্ধু টানেল ◑ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ◑ এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভার নির্মাণ ◑ বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি ◑ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ◑ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ◑ শাহজালাল বিমানবন্দরের তয় টার্মিনাল ◑অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা পদ্মা সেতু বিশেষভাবে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত, এটা একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সড়ক, রেল এবং নদীপথের যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করা হয়। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়- ◑মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি ◑নারীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও কর্মসংস্থান ◑সরকারি চাকরিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ◑স্থানীয় সরকারে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয় বাংলাদেশ আজ নারী নেতৃত্ব ও নারীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্বের অনেক দেশের কাছে উদাহরন। বাংলাদেশ একসময় খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সহজ ঋণ সুবিধা চালু করা হয় ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন এবং টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠন এবং উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সব চেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতির কারণে উন্নত বিশ্বে বাংলাদেশ আজ রোল মডেল। পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও উন্নয়নের একমাত্র দাবিদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু লেখক পরিচিতিঃ আসলাম মিয়া এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট



