ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ধীপ্রার মৃত্যুর জন্য দায়ী ও হত্যা ধামাচাপা দেওয়া কুশীলবদের দেশ ছাড়ার চেষ্টা
খুলনায় মসজিদে ঢুকে অস্ত্রধারীদের গুলি: আইএসআই-এর ফর্মুলায় পাকিস্তানের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ?
দুধ দিয়ে গোসল করে দল ত্যাগ করলেন জামায়াতের গুপ্ত কর্মী তারেক
নানা অজুহাতে সাধারণ কৃষকদের ধান ফেরত, প্রভাবশালীদের নিম্নমানের ধান কিনছে সরকার
বগুড়ায় একরাতে তিন মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুর, জড়িতদের পরিচয় অজানা
ফায়ার স্টেশনের ভেতরে বহিরাগত নারী এনে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর স্টেশন অফিসারের
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় সেই শিবির নেতা জিসান গ্রেফতার
কাজ না করেই ১২ কোটি টাকা তুলে নিল ঠিকাদার, জড়িত এলজিইডির দুই প্রকৌশলী
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই কর্মকর্তার যোগসাজশে দুই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো কাজ না করেই সরকারি প্রকল্পের প্রায় ১২ কোটি টাকার বিল তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলায় হাতে নেওয়া তিনটি প্যাকেজের কাজে এই দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে এলজিইডির নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকল্পগুলোতে দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র উঠে আসে। এরপর গত ২৮শে মে সরাইলের বাসিন্দা মো. জুয়েল হোসেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
এতে এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুই ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট
অভিযোগ আনা হয়। প্রকল্পের পরিধি ও আর্থিক চিত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (আইআরআইডিপি-৩) প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় সরাইলে দুটি এবং নাসিরনগরে একটি প্যাকেজে কাজের চুক্তি হয়। তিন প্যাকেজের মোট চুক্তিমূল্য ছিল ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। চুক্তির বিপরীতে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এলজিইডির নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিশোধিত এই অর্থের মধ্যে ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকাই দেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। পরমানন্দপুর-ভুইশর সড়কে ৭ কোটির ভুয়া বিল সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর-ভুইশর বাজার সড়ক উন্নয়ন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ছিল ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ২৮১ টাকা। এর বিপরীতে বিল পরিশোধ
করা হয়েছে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই কাজের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এলজিইডির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু প্যালাসাইডিং ওয়ালেই ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার বরাদ্দের পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৮২ লাখ টাকার। অর্থাৎ এই একটি খাতেই কাজ না করে তুলে নেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। একইভাবে সিসি ব্লকের কাজে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮২ হাজার টাকার বিলের বিপরীতে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। এ ছাড়া মাটির কাজ না করেই নেওয়া হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা। ব্রিক অন অ্যান্ড এজিং বা খাড়া ইটের বর্ডার নির্মাণে
৭ লাখ ৯৬ হাজার, ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিংয়ে ৩৩ লাখ ১৮ হাজার এবং এইচবিবি কাজে ৫৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। বক্স কাটিংয়ে ৬ লাখ ৩৬ হাজার, বালু ভরাটে ২৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা পরিশোধ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৮৭ হাজার টাকার। শ্রমিক মজুরি বাবদ কাজ ছাড়াই বিল দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং নদী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণকাজে ২৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিলের বিপরীতে কাজ হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী এই সড়কের দুপাশের টো ওয়ালের টপ থেকে সড়কের পার্শ্ব ঢালে ১১টি সিসি ব্লক থাকার কথা
থাকলেও মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ থেকে ৭টি। ফাতাপুর-বাড়ীচেরা সড়কেও একই চিত্র সরাইলের ফাতাপুর-বাড়ীচেরা সড়ক উন্নয়নেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্যাকেজে চুক্তিমূল্য ছিল ৬ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৭২২ টাকা। পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৫ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাটির কাজে ৪১ লাখ ৪২ হাজার টাকা বিল পরিশোধ হলেও কাজ হয়েছে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার। প্যালিসাইডিং খাতে ২ কোটি ৫৩ হাজার টাকা বিলের বিপরীতে কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ ২ হাজার টাকার। ব্রিক অন অ্যান্ড এজিং-এ ৪ লাখ ৫৪ হাজার, ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিংয়ে ১৮ লাখ ৯১ হাজার, এইচবিবি কাজে ৩৬ লাখ ৫১ হাজার, সিসি ব্লকে
১ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার এবং বক্স কাটিংয়ে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার বিল তোলা হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। একইভাবে বালু ভরাটে ২১ লাখ ৪১ হাজার, শ্রমিক মজুরিতে ৯ লাখ ৬০ হাজার এবং নদী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণে ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বিল তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সড়কেও অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী ১১টি সিসি ব্লক থাকার কথা থাকলেও মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ থেকে ৭টি। সরাইলের দুটি প্যাকেজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইবিআরজেভিসরকারের মালিক কিশোরগঞ্জের নুরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। নাসিরনগরের প্যাকেজটি পরিচালনাকারী আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের মালিক ব্যবসায়ী খাইরুল হাসান। তিনি স্থানীয়
