এনসিপি নেত্রী মিতুর দুই হলফনামায় ঘাপলা: তিন মাসেই সম্পদ বৃদ্ধি ৫৫%, বেড়েছে সোনাও, উৎস অজানা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

এনসিপি নেত্রী মিতুর দুই হলফনামায় ঘাপলা: তিন মাসেই সম্পদ বৃদ্ধি ৫৫%, বেড়েছে সোনাও, উৎস অজানা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ |
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা আলম মিতুর দুটি হলফনামায় মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে সম্পদের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ধরা পড়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে প্রার্থী হওয়ার সময় দেওয়া হলফনামার তুলনায়, সম্প্রতি ১১-দলীয় জোটের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। এই বৃদ্ধির কোনো উৎস বা সময়কাল হলফনামায় উল্লেখ নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মিতু কোনো মন্তব্য করেননি। তিন মাসে ১০ ভরি সোনা বাড়ল, উৎস অজানা দুটি হলফনামা পাশাপাশি রাখলে সবচেয়ে বড় পার্থক্য চোখে পড়ে স্বর্ণের পরিমাণে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় মিতুর ২০ ভরি স্বর্ণের কথা উল্লেখ ছিল, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল ৪৫

লাখ টাকা। কিন্তু তিন মাস পর সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় স্বর্ণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ ভরিতে — বেড়েছে ১০ ভরি। নতুন হলফনামায় এই স্বর্ণের মূল্য ‘অজানা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ১০ ভরি স্বর্ণের উৎস বা অর্জনকালীন সময় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এই অতিরিক্ত ১০ ভরি স্বর্ণের মূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ২৭০ টাকা। সর্বশেষ হলফনামায় সম্পদের বিবরণ নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ডা. মাহমুদা আলম মিতু পেশায় একজন চিকিৎসক এবং চিকিৎসা পেশা থেকে বছরে আয় করেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। কৃষি, বাড়িভাড়া বা অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই; নির্ভরশীলদেরও কোনো আয় নেই। এই

হলফনামা অনুযায়ী মিতুর হাতে নগদ রয়েছে ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৫ টাকা। এর বাইরে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিকস সামগ্রী এবং ৩০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে অবশ্য মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য যে, মিতু বছরে কোনো আয়কর প্রদান করেন না। স্বামীর হাতে নগদ রয়েছে ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৪ টাকা এবং ব্যাংকে জমা আছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ১৮৯ টাকা। স্বামীর ১ লাখ ১২ হাজার টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী

এবং ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। স্বামীর মোট অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৬১ লাখ ৬৬ হাজার ২১৩ টাকা এবং তার মোট সম্পদের মূল্যমান ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ২৪ টাকা। স্বামী বছরে ৩৩ হাজার ৭২২ টাকা আয়কর দেন। মিতু ও তার স্বামী — কারোরই কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। আগের হলফনামায় কী ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামায় মিতু ও তার স্বামী উভয়কেই চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। মিতুর বার্ষিক আয় তখনও ৩ লাখ টাকা দেখানো হয়েছিল, তবে স্বামীর কোনো আয় দেখানো হয়নি। সেই হলফনামা অনুযায়ী মিতুর হাতে নগদ ছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা ছিল ৫১ হাজার টাকা।

স্বর্ণ ছিল ২০ ভরি, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছিল ৪৫ লাখ টাকা। স্বামীর ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। সব মিলিয়ে মিতুর মোট অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৭৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা এবং আয়কর রিটার্নে দেখানো হয়েছিল ২৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সেই সময়েও তিনি কোনো আয়কর দিতেন না। স্বামীর অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছিল ৫৩ লাখ ৪২ হাজার ২৬৮ টাকা ৫৭ পয়সা এবং আয়কর রিটার্নে ছিল ৪৫ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৪ টাকা। তিনি তখন বার্ষিক আয়কর দিতেন ৩১ হাজার ৪৫৭ টাকা। হলফনামায় হিসাবের গরমিল দুটি হলফনামা পর্যালোচনা করলে বেশ কিছু অসংগতি সামনে আসে। প্রথমত, তিন মাসের ব্যবধানে ১০ ভরি স্বর্ণ বৃদ্ধির কোনো উৎস

উল্লেখ নেই। . দ্বিতীয়ত, আগের হলফনামায় স্বর্ণের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা দেখানো হলেও নতুন হলফনামায় ৩০ ভরি স্বর্ণের মূল্য ‘অজানা’ উল্লেখ করা হয়েছে — যা আরও বেশি স্বর্ণ থাকা সত্ত্বেও মূল্য কম দেখানোর প্রবণতা হিসেবে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তৃতীয়ত, আগের হলফনামায় স্বামীকে চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ থাকলেও তার কোনো আয় দেখানো হয়নি, যা অস্বাভাবিক। হলফনামার ঘাপলা নিয়ে নীরবতা এসব ঘাপলা সম্পর্কে ডা. মাহমুদা আলম মিতুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে তার মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বার্ষিক মাত্র ৩ লাখ টাকা আয়ের একজন চিকিৎসকের হাতে ২৮ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ এবং তিন মাসে হঠাৎ

১০ ভরি স্বর্ণ বৃদ্ধির বিষয়টি হলফনামার স্বচ্ছতার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, সে প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী? পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা শরীয়তপুরে ছেলে ছাত্রলীগ করায় পিতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ মিরপুরে শাহ আলী মাজারে জঙ্গি হামলা: সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জামায়াতের তিন নেতাকর্মী গ্রেপ্তার ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষ, একাধিক শিক্ষার্থী আহত হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরো ৬ শিশুর মৃত্যু নব্বইয়ে পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ এবং সংকটে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিদ্যমান ছিল : নঈম নিজাম বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে? পাকিস্তানে দুই গোত্রে বিয়ে নিয়ে সহিংসতা থেকে গোলাগুলি, পুড়ল শতাধিক বাড়িঘর কন্যা একবার ফিরেছিলেন। বাংলাদেশের আবার তাঁকে দরকার কারিনা কায়সার থেকে হাজারো শিশুমৃত্যু: নির্বাচিত নীরবতা আর জুলাইপন্থীদের পক্ষাপাতিত্ব সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল এবার ‘আমার টাকায়’ উচ্চমূলে বিদ্যুৎ কিনতে হবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তকে যখন বাড়ির দেয়াল নিজেই একটা ভূগোলের বই হয়ে ওঠে! হরমুজের গভীরে নতুন শক্তিতে নজর ইরানের, নিয়ন্ত্রণে থাকবে পুরো দুনিয়া অন্তর্বর্তী সরকার ঢাকার ১২টা বাজিয়ে গেছে: আবদুস সালাম ইসরাইলি হামলায় লেবাননের দৈনিক ক্ষতি ৩০ মিলিয়ন ডলার ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে যেতে যে ৫ শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র ডিএমপির নতুন কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন