ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
উচ্চশিক্ষায় আবাসিক সংকট
ডুয়েটে ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় উত্তাল ক্যাম্পাস: প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা
সুর থামছে একে একে: কনসার্ট বাতিলের মিছিলে কি মৌলবাদের পদধ্বনি?
নতুন ভিসি পেল ১১ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রজ্ঞাপনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেরোবি উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল
পবিপ্রবি শিক্ষকদের ওপর হামলায় বিএনপির ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ১
যখন বাড়ির দেয়াল নিজেই একটা ভূগোলের বই হয়ে ওঠে!
মিজান সাহেবের ড্রয়িংরুমের দেয়ালটা অনেকটা ম্যাপের মতো। গত বর্ষায় সেই ম্যাপে নতুন নতুন দেশ যোগ হয়েছে। মানে, ড্যাম্প এমনভাবে ছড়িয়েছে যে বাম পাশের দেয়ালে তাকালে মনে হয় দক্ষিণ আমেরিকা, আর ডান দিকে অস্ট্রেলিয়া।
মিজান সাহেব আবার খুব লাজুক মানুষ। বাড়িতে লোক এলে তার প্রথম কাজ হয় সোফাকে টেনে ড্যাম্পের সামনে আনা। কিন্তু ড্যাম্প তো আর বসে নেই, সে সোফার মাথা ছাড়িয়ে উপরে উঠে গেছে। মিজান সাহেব তখন বুদ্ধি করে সেখানে একটা বিশাল সাইজের ক্যালেন্ডার টাঙিয়ে দিলেন। ক্যালেন্ডারে লেখা— ‘প্রকৃতিকে ভালোবাসুন’।
সমস্যা বাধল যেদিন মিজান সাহবের বন্ধু কুদ্দুস সপরিবারে দাওয়াত খেতে এলো।
কুদ্দুস সাহেব ড্রয়িংরুমে বসে বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন, ‘মিজান, তোর রুচি আছে
বলতে হয়! এই ‘আর্ট পিস’টা কোথা থেকে কিনলি রে?’ মিজান সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, ‘কই? কোনটা?’ কুদ্দুস সাহেব দেয়ালের ক্যালেন্ডারের ঠিক পাশ দিয়ে উঁকি দেওয়া নোনা ধরা কালচে অংশটা দেখিয়ে বললেন, ‘এই যে এই টেক্সচারটা! একদম পরাবাস্তববাদী আর্ট মনে হচ্ছে। কী গভীরতা! মনে হচ্ছে দেয়ালের ভেতর থেকে একটা নদী বেরিয়ে আসছে।’ মিজান সাহেব কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, ‘আরে না, ওটা আসলে একটু পানি চুঁইয়ে...’ ঠিক সেই সময় জানালা দিয়ে এক দমকা বাতাস এলো। ক্যালেন্ডারটা পতপত করে উড়ে গিয়ে একপাশে সরে গেল। বেরিয়ে পড়ল মিজানের লুকানো ‘মানচিত্র’। ক্যালেন্ডারটা তখন বাতাসের তোড়ে এমনভাবে উড়ছিল যেন সেটা দেয়ালে সিগন্যাল দিচ্ছে— ‘এই দেখো, এখানে বিশাল এক কেলেঙ্কারি ঢাকা ছিল!’ কুদ্দুস
সাহেবের ছোট ছেলে চিল্লিয়ে উঠল, ‘বাবা! দেখো, ক্যালেন্ডারের পেছনে তো একটা বড় কালো ভাল্লুক শুয়ে আছে!’ মিজান সাহেব তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম এক ডায়ালগ ঝাড়লেন, ‘আসলে এটা কোনো কেলেঙ্কারি না কুদ্দুস, এটা একটা থ্রি-ডি এফেক্ট। দেয়ালটা এখন লাইভ আর্ট গ্যালারি। বর্ষাকালে ছবি বদলায়, শীতকালে শুকিয়ে যায়!’ কুদ্দুস সাহেব হো হো করে হেসে উঠলেন। তারপর মিজানের কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘বন্ধু, ড্যাম্প ঢাকতে সোফা, আলনা, আলমারি কিংবা ক্যালেন্ডার দিয়ে লুকোচুরি তো সবাই খেলে, কিন্তু এই বাতাস আর ক্যালেন্ডারের বেইমানি তুই ঢাকবি কীভাবে? দাওয়াত দিবি না দিবি না করেও শেষমেশ ড্যাম্পটাই আমাদের স্পেশাল ডিশ হিসেবে খাওয়ালি! এক কাজ কর, এই দেয়ালের এক্সপার্ট ট্রিটমেন্ট
দরকার।’ কুদ্দুস পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ছবি দেখাল। ‘লুকোচুরি বাদ দিয়ে দেয়ালে লাগা বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ড। আমার বাড়ির দেয়ালেও এমন ড্যাম্পের উপদ্রব হয়েছিল। এই ড্যাম্প গার্ড দেয়ালের নোনা ধরা আর আর্দ্রতা একদম গোড়া থেকে লক করে দেয়। এরপর আর কোনো সোফা বা ক্যালেন্ডার দিয়ে কেলেঙ্কারি ঢাকতে হবে না।’ পরের সপ্তাহে কুদ্দুস আবার মিজানের বাসায় এলো। এবার ড্রয়িংরুমে ঢুকে সে অবাক! দেয়ালের সেই দক্ষিণ আমেরিকা বা কালো ভাল্লুক কিচ্ছু নেই। দেয়াল এখন একদম ঝকঝকে, স্মুথ আর নিখুঁত। মিজান সাহেব এবার সোফায় আরাম করে বসে বুক ফুলিয়ে বললেন, ‘কী বন্ধু, কেমন দেখছ? কোনো আর্ট গ্যালারি পাচ্ছ?’ কুদ্দুস হেসে বলল, ‘না ভাই, আর্ট
গ্যালারি বন্ধ!’ মিজান সাহেব হেসে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, এবার আর ক্যালেন্ডার দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়নি, সরাসরি বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ড দিয়ে নিজের দেয়ালকে ভালোবেসেছি। এখন বাতাস আসুক আর ঝড় আসুক, আমার দেয়াল থাকবে একদম সুরক্ষিত!’
