ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
চীনকে পাশ কাটিয়ে প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে মিন অং হ্লাইং: ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে থাকার পর মিয়ানমারের সাবেক জান্তা প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং শনিবার ভারত সফরে রওনা দিয়েছেন — এবং সবচেয়ে চমকের বিষয় হলো, প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন চীনকে নয়, ভারতকে।
সফরের বিবরণ
৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত চার দিনের এই সরকারি সফরে হ্লাইং প্রথমে বিহারের বোধগয়া পরিদর্শন করবেন, তারপর ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং সফরের শেষ দিন মুম্বাইতে ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এছাড়া তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য: চীনকে ব্যালেন্স করার
কৌশল বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো নির্বাচন। বেশিরভাগ বিশ্লেষকই ধারণা করেছিলেন হ্লাইং-এর প্রথম বিদেশ সফর হবে চীনে, কারণ বেইজিং মিয়ানমারের সামরিক শাসনের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনকেও সমর্থন দিয়েছিল। বেইজিং মিয়ানমারে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছে, ভারী বিনিয়োগ করেছে অবকাঠামোতে, বেশ কয়েকটি সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর উপর প্রভাব ধরে রেখেছে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে গভীরভাবে জড়িত। তবুও হ্লাইং প্রথম সফরে ভারতকে বেছে নিয়েছেন, যা স্পষ্টতই চীনের আধিপত্যকে ভারসাম্যে রাখার কৌশলগত প্রয়াস। ভারতে মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের কৌশল — চীনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়লে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে ভারসাম্য ফেরানো।” তিনি আরো বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বৈধতার
সংকট কাটাতে হ্লাইং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সন্ধান করছেন। ভারতের স্বার্থ: বিরল খনিজ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও চীন প্রতিরোধ ভারতের জন্য এই সফর তিনটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মিয়ানমারে চীনের অতিরিক্ত প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের বিরল খনিজ ভান্ডারে ভারতের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা। এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে তার “নেবারহুড ফার্স্ট” ও “অ্যাক্ট ইস্ট” নীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা সংস্থার মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মর্গান মিশেলস বলেন, ভারত ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই নেপিদোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এমনকি এপ্রিলে হ্লাইং-এর শপথ
গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি নতুন সরকারের সঙ্গে এগিয়ে যেতে আগ্রহী। মিয়ানমারের স্বার্থ: বৈধতা ও বিনিয়োগের সন্ধান হ্লাইং মিয়ানমারের নতুন প্রশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছেন এবং ভারত সফর সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লক্ষ লক্ষ ভোটার যুদ্ধের কারণে ভোট দিতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মতো একটি বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন মিয়ানমারের কাছে কৌশলগতভাবে মূল্যবান। সমালোচনা ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এই সফরের তীব্র সমালোচনা করেছে। এনইউজি-র পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এমন কোনো সম্পৃক্ততা এড়ানো উচিত যা “অবৈধ সামরিক
শাসনকে” রাজনৈতিক বৈধতা দেয় বলে মনে হতে পারে। ভারতের কাছেও এই সফর একটি কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা। নয়াদিল্লির জন্য প্রশ্ন হলো, কতটুকু সম্পৃক্ততা প্রয়োজন এবং কতটুকু বৈধতা দান হয়ে যায়। কারণ একদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী অভয়ারণ্য, সংযোগ প্রকল্প এবং চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারতের মিয়ানমারকে দরকার। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সামাজিক ও জাতিগত সম্পর্ক রয়েছে এমন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক শক্তি ও জাতিগত সম্প্রদায়গুলোকেও বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হবে না। আঞ্চলিক পুনর্সংযোগের সংকেত বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয় — এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্সংযোগের ইঙ্গিত বহন করছে। সফরটি হ্লাইং-এর জন্য বৈধতার সংকেতও বটে। মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা বছরের পর বছর আসিয়ান ও পশ্চিমা বিশ্বের একাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন
থাকার পর ধীরে ধীরে আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা খুঁজছেন। এই সফর বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং ভারত-মিয়ানমার সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি সরাসরি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে প্রভাবিত করে। ঢাকার কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি-নেপিদো সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়লে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও ভারতের মধ্যস্থতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৌশল বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফরের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো নির্বাচন। বেশিরভাগ বিশ্লেষকই ধারণা করেছিলেন হ্লাইং-এর প্রথম বিদেশ সফর হবে চীনে, কারণ বেইজিং মিয়ানমারের সামরিক শাসনের সবচেয়ে বড় সমর্থক এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনকেও সমর্থন দিয়েছিল। বেইজিং মিয়ানমারে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছে, ভারী বিনিয়োগ করেছে অবকাঠামোতে, বেশ কয়েকটি সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর উপর প্রভাব ধরে রেখেছে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে গভীরভাবে জড়িত। তবুও হ্লাইং প্রথম সফরে ভারতকে বেছে নিয়েছেন, যা স্পষ্টতই চীনের আধিপত্যকে ভারসাম্যে রাখার কৌশলগত প্রয়াস। ভারতে মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রদূত গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের কৌশল — চীনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়লে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে ভারসাম্য ফেরানো।” তিনি আরো বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী বৈধতার
সংকট কাটাতে হ্লাইং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সন্ধান করছেন। ভারতের স্বার্থ: বিরল খনিজ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও চীন প্রতিরোধ ভারতের জন্য এই সফর তিনটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, মিয়ানমারে চীনের অতিরিক্ত প্রভাব কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মিয়ানমারের বিরল খনিজ ভান্ডারে ভারতের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং তৃতীয়ত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা। এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে তার “নেবারহুড ফার্স্ট” ও “অ্যাক্ট ইস্ট” নীতিকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে। সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা সংস্থার মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মর্গান মিশেলস বলেন, ভারত ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকেই নেপিদোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এমনকি এপ্রিলে হ্লাইং-এর শপথ
গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছিল, যা স্পষ্ট করে নয়াদিল্লি নতুন সরকারের সঙ্গে এগিয়ে যেতে আগ্রহী। মিয়ানমারের স্বার্থ: বৈধতা ও বিনিয়োগের সন্ধান হ্লাইং মিয়ানমারের নতুন প্রশাসনের জন্য আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা করছেন এবং ভারত সফর সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো মিয়ানমারের সাম্প্রতিক নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং লক্ষ লক্ষ ভোটার যুদ্ধের কারণে ভোট দিতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের মতো একটি বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন মিয়ানমারের কাছে কৌশলগতভাবে মূল্যবান। সমালোচনা ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এই সফরের তীব্র সমালোচনা করেছে। এনইউজি-র পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এমন কোনো সম্পৃক্ততা এড়ানো উচিত যা “অবৈধ সামরিক
শাসনকে” রাজনৈতিক বৈধতা দেয় বলে মনে হতে পারে। ভারতের কাছেও এই সফর একটি কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা। নয়াদিল্লির জন্য প্রশ্ন হলো, কতটুকু সম্পৃক্ততা প্রয়োজন এবং কতটুকু বৈধতা দান হয়ে যায়। কারণ একদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্রোহী অভয়ারণ্য, সংযোগ প্রকল্প এবং চীনের প্রভাব মোকাবেলায় ভারতের মিয়ানমারকে দরকার। অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সামাজিক ও জাতিগত সম্পর্ক রয়েছে এমন মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক শক্তি ও জাতিগত সম্প্রদায়গুলোকেও বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হবে না। আঞ্চলিক পুনর্সংযোগের সংকেত বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সফর শুধু দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয় — এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক পুনর্সংযোগের ইঙ্গিত বহন করছে। সফরটি হ্লাইং-এর জন্য বৈধতার সংকেতও বটে। মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা বছরের পর বছর আসিয়ান ও পশ্চিমা বিশ্বের একাংশ থেকে বিচ্ছিন্ন
থাকার পর ধীরে ধীরে আঞ্চলিক গ্রহণযোগ্যতা খুঁজছেন। এই সফর বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্ত অস্থিরতা এবং ভারত-মিয়ানমার সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি সরাসরি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে প্রভাবিত করে। ঢাকার কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নয়াদিল্লি-নেপিদো সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়লে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নেও ভারতের মধ্যস্থতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।



