ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে, তারপরেই আমি অবসর নেব – দৃপ্ত শপথ শেখ হাসিনা’র
হারাম পণ্যে আরোপিত হালাল ট্যাক্স — উচ্চাভিলাষী বাজেটে রাজস্ব আদায়ে মরিয়া সরকার
ধর্ষণের শিকার নারীরা কেন নীরব থাকেন?
“বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও আশা- আকাঙ্ক্ষা যেভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে” – দ্যা ডিপ্লোম্যাট
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ
দেশে নিবন্ধিত মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ কোটি ৮২ লাখ
শর্ত মানলে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বহারাদের পুনরুত্থান: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে চরমপন্থীরা
দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জসহ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি (সর্বহারা) নামে পরিচিত চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা আবারও বাড়ছে। মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি, পোস্টারিং ও গণশত্রু খতমের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে সাময়িক দুর্বলতা দেখা দেয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক তথ্যপ্রবাহ ও সমন্বয় ব্যাহত হয়। এই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকা সর্বহারা গোষ্ঠী আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাবনা-সিরাজগঞ্জ-বগুড়া অঞ্চলে তাদের ঐতিহ্যগত প্রভাব এলাকায় নতুন করে পোস্টারিং ও হুমকি প্রদানের ঘটনা বেড়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় রাতের আঁধারে পূর্ব বাংলা
সর্বহারা পার্টির নামে ব্যাপক পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার মাঝরাতে চামারী ইউনিয়নের বিলদহর বাজারের বিভিন্ন দোকানের দেয়ালে এবং আত্রাই নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ওপর সর্বহারা পার্টির পোস্টার লাগানো হয়। একটি পোস্টারে লেখা ছিল— ‘লেনিনের জন্মদিনে আহ্বান—সংস্কার নয়, সর্বহারা বিপ্লবেই গণপরিত্রাণ, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)’। সাতক্ষীরায়, তালা শিশুতীর্থ স্কুলের সীমানাপ্রাচীরেও অনুরূপ দেয়াললিখন দেখা গেছে, এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালেও কয়েক দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাবনায় সর্বহারা/চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। মার্চ ২০২৬, পাবনায় এক দশকেরও বেশি সময় পর পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা)-এর
নামে দেয়াললিখন ও পোস্টারিং দেখা গেছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ আমলে বিপুল সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবার সক্রিয় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরেও পাবনার বিভিন্ন এলাকায় (বিশেষ করে সাঁথিয়া, আতাইকুলা, কুচিয়ামোড়া, পুষ্পপাড়া, স্বরগ্রাম, ঢালার চর, ভাড়ারা ইত্যাদি) সর্বহারা ও নকশালপন্থী গোষ্ঠী নতুন রূপে সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। সাঁথিয়া পৌর এলাকায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তির দুই হাতের কব্জি কর্তনের ঘটনাও সর্বহারা-সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত হয়। পাবনা ঐতিহাসিকভাবে সর্বহারা গোষ্ঠীর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ২০২২ সালেও এখানে অস্ত্রসহ সর্বহারা পার্টির সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি
ও সপরিবারে হত্যার হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীর কাছে একই নম্বর থেকে ফোন করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে অপহরণ ও সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) উত্তরাঞ্চলে সর্বহারাদের শেষ বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল। সে সময় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সশস্ত্র তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অভিযান ও নজরদারির কারণে গত এক দেড় দশকে সর্বহারাদের উৎপাত প্রায় অনুপস্থিত ছিল। অনেক নেতা-কর্মী নিহত বা গ্রেপ্তার হন এবং তাদের সাংগঠনিক
কাঠামো ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের অভাবে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে চাঁদার দাবি পেয়েও ভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বহারা গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে তারা ডিজিটাল মাধ্যম (মোবাইল ফোন) ব্যবহার করে চাঁদা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এ অঞ্চলে তাদের পুনরুত্থান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেক দফা ‘লাল আতঙ্ক’ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সর্বহারা পার্টির নামে ব্যাপক পোস্টারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার মাঝরাতে চামারী ইউনিয়নের বিলদহর বাজারের বিভিন্ন দোকানের দেয়ালে এবং আত্রাই নদীর উপর নির্মাণাধীন ব্রিজের ওপর সর্বহারা পার্টির পোস্টার লাগানো হয়। একটি পোস্টারে লেখা ছিল— ‘লেনিনের জন্মদিনে আহ্বান—সংস্কার নয়, সর্বহারা বিপ্লবেই গণপরিত্রাণ, পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)’। সাতক্ষীরায়, তালা শিশুতীর্থ স্কুলের সীমানাপ্রাচীরেও অনুরূপ দেয়াললিখন দেখা গেছে, এছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়ালেও কয়েক দিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাবনায় সর্বহারা/চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। মার্চ ২০২৬, পাবনায় এক দশকেরও বেশি সময় পর পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-লাল পতাকা)-এর
নামে দেয়াললিখন ও পোস্টারিং দেখা গেছে। এতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ আমলে বিপুল সংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করায় সংগঠনটি দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর আবার সক্রিয় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরেও পাবনার বিভিন্ন এলাকায় (বিশেষ করে সাঁথিয়া, আতাইকুলা, কুচিয়ামোড়া, পুষ্পপাড়া, স্বরগ্রাম, ঢালার চর, ভাড়ারা ইত্যাদি) সর্বহারা ও নকশালপন্থী গোষ্ঠী নতুন রূপে সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। সাঁথিয়া পৌর এলাকায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তির দুই হাতের কব্জি কর্তনের ঘটনাও সর্বহারা-সংশ্লিষ্ট বলে আলোচিত হয়। পাবনা ঐতিহাসিকভাবে সর্বহারা গোষ্ঠীর অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। ২০২২ সালেও এখানে অস্ত্রসহ সর্বহারা পার্টির সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ‘সর্বহারা পার্টি’র নামে মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি
ও সপরিবারে হত্যার হুমকির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীর কাছে একই নম্বর থেকে ফোন করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে অপহরণ ও সপরিবারে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্লেখ্য, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে (২০০১-২০০৬) উত্তরাঞ্চলে সর্বহারাদের শেষ বড় ধরনের উত্থান ঘটেছিল। সে সময় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সশস্ত্র তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে (২০০৯-২০২৪) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অভিযান ও নজরদারির কারণে গত এক দেড় দশকে সর্বহারাদের উৎপাত প্রায় অনুপস্থিত ছিল। অনেক নেতা-কর্মী নিহত বা গ্রেপ্তার হন এবং তাদের সাংগঠনিক
কাঠামো ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন ও সমন্বয়ের অভাবে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে চাঁদার দাবি পেয়েও ভয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বহারা গোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে পাবনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলে শক্তিশালী ঘাঁটি গড়ে তুলেছিল। বর্তমানে তারা ডিজিটাল মাধ্যম (মোবাইল ফোন) ব্যবহার করে চাঁদা আদায় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এ অঞ্চলে তাদের পুনরুত্থান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে স্থানীয় অর্থনীতি ও জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আরেক দফা ‘লাল আতঙ্ক’ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