বলতে হয়! এই ‘আর্ট পিস’টা কোথা থেকে কিনলি রে?’ মিজান সাহেব ঘামতে ঘামতে বললেন, ‘কই? কোনটা?’ কুদ্দুস সাহেব দেয়ালের ক্যালেন্ডারের ঠিক পাশ দিয়ে উঁকি দেওয়া নোনা ধরা কালচে অংশটা দেখিয়ে বললেন, ‘এই যে এই টেক্সচারটা! একদম পরাবাস্তববাদী আর্ট মনে হচ্ছে। কী গভীরতা! মনে হচ্ছে দেয়ালের ভেতর থেকে একটা নদী বেরিয়ে আসছে।’ মিজান সাহেব কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, ‘আরে না, ওটা আসলে একটু পানি চুঁইয়ে...’ ঠিক সেই সময় জানালা দিয়ে এক দমকা বাতাস এলো। ক্যালেন্ডারটা পতপত করে উড়ে গিয়ে একপাশে সরে গেল। বেরিয়ে পড়ল মিজানের লুকানো ‘মানচিত্র’। ক্যালেন্ডারটা তখন বাতাসের তোড়ে এমনভাবে উড়ছিল যেন সেটা দেয়ালে সিগন্যাল দিচ্ছে— ‘এই দেখো, এখানে বিশাল এক কেলেঙ্কারি ঢাকা ছিল!’ কুদ্দুস
সাহেবের ছোট ছেলে চিল্লিয়ে উঠল, ‘বাবা! দেখো, ক্যালেন্ডারের পেছনে তো একটা বড় কালো ভাল্লুক শুয়ে আছে!’ মিজান সাহেব তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে চরম এক ডায়ালগ ঝাড়লেন, ‘আসলে এটা কোনো কেলেঙ্কারি না কুদ্দুস, এটা একটা থ্রি-ডি এফেক্ট। দেয়ালটা এখন লাইভ আর্ট গ্যালারি। বর্ষাকালে ছবি বদলায়, শীতকালে শুকিয়ে যায়!’ কুদ্দুস সাহেব হো হো করে হেসে উঠলেন। তারপর মিজানের কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘বন্ধু, ড্যাম্প ঢাকতে সোফা, আলনা, আলমারি কিংবা ক্যালেন্ডার দিয়ে লুকোচুরি তো সবাই খেলে, কিন্তু এই বাতাস আর ক্যালেন্ডারের বেইমানি তুই ঢাকবি কীভাবে? দাওয়াত দিবি না দিবি না করেও শেষমেশ ড্যাম্পটাই আমাদের স্পেশাল ডিশ হিসেবে খাওয়ালি! এক কাজ কর, এই দেয়ালের এক্সপার্ট ট্রিটমেন্ট
দরকার।’ কুদ্দুস পকেট থেকে ফোন বের করে একটা ছবি দেখাল। ‘লুকোচুরি বাদ দিয়ে দেয়ালে লাগা বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ড। আমার বাড়ির দেয়ালেও এমন ড্যাম্পের উপদ্রব হয়েছিল। এই ড্যাম্প গার্ড দেয়ালের নোনা ধরা আর আর্দ্রতা একদম গোড়া থেকে লক করে দেয়। এরপর আর কোনো সোফা বা ক্যালেন্ডার দিয়ে কেলেঙ্কারি ঢাকতে হবে না।’ পরের সপ্তাহে কুদ্দুস আবার মিজানের বাসায় এলো। এবার ড্রয়িংরুমে ঢুকে সে অবাক! দেয়ালের সেই দক্ষিণ আমেরিকা বা কালো ভাল্লুক কিচ্ছু নেই। দেয়াল এখন একদম ঝকঝকে, স্মুথ আর নিখুঁত। মিজান সাহেব এবার সোফায় আরাম করে বসে বুক ফুলিয়ে বললেন, ‘কী বন্ধু, কেমন দেখছ? কোনো আর্ট গ্যালারি পাচ্ছ?’ কুদ্দুস হেসে বলল, ‘না ভাই, আর্ট
গ্যালারি বন্ধ!’ মিজান সাহেব হেসে উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, এবার আর ক্যালেন্ডার দিয়ে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয়নি, সরাসরি বার্জার মি. এক্সপার্ট ড্যাম্প গার্ড দিয়ে নিজের দেয়ালকে ভালোবেসেছি। এখন বাতাস আসুক আর ঝড় আসুক, আমার দেয়াল থাকবে একদম সুরক্ষিত!’



