ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
আপিল বিভাগে আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই
সীমান্ত নিয়ে নতুন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা
বিদেশিদের অপরাধের জাল
পুলিশের বিতর্কিত কর্মকর্তারা ফিরছেন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে
‘বিদেশের বন্ধু নিয়ে শোকাতুর ইউনূস নিজের দেশের শিশুদের গণমৃত্যুতে নির্বিকার’
হিমাগারে সংরক্ষন ব্যায়বহুল বিধায় আলু ফেলে দিচ্ছেন চাষিরা, সামনে কৃষি সংকটের আশঙ্কা
ইউনূস-নুরজাহানের সৃষ্ট হামের টিকা সংকট ও শিশুমৃত্যুঃ সাবেক মুখপাত্র শফিকুল ইউনিসেফ-আওয়ামী লীগের ঘাড়ে চাপালেন দুর্নীতির দায়
ভাগ না পেয়ে কাজ বন্ধ করলেন এমপি চাঁদ!
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ-সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিম রেলওয়ের সংস্কার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আড়ানী স্টেশনে নতুন রেল ট্র্যাক স্থাপনে তিন কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজে বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের ভাগ না দেওয়ায় এমপি চাঁদ কাজটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ চাঁদের নির্দেশের পর ঠিকাদার ভয় ও আতঙ্কে শনিবার থেকে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস কনস্ট্রাকশানের অন্যতম স্বত্বাধিকারী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘এমপি সাহেব কাজ বন্ধ করতে বলে গেছেন। আমি ম্যানেজারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কার ঘাড়ে কয়টা মাথা আছে বলেন। কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দেখি তারা কী করেন?’
জানা গেছে, রাজশাহী-পাকশী সেকশানের আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের
এক নম্বর লাইনের ৬৩০ মিটার রেল ট্র্যাক সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পুরোনো কাঠের স্লিপার তুলে কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বিছানোর কাজ যৌথভাবে পান ঢাকার ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস ও আশরাফ উদ্দিন। ২৭ এপ্রিল কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পুরোনো রেল ট্র্যাক তুলে ফেলার পর ৩ মে থেকে নতুন ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আশরাফ উদ্দিন জানান, নতুন রেল ট্র্যাক স্থাপনের কাজ শুরুর পর থেকে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতা তাদের সাইট ম্যানেজার ডাবলুর কাছে কাজের ভাগ দাবি করেন। কীভাবে কাজের ভাগ নেবেন-বলা হলে তারা জানান, তারা রেল ট্র্যাক (স্লিপার) ও পাথর সরবরাহ করবেন। কাজের ভাগ দিতে
না পারলে নির্মাণসামগ্রী তাদের কাছ থেকে নিতে হবে। সব নির্মাণসামগ্রী তারা কিনেছেন। নতুন কোনো সামগ্রী লাগবে না। এরপর তারা কাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে চলে যান। হুমকির পর ডাবলু ভয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন জানান, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে ফোন করে বলেন, ‘সাইট ম্যানেজার ডাবলু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ও আমার সঙ্গে দেখা করছে না কেন? তাকে শিগগিরই আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবেন। ও যেন দ্রুত দেখা করেন, বলবেন।’ কিন্তু ডাবলু ভয়ে আর এমপির সঙ্গে দেখা করতে যাননি। সাইটেও আসেননি। ডাবলুর বাড়ি আড়ানীতেই। আশরাফ উদ্দিন আরও জানান, শুক্রবার রাতে ট্রেনে এমপি চাঁদ ঢাকায় যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আড়ানী
স্টেশনে তিনি নামেন। স্টেশনে গিয়ে তিনি ডাবলুকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় এমপির সঙ্গে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী ছিলেন। খবর পেয়ে ডাবলু দ্রুত সেখানে ছুটে যান। ডাবলুকে কাছে পেয়ে এমপি চাঁদ বলেন, ‘এখন থেকে কাজ বন্ধ থাকবে। আমি বলে গেলাম। আমি যাচ্ছি। কাজ বন্ধ মানে বন্ধ। পরে আমি বিষয়টা দেখব। আমি বলার পর কাজ শুরু করবা। মনে থাকবে তো? আমি বলে গেলাম কিন্তু।’ এরপর শনিবার থেকে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান ঠিকাদার আশরাফ। ঠিকাদার আশরাফ বলেন, পুরোনো লাইন (ট্র্যাক) তুলে ফেলেছি। এখন নতুন করে কাউকে কাজের অংশীদার করার কিছু নেই। ঈদের আগে কাজটা শেষ করতে চেয়েছিলাম। রেলের প্রকৌশল শাখা থেকেও তাগাদা
আছে। কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় দেরি হয়ে যাবে। আমরা বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবিরকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ঘটনার বিষয়ে শনিবার দুপুরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, কাজ বন্ধ রাখলে তো অনেক সমস্যা। সামনে ঈদ। তুলে ফেলা লাইন পড়ে থাকলে এ সেকশানে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে। প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব। শনিবার দুপুর থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ-সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে সন্ধ্যায় ফোন ধরে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কাজ বন্ধের ব্যাপারে তিনি কোনো
