ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
সরকারের সর্বনাশে মঈনরাই যথেষ্ট
ঋণখেলাপি: শুধু তালিকা নয়, ব্যবস্থা নিন
মার্কিন অর্থায়নে শেখ হাসিনার সরকারের পতন: নথিতে মিলল ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের ভাগীদারদের হদিস
গার্বেজ গিলে বেঁচে থাকার সিদ্ধান্ত প্রত্যেকের নিজের, এতে ইতিহাসের সত্য বদলায় না
যেভাবে ডিপ স্টেট-এর খপ্পরে বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের তেল-গ্যাস লবির সফল কৌশলঃ ইউনুসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল
উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ সনদ
জুলাই-আগস্টের ৭.৬২ মি.মি. বুলেটের সুত্র অনুসন্ধান: বরখাস্তকৃত লেঃ কর্নেল ও সেনাবাহিনীর আর্টিলারি বিভাগের সম্পৃক্ততা
২০২৫ সালের ২৩শে নভেম্বর। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি আদালতকক্ষ। তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম প্রতিরক্ষা আইনজীবী নাজনীন নাহারকে অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল করেন এবং তাঁকে হুমকি দেন। এ ঘটনায় আদালতকক্ষে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের কেউই কোনো প্রতিবাদ করেননি। এমনকি বিচারকরা পর্যন্ত তাজুল ইসলামকে কোনো সতর্ক করেননি।
নাজনীন যখন আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন বরখাস্তকৃত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান তাঁকে বলেন: “আমি তোমাকে ছিঁড়ে ফেলব।” তিনি ব্যারিস্টার নাজিয়া কবিরকেও গালাগাল করেন।
সেখানে উপস্থিত বিদেশি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এসময় নাজনীন ও নাজিয়াকে সান্ত্বনা দিয়ে আদালতকক্ষের বাইরে নিয়ে যান। আদালত অবমাননার এত গুরুতর ঘটনাটি গণমাধ্যমে চেপে যাওয়া হয়।
ব্যারিস্টার নাজনীন নাহার (বামে) এবং তাজুল ইসলাম
বরখাস্তকৃত
লেঃ কর্নেল হাসিনুর রহমান ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যেমন উলফা (আসাম) এবং এনএসসিএন (আই-এম)-এর পাশাপাশি বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন হরকাত-উল-জিহাদ ও হিজবুত তাহরীরের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপনীয় নথিপত্রে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার অভিযোগে ব্রিগেডিয়ার কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে সামরিক আদালতে কোর্ট-মার্শালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। ক্রসফায়ার স্পেশালিস্ট হাসিনুরের অতীত ও আয়নাঘর প্রসঙ্গ: হুইসেলব্লোয়ার নিজেই যখন লঙ্ঘনকারী! ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল হাসানের (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং বিচারাধীন) নেতৃত্বে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা ও নাগা বিদ্রোহীদের কার্যক্রম বাংলাদেশ থেকে অপসারণ এবং নির্মূল
করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে হরকাত-উল-জিহাদের মাওলানা ইয়াহিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও নির্মূল করা হয়। হাসিনুর রহমান র্যাবের তদন্তে হাসিনুরের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও হরকাত-উল-জিহাদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ প্রমাণিত হয়। ২০১২ সালের ১৫ই মার্চ কোর্ট-মার্শালের রায়ের পর হাসিনুরকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৪ বছর ৩ মাসের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী লেঃ কর্নেল আফজালুল হক ও মেজর মোহসিনুল করিমকেও আলাদা আদেশে বরখাস্ত করা হয়। হাসিনুরের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জন ও রাজেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। হাসিনুরের অনুরোধে আফজালুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেন। মোহসিনুল করিম পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। হাসিনুর, আফজাল ও মোহসিন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, যেমন- ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন এবং ময়মনসিংহে একাধিক বৈঠক করেন। ২০১৪ সালের ২১শে এপ্রিল তৎকালীন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হাসিনুরের মুক্তির ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কারখানায় তৈরি ৭X৬২ ক্যালিবারের বুলেট, ২০২৪ সালে উদ্ধার হয়েছিল তুরাগ নদীর পাড় থেকে ২০১৮ সালের ২০শে আগস্ট আরেকটি গোপন নথিতে হাসিনুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপের নতুন অভিযোগ ওঠে। তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। তাঁর কার্যকলাপ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান সোহরাওয়ার্দী ও জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার
সমর্থনপুষ্ট ছিল বলে অভিযোগ। তাঁরা আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন সাংবাদিককে প্রভাবিত করে শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে জেনারেল ভূঁইয়া ও জেনারেল সোহরাওয়ার্দী একই মতাদর্শী অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে তাঁদের আর্টিলারি ব্রিগেডিয়ার রফিক ও ডিজিএফআই ব্রিগেডিয়ার তানভীর মজহার সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ব্রিগেডিয়ার রফিক চেইন অব কমান্ড উপেক্ষা করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হন বলে অভিযোগ, তবুও তিনি বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁকে পদোন্নতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগের বিবেচনা করা হয়। রাজাকারপুত্র আযমী, সেনাপ্রধান