বিএনপি নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নাসিরনগরেও সরকারি অর্থ লোপাট নাসিরনগর উপজেলার ভোলাকুট ইউপি থেকে রামপুর বাজার সড়ক উন্নয়নেও একই কায়দায় সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে এই প্যাকেজে তিন দফায় মোট ২ কোটি ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় ওই এলাকায় পানি থাকায় কাজের বিস্তারিত অগ্রগতি যাচাই করতে পারেনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। কাজ শেষের আগেই জামানত ফেরত অনিয়ম শুধু ভুয়া বিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনটি প্যাকেজের ঠিকাদারদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাবদ জমা রাখা এই জামানত ফেরত পাওয়ার কথা কাজ সম্পন্ন হওয়ার এক বছর পর। তিনটি প্যাকেজে ঠিকাদারের মোট জামানত ছিল ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৮ টাকা, যা কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায়ই ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। আগেই বিল পেয়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা আর কাজে আগ্রহী হচ্ছেন না। বারবার তাগিদ দিয়েও কোনো ফল মিলছে না। তিনটির মধ্যে দুটি প্যাকেজের ঠিকাদার পলাতক থাকায় সেই কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন অন্য মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতে সরাসরি জড়িত ছিলেন এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। এই অভিযোগের মুখেও দুজনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আব্দুল মান্নান বর্তমানে গাজীপুরে কর্মরত, আর শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আংশিক যেসব কাজ হয়েছে সেখানেও প্রকল্পের নকশা মানা হয়নি। ফলে সড়কগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অথচ কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন কাজ না করেই বিল পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ওই বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। বর্তমানে কাজ চলছে।’ তবে কাজ শেষের আগেই জামানত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো আর্থিক সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সভায় আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন এবং তৎকালীন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল জানান, ‘এই কাজের অনিয়ম তদন্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পুরো অনিয়মের তদন্ত করে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে যার দায় যতটুকু সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। অসম্পূর্ণ কাজ অন্য মাধ্যমে কীভাবে শেষ করা হবে, সেই পরামর্শও চাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমিও ফের কাজ শুরু করার বিষয়ে আনঅফিসিয়ালি শুনেছি। হয়তো যে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারাই কাজ করছে; কিন্তু অফিসিয়ালি বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’ এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অনিয়মের তদন্ত কয়েক স্তরে পরিচালিত হবে এবং ঠিকাদার কাজ করে থাকলে সেটি পরবর্তী তদন্তে উঠে আসবে।
অভিযোগ আনা হয়। প্রকল্পের পরিধি ও আর্থিক চিত্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (আইআরআইডিপি-৩) প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় সরাইলে দুটি এবং নাসিরনগরে একটি প্যাকেজে কাজের চুক্তি হয়। তিন প্যাকেজের মোট চুক্তিমূল্য ছিল ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। চুক্তির বিপরীতে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা হয় ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এলজিইডির নিজস্ব আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিশোধিত এই অর্থের মধ্যে ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকাই দেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। পরমানন্দপুর-ভুইশর সড়কে ৭ কোটির ভুয়া বিল সরাইল উপজেলার পরমানন্দপুর-ভুইশর বাজার সড়ক উন্নয়ন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিমূল্য ছিল ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার ২৮১ টাকা। এর বিপরীতে বিল পরিশোধ
করা হয়েছে ৭ কোটি ৭৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এই কাজের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। এলজিইডির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শুধু প্যালাসাইডিং ওয়ালেই ২ কোটি ৭৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার বরাদ্দের পুরো বিল পরিশোধ করা হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৮২ লাখ টাকার। অর্থাৎ এই একটি খাতেই কাজ না করে তুলে নেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। একইভাবে সিসি ব্লকের কাজে ২ কোটি ৭১ লাখ ৮২ হাজার টাকার বিলের বিপরীতে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। এ ছাড়া মাটির কাজ না করেই নেওয়া হয়েছে ৩৪ লাখ টাকা। ব্রিক অন অ্যান্ড এজিং বা খাড়া ইটের বর্ডার নির্মাণে
৭ লাখ ৯৬ হাজার, ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিংয়ে ৩৩ লাখ ১৮ হাজার এবং এইচবিবি কাজে ৫৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বিল দেওয়া হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। বক্স কাটিংয়ে ৬ লাখ ৩৬ হাজার, বালু ভরাটে ২৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা পরিশোধ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ৮৭ হাজার টাকার। শ্রমিক মজুরি বাবদ কাজ ছাড়াই বিল দেওয়া হয়েছে ২৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং নদী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণকাজে ২৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকার বিলের বিপরীতে কাজ হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী এই সড়কের দুপাশের টো ওয়ালের টপ থেকে সড়কের পার্শ্ব ঢালে ১১টি সিসি ব্লক থাকার কথা
থাকলেও মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ থেকে ৭টি। ফাতাপুর-বাড়ীচেরা সড়কেও একই চিত্র সরাইলের ফাতাপুর-বাড়ীচেরা সড়ক উন্নয়নেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই প্যাকেজে চুক্তিমূল্য ছিল ৬ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৭২২ টাকা। পরিশোধ করা হয়েছে ৪ কোটি ৯২ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৫ টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাটির কাজে ৪১ লাখ ৪২ হাজার টাকা বিল পরিশোধ হলেও কাজ হয়েছে ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার। প্যালিসাইডিং খাতে ২ কোটি ৫৩ হাজার টাকা বিলের বিপরীতে কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ লাখ ২ হাজার টাকার। ব্রিক অন অ্যান্ড এজিং-এ ৪ লাখ ৫৪ হাজার, ব্রিক ফ্ল্যাট সোলিংয়ে ১৮ লাখ ৯১ হাজার, এইচবিবি কাজে ৩৬ লাখ ৫১ হাজার, সিসি ব্লকে
১ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার এবং বক্স কাটিংয়ে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টাকার বিল তোলা হয়েছে কোনো কাজ ছাড়াই। একইভাবে বালু ভরাটে ২১ লাখ ৪১ হাজার, শ্রমিক মজুরিতে ৯ লাখ ৬০ হাজার এবং নদী তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণে ৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকার বিল তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সড়কেও অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী ১১টি সিসি ব্লক থাকার কথা থাকলেও মাঠে পাওয়া গেছে মাত্র ৬ থেকে ৭টি। সরাইলের দুটি প্যাকেজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইবিআরজেভিসরকারের মালিক কিশোরগঞ্জের নুরুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। নাসিরনগরের প্যাকেজটি পরিচালনাকারী আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের মালিক ব্যবসায়ী খাইরুল হাসান। তিনি স্থানীয়
বিএনপি নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নাসিরনগরেও সরকারি অর্থ লোপাট নাসিরনগর উপজেলার ভোলাকুট ইউপি থেকে রামপুর বাজার সড়ক উন্নয়নেও একই কায়দায় সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স মোহাম্মদ ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে এই প্যাকেজে তিন দফায় মোট ২ কোটি ৪২ লাখ ১৩ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদন তৈরির সময় ওই এলাকায় পানি থাকায় কাজের বিস্তারিত অগ্রগতি যাচাই করতে পারেনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। কাজ শেষের আগেই জামানত ফেরত অনিয়ম শুধু ভুয়া বিলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনটি প্যাকেজের ঠিকাদারদের জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাবদ জমা রাখা এই জামানত ফেরত পাওয়ার কথা কাজ সম্পন্ন হওয়ার এক বছর পর। তিনটি প্যাকেজে ঠিকাদারের মোট জামানত ছিল ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৮ টাকা, যা কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায়ই ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। আগেই বিল পেয়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা আর কাজে আগ্রহী হচ্ছেন না। বারবার তাগিদ দিয়েও কোনো ফল মিলছে না। তিনটির মধ্যে দুটি প্যাকেজের ঠিকাদার পলাতক থাকায় সেই কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন অন্য মাধ্যমে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। অভিযুক্তরা বহাল তবিয়তে অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতে সরাসরি জড়িত ছিলেন এলজিইডির তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম। এই অভিযোগের মুখেও দুজনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আব্দুল মান্নান বর্তমানে গাজীপুরে কর্মরত, আর শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন এলজিইডি সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) হিসেবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আংশিক যেসব কাজ হয়েছে সেখানেও প্রকল্পের নকশা মানা হয়নি। ফলে সড়কগুলো সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। অথচ কাগজে-কলমে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যা বলছেন কাজ না করেই বিল পরিশোধের বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ওই বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে। বর্তমানে কাজ চলছে।’ তবে কাজ শেষের আগেই জামানত ফেরত দেওয়ার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো আর্থিক সম্পর্ক আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সভায় আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন এবং তৎকালীন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল জানান, ‘এই কাজের অনিয়ম তদন্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা পুরো অনিয়মের তদন্ত করে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে যার দায় যতটুকু সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। অসম্পূর্ণ কাজ অন্য মাধ্যমে কীভাবে শেষ করা হবে, সেই পরামর্শও চাওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমিও ফের কাজ শুরু করার বিষয়ে আনঅফিসিয়ালি শুনেছি। হয়তো যে ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া হয়েছিল তারাই কাজ করছে; কিন্তু অফিসিয়ালি বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’ এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, অনিয়মের তদন্ত কয়েক স্তরে পরিচালিত হবে এবং ঠিকাদার কাজ করে থাকলে সেটি পরবর্তী তদন্তে উঠে আসবে।