নির্দেশ দেননি। তিনি ভালোভাবে কাজ করতে বলেছেন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি যেন না হয় সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন বিকাল থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার রাতে আড়ানী স্টেশনে কি ঘটেছিল জানতে চাইলে এমপি চাঁদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন জানান, রাতে আড়ানী স্টেশনে এমপির সঙ্গে তিনিও ছিলেন। সাইট ম্যানেজার ডাবলুকে ডেকে তিনি বলেছেন-‘কাজকাম ঠিকমতো করো। বড় কাজ, আমাদের এলাকার ছেলেপেলেকে যদি সঙ্গে নিয়ে কাজটা করা যায় করবা। তাদের যদি কোনো কাজে লাগানো যায় লাগাবা।’ জালাল আরও জানান, ‘এমপি কাজ বন্ধ করতে বলেছেন বলে আমার মনে পড়ছে না।’ সাইট ম্যানেজার ডাবলু বলেন, এ বিষয়ে
আমার কিছু বলার নেই। আমি কোনোকিছুই বলতে পারব না। আপনারা ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেন-সেটাই ভালো হয়।
এক নম্বর লাইনের ৬৩০ মিটার রেল ট্র্যাক সংস্কারের দরপত্র আহ্বান করা হয়। পুরোনো কাঠের স্লিপার তুলে কংক্রিটের স্লিপার ও পাথর বিছানোর কাজ যৌথভাবে পান ঢাকার ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস ও আশরাফ উদ্দিন। ২৭ এপ্রিল কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পুরোনো রেল ট্র্যাক তুলে ফেলার পর ৩ মে থেকে নতুন ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার আশরাফ উদ্দিন জানান, নতুন রেল ট্র্যাক স্থাপনের কাজ শুরুর পর থেকে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কতিপয় নেতা তাদের সাইট ম্যানেজার ডাবলুর কাছে কাজের ভাগ দাবি করেন। কীভাবে কাজের ভাগ নেবেন-বলা হলে তারা জানান, তারা রেল ট্র্যাক (স্লিপার) ও পাথর সরবরাহ করবেন। কাজের ভাগ দিতে
না পারলে নির্মাণসামগ্রী তাদের কাছ থেকে নিতে হবে। সব নির্মাণসামগ্রী তারা কিনেছেন। নতুন কোনো সামগ্রী লাগবে না। এরপর তারা কাজ বন্ধের হুমকি দিয়ে চলে যান। হুমকির পর ডাবলু ভয়ে কাজ বন্ধ রেখেছেন। ঠিকাদার আশরাফ উদ্দিন জানান, এমপি আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে ফোন করে বলেন, ‘সাইট ম্যানেজার ডাবলু পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ও আমার সঙ্গে দেখা করছে না কেন? তাকে শিগগিরই আমার সঙ্গে দেখা করতে বলবেন। ও যেন দ্রুত দেখা করেন, বলবেন।’ কিন্তু ডাবলু ভয়ে আর এমপির সঙ্গে দেখা করতে যাননি। সাইটেও আসেননি। ডাবলুর বাড়ি আড়ানীতেই। আশরাফ উদ্দিন আরও জানান, শুক্রবার রাতে ট্রেনে এমপি চাঁদ ঢাকায় যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আড়ানী
স্টেশনে তিনি নামেন। স্টেশনে গিয়ে তিনি ডাবলুকে খুঁজতে থাকেন। এ সময় এমপির সঙ্গে বেশ কয়েকজন দলীয় নেতাকর্মী ছিলেন। খবর পেয়ে ডাবলু দ্রুত সেখানে ছুটে যান। ডাবলুকে কাছে পেয়ে এমপি চাঁদ বলেন, ‘এখন থেকে কাজ বন্ধ থাকবে। আমি বলে গেলাম। আমি যাচ্ছি। কাজ বন্ধ মানে বন্ধ। পরে আমি বিষয়টা দেখব। আমি বলার পর কাজ শুরু করবা। মনে থাকবে তো? আমি বলে গেলাম কিন্তু।’ এরপর শনিবার থেকে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে বলে জানান ঠিকাদার আশরাফ। ঠিকাদার আশরাফ বলেন, পুরোনো লাইন (ট্র্যাক) তুলে ফেলেছি। এখন নতুন করে কাউকে কাজের অংশীদার করার কিছু নেই। ঈদের আগে কাজটা শেষ করতে চেয়েছিলাম। রেলের প্রকৌশল শাখা থেকেও তাগাদা
আছে। কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় দেরি হয়ে যাবে। আমরা বিষয়টি পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আহসান জাবিরকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এ ঘটনার বিষয়ে শনিবার দুপুরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহমেদ বলেন, কাজ বন্ধ রাখলে তো অনেক সমস্যা। সামনে ঈদ। তুলে ফেলা লাইন পড়ে থাকলে এ সেকশানে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হতে পারে। প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব। শনিবার দুপুর থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ-সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। তবে সন্ধ্যায় ফোন ধরে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কাজ বন্ধের ব্যাপারে তিনি কোনো
নির্দেশ দেননি। তিনি ভালোভাবে কাজ করতে বলেছেন। কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি যেন না হয় সে ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি জানতে পেরেছেন বিকাল থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে, শুক্রবার রাতে আড়ানী স্টেশনে কি ঘটেছিল জানতে চাইলে এমপি চাঁদের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন জানান, রাতে আড়ানী স্টেশনে এমপির সঙ্গে তিনিও ছিলেন। সাইট ম্যানেজার ডাবলুকে ডেকে তিনি বলেছেন-‘কাজকাম ঠিকমতো করো। বড় কাজ, আমাদের এলাকার ছেলেপেলেকে যদি সঙ্গে নিয়ে কাজটা করা যায় করবা। তাদের যদি কোনো কাজে লাগানো যায় লাগাবা।’ জালাল আরও জানান, ‘এমপি কাজ বন্ধ করতে বলেছেন বলে আমার মনে পড়ছে না।’ সাইট ম্যানেজার ডাবলু বলেন, এ বিষয়ে
আমার কিছু বলার নেই। আমি কোনোকিছুই বলতে পারব না। আপনারা ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলেন-সেটাই ভালো হয়।