ওয়াকার-উজ-জামান তাকে কতটা মান-সম্মান দিয়ে কথা বলে, বিভিন্ন সময় বলেছেন সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হাসিনুর এখন নিয়মিত টিভি টক শোতে উপস্থিত হন এবং খোলাখুলি দাবি করেন যে, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতায় সশস্ত্রভাবে জড়িত ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রকাশ করেনি যে, বরখাস্তকৃত ও অবাঞ্ছিত সামরিক কর্মকর্তারা কীভাবে মারাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রমাণ রয়েছে, উলফা, নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং আরাকান রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যরা শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে অস্থিরতায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হাসিনুর, আফজাল ও মোহসিন বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য পেশাদার ভাড়াটে প্রশিক্ষক। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের আয় শেয়ারবাজার ও
বিটকয়েন ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করেন। হাসিনুর ও তাঁর সহযোগীরা ব্রিগেডিয়ার (বরখাস্ত) আজমির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন, যিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক প্রধান ও রাজাকার গোলাম আযমের ছেলে। আজমি সেনাবাহিনীর “ভারতবিরোধী” কর্মকর্তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেন বলে জানা যায়। ৫ই আগস্টের পর আজমি তুরস্ক থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং দাবি করেন যে, তাঁকে ডিজিএফআইয়ের “সেফ হাউজে” আটক রাখা হয়েছিল। তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর উপর প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমার-ভারতসহ আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের গুলিতে নিহত হন। এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশন ব্যবহার করে, যে ইউনিটটি ঢাকায় জননিরাপত্তায় দায়িত্বরত ছিল। বিভিন্ন প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, বিদেশি ভাড়াটে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অস্থিরতার সময় পুলিশ হত্যায় জড়িত ছিল। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে অন্তত তিনজন আমেরিকান— ম্যাথিউ ভ্যানডাইক, টেরেন্স আরভিল জ্যাকসন ও রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমান—যাঁরা গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাঁরা বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবহৃত স্নাইপার রাইফেল ও ৭.৬২ মিমি গুলির উৎস ছিল সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। (চলবে) লেখক পরিচিতি: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
লেঃ কর্নেল হাসিনুর রহমান ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যেমন উলফা (আসাম) এবং এনএসসিএন (আই-এম)-এর পাশাপাশি বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন হরকাত-উল-জিহাদ ও হিজবুত তাহরীরের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপনীয় নথিপত্রে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখার অভিযোগে ব্রিগেডিয়ার কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে সামরিক আদালতে কোর্ট-মার্শালে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজাপ্রাপ্ত হন। ক্রসফায়ার স্পেশালিস্ট হাসিনুরের অতীত ও আয়নাঘর প্রসঙ্গ: হুইসেলব্লোয়ার নিজেই যখন লঙ্ঘনকারী! ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত, তৎকালীন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল হাসানের (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এবং বিচারাধীন) নেতৃত্বে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী উলফা ও নাগা বিদ্রোহীদের কার্যক্রম বাংলাদেশ থেকে অপসারণ এবং নির্মূল
করা হয়। তাঁর নেতৃত্বে হরকাত-উল-জিহাদের মাওলানা ইয়াহিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠীকেও নির্মূল করা হয়। হাসিনুর রহমান র্যাবের তদন্তে হাসিনুরের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ও হরকাত-উল-জিহাদের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ প্রমাণিত হয়। ২০১২ সালের ১৫ই মার্চ কোর্ট-মার্শালের রায়ের পর হাসিনুরকে বরখাস্ত করা হয় এবং ৪ বছর ৩ মাসের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর সহযোগী লেঃ কর্নেল আফজালুল হক ও মেজর মোহসিনুল করিমকেও আলাদা আদেশে বরখাস্ত করা হয়। হাসিনুরের ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জন ও রাজেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। হাসিনুরের অনুরোধে আফজালুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেন। মোহসিনুল করিম পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। হাসিনুর, আফজাল ও মোহসিন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং
চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী, যেমন- ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করেন এবং ময়মনসিংহে একাধিক বৈঠক করেন। ২০১৪ সালের ২১শে এপ্রিল তৎকালীন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হাসিনুরের মুক্তির ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কারখানায় তৈরি ৭X৬২ ক্যালিবারের বুলেট, ২০২৪ সালে উদ্ধার হয়েছিল তুরাগ নদীর পাড় থেকে ২০১৮ সালের ২০শে আগস্ট আরেকটি গোপন নথিতে হাসিনুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী কার্যকলাপের নতুন অভিযোগ ওঠে। তিনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রচারণায় জড়িত ছিলেন। তাঁর কার্যকলাপ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) হাসান সোহরাওয়ার্দী ও জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়ার
সমর্থনপুষ্ট ছিল বলে অভিযোগ। তাঁরা আল-জাজিরাসহ বিভিন্ন সাংবাদিককে প্রভাবিত করে শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন তৈরি করান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে জেনারেল ভূঁইয়া ও জেনারেল সোহরাওয়ার্দী একই মতাদর্শী অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিরত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে তাঁদের আর্টিলারি ব্রিগেডিয়ার রফিক ও ডিজিএফআই ব্রিগেডিয়ার তানভীর মজহার সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ব্রিগেডিয়ার রফিক চেইন অব কমান্ড উপেক্ষা করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত হন বলে অভিযোগ, তবুও তিনি বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর তাঁকে পদোন্নতি ও প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব হিসেবে নিয়োগের বিবেচনা করা হয়। রাজাকারপুত্র আযমী, সেনাপ্রধান
ওয়াকার-উজ-জামান তাকে কতটা মান-সম্মান দিয়ে কথা বলে, বিভিন্ন সময় বলেছেন সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হাসিনুর এখন নিয়মিত টিভি টক শোতে উপস্থিত হন এবং খোলাখুলি দাবি করেন যে, তিনি ও তাঁর সহযোগীরা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অস্থিরতায় সশস্ত্রভাবে জড়িত ছিলেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রকাশ করেনি যে, বরখাস্তকৃত ও অবাঞ্ছিত সামরিক কর্মকর্তারা কীভাবে মারাত্মক অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। প্রমাণ রয়েছে, উলফা, নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং আরাকান রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্যরা শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে অস্থিরতায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা হাসিনুর, আফজাল ও মোহসিন বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর জন্য পেশাদার ভাড়াটে প্রশিক্ষক। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, তাঁরা তাঁদের আয় শেয়ারবাজার ও
বিটকয়েন ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগ করেন। হাসিনুর ও তাঁর সহযোগীরা ব্রিগেডিয়ার (বরখাস্ত) আজমির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন, যিনি যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক প্রধান ও রাজাকার গোলাম আযমের ছেলে। আজমি সেনাবাহিনীর “ভারতবিরোধী” কর্মকর্তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করেন বলে জানা যায়। ৫ই আগস্টের পর আজমি তুরস্ক থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন এবং দাবি করেন যে, তাঁকে ডিজিএফআইয়ের “সেফ হাউজে” আটক রাখা হয়েছিল। তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর উপর প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেন বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিয়ানমার-ভারতসহ আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, অভিযোগ রয়েছে ২০২৪ সালের ১৬ই জুলাই থেকে ৪ঠা আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি স্নাইপার রাইফেলে ব্যবহৃত ৭.৬২ মিমি ক্যালিবারের গুলিতে নিহত হন। এ ধরনের অস্ত্র সাধারণত সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশন ব্যবহার করে, যে ইউনিটটি ঢাকায় জননিরাপত্তায় দায়িত্বরত ছিল। বিভিন্ন প্রমাণ থেকে জানা যায় যে, বিদেশি ভাড়াটে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা অস্থিরতার সময় পুলিশ হত্যায় জড়িত ছিল। জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে অন্তত তিনজন আমেরিকান— ম্যাথিউ ভ্যানডাইক, টেরেন্স আরভিল জ্যাকসন ও রিচার্ড ড্যানিয়েল রোমান—যাঁরা গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, তাঁরা বাংলাদেশে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবহৃত স্নাইপার রাইফেল ও ৭.৬২ মিমি গুলির উৎস ছিল সেনাবাহিনীর আর্টিলারি ডিভিশনের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী। (চলবে) লেখক পরিচিতি: রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক



