ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
জুলাই-এর ছাত্র সমন্বয়ক থেকে এমপি বনে যাওয়া হান্নান মাসউদের ‘অর্থনৈতিক সংস্কার’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক এবং নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।
‘সংস্কারের’ নতুন সংজ্ঞা: আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই হান্নান মাসউদ আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে একের পর এক গোপন বৈঠকে বসতে শুরু করেন। পল্টনের হোটেল ফার্সের কয়েকটি টেবিল যেন তাঁর জন্যই নির্ধারিত ছিল। যে সংগঠনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তিনি জাতীয় নায়ক বনে গেলেন, ক্ষমতায় আসার পর সেই দলের নেতাদের সঙ্গেই তাঁর
ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ৩ কোটি টাকার ‘ডিল’: যে ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যান জিসান পোস্টে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবির ঘটনা। রাশেদ খাঁনের বিবরণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ওই সাংসদকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে প্রথমে ৪ কোটি টাকার আলোচনা ওঠে। সেই বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আবদুল গাফফার জিসানকে বলেন, “ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা পয়সার দরকার আছে!” এই কথা শুনে চরম হতাশায় স্তব্ধ হয়ে যান জিসান — যিনি আন্দোলনের দুর্দিনে হান্নান মাসউদের পাশেই ছিলেন। কে এই জিসান: অভ্যুত্থানের
ছায়াসঙ্গী থেকে রাজসাক্ষী রাশেদ খাঁন জানান, নোয়াখালীর হাতিয়ার সন্তান আবদুল গাফফার জিসান ছিলেন হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসান একসাথে আত্মগোপনে ছিলেন। সেই উত্তাল সময়ে তিন সমন্বয়কের ভিডিও ও ছবির পেছনের মানুষটি ছিলেন জিসানই। জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আর তার ছোট ভাই হান্নান মাসউদের বন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে হান্নান মাসউদকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই জিসান নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হান্নান মাসউদের আকস্মিক চারিত্রিক পরিবর্তন ও অর্থলোলুপতা জিসান মেনে নিতে পারেননি। একসময়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী তাই দূরত্ব তৈরি করেন এবং হান্নান মাসউদের সঙ্গ ছেড়ে
দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী সাংসদকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ রাশেদ খাঁনের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হাতিয়ার আওয়ামী লীগের সাংসদ মোহাম্মদ আলীকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে তাঁকে গ্রেপ্তার করাতে ভূমিকা রেখেছেন হান্নান মাসউদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তাঁর প্রভাব কাজে লাগিয়ে শুরুতেই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘরোয়া আলাপে হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন, “নোয়াখালীর যতো আওয়ামী লীগ আছে, কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নাই। আমার একমাত্র দ্বন্দ্ব মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে।” এমনকি বিভিন্ন আলোচনায় তিনি বলেছেন, নোয়াখালীর সংসদ সদস্য হতে হলে তাঁকে মোহাম্মদ আলীর মতো বিত্তবান হতে হবে। ‘সংস্কারের’ মুখোশে পুরনো রাজনীতি জুলাই আন্দোলনে যাঁরা পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায়
এসে তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: ছাত্র সমন্বয়ক থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার এই যাত্রায় হান্নান মাসউদের ‘রাজনৈতিক সংস্কার’ আসলে কোন পথে গেছে? আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক, অর্থের বিনিময়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা, প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার করানো — এই অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যে পচন দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আন্দোলন হয়েছিল, সেই পচনই নতুন আবরণে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ৩ কোটি টাকার ‘ডিল’: যে ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যান জিসান পোস্টে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি হলো আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবির ঘটনা। রাশেদ খাঁনের বিবরণ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ওই সাংসদকে নিরাপদে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে প্রথমে ৪ কোটি টাকার আলোচনা ওঠে। সেই বৈঠক শেষে হান্নান মাসউদ আবদুল গাফফার জিসানকে বলেন, “ভাই, ওরা ১ কোটি দিতে চায়, আপনি ৩ কোটিতে ডিল করেন। ওদের সব কাঁচা টাকা, টাকা পয়সার দরকার আছে!” এই কথা শুনে চরম হতাশায় স্তব্ধ হয়ে যান জিসান — যিনি আন্দোলনের দুর্দিনে হান্নান মাসউদের পাশেই ছিলেন। কে এই জিসান: অভ্যুত্থানের
ছায়াসঙ্গী থেকে রাজসাক্ষী রাশেদ খাঁন জানান, নোয়াখালীর হাতিয়ার সন্তান আবদুল গাফফার জিসান ছিলেন হান্নান মাসউদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২৭ জুলাই থেকে রিফাত রশিদ, মাহিন সরকার ও জিসান একসাথে আত্মগোপনে ছিলেন। সেই উত্তাল সময়ে তিন সমন্বয়কের ভিডিও ও ছবির পেছনের মানুষটি ছিলেন জিসানই। জিসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, আর তার ছোট ভাই হান্নান মাসউদের বন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে হান্নান মাসউদকে নিরাপত্তা দেওয়ার কাজেই জিসান নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে হান্নান মাসউদের আকস্মিক চারিত্রিক পরিবর্তন ও অর্থলোলুপতা জিসান মেনে নিতে পারেননি। একসময়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী তাই দূরত্ব তৈরি করেন এবং হান্নান মাসউদের সঙ্গ ছেড়ে
দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী সাংসদকে গ্রেপ্তার করানোর অভিযোগ রাশেদ খাঁনের অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হাতিয়ার আওয়ামী লীগের সাংসদ মোহাম্মদ আলীকে নিজের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মনে করে তাঁকে গ্রেপ্তার করাতে ভূমিকা রেখেছেন হান্নান মাসউদ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তাঁর প্রভাব কাজে লাগিয়ে শুরুতেই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘরোয়া আলাপে হান্নান মাসউদ নাকি বলেছেন, “নোয়াখালীর যতো আওয়ামী লীগ আছে, কারও সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব নাই। আমার একমাত্র দ্বন্দ্ব মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে।” এমনকি বিভিন্ন আলোচনায় তিনি বলেছেন, নোয়াখালীর সংসদ সদস্য হতে হলে তাঁকে মোহাম্মদ আলীর মতো বিত্তবান হতে হবে। ‘সংস্কারের’ মুখোশে পুরনো রাজনীতি জুলাই আন্দোলনে যাঁরা পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায়
এসে তাঁদের একজনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন সামনে আনে: ছাত্র সমন্বয়ক থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার এই যাত্রায় হান্নান মাসউদের ‘রাজনৈতিক সংস্কার’ আসলে কোন পথে গেছে? আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক, অর্থের বিনিময়ে সুরক্ষার ব্যবস্থা, প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার করানো — এই অভিযোগগুলো যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে যে পচন দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আন্দোলন হয়েছিল, সেই পচনই নতুন আবরণে ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।



